
ছবি: প্রতীকী।
সেবার বোধিসত্ত্ব কপিজন্ম লাভ করেছেন। অরণ্যে আশি হাজার বানরের দলপতি হয়ে একটি গভীর ও বিস্তৃত অরণ্যে বসবাস করতেন। এই অরণ্যে এক সরোবরে একটি জলরাক্ষস বাস করতো।
বোধিসত্ত্ব তাঁর দলের সকল বানরকে উপদেশ দিলেন “বাছারা! এই বনে বিষবৃক্ষ আছে, বহু সরোবরে জলরাক্ষস বাস করে। সাবধান! আমাকে জিজ্ঞাসা না করে অজানা ফল খাবে না। যেখানে পূর্বে জলপান করোনি, এমন সরোবরের জল গ্রহণ করবে না কিন্তু!” বানররা তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতো।
বোধিসত্ত্ব তাঁর দলের সকল বানরকে উপদেশ দিলেন “বাছারা! এই বনে বিষবৃক্ষ আছে, বহু সরোবরে জলরাক্ষস বাস করে। সাবধান! আমাকে জিজ্ঞাসা না করে অজানা ফল খাবে না। যেখানে পূর্বে জলপান করোনি, এমন সরোবরের জল গ্রহণ করবে না কিন্তু!” বানররা তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতো।
একদিন বানররা অরণ্যের এমন একস্থানে উপস্থিত হল, যেখানে তারা আগে কখনও আসেনি। সারাদিনের পর তারা এমন একটি সরোবরের তীরে উপস্থিত হল, যেখানে তারা পূর্বে জলগ্রহণ করেনি। তারা জলপান করল না, সারিবদ্ধ হয়ে সেই জলাশয়ের তীরে বসে থাকল, দলপতির অপেক্ষায়।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৩৪: কচ্ছপজাতক: মোহ যারে এসে ধরে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৬: ঠাকুরবাড়ির কন্যা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বন্দুক উঁচিয়ে জমিদারি-কাজে বের হতেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১১: পাতিকাক
দলপতি সেখানে উপস্থিত হয়ে জানতে চাইলেন, “জলপান না করে বসে আছো যে!”
“আপনার অনুমতি না পেলে তো জলপান করতে পারি না, আপনার আগমনের প্রতীক্ষায় তাই বসে আছি।”
“বেশ করেছো, উত্তম।”
বানররূপী বোধিসত্ত্ব সেই জলাশয় প্রদক্ষিণ করে পদচিহ্ন অনুসরণ ও নিপুণ পর্যবেক্ষণে বুঝলেন, এই জলাশয়ে প্রাণীরা জল খেতে নেমেছে, কিন্তু উঠে আসেনি আর। তিনি বানরদের ডেকে বললেন, “বাছারা, এই জলে না নেমে ভাল করেছো, এখানে জলরাক্ষস আছে।”
“আপনার অনুমতি না পেলে তো জলপান করতে পারি না, আপনার আগমনের প্রতীক্ষায় তাই বসে আছি।”
“বেশ করেছো, উত্তম।”
বানররূপী বোধিসত্ত্ব সেই জলাশয় প্রদক্ষিণ করে পদচিহ্ন অনুসরণ ও নিপুণ পর্যবেক্ষণে বুঝলেন, এই জলাশয়ে প্রাণীরা জল খেতে নেমেছে, কিন্তু উঠে আসেনি আর। তিনি বানরদের ডেকে বললেন, “বাছারা, এই জলে না নেমে ভাল করেছো, এখানে জলরাক্ষস আছে।”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে
এদিকে সেই জলরাক্ষস জলের মধ্যে বহুক্ষণ অপেক্ষা করে করে বিরক্ত ও নিতান্তই ক্রুদ্ধ হয়ে জল থেকে উঠে এসে বানরদের বলল “এখানে বসে আছো যে বড়! নেমে জল খাচ্ছো না কেন?
“তুমি এই সরোবরের রাক্ষস তো?” বোধিসত্ত্ব জানতে চাইলেন।
“হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।”
“তাহলে যারা এই জলে নামে তারাই তোমার খাদ্যে পরিণত হয়।”
“নিশ্চয়ই, এ বিষয়ে কোনও সংশয় রেখো না। তারা আমার অধিকারে আসে। তোমরাও আমার খাদ্য হবে, নিশ্চিত জেনে রাখো।”
“আমরা তোমার কবলে পতিত হয়ে উদরস্থ হবো না, জেনে রাখো।”
“একবার জলপান করো, বুঝবে।”
“জলপান করবো, কিন্তু তুমি আমাদের নাগাল পাবে না।”
“তাই নাকি! একবার তাহলে জলে নেমেই দেখো।”
“তুমি ভাবছো আমরা জলে নামব, কিন্তু তা তো হবে না, তবুও জল আমরা পান করবো।”
“তুমি এই সরোবরের রাক্ষস তো?” বোধিসত্ত্ব জানতে চাইলেন।
“হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।”
“তাহলে যারা এই জলে নামে তারাই তোমার খাদ্যে পরিণত হয়।”
“নিশ্চয়ই, এ বিষয়ে কোনও সংশয় রেখো না। তারা আমার অধিকারে আসে। তোমরাও আমার খাদ্য হবে, নিশ্চিত জেনে রাখো।”
“আমরা তোমার কবলে পতিত হয়ে উদরস্থ হবো না, জেনে রাখো।”
“একবার জলপান করো, বুঝবে।”
“জলপান করবো, কিন্তু তুমি আমাদের নাগাল পাবে না।”
“তাই নাকি! একবার তাহলে জলে নেমেই দেখো।”
“তুমি ভাবছো আমরা জলে নামব, কিন্তু তা তো হবে না, তবুও জল আমরা পান করবো।”
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৯: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?
এরপর সেই আশি হাজার বানর সকলেই একটি একটি পদ্মনাল নিয়ে ভূমি থেকেই নলের সাহায্যে চুষে জলপান করতে থাকল। বোধিসত্ত্বের পরহিতব্রতের মহান অনুভাবে সকল নাল গ্রন্থিহীন ও একচ্ছিদ্র হল। বানররা অনায়াসে জলপান করে দলপতিকে অনুসরণ করে জলপান করল। জলরাক্ষস তাদের দেহস্পর্শ করতে পারল না, সে নিতান্তই ক্রুদ্ধ হয়ে ফিরে গেল। বানরাও দল বেঁধে অরণ্যের গভীরে প্রবেশ করল।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৯: মা সারদার কাছের সেবিকাবৃন্দ
ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সনাল পদ্ম প্রজ্ঞা ও সফল পুরুষার্থের গভীর দ্যোতনা বহন করে। সেই জলপানে সেই পদ্মনালের অনুষঙ্গ এখানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাষ্ট্রজীবনে রাজনীতির নানা উপায়ের প্রয়োগে কুশলী মানুষ সফল হন। উপায়কুশল মানুষ সফল হন জীবনেও। ভোগ্যের যথাবিধি ভোগেও নিরাসক্তি, ভোগ-ত্যাগের পরিমিত যাপন ও বিবেচনাবোধের বলে বিপন্ন না হয়ে পুরুষার্থ লাভ করেন। জাতকমালার এই কাহিনিটি সেই জীবনবোধের শিক্ষা দেয়। —চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।


















