শনিবার ৭ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত ।

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টিম পৌঁছল বেগুসরাই। বিহার পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতায় গাছিতোলা দামড়ি নালা বেগুসরাই এলাকার বাবুন সিং আর বক্তিয়ার এই দুই দাগি অপরাধীকে নির্দিষ্ট করলেও পুলিশ পোঁছবার আগেই তারা চম্পট দিল! এত গোপনীয় তথ্য কী করে অপরাধীদের ডেরায় পৌঁছে গেল সেটা একটা বড় সন্দেহ তৈরি করল। খবরটা কলকাতা থেকে পৌঁছেছে নাকি বেগুসরাই লোকাল থানা থেকে খবর পৌঁছে গিয়েছিল তাদের কাছে? ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হল।
শ্রেয়া বেগুসরাই যায়নি। বেছে বেছে এনকাউন্টার স্পেশালিস্টদের এই ধরণের অপারেশনে পাঠানো হয়। শ্রেয়া গিয়েছিল ঘাটশিলাতে। আসলে সদ্য স্বামীহারানো কোনও স্ত্রীর মধ্যে যে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত ঐশীর মধ্যে সেরকম কোনও লক্ষণ শ্রেয়া দেখতে পায়নি। শ্রেয়ার সন্দেহের তালিকায় শুভ্রাংশুর মতো ঐশীও প্রথম থেকেই ছিল। ক্রিমিনোলজিতে শেখানো হয় কোনও অপরাধের ঘটনায় সাধারণত স্বাভাবিক সন্দিগ্ধজনেরা শেষমেশ তদন্তের আওতায় থাকেন না! এই থাম্বরুলকে সরিয়ে রেখেই শ্রেয়া ঐশীকে তার জানাশোনা কম খরচের লেডিস হোস্টেলে থাকার থাকার ব্যবস্থা করেছিল। আসলে এই লেডিজ হোস্টেলে থাকলে শ্রেয়া ঐশীকে সর্বক্ষণের জন্য নজরে রাখতে পারবে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১১৪: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৩

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩২: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— গন্ধগোকুল

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৬: কবির টুপি, কবির জোব্বা

প্রথম সপ্তাহে ঐশী একেবারেই চুপচাপ ছিল! দুবার ময়না তদন্তের পর আনন্দ পালের মৃতদেহ তার স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ থানা থেকেই তার সৎকারের ব্যবস্থা হয়। এবং সৎকারের চারদিনের মাথায় কলকাতার একটি ধর্মীয় আশ্রমে আনন্দ পালের শ্রাদ্ধাদি হল। শুভ্রাংশু মুখার্জি সৎকারে এবং শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে এসেছিলেন। এসেছিলেন ওই আবাসনের আরও দু-তিনজন বয়স্ক দম্পতি। শুভ্রাংশু মুখার্জি জানতেন তাঁর ওপর নজর থাকবে। তাই তিনি যথেষ্ঠ সচেতন ছিলেন। ঐশীর সঙ্গে তাঁর কথাবার্তাও বিশেষ হয়নি। কিন্তু পরের সপ্তাহ থেকেই ঐশীর মধ্যে লক্ষণীয় বদল দেখা গেল। সে চাকরির চেষ্টাতে বেরোলো! সেটা অবশ্য খুব স্বাভাবিক। কিন্তু তাকে দেখে একবারও মনে হচ্ছিল না যে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সে তার স্বামীকে হারিয়েছে এবং তার স্বামী খুন হয়েছে, সেই খুনের তদন্ত চলছে। শুভ্রাংশু মুখার্জির ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে কিন্তু তদন্তে কোন নির্দিষ্ট অভিমুখ না পাওয়া গেলে সেটাও আর করা যাবে না। এসবের জন্য অনুমোদন লাগে। আর সে অনুমোদনের মেয়াদ নির্দিষ্ট!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৫: অকৃতজ্ঞ-জাতক : কৃতঘ্ন

ধৃতিমান বা শ্রেয়া দু’জনেই জানে প্রকৃত তদন্তে সিনেমার মতো দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার বা গোয়েন্দার হাতে পরপর সূত্র বা প্রমাণ আসে না। প্রমাণ পেতে বহু সময় অপেক্ষা করতে হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের থেকে ক্রমাগত চাপ আসতে থাকে। এমন অবস্থাতেই শ্রেয়া কোনও একটা অসম্ভব সম্ভাবনাকে লক্ষ্য করে ঘাটশিলা গেল। এটা দেখা গিয়েছে অসম্ভব কিছুকে লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিলে সম্ভাব্য লক্ষ্যে পৌঁছনো যায়! ঘাটশিলাতে গিয়ে তেমন একটা আশ্চর্য ঘটনা শুনে ফেললো।

ঐশী কলেজে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম! কলেজে পড়ার সময় তার বেশ কয়েকটি সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ভাঙ্গে। শেষমেশ একটি ছেলের সঙ্গে অত্যন্ত গভীর প্রেমের কথা জানতে পেরে ঐশীর বাড়ি থেকে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় সে পাত্রটি কিন্তু আনন্দ পাল নয়। ঐশী বিয়ের রাতে তার তখনকার প্রেমিকের সঙ্গে পালায়। ঐশীর বাবার রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল তিনি ঐশীকে পরদিন একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেন। এরপর তড়িঘড়ি এই সমস্ত লুকিয়ে আনন্দ পালের সঙ্গে ধুমধাম করে ঐশীর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হল!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৩: জরাসন্ধের ঔদ্ধত্য ও কৃষ্ণের ভূমিকা যুধিষ্ঠিরকৃত রাজসূয় যজ্ঞের প্রাসঙ্গিক সূচনা

দশভুজা, অন্য লড়াই: এই স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করিনি

এই সময় একই সঙ্গে শ্রেয়ার সোর্সরা খবর আনলো বকুল বলে একজন কাজের মাসি আনন্দ-ঐশীর বাড়িতে কাজ করতো। ওই ঘটনার পর থেকে ঐশী আর বাড়িতে ফেরেনি! ফলে বকুল তার প্রাপ্য মাইনে বা পুজোর বকশিস কিছুই পায়নি! ঐশী বলেছিল একাদশীর দিন দিয়ে দেবে। তা হয়নি! কাজের লোকেদের মধ্যে মিশে থাকা পুলিশের চরেরা বকুলকে নজর রাখতে শুরু করল। পয়সাকড়ি না পাওয়া নিয়ে বকুল প্রথম প্রথম বেশ রাগ দেখালেও পরের দিকে সে চুপচাপ হয়ে গেল। খবর নিয়ে জানা গেল শুভ্রাংশু মুখার্জি নাকি বকুলের পাওনা-গণ্ডা মিটিয়ে দিয়েছে। শ্রেয়া গিয়ে একদিন বকুলকে গোয়েন্দা দপ্তরের তুলে নিয়ে এলো।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৪: রাঙা মেঘের বেলাভূমি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৭: মধ্যরাতের অভিযান

কাজের মাসি বকুলের বস্তি ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে জানাশোনা ছিল। সেই জোরে সে গোয়েন্দা দপ্তরে গিয়ে প্রথম প্রথম খুব চেঁচামেচি শুরু করেছিল। শ্রেয়া ঘরে ঢুকল—
—তোমার নাম বুকুল মণ্ডল?
—কেন নামধাম না জেনে নিয়ে এসেচো?
—এই শোনো এটা তোমাদের পাড়ার শিবমন্দিরের চাতাল নয়! যা জিজ্ঞেস করেছি তার জবাব দাও।
—হ্যাঁ!
—তুমি আনন্দ পাল-ঐশী পালের বাড়িতে কাজ করতে?
—হ্যাঁ!
—ওদের মধ্যে সম্পর্ক কেমন ছিল?
—আমি ওসব চুকলিকাটা কাজ করি না, ওদের বর-বৌয়ের খবর আমি কি করে জানবো!
—বকুল! আমার সঙ্গে চালাকি কারও না!
—তুমিও ভয় দেকিওনি! বকুলও ঘাসে মুখ দিয়ে চলেনি! আমারও উকিল আছে পাশের চেয়ার থেকে রুলটা তুলে সামনের টেবিলে আছড়ে আচমকা ভয়ংকর চিৎকার করে শ্রেয়া বলে ওঠে
—যা নিয়ে আয় উকিল! তার আগে এমন মার মারব ঘাস তো চিবোতে হয়, গলা দিয়ে জলটুকুও নামবে না! —চলবে।

আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content