
|| হার্ড ড্রাইভ-১৪ ||
ঈপ্সিতা বালিগঞ্জ প্লেসে মায়ের কাছে ফিরেছে! অনেকক্ষণ শাওয়ারের জলের তলায় মাথা ভিজিয়েছে। মাথা মুছতে মুছতে হঠাৎ চোখের সামনে সবটা রিপ্লে হয়ে গেল। সেদিন ওই চ্যানেলের সর্বভারতীয় কর্তা এক বিশেষ কাজে বিদেশে যাবেন! চ্যানেলের নতুন লোগো উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শুটিংটা সকালে হয়ে গেল। এটাই বিকেলের অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে দেখানো হবে। তখন তিনি থাকছেন না, তাই পুলককে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছিল সে যেন সকালের ওই শুটিংয়ের অংশটুকু করে দেয়।
সেদিন চ্যানেলে সর্বভারতীয় কর্তা সস্ত্রীক মন্ত্রীকে বিশেষ লাঞ্চে ডেকেছিলেন। নিছক সৌজন্যে সকালেও যেতে হয়েছিল ঈপ্সিতাকে! সেখানেই একটি জনপ্রিয় বাংলা ছবির গানে ওই কালো হুডিপরা মেয়েটিকে সে নাচতে দেখেছিল। মর্জিনা আবদুল্লাহ ছবির গান! সেই বিখ্যাত ছুরির নাচ —” হায় হায় প্রাণ যায়!”
আজ সবকিছু মনে পড়ে যাচ্ছে! দুপুরে মায়ের বাড়ি নামিয়ে পুলক তার দপ্তরে চলে গিয়েছিল। বিনীতা সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গল্প জানতে চান। মাকে বলেও ছিল, সকালে হুডিপরা একটি মেয়ে মর্জিনা আবদুল্লাহ ছবির গান নাচের রিহার্সাল দিচ্ছিল! টেলিভিশনে দেখানো হয় বলে এসব অনুষ্ঠান অনেক লম্বা হয়। পুলকের মতো ব্যস্ত মন্ত্রী সারাক্ষণ তো ওখানে বসে থাকতে পারেন না। ঈপ্সিতাও চায় না। তাই সন্ধেবেলা দু-একজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর ঈপ্সিতাকে নিজেদের সানি পার্কের বাড়িতে নামিয়ে পুলক গিয়েছিল পার্টি অফিসের মিটিংয়ে। তাই নাচগানের বেশি অনুষ্ঠান দেখা হয়নি। রাতে টেলিভিশনে অনুষ্ঠানে মা দেখে পরের দিন বলেছিলেন ওই গানের নাচ নেচেছিল সিরিয়ালের উঠতি নায়িকা উত্তরা মুখার্জি। মায়ের কথায় অতটা গুরুত্ব দেয়নি সেদিন ঈপ্সিতা! কিন্তু আজ সূত্রগুলো পরপর সঠিক রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছে।
আজ সবকিছু মনে পড়ে যাচ্ছে! দুপুরে মায়ের বাড়ি নামিয়ে পুলক তার দপ্তরে চলে গিয়েছিল। বিনীতা সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গল্প জানতে চান। মাকে বলেও ছিল, সকালে হুডিপরা একটি মেয়ে মর্জিনা আবদুল্লাহ ছবির গান নাচের রিহার্সাল দিচ্ছিল! টেলিভিশনে দেখানো হয় বলে এসব অনুষ্ঠান অনেক লম্বা হয়। পুলকের মতো ব্যস্ত মন্ত্রী সারাক্ষণ তো ওখানে বসে থাকতে পারেন না। ঈপ্সিতাও চায় না। তাই সন্ধেবেলা দু-একজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর ঈপ্সিতাকে নিজেদের সানি পার্কের বাড়িতে নামিয়ে পুলক গিয়েছিল পার্টি অফিসের মিটিংয়ে। তাই নাচগানের বেশি অনুষ্ঠান দেখা হয়নি। রাতে টেলিভিশনে অনুষ্ঠানে মা দেখে পরের দিন বলেছিলেন ওই গানের নাচ নেচেছিল সিরিয়ালের উঠতি নায়িকা উত্তরা মুখার্জি। মায়ের কথায় অতটা গুরুত্ব দেয়নি সেদিন ঈপ্সিতা! কিন্তু আজ সূত্রগুলো পরপর সঠিক রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭০ : ঘটজাতক/৫ : সে আসিছে আজ কাল-বৈশাখে

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৭: স্কুপ-নিউজ
কোথায় যেন পড়েছিল যে বিষয়টা নিয়ে কেউ যখন সর্বক্ষণ খুব বেশি করে ভাবছেন মনের সার্চ ইঞ্জিন সেই সংক্রান্ত সবকিছু স্মৃতি তাঁর মনের ভেতর তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে। একেবারে নিজের অজান্তে। আজকের দিনের এ আই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মতই আমাদের মন অবিরামভাবে সেই কাজটা করে আর মনের মনিটারে তার ছাপগুলোকে আবছা আবছা করে ফুটিয়ে তুলতে থাকে। এইভাবে রগের দুটো পাশ দপদপ করতে করতে হঠাৎ করে অনেককিছু মনে পড়ে যায়। এভাবেই তাঁর মনের মধ্যে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া স্মৃতিটা ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
সেই সঙ্গে ঈপ্সিতার এটাও মনে হচ্ছে একই রকমের চেহারার কালো হুডিপরা অন্য একটা মেয়েও তো হতে পারে? ওটা যে উত্তরা মুখার্জি হবে তার কোনও প্রমাণ তো তার কাছে নেই! এতও বড়ো একটা অভিযোগ করার আগে আরও নিশ্চিত হতে হবে। সেই মেয়ে যে উত্তরা মুখার্জি সে প্রমাণ নাই বা-থাক, কিন্তু মেয়ে তো বটে। কে সেই মেয়ে যার কাছে ওই গোপন ফ্ল্যাটের চাবি থাকে।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ
ঈপ্সিতা একটা ভয়ঙ্কর দোটানায়! পুলক যখন রাজনীতি শুরু করেছিলো তখন তো ঈপ্সিতা সেই রাজনীতির পাঁকলাগা স্বামীকেই ভালবেসেছিল। সে তো জানতো যে তাঁর বাবার মতো সৎ মানুষেরা রাজনীতি করেন না। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের নিজের প্রয়োজনে বা দলের প্রয়োজনে বহু অন্যায় করতে হয়, অন্যায় দেখেও অন্যমনে থাকতে হয়, তাঁর সপক্ষে মিথ্যে জেনেও হাস্যকর যুক্তি সাজাতে হয়। তাই তাঁরা সামাজিক সততা ন্যায়অন্যায় এসব গুরুতর বিষয়কে ঘর-গেরস্থালীর ‘সকড়ি আর আসকড়ির’ বিচারের মতোই নিছক তুচ্ছ ছোঁয়াছুঁয়ির পর্যায়ে নামিয়ে আনেন। বা বলা যায় কোনও একসময়ে আদর্শপূজারী এইসব নেতানেত্রীরা নিজেদের শাসকের ভূমিকায় মানিয়ে নিতে এটাই আজকের রাজনীতির দস্তুর বলে মেনে নেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি
হঠাৎ একটা ভয়েস মেসেজ পেয়েছিল ঈপ্সিতা! পুলকের ভয়েস মেসেজ। তার ইমার্জেন্সি ফোন থেকে পাঠানো! ভয়েস মেসেজটা একবার শুনেই মনে হল, এটা পুলক একটা মারাত্মক ভুল করে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও এটা কিছুতেও পুলক ঈপ্সিতাকে পাঠাতে পারে না। যাকে এই মেসেজটা পাঠাতে চেয়েছিল তাকেও পাঠানো উচিত ছিল? —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















