রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
মফিজুলের সঙ্গে পরিচিতির সুবাদে ধৃতিমান ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এই আনন্দ পাল হত্যারহস্য নিয়ে বারবার কথা বলেছে। সে অনুমান করার চেষ্টা করেছে যে ক্রাইম সিনে ঠিক কী ঘটেছিল। মৃতদেহের সারা শরীরে নানা ধরণের ক্ষত দেখা গিয়েছে। সেই সব ক্ষত থেকে টিস্যু এবং অন্যান্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্বাসরোধ হয়ে আনন্দের মৃত্যু হয়। এর পর তার দেহ সম্ভবত গলায় মোটা প্লাস্টিকের কাছি লাগিয়ে ফ্যানের হুকে লাগিয়ে টেনে তোলা হয়েছিল। ফলে মৃতদেহের শরীরে ওই অ্যালুমিনিয়ামের ফোল্ডিং সিঁড়ির ধারালো কোণা গেঁথে গিয়ে কমবেশি ক্ষত তৈরি হয়েছে। কোথাও চামড়া ছিঁড়ে গিয়েছে, কোনও কোনও জায়গায় ঘষটে গিয়েছে, কোথাও আবার আঁচড়ের দাগ। ছাদ থেকে পাওয়া ওই অ্যালুমিনিয়ামের সিঁড়িতে মৃতের শরীরের টিস্যু পাওয়া গিয়েছে। এ ব্যাপারে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে ধৃতিমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কারণ মফিজুল তাদের বলেছে, ধৃতিমান না বললে ছাদে পড়ে থাকা ওই সিঁড়ি এভিডেন্স হিসেবে নিয়ে আসা হতো না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত দু’জন লাগবে আনন্দ পালের মৃতদেহকে ফ্যানের হুকে ঝোলাতে। এই কথাটা শোনামাত্র ধৃতিমানের মাথার মধ্যে বিদ্যুৎ খেলে গেল। প্রথম যখন আনন্দের মৃত্যু দেহ নামানো হয়েছিল তখন যে মৃতদেহ হুকে লাগানো ছিল, নীচের থেকে সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়নি। নামানোর আগে নিয়মমতো কাছ থেকে তার ছবি নেওয়া হয়েছিল। যেখানে দড়িটা লাগানো ছিল সেখানকারও ছবি নেওয়া হয়েছিল। যার ফলে সেটা এখন স্পষ্ট, ফ্যান নয়, আসলে দেহটা ঝুলছিল ফ্যানের হুকে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

এখন আরও একটা বড় প্রশ্ন হল, যদি নিজে থেকে কেউ আত্মহত্যা করেন তাঁর পক্ষে ফ্যানের হুকে দড়িটা লাগানো একটু কঠিন। সেক্ষেত্রে ফ্যানের হুকের বদলে সে ফ্যানের রডে দড়িটা লাগাবার চেষ্টা করবে। আরও একটা কথা, আনন্দের শারীরিক উচ্চতা অনুযায়ী ফ্যানের হুকে পৌঁছনোটা আরও কঠিন। মৃতদেহকে কপিকলের মতো টেনে তোলার জন্যই হুকে লাগানোর প্রয়োজন হয়েছিল। যেটা ফ্যান এ লাগালে দড়ি স্লিপ করে মৃতদেহ নিচে পড়ে যেতে পারতো, বা ফ্যানের ব্লেডে তার একটা প্রমাণ থেকে যেত। খুব মোটাসোটা না হলেও পাতলা গড়নের আনন্দ মৃত্যুর পর তার গোটা শরীরের পেশী ছেড়ে দিয়েছিল। ফলে তাকে ঠিকঠাক ভাবে হুকে ঝোলানো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বাড়িতে মদের বোতল বা মদের গ্লাস কিছুই পাওয়া যায়নি। তার মানে যারা খুনটা করেছিল তারা সেগুলো সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কী লুকোতে চেয়েছিল খুনি বা খুনিরা?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭১: পুষ্পধনু

আমন্ত্রণ আবাসনে প্রথম দিকে কোন সিসিটিভি ছিল না! বছর দু’য়েক হল কম্পাউন্ডে গুটিকয়েক জায়গায় সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম! এখন চাঁদা তুলে কমপ্লেক্সের আরও কয়েকটি স্পটে বাড়ির ভিতরের সিঁড়িতে বা লিফটে সিসিটিভির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা চলছে। সুতরাং দশমীর ফাংশনের রাতে যে বা যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত তারা ছাদে গিয়ে সিঁড়িটা নিশ্চিন্তে রেখে এসেছিল।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮১: ত্রিপুরা : ইতিহাস পুনর্নির্মাণে প্রত্ন সম্পদ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?

ফাংশনের রাতে আবাসনের বাইরে থেকেও অনেক লোক অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন। সুতরাং তাদের মধ্যে থেকে কাউকে আলাদা করে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব নয়। এমন হতেই পারে যে তারা ঘটনাটা ঘটিয়ে ভালো মানুষের মতো গিয়ে অনুষ্ঠান দেখেছে তারপর অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়া মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়েছে। শুধু একটা খটকাই বাকি থেকে যাচ্ছে, যে আনন্দ কোনও অচেনা লোকের সঙ্গে মদ্যপান করবে না। ইতিমধ্যে দু-একবার ঐশীর সঙ্গে শ্রেয়া কথা বলে জানতে পেরেছেন মাঝেমধ্যে ওদের শুভ্রাংশু মুখার্জির বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া হত সেখানে শুভ্রাংশু এবং আনন্দ কখনো-সখনো ড্রিঙ্ক করতো। তার মানে শুভ্রাংশু মুখার্জির সঙ্গে আনন্দ’র ড্রিঙ্ক করার একটা রেফারেন্স পয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৫: সুন্দরবনের পাখি: বিলের বালুবাটান

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

কিন্তু শুভ্রাংশু সেদিন বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিল, আবৃত্তি করা ছাড়াও সে অনুষ্ঠানে মাঝেমধ্যে ঘোষণাও করেছে। যেহেতু সে দর্শক আসনে ছিল না সেই জন্য সারাক্ষণ সে সেখানে ছিল কিনা সেটা প্রমাণ করাটা একটু কঠিন। শুভ্রাংশু ছাড়া যদি অন্য কেউ জড়িত হয়? যাকে এখনও আন্দাজ করা যাচ্ছে না? যদি আনন্দ নিজেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে মদ খেতে শুরু করে? করতেই পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে মদের গ্লাস এবং অবশিষ্ট মদের বোতল পাওয়া গেল না কেন? রেফ্রিজারেটরে অন্য কোনও মদের বোতল ছিল না কেন? মদের বোতলে ঘুমের ওষুধটা কে মেশালো?
অসংখ্য প্রশ্নে রহস্যটা আরও জড়িয়ে যাচ্ছে।—চলবে।

আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২o নভেম্বর ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content