
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
|| ফোটোগ্রাফ-১৭ ||
ধৃতিমানের চোখে ভাসে। এই শব্দের ব্যবহার খুব সিনেমাটিক। এরকম একটা স্বীকারোক্তির দৃশ্যে —সে হয়তো কাচের জানলায় নীলাঞ্জনার মুখের আবছায়া প্রতিবিম্ব দেখাতো। সেই প্রতিবিম্বের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে দূরের রাস্তা দিয়ে আলো দপদপ করতে করতে একটা অ্যাম্বুল্যান্স ছুটে যাচ্ছে। তার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের হুটারের শব্দ। না নৈঃশব্দ্য ভেঙে নীলাঞ্জনা আবার কথা বলে উঠলেন।
নীলাঞ্জনার কথা শুনতে শুনতে ধৃতিমানের মনে হচ্ছিল,- এত সুন্দরী অভিনেত্রী জনপ্রিয়তা অর্থ-প্রতিপত্তি সবই আছে। কিন্তু তার বিশ্বাস করার মতো কোনও বন্ধু বোধহয় নেই। একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত দম্পতির মধ্যে অভাব নিয়ে বঞ্চনা নিয়ে না পাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড়া হয়। মনোমালিন্য হয়। আবার সম্পর্কের উত্তাপে মোমের মত গলে যায় দূরত্বের কাঠিন্য। সব মান-অভিমান। না পাওয়াটাই হয়তো তাদের পারস্পরিক বিশ্বাসকে অটুট করে রেখেছে। হালের গায়ক অনুপম রায়ের গানের সুরে বা গায়কীতে একটা একঘেয়েমি থাকলেও তার লেখা কথাগুলো খুব পরিপাটি। বোধে উজ্জ্বল। অনুপমের লেখা গানেতেই রয়েছে ‘সব পেলে নষ্ট জীবন…।’
আরও পড়ুন:

হয়তো আগামী ছবির নাম রাখতেন ‘হাওয়া-মোরগ’

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬১: আধুনিক ক্ষমতাদখলের লড়াই ও রাজসূয়যজ্ঞের প্রেক্ষিতে যুদ্ধজয় ও অধিকারপ্রতিষ্ঠার মধ্যে সাযুজ্য কোথায়?

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো
নীলাঞ্জনাদের সব পাওয়া হয়ে গিয়েছে। একটার পর একটা সম্পর্ক ভেঙেছে নতুন আবার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ভেঙে আসার সম্পর্কের দায় থেকেই নতুনকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারেনি দুজনের কেউই! তাই আবার সম্পর্ক ভেঙেছে। এইভাবে ভাঙতে ভাঙতে গড়তে চাওয়ার স্বপ্ন দেখা মানুষ হঠাৎ আবিষ্কার করে চলার পথের শেষ মাইলস্টোনটা আর মাত্র কিছুটা দূরে। তখনই সে ভয়ংকর ভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। নীলাঞ্জনা বলে যাচ্ছে তার নিজের জীবনের কথা।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯০ : দুই ভাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন
আপনি সেদিন প্রশ্ন করেছিলেন, আমি রুনা দত্তের সঙ্গে অমিতাভের বিয়ে কেন ভেঙেছে সেটা জানতাম কিনা। পেশাদারী চাতুরি দিয়ে আমি প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম। তবে সম্পর্ক ভালোলাগা থেকে বিয়েতে গড়িয়ে যাবার আগে জানতে পারিনি। মেয়েদের মধ্যে একটা বৈরিতা থাকে। রুনার মধ্যেও ছিল। আমাদের সম্পর্কের খবরটা কাগজেপত্রে বেশ রসালো করে বের হতো। সেখান থেকেই রুনা সব জানতে পেরেছিল কিন্তু আমার সঙ্গে কোন যোগাযোগ করেনি। ইচ্ছে করে যোগাযোগ করেনি। সবকিছু জেনেশুনেও আমাকে কিছু জানতে দিতে চায়নি। ভিতরে ভিতরে হয়তো প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল।
একটানা কথা বলতে বলতে নীলাঞ্জনা বোধহয় হাঁপিয়ে পড়েছিল – ফোনটা পজে রেখে বোধহয় দম নিচ্ছিল। কয়েক ঢোক জল খেয়ে খানিকচোখ বুজে বসেছিল হয়তো। পজের পরে চালু হল নীলাঞ্জনার স্বগতোক্তি। নীলাঞ্জনার স্বীকারোক্তি।
একটানা কথা বলতে বলতে নীলাঞ্জনা বোধহয় হাঁপিয়ে পড়েছিল – ফোনটা পজে রেখে বোধহয় দম নিচ্ছিল। কয়েক ঢোক জল খেয়ে খানিকচোখ বুজে বসেছিল হয়তো। পজের পরে চালু হল নীলাঞ্জনার স্বগতোক্তি। নীলাঞ্জনার স্বীকারোক্তি।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৮: শ্যালক-জাতক—অচিনপাখি

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
—রুনা বেপরোয়া ধরণের মেয়ে। রুনার রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল। এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর চারিত্রিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সে অমিতাভদের পাঁচতারা কোম্পানির চাকরিতে ঢুকে পড়েছিল। কিছুদিন পরেই কাজের চাপে বেসামাল দিশেহারা অবস্থা রুনার। আইটি কোম্পানিতে এই ধরনের কর্মীদের চাকরি সর্বপ্রথম যায়। বড়কর্তা অমিতাভ নিয়ম মতো রুনাকে কাউন্সেলিং-এ ডেকেছিলেন। রুনা জানত অমিতাভ’র রমণীবিলাসের প্রতি আকাঙ্ক্ষার কথা। কাউন্সেলিং-এর কনফারেন্স রুমেই রুনা অমিতাভকে বধ করলো। অমিতাভর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও তো করতে পারেনি। কারন সেই কনফারেন্স রুমে সে একাই ছিল। আর বসকে ব্ল্যাকমেল করার মতো আর কোন বিশ্বস্ত বন্ধু রুনা পায়নি। কিন্তু ব্যাগের মধ্যে মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং অন রেখেছিল এবং বারবার মৌখিকভাবে নিজের নাম পরিচয় দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
অমিতাভ’র আইডেন্টিটি স্পষ্ট করেছিল! মূহুর্তের মধ্যে অমিতাভকে সম্মোহিত করে, রুনা নিশ্চিত ছাঁটাইয়ের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নেয়। শুধু চাকরি বাঁচায় এমন নয়! সে অমিতাভের আগের ফোন কলের ভয়েস রেকর্ড করে রেখেছিল। যাতে এই ভয়েস রেকর্ডিং এ অমিতাভের টুকরো কথাবার্তা গলার শব্দের ভয়েস স্যাম্পল তার আগের কলরেকর্ডের সঙ্গে ম্যাচ করে। সেদিন রাতেই সেই ভয়েস রেকর্ডিং অমিতাভ ওকে পাঠিয়ে দিয়ে বলে রুনা অমিতাভকে বিয়ে করতে চায়।
এভাবেই অমিতাভ রুনাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। রুনা চেয়েছিল একটা নিশ্চিন্ত বিলাসবহুল জীবন। কিন্তু সে স্বপ্নেও ভাবেনি যে এতকাণ্ড করে সে একজন যৌনবিকারগ্রস্ত মানসিক রোগীর ঘরণী হয়েছে। এই ভুলটা শুধু রুনার হয়নি আমারও হয়েছিল। ঝকঝকে স্যুটবুট-পরা অমিতাভ চক্রবর্তীকে দেখলে কেউ আন্দাজ করতে পারবে না চার দেয়ালে ঘেরা বন্ধ-দরজার মধ্যে পোশাকের শালীনতার বাইরে অমিতাভ একজন অসুস্থ অমানুষ।—চলবে।
এভাবেই অমিতাভ রুনাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। রুনা চেয়েছিল একটা নিশ্চিন্ত বিলাসবহুল জীবন। কিন্তু সে স্বপ্নেও ভাবেনি যে এতকাণ্ড করে সে একজন যৌনবিকারগ্রস্ত মানসিক রোগীর ঘরণী হয়েছে। এই ভুলটা শুধু রুনার হয়নি আমারও হয়েছিল। ঝকঝকে স্যুটবুট-পরা অমিতাভ চক্রবর্তীকে দেখলে কেউ আন্দাজ করতে পারবে না চার দেয়ালে ঘেরা বন্ধ-দরজার মধ্যে পোশাকের শালীনতার বাইরে অমিতাভ একজন অসুস্থ অমানুষ।—চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















