মঙ্গলবার ৯ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

আবাবিল। ছবি: সংগৃহীত।

অনেকদিন আগের কথা। ৪০-৪২ বছর আগে হবে। গ্রামের বাড়ি থেকে সাইকেলে তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার পথ পেরিয়ে পাঁচ কিলোমিটার বাস রাস্তা ধরে সাইকেল চালিয়ে শহরের স্কুলে পড়তে আসি। স্কুলে যাওয়ার পথে বাস রাস্তার পশ্চিম দিকে যেখানে-সেখানে রয়েছে হোগলা ও নলখাগড়ার জঙ্গল। নিচু জলা জায়গায় এই ঘাসজাতীয় উদ্ভিদগুলি জন্মায়। পাশেই রয়েছে ঘিয়াবতী খাল। আসলে এটা ছিল একসময় নদী। মজে গিয়ে এখন মৃতপ্রায় খাল। আর বাস রাস্তার পশ্চিমদিকেই কোথাও কোথাও অতীতের স্মৃতি হিসেবে তখনও দাঁড়িয়ে ছিল কিছু টেলিগ্রাফের পোস্ট। তাতে কোথাও কোথাও টেলিগ্রাফ তার তখনও লেগে ছিল। আবার কাছেই ছিল বিদ্যুৎবাহী তারের লাইন। সময়টা সম্ভবত সেপ্টেম্বরের শেষের দিক। হালকা ঠান্ডার আমেজ।

স্কুল থেকে ফেরার সময় হঠাৎই একদিন নজরে পড়ল টেলিগ্রাফ তারের ওপরে বসে রয়েছে একদল পাখি। পাখিগুলোর লেজ যেন ফিঙে পাখির মতো চেরা। তবে দেখতে ফিঙে পাখির মতো নয়। না গুনলেও মনে হল ২৫-৩০টি তো হবেই। কয়েকদিন পর আবার দেখি ঠিক ওই জায়গাতেই টেলিগ্রাফের তার আর বিদ্যুৎবাহী তার মিলিয়ে ওই একই ধরনের পাখি প্রচুর সংখ্যায় বসে রয়েছে। আমার কিন্তু তখনও খুব বেশি কৌতুহল জন্মায়নি পাখিগুলোকে নিয়ে। কৌতুহল সেদিনই জন্মাল যেদিন দেখলাম পাখিগুলো অদ্ভুত কায়দায় উড়ে যাচ্ছে আর বাতাস থেকে উড়ন্ত পোকামাকড় শিকার করে ফের তারে এসে বসছে। কাছাকাছি ছিল একটা পুকুর। কিছু কিছু পাখিকে দেখছিলাম একেবারে জলের কাছাকাছি উড়ে গিয়ে শিকার ধরে ফের ফিরে আসতে।
আমি সাইকেল থামিয়ে এক পা মাটিতে রেখে সাইকেলের সিটে বসেই পাখিগুলোর কাণ্ডকারখানা দেখছিলাম। দেখে যেটুকু বুঝলাম পাখিগুলো আমার চেনা নয়। আমার বাড়ির কাছাকাছি কোনওদিন দেখিনি। দিন ছোটো হয়ে এসেছে। সূর্য পশ্চিম আকাশে লাল রং ছড়িয়ে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবতে চলেছে। অনেকটা পথ সাইকেল চালাতে হবে বাড়ি পৌঁছতে। তাই পাখি দেখা সাঙ্গ করে বাড়ির পথ ধরেছিলাম। ভাবলাম পরে আরও দু’একদিন সময় পেলে ওদের কান্ডকারখানা দেখব। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তার পরদিন থেকে ওই জায়গায় আর ওই পাখিগুলোকে দেখলাম না। কিছুটা আফসোস হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুলে গেলাম ওদের কথা। পরের বছর যখন আমার দ্বাদশ শ্রেণি তখন ওই প্রাক-শীতকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে আবার ওই জায়গায় দেখি পাখিগুলো তারের উপর বসে আছে। তখনই আমার ধারণা হল এরা এখানের স্থায়ী পাখি নয়। এরা সম্ভবতঃ পরিযায়ী পাখি।

কিন্তু ওদের নাম কী, কোথায় থাকে তা নিয়ে জানা বা বোঝার সুযোগ ছিল না। এক শনিবার তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় স্থির করলাম ওই জায়গায় সাইকেল দাঁড় করিয়ে নেমে পাখিগুলোকে ভালোভাবে লক্ষ্য করব। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখি তারে একটা পাখিও বসে নেই। একটু হতাশ হয়ে এদিক-ওদিক খুঁজছি যদি দু’একটা পাখি দেখা যায়। হঠাৎই মনে হল কাছাকাছি থাকা হোগলা ও নলখাগড়ার জঙ্গলে গাছগুলো যেন এলোমেলো দুলছে। আর ঠিক তার পরমুহূর্তেই আমাকে অবাক করে দিয়ে কয়েকটা পাখি সেই হোগলা ও নলখাগড়ার জঙ্গল থেকে উড়ে এসে তারের উপর বসল। হ্যাঁ, একই পাখি। বুঝে গেলাম হোগলা ও নলখাগড়ার জঙ্গলেই ওদের আস্তানা। কিছুদিনের মধ্যেই উচ্চমাধ্যমিকের নির্বাচনী পরীক্ষা হয়ে যাওয়ায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হল। আর তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য নিজের জন্মভূমি সাময়িকভাবে ত্যাগ করতে হল। তারপর যখন ফিরে এলাম তখন আমাদের এই সুন্দরবন এলাকার আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে অনেকটাই।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩২: প্রেম নামে বন

রজনীর রবি

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ

যেখানে পাখিগুলো দেখেছিলাম সেখানে আর নলখাগড়ার জঙ্গল নেই। পরিবর্তে তৈরি হয়ে গিয়েছে কয়েকটি বাড়ি। নেই টেলিগ্রাফের তার ও পোস্ট। যে জলাশয়টি দেখেছিলাম নলখাগড়া জঙ্গলের কাছে সেটিও উধাও হয়ে গিয়েছে। পরিবর্তে সেখানে তৈরি হয়েছে পঞ্চায়েত অফিস। না, পাখিগুলোকে আর তারপর থেকে আজ পর্যন্ত কখনওই ওই জায়গায় দেখিনি। পরবর্তীকালে প্রথম যখন জগদানন্দ রায়ের লেখা “বাংলার পাখি” বইটি পড়লাম তখন আবাবিল পাখির কথা পড়তে গিয়ে মনে হল এই পাখিগুলোকেই মনে হয় দেখেছিলাম। ওখানেই জেনেছিলাম যে আবাবিলরা পরিযায়ী পাখি।

তিনি লিখেছিলেন, “আবাবিলেরা বেশী শীত সহ্য করিতে পারে না। তাই যে-সব দেশে বেশী শীত, সেখান হইতে ইহারা শীতকালে গরম দেশে পালাইয়া যায়, তার পরে গ্রীষ্মকাল আসিলে স্বদেশে ফিরিয়া যায়।” তবে এটুকু জেনে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হচ্ছিলাম না। কিন্তু পক্ষীবিদ অজয় হোমের লেখা “বাংলার পাখি” পড়তে গিয়ে যখন দেখলাম তিনি লিখেছেন “হাওয়াশীল বা আবাবিলকে জলাভূমি বা অগভীর ঝিলে নলখাগড়া বা বড় ঘাসের দামের উপর বসতে এবং উড়তে উড়তে মাছি বা মশা ধরতেও দেখা যায়। …. প্রতি সন্ধ্যায় রাত কাটাবার জন্য হাওয়াশীল দলে দলে এসে বসে নলখাগড়া বা জলের উপর খাড়া পাকুড় জাতীয় গাছের উপর।” এরপর আর কোনও সন্দেহ রইল না যে আমার কৈশোরে দেখা ওই পাখিগুলো হল আবাবিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

তবে আবাবিল পাখিকে নিয়ে একটা গল্প শুনেছিলাম। কোথায়, কার কাছে শুনেছিলাম মনে পড়ে না। আর সেই গল্প থেকে আমার ধারণা ছিল আবাবিল হল ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী পাখির মতো রূপকথার এক পাখি। ইসলামী উপকথায় বলা হয়েছে যে কাবা শরীফকে ধ্বংস করার জন্য আবরাহা নামে এক সুলতান বিরাট বাহিনী মক্কায় পাঠিয়েছিল। মক্কাবাসীর সেই বাহিনীকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ছিল না। আর তাই মক্কাবাসী তাদের কাবা শরীফকে রক্ষা করতে আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকে। তখন হঠাৎ করে সমুদ্রের দিক থেকে সবুজ রঙের গ্রীবা বিশিষ্ট কালো রঙের অসংখ্য পাখি ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসে। তাদের প্রত্যেকের মুখে ও দু’পায়ে ধরা ছিল নুড়ি পাথর। পাখিগুলি সেনাবাহিনীর ওপরে সেই নুড়ি বর্ষণ করতে থাকে। তাতে বহু সেনা আহত ও নিহত হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীরা মনে করেন আল্লাহ তাঁর দূত হিসেবে এই পাখিগুলিকে পাঠিয়ে কাবা শরীফ রক্ষা করেছিলেন। আল্লাহ প্রেরিত সেই পাখিদের নাম হল আবাবিল।

ইসলামী রূপকথার আবাবিলের সঙ্গে বাস্তবের আবাবিলের কি কোনও মিল রয়েছে? হ্যাঁ, মিল রয়েছে এদের পালকের কালো রঙে এবং ঝাঁক বেঁধে ওড়া স্বভাবে। তাছাড়া ইসলামে এ পাখি হল উপকারী বন্ধু পাখি। বাস্তবের আবাবিলও উপকারী বন্ধু পাখি। এই পাখি যেহেতু বিপুল পরিমাণে ঝাঁক বেঁধে শীতকালে বেশি শীতযুক্ত অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে পরিযান করে তাই ওই অঞ্চলের ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষকের দারুণ উপকার করে।
কলকাতায় বৃষ্টি

উড়ন্ত আবাবিল। ছবি: সংগৃহীত।

আমাদের এখানে অর্থাৎ সুন্দরবন অঞ্চলে যে আবাবিল পাখিগুলি দেখা যায় সেগুলো প্রধানত হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল থেকে আসা পরিযায়ী পাখি। প্রবল শীতের সময় এরা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে চলে আসে। ইংরেজিতে এদের নাম ‘Common Swallow’ বা ‘Barn Swallow’, বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘Hirundo rustica’। বরাহমিহিরের লেখা বৃহৎসংহিতায় এই পাখিকে “ভান্ডিক” পাখি নামে অভিহিত করা হয়েছে। সম্ভবতঃ ওদের বাসা মাটি দিয়ে তৈরি ভাঁড়ের মতো দেখতে হয় বলেই এমন নাম। আবাবিল লম্বায় হয় প্রায় ৫ ইঞ্চি। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি একই রকম দেখতে। গ্রীবা ও পিঠের দিকের রং চকচকে ইস্পাত-নীল। ডানা ও লেজের পালকের রং কালো। কপাল, গলা, চিবুক ও বুকের রং লালচে-বাদামি। আর বুকের উপরে নীলচে-কালো রঙের চওড়া ডোরাকাটা দাগ। পেট ও লেজের নিচের রং সাদা। এদের চঞ্চু এবং পায়ের রঙ হয় কালো।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

আবাবিল পাখিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ওরা ঝাঁক বেঁধে ওড়ে এবং ঝাঁক বেঁধে বিশ্রাম নেয়। এদের ওড়া অত্যন্ত সাবলীল। কয়েকবার ডানা দিয়ে দ্রুত ঝাপটা দেয় তারপর ডানা ছড়িয়ে বাতাসে ভেসে থাকে। ডানার গঠন তালচোঁচ পাখিদের মতো কাস্তে আকৃতি তবে তুলনামূলকভাবে বেশি চওড়া। অবশ্য তালচোঁচ পাখিদের সঙ্গে মিলেমিশে এদের পোকামাকড় শিকার করতে দেখা যায়। উড়ন্ত পোকামাকড় শিকার করার সময় তাড়া করে গিয়ে পতঙ্গটিকে ধরে দ্রুত শরীরটাকে মোচড় দিয়ে ফিরে আসে। দ্রুত ঘুরে যেতে সাহায্য করে এদের দ্বিখন্ডিত লেজ। ফিঙে পাখিদের থেকেও অনেক বেশি গভীরভাবে দ্বিখন্ডিত আবাবিলের লেজ। বসে থাকার সময় এরা মৃদু স্বরে “চিক চিক চিক চিক” বা “চিক চিকু চিক চিকু” করে ডাকে। এরা সুন্দরবন অঞ্চলে জলা জায়গায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিশেষ করে হোগলা ও নলখাগড়ার ঝোপে রাত্রিবাস করে। অন্যত্র আখের ক্ষেতেও এদের দল বেঁধে রাত্রিবাস করতে দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

টিচার্স ডে

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

আগেই বলেছি এরা পরিযায়ী পাখি। তবে সুন্দরবন অঞ্চলে যেসব আবাবিলরা শীতের সময় পৌঁছে যায় তাদের মূল বাসস্থান হল বালুচিস্তান থেকে শুরু করে কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ ও নেপাল অর্থাৎ হিমালয়ের ৯ হাজার ফুট উচ্চতার মধ্যে যেখানে মানুষের বসতি রয়েছে। এপ্রিল থেকে জুলাই মাস হল এদের প্রজনন ঋতু। এই সময়ের মধ্যে সাধারণত এরা দু’বার ডিম পাড়ে। কড়িবরগার ফাঁকে বা ঘরের ছাউনির কোণে কিংবা কার্নিশে এরা নরম কাদামাটির সঙ্গে খড় বা ঘাসের টুকরো মিশিয়ে ভাঁড়ের মতো দেখতে বেশ শক্তপোক্ত একটা বাসা বানায়। তবে সবচেয়ে পছন্দ জলাজঙ্গলের ঝোপঝাড়। কাদামাটির ওপরে এরা ঝরা পালক আটকে দেয়। বাসায় প্রবেশের জন্য ছাদ ঘেঁষে একটা গর্ত থাকে। যেহেতু এরা ঝাঁক বেঁধে থাকে তাই এক জায়গায় অনেক বাসা তৈরি করে। স্ত্রী ও পুরুষ আবাবিল উভয় মিলে বাসা বানায়। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখি দীর্ঘ সময় ধরে সুরেলা শব্দে গান গায়।
কলকাতায় বৃষ্টি

বাসায় ডিমে তা দিচ্ছে আবাবিল। ছবি: সংগৃহীত।

পক্ষিবিদদের মতে, নিজেদের গোষ্ঠীর এলাকা রক্ষা করতে কিংবা স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে এরা গান ধরে। আর স্ত্রী আবাবিলও প্রজনন ঋতুর শুরুতে ছোট ছোট স্বরে কয়েকদিন গান ধরে। বাসা বানানোর কাজ শেষ হলে স্ত্রী আবাবিল একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। সাদা রঙের ডিমের ওপর লালচে-বাদামি বা বেগুনি রঙের ছিট দেখা যায়। সাধারণত স্ত্রী আবাবিলকেই বেশি তা দিতে দেখা যায়। ১৪-১৯ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চারা বেরিয়ে আসে। তারপর বাবা-মা মিলে প্রায় এক সপ্তাহ বাচ্চাদের খাওয়ানোর দায়িত্ব সামলায়। তারপর বাচ্চারা বাসা ছেড়ে উড়তে শেখে।

সুন্দরবন অঞ্চলের সর্বত্র এখন আবাবিল দেখা যায় কিনা জানি না, তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি আবাবিলরা আর আগের মতো সুন্দরবনে আসে না। কারণ গত ৩০-৩৫ বছর ওরা আর আমার নজরে পড়েনি। অরণ্য ও জলাভূমি ধ্বংস যে অন্যতম কারণ তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশ যদি না আমরা রক্ষা করতে পারি তাহলে প্রকৃতির এই অসামান্য সুন্দর পাখিটি কিন্তু হয়তো আর কখনওই সুন্দরবনে আসবে না।— চলবে
* সৌম্যকান্তি জানা। সুন্দরবনের ভূমিপুত্র। নিবাস কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পেশা শিক্ষকতা। নেশা লেখালেখি ও সংস্কৃতি চর্চা। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য ‘দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ২০১৬ সালে ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান লেখক হিসেবে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ ২০১৭ সালে ‘অমলেশচন্দ্র তালুকদার স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content