শনিবার ৭ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

 

|| ফোটোগ্রাফ-৫ ||

মৃতদেহ মর্গে যাবে। তার তোড়জোড়ে শ্রেয়া একটু ব্যস্ত থাকবে। নায়িকা নীলাঞ্জনা মৃতদেহের সামনে বসে। হাঁটুর উপর হাঁটু রাখা। ভাঁজে ভাঁজে টান টান তাঁতের সাদা শাড়ি। ম্যাচ-করা কনুই টপকানো স্লিমফিট কালো ব্লাউস। বাঁহাতে একটা দামী স্মার্টওয়াচ। হাঁটুর উপর কনুই রাখা। মাথা নিচু। ভুরুতে আঙ্গুল ছোঁয়ানো। আগের মতোই চোখে রোদ-চশমা। নিখুঁত হালকা মেকআপ। নীলাঞ্জনা এখন বছর ৩৫। তবে চেহারার তারুণ্য ঈর্ষা করার মতো। আসার পর মৃতদেহের সামনে রাখা ওই চেয়ারে এসে বসেছেন।
একসময় বাঙালি নায়িকারা ফিগার সচেতন ছিলেন না। খাওয়া-দাওয়ার আজকের ধরাকাট তখন অত গুরুত্ব পেত না। বয়সের বাড়লেই নায়কদের ভুঁড়ি আর নায়িকারা বুড়ি! দিনকাল পাল্টে গিয়েছে। এখন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নিয়ম করে উপোস করেন। ইন্টার্মিনান্ট ফাস্টিং। নিয়মিত বিরতি-সহ উপবাস। মাছেভাতে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে নিদারুণ কোপ। ভাতহীন জীবন। আর তাতেই ছিপছিপে তন্বীরা বয়সের গলায় চেন বেঁধে রেখেছেন। আর অভিনেতারা মদ্যপানে মাংসাহারে নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ এনেছেন। মদে-মাংসে ফুলে ফেঁপে পেটমোটা পিপের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে কাজ হারাতে চান না কেউই। নীলাঞ্জনাও ব্যতিক্রম নন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫০: দণ্ডকারণ্যে শূর্পনখা—একটি নাটকীয় চমক ও দ্বৈতসত্তায় অনন্য রাম

দোলি হ্যায়!

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৫ : অতর্কিতে হামলা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৫ : সাথী হারা

— নাঃ আমি এখানে থাকতাম না!
— কবে থেকে।
মৃতদেহ মর্গে যাওয়ার পর শ্রেয়া নীলাঞ্জনাকে বসতে বলেছিলেন। শ্রেয়া জানিয়েছিলেন যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদটা এখানেই সেরে নিতে চান। কারণ নীলাঞ্জনার কাজের জায়গায় গেলে একটা অকারণ নেগেটিভ পাবলিসিটি হবে। নীলাঞ্জনার বাড়িতেও সেই কারণেই শ্রেয়া যেতে চাননি। কিন্তু স্ত্রী হিসেবে নীলাঞ্জনার স্টেটমেন্টটা জরুরি। শ্রেয়ার ‘কবে থেকে’ প্রশ্নটায় নীলাঞ্জনা ধাক্কা দিয়ে মাথাটা তুললো। রে ব্যানের সানগ্লাস আঙুল দিয়ে নাকের ওপর তুললো। রোদচশমাটা চোখের ঠিক সামনে বসিয়ে দিতে দিতে শ্রেয়ার দিকে তাকালো।
— অনেকদিন! মানে আমার এ বাড়িতে আসার মাস তিন চার পরেই আমি মায়ের কাছে সল্টলেকে ফিরে যাই।
— বাসনা বলছিল বিয়ের মাস ছয় পর আপনি চলে যান।
— কে?
— বাসনা! মানে এ বাড়িতে যে মহিলা কাজ করেন।
— ও!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : পর্ব-৫৯: আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৪: ত্রিপুরায় রিয়াং বিদ্রোহ

ছোট্ট একটা শব্দ! এর মধ্যে অনেক কিছু বলা হয়েছে। অনেক কিছু থেকে গেছে। ইংরেজি ভাষাতে তিনটে শব্দ বলতে হয়। Oh! I see! নিদেনপক্ষে দুটি! I see। বাংলা এক অদ্ভুত ভাষা। সঠিকভাবে ভাষা আর তার ব্যাকরণ জানলেও ঠিকঠাক ব্যবহার করা যায় না। কারণ বাংলা ভীষণভাবে ব্যবহারিক ভাষা! পেইন্টিংয়ের দুনিয়ায় যেমন এক্সপ্রেশানিসম-এর বা অ্যাবস্ট্রাক্টিসমের বেশ কদর। বাংলা ভাষাটিও ঠিক তেমন, অল্প কথায় অনেক কথা বলা হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪১: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গড়িয়োল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ

এই একটি শব্দ ‘ও’-তে অনেক কিছু ইঙ্গিত আছে। নীলাঞ্জনা মনিব সে বাড়ির কাজের লোকের কথার গুরুত্ব দেবে না। বা তাকে নিয়ে যেখানে কথা হচ্ছে সেখানে অন্য কারও কথাকে ধর্তব্যের মধ্যে আনতে চায় না নীলাঞ্জনা। কিংবা সে ভীষণভাবে ক্লাস কনশাস! অথবা বাসনা তার পছন্দের মানুষ নয়।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

মফিজুল ছুটিতে গিয়েছে। মালদহের ছেলে। মা-বাবা সেখানেই থাকেন। ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্ট থেকে এসেছে আত্রেয়ী নামে একটি মেয়ে। মফিজুলের জুনিয়র। আর মফিজুল তাকে বলে দিয়েছে ধৃতিমান চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করে তার সঙ্গে কো-অর্ডিনেট করে কাজ করতে। আত্রেয়ী এসে ধৃতিমানকে বললেন—
— স্যার আপনি বারবার বারান্দার গেটটার কাছে যাচ্ছিলেন! আপনি কি গেটে কিছু?
— বলছি। তার আগে যেটা বলা দরকার। আমি কিন্তু পুলিশ ফোর্স-এর কেউ নই! তাই আমাকে স্যার বলার কোন প্রয়োজন নেই। ধৃতিমান বললে আমি খুশি হব।
— ঠিক আছে। তবে সরাসরি নাম ধরতে আমার একটু অসুবিধা হবে। বরং আমি দাদা বলি? আপত্তি আছে?
— না, কামিং টু ব্যালকনি, আমি ঠিক এক্সপ্লেইন করতে পারবো না! কিন্তু আমার এটা একটা সন্দেহ!
— ওই গেটটাতে গ্রিলের গায়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টস বা রেফারেন্স কিছু থাকতে!
— আত্রেয়ী আমি একেবারেই শিওর নই আমরা চেষ্টা করতে পারি। —চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content