
আদিনাথ দাশগুপ্ত এখনও শুয়ে। সুনীতি ছোট মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় গিয়েছে। প্রায় নির্ঘুম একটা রাত পার হয়ে গেল। পার করে দেওয়াটাই এখন একমাত্র কাজ। নক্ষত্রহীন স্বপ্নহীন কালো ঘন মস্ত এক একটা রাত। নিঃসঙ্গ তো নন আদিনাথ, তবে এত নিঃশব্দ কেন? আলোর পৃথিবীটা ওঁর কাছে ক্রমশ ধূসর অসুস্থ হয়ে উঠছে। কোথা থেকে আসছে পরিতাপের এমন বৃত্তাকার ধোঁয়া? বলয় তৈরি করে আদিনাথকে ঘিরে উড়ছে আর ঘুরছে! দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁর! ইন্দ্রপতন কি একেই বলে?
একটা দেশ, নিজের বাস্তুভূমি, নিজের কর্মভূমি, আত্মসিদ্ধভূমি সবকিছু হেমন্তের মৃত পাতার মতো নিমেষে উধাও হয়ে গেল চারপাশ থেকে। একজন পুরুষের যা কিছু শ্রী শক্তি সম্পদ সব ফুরিয়ে এ কোন আশ্চর্য বিভীষিকাময় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন আদিনাথ! বাইরের পৃথিবী তাঁকে হয়তো এভাবে চেনে না। পরম সুদর্শন সৌম্যকান্তি দীর্ঘাকৃতি রাজপুরুষের দিকে তাকালে যে কোনও লোকের চোখে আর মনে মুগ্ধতা ঘনায়। শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। কেউ বোঝে না আপাদমস্তক ভেক ধারণ করে আছেন তিনি। দর্শন শব্দগ্রাহ্য এই পৃথিবীর স্পর্শযোগ্য সংবেদনগুলো তাঁকে যেন অতি দ্রুত ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে নিজের মধ্যে গুটোতে গুটোতে তিনি একরত্তি শামুক হয়ে গিয়েছেন। কোনও হিসেব মেলেনি। জীবনের প্রায় সব কটা অঙ্কে ভুল হয়ে গিয়েছে। ভুল নাকি অপরাধ? যদি তাই হয় তবে তার সূত্রপাত কোথায়? কবে? যৌবনের মধ্যাহ্নে না প্রৌঢ়ত্বের প্রান্তভাগে?
একটা দেশ, নিজের বাস্তুভূমি, নিজের কর্মভূমি, আত্মসিদ্ধভূমি সবকিছু হেমন্তের মৃত পাতার মতো নিমেষে উধাও হয়ে গেল চারপাশ থেকে। একজন পুরুষের যা কিছু শ্রী শক্তি সম্পদ সব ফুরিয়ে এ কোন আশ্চর্য বিভীষিকাময় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন আদিনাথ! বাইরের পৃথিবী তাঁকে হয়তো এভাবে চেনে না। পরম সুদর্শন সৌম্যকান্তি দীর্ঘাকৃতি রাজপুরুষের দিকে তাকালে যে কোনও লোকের চোখে আর মনে মুগ্ধতা ঘনায়। শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। কেউ বোঝে না আপাদমস্তক ভেক ধারণ করে আছেন তিনি। দর্শন শব্দগ্রাহ্য এই পৃথিবীর স্পর্শযোগ্য সংবেদনগুলো তাঁকে যেন অতি দ্রুত ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে নিজের মধ্যে গুটোতে গুটোতে তিনি একরত্তি শামুক হয়ে গিয়েছেন। কোনও হিসেব মেলেনি। জীবনের প্রায় সব কটা অঙ্কে ভুল হয়ে গিয়েছে। ভুল নাকি অপরাধ? যদি তাই হয় তবে তার সূত্রপাত কোথায়? কবে? যৌবনের মধ্যাহ্নে না প্রৌঢ়ত্বের প্রান্তভাগে?
জমিদার অঘোরনাথ দাশগুপ্তের একমাত্র ছেলে প্রসন্ন দাশগুপ্ত। সেই ছেলের ঘরের ওই এক নাতি। গোপালগঞ্জ সাবডিভিশনের সিংহভাগ জমির মালিক তখন অঘোরনাথ। সংসার জুড়ে অন্নপূর্ণার অবস্থান। দেবী সেখানে লক্ষীরূপেণ সংস্থিতা। সোনার চামচ মুখে নিয়ে আদিনাথ পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন। দেখেছিলেন জমিদারি মহলের ঠাঁট। শিখেছিলেন রাজকীয় আদব কায়দা। কলকাতায় ওকালতি পড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন নিজের জেলায়। পরে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল নাম ডাক। যশোর ঢাকা ময়মনসিংহ আর ফরিদপুরের নগর আদালত কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
সওয়াল মুহূর্তে তাঁকে নাকি চেনাই যায় না। বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়ানোর মতো তাঁর পরাক্রম। ইচ্ছে ছিল ব্যারিস্টার হবার। সম্ভব হয়নি। তিনি একমাত্র সন্তান। মা ঠাকুমার দৃষ্টি প্রদীপ। দাশগুপ্ত বংশের সাত রাজার ধন। তাঁকে ছেড়ে থাকবার কথা তাঁরা ভাবতেই পারতেন না। নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন পিতা। বিদেশেযাত্রা স্থগিত হয়েছিল। পরিবর্তে উপহার পেয়েছিলেন ইন্দুমতিকে।
সওয়াল মুহূর্তে তাঁকে নাকি চেনাই যায় না। বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়ানোর মতো তাঁর পরাক্রম। ইচ্ছে ছিল ব্যারিস্টার হবার। সম্ভব হয়নি। তিনি একমাত্র সন্তান। মা ঠাকুমার দৃষ্টি প্রদীপ। দাশগুপ্ত বংশের সাত রাজার ধন। তাঁকে ছেড়ে থাকবার কথা তাঁরা ভাবতেই পারতেন না। নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন পিতা। বিদেশেযাত্রা স্থগিত হয়েছিল। পরিবর্তে উপহার পেয়েছিলেন ইন্দুমতিকে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৫: কিশোরীর মেঘবেলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯১: যারা সময়ের স্রোতে নত হতে জানে, তারাই টিকে যায়; যারা আগুনে ঝাঁপায়, তারাই পুড়ে মরে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৭: বিলেতে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের অস্ত্রোপচার
ইন্দুমতি আদিনাথ রাজযোটক। সকলেই তাই বলতো। তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা ইন্দু। ওই মোমের মত রং ওই স্পর্শ ওই সহবাস সুখ! এখনও নিঃশব্দ রাতগুলোয় ওই নারীকে কাছে ডাকেন আদিনাথ। সেও আসে। লুকিয়ে লুকিয়ে তাঁরা মিলিত হন। ইন্দুর অশরীরী অস্তিত্বের মায়ামৃগ এখনও তাঁকে দুঃসহ ছুটিয়ে বেড়ায়।
জলহীন মরুভূমিতে হা ক্লান্ত ছুটছেন। আর শরীরী বাস্তবতায় তিনি ছুঁয়ে থাকেন শীর্ণ ক্লান্ত মৌন সুনীতিকে। হয়তো রহস্যময় কোনও সুপ্তির ঘোরে সুনীতির শরীরের প্রতিটি দুঃখী রেখার আনাচ হাতড়ে খুঁজতে থাকেন সেই কবেকার কিশোরী নদীকে। যে নদী আদিনাথের মুগ্ধ চোখের পাতার ওপরে কি আশ্চর্য মায়ায় দেখতে দেখতে ভরা যৌবনে পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর প্রেয়সী ইন্দুমতি। ম্লান হাসেন আদিনাথ। সারাটা জীবন এত কিছুর পরেও কেবল তিনি ইন্দুরই হয়ে থাকলেন।
জলহীন মরুভূমিতে হা ক্লান্ত ছুটছেন। আর শরীরী বাস্তবতায় তিনি ছুঁয়ে থাকেন শীর্ণ ক্লান্ত মৌন সুনীতিকে। হয়তো রহস্যময় কোনও সুপ্তির ঘোরে সুনীতির শরীরের প্রতিটি দুঃখী রেখার আনাচ হাতড়ে খুঁজতে থাকেন সেই কবেকার কিশোরী নদীকে। যে নদী আদিনাথের মুগ্ধ চোখের পাতার ওপরে কি আশ্চর্য মায়ায় দেখতে দেখতে ভরা যৌবনে পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর প্রেয়সী ইন্দুমতি। ম্লান হাসেন আদিনাথ। সারাটা জীবন এত কিছুর পরেও কেবল তিনি ইন্দুরই হয়ে থাকলেন।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৩: সুন্দরবনের পাখি: বাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন
চব্বিশ বছর বয়সে দূই সন্তানের জননী ইন্দু তার তৃতীয় সন্তানটি প্রসবের সময় যখন স-সন্তান চিরকালের মতো আদিনাথকে ছেড়ে চলে গেল তখন উকিল বাবু শ্রীযুক্ত আদিনাথ দাশগুপ্ত কেয়ার অফ শ্রীমতি ইন্দুমতির একান্ত প্রেমিক বিচ্ছেদের ভারে আর অবর্ণনীয় শোকে জীবনের প্রথমতম এবং প্রধানতম অবিবেচক সিদ্ধান্তটি হয়তো নিয়ে ফেললেন। বিপুল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী আদিনাথ তাঁর যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে কমপক্ষে আশি ভাগ অংশ উইল করে লিখে দিলেন তাঁর আর ইন্দুমতির সন্তানদের নামে। দুটি পুত্র সন্তান। যে সন্তানরা তাঁদের দু’জনের নিভৃত প্রেমের ফসল। তাঁদের আশ্লেষ কামনা আর তৃপ্তির তিল তিল নির্মাণ। পূর্ববঙ্গের প্রায় সমস্ত সঞ্চয় এবং কলকাতার ডিএল রায় স্ট্রিটের ওই বিরাট তিনতলা বাড়ির অধিকার আদৌ পেলেন না সুনীতি অথবা তাঁর দ্বিতীয়পক্ষের সন্তানেরা। কলকাতার বাড়িটা অবশ্য আর কারোর নয়। শুধু তাঁর জেষ্ঠ্য পুত্র দেবব্রতর।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৮: আপৎকালীন পরিস্থিতি
দেবু তাঁর প্রথম সন্তান। তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। সবচেয়ে তীক্ষধী। প্রশান্ত। ব্যক্তিত্ববান। দেখলে চোখ জুড়োয়। ইন্দুমতির মুখের আদলটা হুবহু বসানো। অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি। দেবব্রতর দেশে ফেরার সেই সোনা রঙের দিনটিতে কলকাতার বাড়িটাই তাকে লিখে দিয়েছিলেন পুত্র গৌরবে আপ্লুত আদিনাথ।
সুনীতির গর্ভের প্রথম সন্তান শঙ্কর। আর আদিনাথের ষষ্ঠ। সবদিক থেকে দেবব্রতর সম্পূর্ণ বিপরীত। আদিনাথের সঙ্গে সম্পর্কও ঠিক তেমনি বিরুদ্ধ। শঙ্করের ছুঁচের মত অন্তর্ভেদী দৃষ্টির সামনে আদিনাথ নিজের অজান্তে আজকাল কেমন কুঁকড়ে যান। যেন নিজের খোলস ছাড়ানো কঙ্কালটা বেরিয়ে আসে ও সামনে থাকলে। আদিনাথ বোঝেন এ ছেলের সঙ্গে তাঁর ভাব সাজুজ্য কখনও ঘটবে না। এ ছেলে শুধু জানে তাপ সঞ্চার করতে। সন্তাপ হরণ করবার ক্ষমতা ওর নেই। কাউকে শান্তি দেবে না। শাস্তি দিতেই ওর জন্ম। এখন থেকেই সম্পত্তি নিয়ে বাঁকাচোরা কথা বলে। দাদা দিদিদের বাবাতুতো ভাই বোন বলে ব্যঙ্গ করে। আদিনাথের শুদ্ধ ভাবমূর্তির মোলায়েম চামড়া টেনে ছিঁড়ে দিয়েই ওর সুখ। উনি নিজে কানে শুনেছেন শংকর বলছে, বাবা আমাদের ভিখিরি করার জন্য জন্ম দিয়েছে। সুনীতি আর্ত হয়ে বোঝাচ্ছিল। কি কস শঙ্কু, এসব শোনাও পাপ, কত বড় নামী তোদের পিতা, কী পাস নাই তোরা? তাও এত অভিযোগ? ছি!
কিন্তু অজানা ভয়ে গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠেছিল আদিনাথের। অন্তরালে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলেন। ওইটুকু ছেলে কি ভয়ংকর পিতৃবিদ্বেষী ! কি ভয়ানক একরোখা! তেজি ঘোড়ার মত দুর্ধর্ষ। আর চূড়ান্ত দুর্মুখ।
সুনীতির গর্ভের প্রথম সন্তান শঙ্কর। আর আদিনাথের ষষ্ঠ। সবদিক থেকে দেবব্রতর সম্পূর্ণ বিপরীত। আদিনাথের সঙ্গে সম্পর্কও ঠিক তেমনি বিরুদ্ধ। শঙ্করের ছুঁচের মত অন্তর্ভেদী দৃষ্টির সামনে আদিনাথ নিজের অজান্তে আজকাল কেমন কুঁকড়ে যান। যেন নিজের খোলস ছাড়ানো কঙ্কালটা বেরিয়ে আসে ও সামনে থাকলে। আদিনাথ বোঝেন এ ছেলের সঙ্গে তাঁর ভাব সাজুজ্য কখনও ঘটবে না। এ ছেলে শুধু জানে তাপ সঞ্চার করতে। সন্তাপ হরণ করবার ক্ষমতা ওর নেই। কাউকে শান্তি দেবে না। শাস্তি দিতেই ওর জন্ম। এখন থেকেই সম্পত্তি নিয়ে বাঁকাচোরা কথা বলে। দাদা দিদিদের বাবাতুতো ভাই বোন বলে ব্যঙ্গ করে। আদিনাথের শুদ্ধ ভাবমূর্তির মোলায়েম চামড়া টেনে ছিঁড়ে দিয়েই ওর সুখ। উনি নিজে কানে শুনেছেন শংকর বলছে, বাবা আমাদের ভিখিরি করার জন্য জন্ম দিয়েছে। সুনীতি আর্ত হয়ে বোঝাচ্ছিল। কি কস শঙ্কু, এসব শোনাও পাপ, কত বড় নামী তোদের পিতা, কী পাস নাই তোরা? তাও এত অভিযোগ? ছি!
কিন্তু অজানা ভয়ে গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠেছিল আদিনাথের। অন্তরালে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলেন। ওইটুকু ছেলে কি ভয়ংকর পিতৃবিদ্বেষী ! কি ভয়ানক একরোখা! তেজি ঘোড়ার মত দুর্ধর্ষ। আর চূড়ান্ত দুর্মুখ।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৬: জীবন নিয়ে কৌতুক আর ‘যৌতুক’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!
ষষ্ঠ স্থান নাকি শত্রু স্থান। অবসাদের দীর্ঘ প্রহরগুলোতে নিজের অজান্তেই আদিনাথ আজকাল বড় বেশি জ্যোতিষে বিশ্বাসী হয়ে পড়েছেন। অমন যুক্তিবাদী প্রতাপশালী উকিল বাবু এখন নিরন্তর নিজের অজান্তে জ্যোতিষ চর্চা করে থাকেন। হস্তরেখার সুড়ঙ্গ গলে ঢুকে যেতে চান অধরা নিয়তির কোনো অন্ধকার বাসভূমিতে। মেষ রাশি অশ্বিনী নক্ষত্র দেবগণ ক্ষত্রিয় বর্ণ আর সিংহ লগ্নের জাতক আদিনাথ সহসা একদিন আবিষ্কার করেছিলেন সেই আজন্মের বৈরিতার সূত্র। বিস্ফারিত দেখেছিলেন তাঁর তৃতীয় সন্তানটি সর্বতোভাবেই আদিনাথের জন্ম কুণ্ডলীর ষষ্ঠ অবস্থানে বিরাজ করছে। তুঙ্গ বুধাদিত্য যোগযুক্ত শংকর কন্যা রাশিস্থ নর গণ শুদ্র বর্ণে মকর লগ্নের জাতক। কী ভয়ংকর নক্ষত্রিক বৈরিতা!
থাক। আর নয়। ভাবনার সূত্রগুলো ছোট ছোট টুকরোয় দুর্মূল্য কাচের পেয়ালার মতো ভেঙে যাচ্ছে। ধমনীর অন্তর্গত শিরা ছিঁড়ে রক্তপাত শুরু হয়েছে। অঝোর রক্ত স্রোত আজকাল রোজ তাঁকে ভিজিয়ে দেয়। পূর্ববঙ্গ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে থমকে দাঁড়ানো আদিনাথ যেন দর্পণ ছাড়াই নিজেকে নিজে স্পষ্ট দেখতে পান। বাইরে রক্তাক্ত আর ভিতরে সম্পূর্ণ রক্তহীন একজন দাগি অপরাধী। নিজের পক্ষে সওয়াল করবার মতো কোনও সুযোগ কি অবশিষ্ট আছে তাঁর?—চলবে।
থাক। আর নয়। ভাবনার সূত্রগুলো ছোট ছোট টুকরোয় দুর্মূল্য কাচের পেয়ালার মতো ভেঙে যাচ্ছে। ধমনীর অন্তর্গত শিরা ছিঁড়ে রক্তপাত শুরু হয়েছে। অঝোর রক্ত স্রোত আজকাল রোজ তাঁকে ভিজিয়ে দেয়। পূর্ববঙ্গ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে থমকে দাঁড়ানো আদিনাথ যেন দর্পণ ছাড়াই নিজেকে নিজে স্পষ্ট দেখতে পান। বাইরে রক্তাক্ত আর ভিতরে সম্পূর্ণ রক্তহীন একজন দাগি অপরাধী। নিজের পক্ষে সওয়াল করবার মতো কোনও সুযোগ কি অবশিষ্ট আছে তাঁর?—চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): দেওয়াল পারের দেশ (Dewal Parer Desh)। লিখছেন জয়িতা দত্ত (Dr. Jayita Dutta), বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, হুগলি মহসিন কলেজ।


















