রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

একঝলকে

ছবি : সখের চোর

উত্তম কুমার অভিনীত চরিত্রের নাম : ইন্দ্রনাথ

ছবির নায়িকা: বাসবী নন্দী

পরিচালনা: প্রফুল্ল চক্রবর্তী

প্রেক্ষাগৃহ : উত্তরা, পূরবী ও উজ্জ্বলা

মুক্তির তারিখ : ৩০/০৬/১৯৬০

উত্তম কুমার অভিনীত আরেকটি অপরিচিত ছবি যেখানে তিনি গতানুগতিক ইমেজ ছাড়িয়ে বেরিয়ে এসেছেন নতুন আঙ্গিকে।

যে সময় সুচিত্রা সেনের সঙ্গে লাগাতার জুটি বেঁধে একের পর এক হিট দিয়ে গিয়েছেন সেই সময়ের একটা বড় বাঁক নিয়েছিল এই ১৯৬০ সালে। একেবারে বিপরীত প্রান্ত থেকে যদি আলোচনা করা হয় সেখানে সাধারণভাবে দেখা যাবে সুচিত্রাহীন একটা জগত উত্তম কুমার নিজের মতো করে গড়ে তুলছেন। এর আগেও একই বছর অনেক নায়িকার সাথে ছবি যখন করেছেন সেখানে তাঁর অস্তিত্ব আলাদা করে ধরা পড়তো।
ছবির কাহিনি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। ইন্দ্রনাথ চৌধুরী ধনী ও সুদর্শন। একদিন রাতে সে কান্তা নামের এক চোরকে ধরে ফেলে। ইন্দ্রনাথ চোরটির সামনে এমন অভিনয় করে যে, সে নিজেই একজন বিখ্যাত চোর যে অনেক বড় বড় চুরি করেছে। ইন্দ্রনাথের এই মিথ্যা কাহিনি বিশ্বাস করে কান্তা। ইন্দ্রনাথ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে একটি বাজিতে প্রবেশ করে। এই বাজি জেতার জন্য সে কান্তার সাহায্য চায়। এতে কান্তা রাজি হয়ে যায় এবং দুজনে মিলে চুরির পরিকল্পনা করে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮১ : খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — পাতিশিয়াল

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৫: আকাশ এখনও মেঘলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি পর্ব-৯৫ : রাজনীতির দাবার ছকে ত্যাগের মহাকাব্য: এক অন্য পঞ্চতন্ত্রের খোঁজে

ছবিতে ইন্দ্রনাথের সঙ্গে মালার রোম্যান্টিক সম্পর্ক এবং কান্তার মজার সব কাণ্ডকারখানা উঠে এসেছে। রাজকুমারী চিত্র মন্দির ব্যানারে নির্মিত ছবিটির কাহিনি সকলের মনে ধরেছিল এবং একটি ব্যতিক্রমী চরিত্রে উত্তম কুমারের রূপদান চিত্রমোদী দর্শকদের অনেক আনন্দ দিয়েছিল। প্রফুল্ল চক্রবর্তী নামক একজন পরিচালকের পরিচালনায় এ ছবিটি যতটা প্রাণ পেয়েছে তার মূল কারণ ছিল বাঘা বাঘা অভিনেতাদের উপস্থিতি।
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৭: অরণ্যজাতক : বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

চরিত্র অনুযায়ী ছবির কুশীলব বাছাই শিল্পের একটা বড় শর্ত। সেই শর্তকে মাথায় রেখে ছবির নির্মাণ কর্তারা অনেক ছোট ছোট অংশ ভালো ট্রিটমেন্ট করতে পেরেছিলেন উত্তম কুমার নামক একজন ক্ষণজন্মা অভিনেতার উপস্থিতি। বাসবী নন্দী নেহাতই আনকোরা অভিনেত্রী ছিলেন সে সময়। কিন্তু উত্তমবাবুর যাদুতে তাঁর সেই নায়িকা চরিত্র অনেক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা

সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শ্যামল মিত্র যিনি তাঁর নিজস্ব ঘরানায় ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং স্ব কণ্ঠে কিছু গান উপহার দিয়েছিলেন যা, ছবির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল। আমাদের ধারণাগত যে সীমাবদ্ধতা সেখানে কোনও একটি নায়ক-নায়িকা বা পরিচালক-নায়কের মধ্যে পরপর কয়েকটা ছবি বাজিমাত করলেই আমরা শ্রোতা দর্শকরা ধরে নিতে শুরু করি এরাই বোধহয় চিরকালীন। কিন্তু সময়ের লিখন অন্য। সে বারবার যুগের দাবিতে নূতনের আহ্বান জানিয়ে পুরাতনকে অনেক বেশি মূল্যবান করে তোলে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

যদি উত্তম সুচিত্রা জুটি টানা চলে যেত অন্য কোনও জুটি না আসতো তাহলে উত্তম সুচিত্রা জুটির মূল্যবান সৃষ্টিগুলো একটা সময় কালের গতিতে অনেক খেলো হয়ে যেত।যুগের দাবিতে এবং সময়ের শাসনে ১৯৬০ সালের পর থেকে বাংলা ছবির মোড় অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করে। যে দশকে সবুজ বিপ্লব দেখা দিয়েছে, রিফিউজি মানুষের ভিড় কলকাতা জুড়ে সেখানে সুচিত্রা-উত্তমের মতো নায়ক নায়িকার রোম্যান্টিক মুভি বাংলার দেশভাগের পর মানুষকে অনেকটা শান্তির প্রলেপ দিয়েছিল।
কলকাতায় বৃষ্টি
তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করে গিয়ে যখন একজন অভিনেতা নিজেকে বারবার নিজের পজিশন যাচাই করতে চান তখনই ‘সখের চোর’, ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ‘কান্না’ এ ধরনের ছবিগুলো আমাদের সারস্বত জগতকে সমৃদ্ধ করে।—চলবে।
* উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content