
|| ফোটোগ্রাফ-১৩ ||
সেদিনও মুচিবাজারের পাশে ফাঁকাজায়গায় শ্রেয়া অপেক্ষা করছিল। অন্যদিন গাড়ি থেকে নেমে অপেক্ষা করে। সেদিন গাড়ির ভিতরেই বসেছিল। আরিফ রোডে গাড়ি ঢোকাতে ধৃতিমান নিজেই মানা করে। পাড়ায় তার পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টা সে প্রকাশ করতে চায় না। কিন্তু না চাইলেও উপায় নেই। পাড়ারই সুষমা কর হত্যা রহস্যের সমাধান ও শাশুড়ি খুনের আসামি হিসেবে পুত্রবধূ বিউটি আর খুনের সহযোগী হিসেবে ছেলে পল্লবের গ্রেফতারির পর সকলেই ধৃতিমান চৌধুরীর কথা জেনে গিয়েছে।
কাগজে টিভিতে মুখ দেখাতে বা বাইট দিতে ধৃতিমান একেবারেই রাজি হয়নি। কিন্তু তাঁর প্রসঙ্গ এসেছে। তাই পাড়ার লোকেরা তাকে চেনে জানে। এই জন্যেই সে বাড়ির একেবারে সামনে গাড়ি আনতে মানা করে। ধৃতিমান বারবারই বলে মেনরোডে গাড়ি রাখতে। সে হেঁটে চলে আসবে। কিন্তু আরিফ রোড থেকে বিধাননগর রোড মানে সাবেকি উল্টোডাঙা মেন রোড বেশ খানিকটা রাস্তা। অন্যান্য যেকোনও গাড়ি হলে পাশের দোকানদারেরা আপত্তি জানান। যেন গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে বলেই খরিদ্দার দোকান দেখতেই পাবে না। আর দোকান দেখতে পাবে না বলেই সেই দোকান থেকে কেনার প্রয়োজনীয় জিনিসটাও বেমালুম ভুলে যাবে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১২

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— তিল কাছিম

ত্রিপুরায় আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা
কিন্তু কলকাতা পুলিশের আলোর ছটা ছড়ানো পরিচিত স্টিকার লাগানো কালো রঙের এসইউভি দেখে আর কেউ কিছু বলে না। আর ভিতরে বসে থাকা বা জিপের বনেটে পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকা টানটান মেদহীন চেহারার রাশভারী ছিপছিপে তরুণী শ্রেয়াকে দেখে সম্ভ্রমে একটু দূর থেকেই দেখে। টান টান করে আঁচড়ানো মাথার চুল। ঘাড়ের কাছে শক্ত করে পনিটেল বাঁধা। চোখে এভিয়েটা সানগ্লাস। ডানহাতে স্মার্টওয়াচ। বাম হাতে সোনার একটা চ্যাটানো বালা। জিন্সের প্যান্ট। গুঁজে পরা সাদা ফুল স্লিপ শার্ট। তার উপর একটা ঢিলে হাফস্লীভ জ্যাকেট।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে
শ্রেয়া বাইরে বের হলে সবসময় সঙ্গে পিস্তল রাখে। অস্ট্রিয়াতে তৈরি আধুনিক গ্লক-১৭ মেক ৯এমএম পিস্তল। তার শরীরের সঙ্গে হাতের আড়ালে লেগে থাকা কাঁধে লাগানো পিস্তল রাখার শোল্ডার হোলস্টার। শ্রেয়া ডানহাতি। তাই বামকাঁধের তলায় প্রায় আট ইঞ্চি লম্বা ফুল সাইজ লোডেড পিস্তল রাখা। প্রায় ৯০০ গ্রাম ওজন আর ডান কাঁধের নিচে দুটি লোডেড ম্যাগাজিন। সে প্রায় ২৫০ করে আরও ৫০০ গ্রাম। অন্য কেউ হলে ক্লান্ত হয়ে পড়তো। শ্রেয়ার কাছে এটাই এনার্জি। এটা তাকে কনফিডেন্স দেয়। এদিন শ্রেয়া গাড়ি থেকে নামেনি।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৪ : অতঃপর অভিযান
ধৃতিমান এসে পিছনের সিটে বসল কুশল বিনিময় করল। তারপর উল্টোডাঙ্গা থেকে বাইপাস পার্কসার্কাস , কসবা কানেক্টর পৌঁছে রুরি হাসপাতাল হয়ে আনন্দপুর রোড হয়ে আনন্দপুর হাইরোড টপকে খানিকটা এগিয়ে কালার ফিউশন স্টুডিয়ো। কথা বলছিলেন নীলাঞ্জনা চক্রবর্তী।
— একজন কমন ফ্রেন্ডের সূত্রে অমিতাভের সঙ্গে আলাপ।
— তারপর?
— ঝকঝকে বুদ্ধিমান! এইটই প্রফেশন্যাল! আগে কিছুদিন কলেজে পড়াতেন। সব মিলিয়ে আমার ভালো লেগেছিল।
— অমিতাভের ডিভোর্সের কথা…
— অমিতাভ নিজেই বলেছিল!
— একজন কমন ফ্রেন্ডের সূত্রে অমিতাভের সঙ্গে আলাপ।
— তারপর?
— ঝকঝকে বুদ্ধিমান! এইটই প্রফেশন্যাল! আগে কিছুদিন কলেজে পড়াতেন। সব মিলিয়ে আমার ভালো লেগেছিল।
— অমিতাভের ডিভোর্সের কথা…
— অমিতাভ নিজেই বলেছিল!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৭: জরাসন্ধবধ ও জনার্দনের কৃতিত্ব

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম
— কেন ডিভোর্স হয়েছিল? জানতে চাননি?
— নাঃ! এ ধরণের প্রশ্ন আমার খুব বোকা বোকা মনে হয়! আমারও আগে ডিভোর্স হয়েছে। একবার নয়। দু’ বার। অমিতাভ জানতে চায়নি। অতীত ঘেঁটে লাভ কি? ভুল হয়েছিল! জীবনে বারবার ভুল হয়। আগে মানসিকতার মিল না থাকলেও বা একে অন্যের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলেও বিয়ে টিকিয়ে রাখার একটা মরিয়া চেষ্টা করা হতো। দিন পাল্টে গিয়েছে। তাই সম্পর্কের বাধ্যবাধকতাও পাল্টেছে। আজকাল ভেঙে যাওয়া সম্পর্ককে সমাজের চোখে টিকিয়ে রাখার একটা প্রবণতা হয়েছে। গ্রে ডিভোর্স! শুধু খাতাকলমে ডিভোর্স হয়নি। এক বাড়িতে থেকে বা থেকে স্বামী-স্ত্রীর কোনও সম্পর্ক নেই।
এরই মাঝে প্রোডাকশনের বদান্যতায় এবং অবশ্যই নীলাঞ্জনার সৌজন্যে গরম কফি এলো। —চলবে।
— নাঃ! এ ধরণের প্রশ্ন আমার খুব বোকা বোকা মনে হয়! আমারও আগে ডিভোর্স হয়েছে। একবার নয়। দু’ বার। অমিতাভ জানতে চায়নি। অতীত ঘেঁটে লাভ কি? ভুল হয়েছিল! জীবনে বারবার ভুল হয়। আগে মানসিকতার মিল না থাকলেও বা একে অন্যের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলেও বিয়ে টিকিয়ে রাখার একটা মরিয়া চেষ্টা করা হতো। দিন পাল্টে গিয়েছে। তাই সম্পর্কের বাধ্যবাধকতাও পাল্টেছে। আজকাল ভেঙে যাওয়া সম্পর্ককে সমাজের চোখে টিকিয়ে রাখার একটা প্রবণতা হয়েছে। গ্রে ডিভোর্স! শুধু খাতাকলমে ডিভোর্স হয়নি। এক বাড়িতে থেকে বা থেকে স্বামী-স্ত্রীর কোনও সম্পর্ক নেই।
এরই মাঝে প্রোডাকশনের বদান্যতায় এবং অবশ্যই নীলাঞ্জনার সৌজন্যে গরম কফি এলো। —চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















