শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
খিলাফৎ ও অসহযোগ আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে কৈলাসহরে যে ধর্মসভা স্হাপিত হয়েছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন সতীশচন্দ্র চৌধুরী ও আব্দুল মুজাহির মজুমদার। ১৯৪২ সালে কৈলাসহর বাজার এলাকায় মিলন সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠেছিল। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম অম্বিকা চক্রবর্তী দু’বার কৈলাসহর সফর করে মিলন সমিতির সদস্যদের উৎসাহিত করেন। কৈলসহরের জনমানসেও সেদিন স্বদেশানুরাগের প্রাবল্য ছিল।
প্রায় শতবর্ষ আগে প্রকাশিত ‘ত্রিপুরা রাজ্যে ত্রিশ বৎসরঃকৈলাসহর বিভাগ’ গ্ৰন্হে ব্রজেন্দ্র চন্দ্র দত্ত লিখেছেন—”…মণিপুরীদের লাইছাম্পি, পরী ও পাছড়া, দুবরা প্রভৃতি অদ্যাপি স্বদেশানুরাগী দিগের নিকট সবিশেষ সমাদর লাভ করিতেছে।… স্বদেশী আন্দোলনের ফলে লোকের মনের গতি ক্রমশ স্বদেশানুরাগে পরিবর্তিত হইতেছে।’ প্রাক স্বাধীনতা যুগে প্রখ্যাত চারণ কবি মুকুন্দ দাসও কৈলাসহর সফর করেছিলেন। কৈলাসহরে তিনি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে সবাইকে দেশাত্মবোধে উদ্দীপ্ত করেছিলেন। সেই আমলে কৈলাসহরে চারণ কবি মুকুন্দ দাসের সফর ও অনুষ্ঠান থেকে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তদানীন্তন সময়ে স্হানীয় জনমানসে স্বদেশানুরাগ কতটা প্রবল ভাবে দানা বেঁধেছিল।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৮: সভা-সমাবেশ বন্ধের জন্য ত্রিপুরার রাজ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলে ইংরেজরা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৫: রবীন্দ্রনাথের বিয়ের রাতে মারা গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাই

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৭ : পাঠশালা-ক্লাসরুম

উদয়পুরেও স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোঁয়া লেগেছিল সেদিন। উদয়পুরের কে বি আই’র ছাত্রেরা ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল বের করছিল। ছাত্রদের মিছিল করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন সে সময়ের শিক্ষক পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অনিল দাশগুপ্ত। ‘আমার দেখা উদয়পুর’ গ্ৰন্হে পৃথ্বীশ চন্দ্র ভট্টাচার্য বলেছেন, ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সমর্থনে কিরীটি বিক্রম ইনস্টিটিউশনের উঁচু ক্লাসের ছাত্র সত্যেন্দ্র দত্ত ছাত্রদের জমায়েত করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভাষণ দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:

নিঃসঙ্গ মহানায়ক

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার

অনুশীলন সমিতির সদস্যদের অনেকেই কুমিল্লা ও সন্নিহিত অঞ্চল থেকে উদয়পুরে এসে আত্মগোপন করতেন। প্রখ্যাত বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী উদয়পুর এসে আত্মগোপন করে স্বদেশীদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিতেন। অনুশীলন সমিতির সদস্যরা উদয়পুরের পুরান রাজবাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতেন। এলাকাটি তখন গভীর জঙ্গলে ঢাকা ছিল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৪: সে-যে কেবলই যাতনাময়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৯: কোটরে প্যাঁচা

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় ত্রিপুরার সিংহাসনে ছিলেন ঈশানচন্দ্র মাণিক্য। ত্রিপুরাতেও এই বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল সেদিন। ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের ৩৪ নং পদাতিক বাহিনীর ভারতীয় সিপাহিরা বিদ্রোহ করে অস্ত্রাগার ও কোষাগার লুণ্ঠন করে। কারাগার ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্ত করে তারা। বিদ্রোহীরা তারপর লুন্ঠিত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ত্রিপুরার দিকে ধাবিত হয়। তাদের ধারণা ছিল দেশীয় রাজ্যের রাজা তাদের সাহায্য করবেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?

স্মরণে বরণে উত্তম: ‘বিশ্রামের জন্য নয়, পরিশ্রমের জন্য টাকা দেন প্রযোজক’

কিন্তু ত্রিপুরার রাজা ছিলেন তখন ইংরেজদের প্রবল চাপের মুখে। তিনি বিদ্রোহী সিপাহিদের বহিষ্কারের আদেশ প্রচার করেন। বিদ্রোহীরা তারপর মণিপুরের উদ্দেশ্যে শ্রীহট্ট-কাছাড় অভিমুখে যাত্রা করে। তারা মণিপুরের রাজার সাহায্য পাবে-হয়তো তাদের এমন একটা আশা ছিল। কিন্তু বিদ্রোহী সিপাহিরা মণিপুরে প্রবেশ করতেই পারেনি। কাছাড়েই ঘটে তাদের বিয়োগান্ত পরিণতি। ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে কাছাড়ে বিদ্রোহী সিপাহিদের উপর্যুপরি সংঘর্ষ ঘটে। নিহত হয় বহু সিপাহি।যারা ধরা পড়ে তাদের ফাঁসিতে লটকানো হয়। চরম খাদ্যাভাব আর ইংরেজদের নৃশংস তৎপরতায় বরাক উপত্যকায় নির্বাপিত হয় চট্টগ্রাম থেকে বয়ে আনা বিদ্রোহের মশাল।—চলবে।
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content