শনিবার ৬ জুন, ২০২৬

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ

পর্ব-১৫: পরবাস প্রস্তুতি (এক)

পর্ব-১৫: পরবাস প্রস্তুতি (এক)

পিসতুতো ভাই অমূল্য বাড়ি দেখে রেখেছে। বড় বাড়ি। অসুবিধা হবার কথা নয়। তবু বুকের ভিতর বালির বাঁধ ভাঙছিল। সেই একই যন্ত্রণা। একাকিত্বের। আলাদা হয়ে যাবার। জ্যেষ্ঠ পুত্রের কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে পুনর্বার। আবার তাঁর জন্য নির্ধারিত হল অন্যবাস। দেবব্রত তাঁর বড় ছেলে। কেন যেন আদিনাথের জীবনের একমাত্র সম্বল। ঢেউয়ের ধাক্কায় ঝুপঝুপ করে ভাঙছিল তীরভূমি। অশনি সংকেতময় সেই ভাঙনের শব্দ এখনও কানে বাজে। ভিতরের বদ্ধ দীর্ঘশ্বাস বুক ফুঁড়ে বাইরে বেরোনোর আগে তাই আর একটিবার বলে দেখতে চাইছিলেন তাঁর খোকাকে। দেবব্রতকে।

read more
পর্ব-১৪: রাঙা মেঘের বেলাভূমি

পর্ব-১৪: রাঙা মেঘের বেলাভূমি

হা-আ-আ-ডু-ডু-ডু-ডু। জেলেপাড়ার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ক্রীড়া প্রমত্ত গৌরী। ফুলদিকে নিয়ে চিন্তিত সুধা এখন আর তাকে একা ছাড়ে না। নিতান্ত অনিচ্ছায় সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে চটি ধরে বসে থাকে। ফুলদি সে-দিন একখানা চটি হারিয়েছে। এটা নতুন। সুন্দরদা কলকাতা থেকে কিনে এনেছে। খেলার মাঠে তার ফুলদিই সবচেয়ে যোগ্য এবং শক্তিশালী খেলোয়াড়। সুধা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে দেখে। দু’ দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে ওরা। একদিকে মেয়েদের দল।

read more
পর্ব-১৩: ডায়মন্ড হারবার, গৌরীর হারিয়ে যাবার দিন

পর্ব-১৩: ডায়মন্ড হারবার, গৌরীর হারিয়ে যাবার দিন

গৌরী এবার উঠবে। নয়ত মায়ের হাতে খুন্তি পিটুনি। এতক্ষণে চমকে ওঠে। সর্বনাশ! চিনতে পারছে না। ছুটে ছুটে চলে তো এসেছে বহুদূর। পথের নিশানা করেনি! এধার ওধার ছুটোছুটি করলো খানিকক্ষণ। আচ্ছা সামনের ওই নালাটা কি পার হয়েছিল? সামনে কাকচক্ষু জল। অনেকক্ষণ ধরে জলতেষ্টা পেয়েছে। মুখ নিচু করে দু’ আঁজলা জল ভরে খেয়ে তবে শান্তি। না কোথাও কিছু চেনা নজরে আসছে না তো, সুন্দর বিলটা কোথায় গেল কোথায়? জেলে বস্তির অস্তিত্বই তো নেই চারপাশে, বালিয়াড়ির মধ্যেখানে একলা গৌরী যতদূর চোখ যায় তাকিয়ে বুঝলো, ও হারিয়ে গিয়েছে।

read more
পর্ব-১২: এ দিন যাবে, রবে না

পর্ব-১২: এ দিন যাবে, রবে না

শিয়ালদহ স্টেশনে ভিড়টা স্বাভাবিক ঠেকছে না। প্রবল মারপিট হাতাহাতি চলছে দুটো দলে। শঙ্কর জানে এ হররোজের ঘটনা। তার চেয়ে টিকিট লাইনে দাঁড়িয়ে পড়া ভালো। কী ভেবে চম্পারণের দুটো টিকিট কাটল। মন্মথ আসতে পারে বলেছিল। এমনিতে একা গেলেই ভালো হয়। পুরো ব্যাপারটা একদম নিজের মতো করে বুঝে আসা যায়। কিন্তু চারপাশে যা গরম হাওয়া, যুদ্ধ যুদ্ধ হুংকার, তাতে সম্পূর্ণ একলা গেলে সমস্যা হতে পারে।

read more
পর্ব-১১: স্বপ্নভূমি তিলজলা

পর্ব-১১: স্বপ্নভূমি তিলজলা

শিয়ালদা স্টেশনে খুব ভিড়। বদ্দি বিশ্বাস এসে তিলজলা ক্লাবে শংকরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার আগে একদিনের জন্য চট করে চম্পারণ ক্যাম্পে ঘুরে আসবে শঙ্কর। টুকিটাকি জিনিস-সহ ছোট একটা ব্যাগ আগেই গুছিয়ে নিয়ে এসেছে। মায়ের কাছ থেকে দশটা টাকা ও যোগাড় করেছে। এ টাকা মাকে ফেরত দিয়ে দেবে শঙ্কর। অ্যাড এঁকেই তুলে দিতে পারবে টাকা। এখন হাতে বেশ কয়েকটা ব্যানার আঁকার কাজ আছে। সবটা করতে পারলে শ’খানেক তো হয়েই যাবে।

read more
পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

শ্রবণ দর্শনের ক্ষমতাকেন্দ্র জড়ো করে এখন কেবল সুনীতি শুনছে আর দেখছে। গোরার দু’চোখে বিভ্রান্তি, অসহায়তা। তোতলাচ্ছে সামান্য। আকুল নিবেদনে জানাচ্ছে নিজের কৃতকর্ম। সুনীতির ধূসর অক্ষিগোলকের সামনে যেন কলাপাতায় মুড়ে বহু যত্নে নিবেদন করছে বধূর দুধেআলতা পদচিহ্ন। মাগো ওদের সম্পন্ন পরিবার শিক্ষিত বৈদ্যবংশ, সেনগুপ্ত, ভারী কোমল স্বভাবের ভদ্র মেয়ে।

read more
পর্ব-৯: শো-কেস শহর, উপসাগরীয় শিস এবং গোরার দিনরাত্রি

পর্ব-৯: শো-কেস শহর, উপসাগরীয় শিস এবং গোরার দিনরাত্রি

গোরা মানে গোরাচাঁদ নয়। গৌরাঙ্গ নয়। এ পরিবার শিবমন্ত্রে দীক্ষিত। গোরা হল গৌরিতোষ। সুনীতির সব ছেলেই মহাদেবের দোরধরা। শঙ্কর গৌরিতোষ আশুতোষ আর পিনাকী। আগের পক্ষের দেবতোষ শিবতোষও তাই। তার ওপর আর এক চমৎকার। বছর চারেক বয়সে সুনীতি সপরিবার বারাণসী গিয়েছিলেন। বাবা কিনে দিয়েছিলেন ছোট একখানি শ্বেতপাথরের শিব। লিঙ্গ নয়। পদ্মাসনে বসে থাকা সুস্মিত দেবাদিদেব।

read more
পর্ব-৮: সুনীতির পথ জন্মান্তরে

পর্ব-৮: সুনীতির পথ জন্মান্তরে

সুনীতির শরীর ভেঙে আসছে। পা দুটো অসম্ভব ভারি। মনে পাষাণভার। কিচ্ছু ভালো না লাগার ক্লান্তি। নকুল যত্নে তাঁকে বসিয়ে দিয়েছে মহিলা সংরক্ষিত কামড়ায়। আশেপাশে ভিড় করে আরো অনেকে। নোংরা মেঝে। পানের পিক ফেলা দেওয়াল। ধুলোমাখা আরশোলা এখানে ওখানে হাঁটছে। প্রশস্ত জানলা ছাড়িয়ে চোখ যাচ্ছে বহুদূর অজানা দিগন্ত। অজানা জগৎ। অজানা ঠিকানা। বৃদ্ধ স্বামী। এতগুলো ছেলেমেয়ে। কি যে করবেন সুনীতি!

read more
পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

সুনীতি রাতের শিশির আর ভেসে আসা শৈবালের তরঙ্গ দুহাতে সরিয়ে শীতল জলের গভীরে নিজেকে ডুবিয়ে রাখেন অনেকক্ষণ। সারাদিনের কাজের গন্ধ ধুয়ে ফেলেন শরীর থেকে। ওই প্রত্যেকটা ডুবের ভিতরে মিশে থাকে তাঁর আত্মশুদ্ধির রাত-আহ্নিক। শুচিতার গৌরব মনের মধ্যে জ্যোতির্ময়ী প্রদীপ হয়ে জ্বলে। মৃদুমন্দ বহতায় আরাম ছড়ায় হিমেল বাতাস। সে বাতাসের শরীর জুড়ে প্রকৃতির নিজস্ব শান্তি।

read more
পর্ব-৬: বিষণ্ণ সকাল, নিঃসঙ্গ আদিনাথ

পর্ব-৬: বিষণ্ণ সকাল, নিঃসঙ্গ আদিনাথ

ইন্দুমতি আদিনাথ রাজযোটক। সকলেই তাই বলতো। তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা ইন্দু। ওই মোমের মত রং ওই স্পর্শ ওই সহবাস সুখ! এখনও নিঃশব্দ রাতগুলোয় ওই নারীকে কাছে ডাকেন আদিনাথ। সেও আসে। লুকিয়ে লুকিয়ে তাঁরা মিলিত হন। ইন্দুর অশরীরী অস্তিত্বের মায়ামৃগ এখনো তাঁকে দুঃসহ ছুটিয়ে বেড়ায়।

read more
পর্ব-৫: কিশোরীর মেঘবেলা

পর্ব-৫: কিশোরীর মেঘবেলা

খুকু ষোল পূর্ণ করে সবে সতেরোয় পা দিয়েছে। ডায়মন্ডহারবার আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ক্লাস নাইনের ছাত্রী। লালপাড় সাদা শাড়ি আর দুটো মোটা বিনুনি ঝুলিয়ে খুকু যখন ইস্কুলে যায় অচেনা পথচারীরাও না তাকিয়ে পারে না। কোনো সাজ নেই। একটা টিপ পর্যন্ত না। শুভ্র ত্বকের নীচ থেকে তবু জ্যোতি বেরোয়। ছেলেবেলা থেকে এমন কথাই শুনেছে ও মায়ের কাছে। বাবা নাকি তাই ওর ভালো নাম রেখেছিলেন প্রভাময়ী। ডাকেন প্রভা বলে।

read more
পর্ব-৪: কথা বলা অতীত

পর্ব-৪: কথা বলা অতীত

তখন প্রায় মধ্যরাত। মেঘাবৃত আকাশ গর্জন করছিল থেমে থেমে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপট কমেছে অনেকক্ষণ। জোলো বাতাস বইছে নিজের মতো করে। দক্ষিণ পুবের জানলা টেনে বন্ধ। পায়ের কাছে মেঝে সমান পশ্চিমের জানলার পাল্লাখানা শুধু খোলা। বিছানা থেকে দেখা যাচ্ছিল, গাঢ় অন্ধকার চিরে চিরে রুপোলি অলোর ইচ্ছেখুশি ছুটোছুটি। ঝড়টা উঠেছিল শেষ বিকেলে। গোধূলির মুখ নিকষ কালো হয়ে থমথম করল কিছুক্ষণ। তারপরেই আছড়ে পড়া কাকে বলে। প্রবল সাইক্লোন। সঙ্গে তুফান বর্ষণ। একঘন্টার মধ্যে সামনের রাস্তায় গোড়ালি ডুবল। সুনীতি ভাগ্যিস মেয়েকে নিয়ে তখনও এ বাড়িতেই।...

read more
পর্ব-৩: শঙ্করের দেশান্তর, আখ্যানের অন্য পথ

পর্ব-৩: শঙ্করের দেশান্তর, আখ্যানের অন্য পথ

নবীন আসছে ছুটতে ছুটতে। সমুদ্রের নোনা জল গায়ে মাখা তাগড়া নবীন চন্দ্র। সেজদা বলতে অজ্ঞান। আদিনাথ দাশগুপ্তর খাস চাকর ছিল নবীনের বাবা অনন্ত মাহাতো। তখন ওরা পাকাপাকি পূর্ববঙ্গে। ক্ষুদে শঙ্কর অনন্ত কাকার কোলে পিঠেই বড় হয়েছে। কোটালিপাড়ায় আদিনাথের বিপুল সম্পদ এবং প্রতিপত্তির মধ্যে। তারপর শুধুই ভাঙচুর। গুঁড়িয়ে যাওয়া দাপটের ধুলোকণায় প্রভুভৃত্যের বনেদি রেয়াৎ এখন নেই। কেবল তার একটা অস্পষ্ট আভা রয়ে গিয়েছে।

read more
পর্ব-২: মালা বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি

পর্ব-২: মালা বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি

সুধা সবে অভিমানে মুখ ফুলিয়ে কিনতে যাচ্ছিল মুড়কি তখনই হাত নেড়ে আহ্বান। ওদিকে পুজোর ঘরে হই হই করে গুরুদেবের বহুব্যঞ্জন ভোগের ব্যবস্থা হয়েছে। সুনীতি ও আছেন সেই দলে। গুরুদেব ডেকে নিলেন সুধাকে। শিষ্যদের বললেন, গিন্নি মুখে কিছু না দিলে আমি খাই কি কইরা? আমার পাশেই অর বসার পিঁড়িখান পাত। গুছায়ে খাইতে দাও।

read more
পর্ব-১: সুধারানির কথা

পর্ব-১: সুধারানির কথা

গুরুদেব বলছিলেন, যা সত্য তাই কি কেবল স্থায়ী! মৃত্যু তো সত্য। তবে মৃত্যু কি স্থায়ী? হ্যাঁ, তাই। নশ্বর এই জীবন। ক্ষণস্থায়ী। চঞ্চল। ফেনাময় বুদবুদ। গুরুদেবের গলায় ঢেউয়ের মতো শব্দ। চাঁদনি রাতে ডায়মন্ডহারবারের সমুদ্র যেমন গম্ভীর গলায় ডাকে, আকাশের সঙ্গে একলা কথা বলে, ঠিক তেমনি গম্ভীর আর সুন্দর। লালপোলের কিনারে দাঁড়ালে সে কথা শোনা যায়। লিখছেন ড. জয়িতা দত্ত।

read more

 

 

Skip to content