
ছবি: লেখক।
কেনাই ফিয়র্ড অঞ্চলের হিমবাহ দেখানোর জাহাজ অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেকটাই ছোট। যাতে জাহাজ খুব সহজেই ওই সব সংকীর্ণ জায়গায় পেরিয়ে হিমবাহ বা অন্য কোনও দ্বীপের একদম কাছে চলে যেতে পারে। কিন্তু এই সব ছোট জাহাজে উঠলে সমস্যা হচ্ছে এরা সমুদ্রের ঢেউয়ে বা জোরালো বাতাসে খুব বেশি উথাল পাথাল করে। যত ছোট জাহাজ, তত বেশি তারা দোলে।
সুরক্ষাগত দিক থেকে অর্থাৎ জাহাজ উল্টে যাওয়ার দিক থেকে দেখলে যা সমস্যা থাকার সে তো আছেই। কিন্তু তার থেকেও একটা বিরাট বড় সমস্যা হল ‘সি-সিকনেস’। জাহাজের দোলায় লোকজনের খুব গা গুলোয় এবং চরম ক্ষেত্রে বমি করে করে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যায়। আমার সহধর্মিনী এই সি-সিকনেস-এ প্রচন্ড ভাবে আক্রান্ত হয়েছিল। এই একই যাত্রায়। সে গল্পও বলছি। মানে গাড়ির সমস্যা থেকে শুরু করে শরীরের সমস্যা সব কিছু একসঙ্গে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৮: স্ত্রী সীতার ব্যক্তিত্বের প্রভায় রামচন্দ্রের আলোকিত উত্তরণ সম্ভব হয়েছে কি?
আগেই বলেছি, যে কেনাই ফিয়র্ড যাওয়ার জাহাজ ছাড়ে সিউয়ার্ড থেকে। আমাদের জাহাজ ছাড়ার সময় ছিল সকাল ৮টা। ফেয়ারব্যাঙ্কস থেকে সিউয়ার্ড বহু দূর। প্রায় চারশো আশি মাইলের মতো। অর্থাৎ গাড়িতে করে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা সময় লাগে। তার ওপরে যদি মুখপ্রক্ষালনাদি, বা প্রাতঃকৃত্যের জন্য দাঁড়াতে হয় বা বিশ্রাম নিতে হয় তাহলে আরও বেশি। কাজেই আমরা আগের দিন অ্যাঙ্করেজ চলে এলাম। অ্যাঙ্করেজ থেকে সিউয়ার্ড হল প্রায় একশো তিরিশ মাইল। মানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। ঠিক হল যে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়া হবে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৯: ক্ষুদ্র শক্তি সংগঠিত হলে বড় শত্রুও হার মানে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক
তখন সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিক। কাজেই ঘণ্টা দু’য়েক মতো সময় রাতের মতো অন্ধকার হয়। তো আমি এর আগে অনেক বার রাতে গাড়ি চালিয়েছি এবং বহু দূর দূর গিয়েছি। কাজেই এই টুকু সময় অন্ধকারে গাড়ি চালাতে আমার কোনও অসুবিধাই নেই। কিন্তু আলাস্কায় রাতে গাড়ি চালানো এবং অন্যান্য জায়গায় চালানোর মধ্যে বিস্তর ফারাক। এখানে রাস্তায় ধস নামে। জন্তু-জানোয়ার বেরিয়ে আসে, সে অনেক সমস্যা।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৭: গ্রিন টি /৫
আগে একবার একটি ছোট সজারুকে ধাক্কা মেরে ফেলেছি। গাড়ির সামনে মুজ বা ক্যারিবুর মতো বড় জন্তু-জানোয়ারও চলে এসেছে। কিন্তু কখনও কিছু ক্ষতি হয়নি। তাই আমার শিক্ষাও হয়নি। ওই যে, কথায় বলে কেউ কেউ দেখে শেখে, আর কেউ কেউ ঠেকে শেখে। তো আমি দেখে শিখিনি। যথারীতি রাতে গাড়ি চালিয়ে তখনও বহু জায়গায় ঘুরতে যাচ্ছি আলাস্কায়। এবারেও তাই যাচ্ছি।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
সবাই মিলে সাড়ে তিনটে নাগাদ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ড যুক্ত হয়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ের মাধ্যমে। এখন যদিও অন্ধকার, তাই কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু এই রাস্তা ধরে এর আগে আমরা বহু জায়গায় বহুবার গিয়েছি। রাস্তার প্রথম পঞ্চাশ মাইল যেতে হবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটা খাঁড়ির ধার দিয়ে। সিউয়ার্ড যাওয়ার সময় রাস্তার একেবারে ডানদিকে বিপুল জলরাশি। তার ওদিকে তাকালে উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগর। আর কিছু কিছু জায়গায় সেই উন্মুক্ত দৃশ্যপথে বাধা দিচ্ছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু পাহাড়। আবার কিছুটা এগিয়ে গেলে, ওপর প্রান্তে একটা দ্বীপ। সূর্যের আলো থাকলে সেখানে জোয়ার ভাঁটার অদ্ভুত খেলা।—চলবে।
* রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা (Mysterious Alaska) : ড. অর্ঘ্যকুসুম দাস (Arghya Kusum Das) অধ্যাপক ও গবেষক, কম্পিউটার সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কস।


















