রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

সুদীপ্তর মনে পড়ে গেল, শাক্য স্যারের সঙ্গে যেদিন এসেছিল, একজন বৃদ্ধ কিন্তু সতর্ক এবং ক্ষিপ্র স্বভাবের একজন বয়স্ক মানুষ তাদের সত্যব্রতর কাছে নিয়ে গিয়েছিল। এ-কি সেই? তাহলে তার অ্যাসেসমেন্ট ঠিক ছিল। তবে লোকটি কেবল সতর্ক এবং ক্ষিপ্রই নয়, চতুরও বটে। এই ভাবে দু’জন ক্রিমিন্যালকে বন্দি করা চাট্টিখানি কথা নয়।

read more
পর্ব-১৬০ : সাতসকালের কিস্সা

পর্ব-১৬০ : সাতসকালের কিস্সা

উঠে পড়ল পূষণ। বিছানা থেকে নেমে পায়ে স্লিপার গলিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোল সে। রিমিতা নিশ্চয়ই শাওয়ার নিচ্ছে। শাওয়ার সেক্স তার খুব পছন্দের। হলে মন্দ হয় না। কিন্তু ওয়াশরুমের দিকে গিয়ে হতাশ হল সে। ওয়াশরুমের দরজা এদিক থেকেই বন্ধ। তার মানে এটাই বোঝায় যে, রিমিতা ওয়াশরুমেও নেই। নীচে গিয়েছে কি? ডাইনিং-এ? হতে পারে। হয়তো সে ঘুমাচ্ছে দেখে তাকে আর বিরক্ত করেনি। ফ্রেশ হয়ে মর্নিং-টি খাচ্ছে লনে বসে। এখনও রোদ তেমন চড়া নয়। কিছুক্ষণ পরে আর লনে বসে থাকা যাবে না। এসেছিল যখন তখন ভরা বসন্ত। আর এখন চড়া বসন্ত!

read more
পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

মুহূর্তের মধ্যে মাথার মধ্যে কীরকম একটা করে উঠল ভোলারামের। প্রাণঘাতী চিৎকার করে সে গ্রামের দিকে ছুটল। এখন আর তার পা টলছে না, মাথা ঝিমঝিম করছে না। ছুটেই চলেছে সে, আর চিৎকার করছে, “মরে গেছে! হায় কালাদেও! মরে গেছে! কালাদেওর সেবায়েত মঙ্গল ওঝা মরে গেছে!” তার সেই চিৎকারে কুকুর-শিয়ালগুলিও ঘাবড়ে গেল যেন। মুহূর্তে ছত্রভঙ্গ হয়ে সবাই ছিটকে গেল। এদিকে ভোর যে আবার নতুন এক পবিত্র, বিশুদ্ধ কবিতা লেখার আয়োজন করছিল, তাতে যেন রক্তের ছিটে এসে লাগল! একটা অনাঘ্রাত ভোর মুহূর্তেই কুশ্রী, বীভৎস হয়ে পড়ল!

read more
পর্ব-১৫৮ : সোনার মাছি খুন করেছি

পর্ব-১৫৮ : সোনার মাছি খুন করেছি

সাইকেলের গায়ে বামাপদর পোশাক। হাসপাতালে ডিউটির সময় এই পোশাকই পরে এখানকার গ্রুপ ডি কর্মচারীরা। সাইকেলকেও এখন আর আলাদাভাবে চেনা যাচ্ছিল না। সে এগিয়ে গেল চেতনকে নিয়ে। একবার ফিরে তাকাল বামাপদদের দিকে। তারপর কিছুটা মন্থর এবং সতর্ক ভঙ্গীতে করিডোর দিয়ে এগিয়ে গেল।

read more
পর্ব-১৫৭ : ঘুঘুর ফাঁদ

পর্ব-১৫৭ : ঘুঘুর ফাঁদ

সুদীপ্ত অবাক হয়ে গেল, ভিতরে কারা? শুনে তো মনে হচ্ছে, এই বদমাশগুলির সঙ্গী, যারা ভিতরে ঢুকেছিল কোন কারণে, তারাই। এদের বন্ধ করল কে? বুড়ো? কোন বুড়ো?

read more
পর্ব-১৫৬ : করিডোরে কেউ নেই

পর্ব-১৫৬ : করিডোরে কেউ নেই

বামাপদ প্রথমে উঠছিল। তারপর সাইকেল। তার পিছনে চেতন, পল্টু, আরা শেষে বামাপদর ডাক্তার সাজা সহযোগী। খুব আস্তে-আস্তে বেশি শব্দ না হয়, এমনভাবে উঠতে হচ্ছিল তাদের। দ্বিতীয় তলায় এসে বামাপদ হাতের ইশারায় থামতে বলল একটু। এটি ফিমেল ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডেই ব্যস্ততা দিনে-রাতে সব সময়েই থাকে। নার্সদিদিরা ছোটাছুটি করে। লেবার পেইন নিয়ে যারা ভর্তি হয়, তাদের ডেলিভারির সময় দিন-রাত যে-কোন সময়েই হতে পারে।

read more
পর্ব-১৫৫ : অতর্কিতে হামলা

পর্ব-১৫৫ : অতর্কিতে হামলা

ওয়াশরুমের মধ্যে ঢোকার প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই আর একবার গুলির আওয়াজ শুনল সে। ওরা এত গুলি খরচ করছে কার জন্য? তবে কি দল একটা নয়, দুটো? না কি পুলিশ এসেছে? কিন্তু পুলিশ জানবেই বা কেমন করে? একটু থামল সে। পরবর্তী পদক্ষেপ ভেবে ফেলতে হবে এক্ষুনি। সে সন্তর্পণে পিছনের দরজাটা সামান্য খুলে উঁকি মারল। নাহ্, কেউ কোথাও নেই।

read more
পর্ব-১৫৪ : গরুর পালে বাঘ

পর্ব-১৫৪ : গরুর পালে বাঘ

হাসপাতাল জুড়ে আবার নিস্তব্ধতা ফিরে এল। একটা থমথমে ভোর। এখনও পাখিরা জাগেনি। ঝিঁঝিঁর আওয়াজ ছাড়া আর কিছু নেই। ভোর হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই রাত্রির এই রহস্যময়তা কেটে যাবে। একটা নতুন রিফ্রেশড্ সকাল আসবে। তারই প্রতীক্ষায় নিয়ন বাতিগুলি জ্বলেপুড়ে খাক্ হচ্ছিল যেন!

read more
পর্ব-১৫৩: ক্যান ইউ হ্যান্ডেল ইট?

পর্ব-১৫৩: ক্যান ইউ হ্যান্ডেল ইট?

বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এরপর অরণ্য তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এদিক ওদিক কামড় দিতে লাগল। “আঃ, লাগছে, ছাড়!” বলে আর্য ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল তাকে। কিন্তু পারছিল না। এক হাতে আর্যকে ধরে আর এক হাতে নিজের প্যান্টটা নামিয়ে দিল অরণ্য। তার উত্থিত পুরুষাঙ্গ থির-থির করে কাঁপছিল উত্তেজনায়। আর্যর চুলের মুটি ধরে তার উপর আর্যর মুখখানা চেপে ধরল অরণ্য। হিংস্র গলায় বলল, “যা করার কথা কর!”

read more
পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

সুদীপ্ত জানে এর পরের টার্গেটকে হিট করাই কঠিন হবে। কারণ, সেই লোকটি এখন জেনে গিয়েছে, শত্রু তার সামনে নেই, পিছনে আছে এবং তারাও সশস্ত্র শুধু নয়, তা ব্যবহার করতেও পিছপা নয়। এটা জেনে যাওয়া মানে লোকটির মনে বিচিত্র প্রতিক্রিয়া হয়। প্রথমেই সে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতে চায়। এক্ষেত্রে তার টার্গেট বেছে হিট করার কোনও সুযোগ বা সময় থাকে না বলে সে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে গুলি চালাতে থাকে। এতে অবশ্য উল্টোদিকের লোকজনের আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

read more
পর্ব-১৫১: সাইকেল মাহাতো অ্যান্ড কোং

পর্ব-১৫১: সাইকেল মাহাতো অ্যান্ড কোং

সাইকেলের সঙ্গে আর একজন আছে, সে পল্টু গায়েন। বয়স কম। তবে অভিনয় করে কেপমারিতে সে ওস্তাদ। এলাকার লোক হলেও সে এলাকায় অপারেশন চালায় না। ফলে এমনিতে স্থানীয় ক্ষেত্রে গুড ইমেজ রয়েছে। পুলিশের কাছে অবশ্য তার সম্পর্কে সব তথ্যই আছে। কিন্তু এলাকায় কিছু না করায় তার নামে কোন অভিযোগ নেই এখানে, ফলে তাকে ধরাও সম্ভব হয়নি পুলিশের পক্ষে।

read more
পর্ব-১৫০: মধ্যরাতের বিপদ-আপদ

পর্ব-১৫০: মধ্যরাতের বিপদ-আপদ

কিছুক্ষণ আগে সুদীপ্তরা যেখানে ছিল, সেখানেই ওরা দাঁড়িয়ে এখন। মাটির দিকে তাক করে ওরা এবার আলো ফেলতেই, দূর থেকে সুদীপ্তরা তাদের দেখতে পেল। সংখ্যায় দু’টি লোক। হাতে পিস্তল উঁচিয়ে আছে একজন, আর একজন টর্চ জ্বেলে এদিক-ওদিক আলো ফেলছিল। দু’জনের কারুর মুখই অন্ধকারে ভালো দেখা না-গেলেও, বোঝা যাচ্ছিল, তারা এলাকার পরিচিত দুষ্কৃতি নয়। এটা অবশ্য সুদীপ্ত আগেই অনুমান করেছিল। পরিচিত দুষ্কৃতিরা এত সহজে গোলাগুলি চালায় না। যে লোকটির হাতে টর্চ, সে আশেপাশের ঝোপঝাড়, বড় গাছ, কখন-বা মাটির দিকে আলো ফেলে ওদের খুঁজছিল।

read more
পর্ব-১৪৯: সত্যব্রতের মুখোমুখি

পর্ব-১৪৯: সত্যব্রতের মুখোমুখি

শাক্য মোবাইলে মেসেজ করে কথা বলছিল উল্লাসের সঙ্গে। অনেকবার ফোন করেছে সে। তখন ব্যস্ত থাকায় আর ফোন তোলার সময় হয়নি তার। সুদীপ্তর কাছে যদিও সে শুনেছে বিষয়টি, তবুও উল্লাসের কাছ থেকেও শুনতে চাইছিল সে। উল্লাসকে সে জানিয়ে দিয়েছিল, এখন তার চারপাশে যেহেতু অনেকে আছেন, ফলে ফোনে কথা বলা যাবে না। তবে মেসেজে বলা যাবে। সেই কারণে উল্লাস মেসেজ করছিল। আর শাক্য যথাসম্ভব প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছিল যা জানার।

read more
পর্ব-১৪৮: অপারেশন হেলথ সেন্টার

পর্ব-১৪৮: অপারেশন হেলথ সেন্টার

সুদীপ্ত বাইক গাছের আড়ালে লুকিয়ে লক্ করে রেখে এসে গাড়িতে উঠে বসতেই গাড়ি ছেড়ে দিল হরিপদ। খুব আস্তে-আস্তে, যাতে বেশি শব্দ না হয়, এমনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল সে। সুদীপ্ত সামনে উঠতেই আফজল পিছনে চলে গিয়েছিল। আর একজন শিবম্ মুন্ডা পিছনেই বসে ছিল। সে হাবিলদার একজন। একটু স্থূল গড়ন। বয়সও হয়েছে। তাকে দেখে সুদীপ্তর ভরসা হল না তেমন। ওরা অ্যাটাক করলে শিবম্ মুন্ডা আগেই সারেন্ডার করবে।

read more
পর্ব-১৪৭: মধ্যরাতের অভিযান

পর্ব-১৪৭: মধ্যরাতের অভিযান

থানায় রাতে বেশি লোকজন থাকে না। যাদের আজ টহলের ডিউটি, তারা তো আগেই বেরিয়ে গেছে। এখন যারা আছে, তাদের মধ্যে থেকে কাউকে সঙ্গে নিলে থানায় লোকের সংখ্যা একজন হলেও কমে যাবে। সেটা কতটা উচিত হবে সেটাই বুঝতে পারছে না সুদীপ্ত। মালাকার স্যারকে যে বলবে, তার উপায় নেই। সুদীপ্ত রাতে আছে মানে তিনি নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন এখন। ডাকলেও ‘হ্যাঁ-হুঁ’ ছাড়া খুব বেশি মতামত জানাবেন না। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেই সুদীপ্তকেই নিতে হবে। সে ঠিক করল একাই বেরিয়ে যাবে। রাস্তায় টহলদারি গাড়িকে ফোন করে ডেকে নিলেই হল।

read more

Skip to content