
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
সদ্য খাণ্ডবদহন শেষ হয়েছে। পরিতৃপ্ত অগ্নিদেবের অনুমতি নিয়ে খাণ্ডবদহনের দুই হোতা, কৃষ্ণ ও তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন স্বেচ্ছায় এক মনোহর নদীকূলে গিয়ে বসলেন। তাঁদের সঙ্গী হলেন ময়দানব। খাণ্ডবদহনের অভিঘাত হতে রক্ষা পেয়েছিলেন, খাণ্ডববনবাসী নাগরাজ তক্ষকের আশ্রিত ময়দানব। খাণ্ডবদহনের সময়ে তক্ষকের আশ্রয় থেকে পলায়নরত ময়দানবকে, অগ্নিদেব গ্রাস করতে উদ্যত হলেন। ময়দানবকে হত্যা করতে উদ্যতচক্র কৃষ্ণ। কাতর প্রার্থনারত ময়। অর্জুন সেই প্রার্থনায় সাড়া দিলেন। অর্জুনের অনুরোধে, সংযত হলেন কৃষ্ণ। ময়দানব রক্ষা পেলেন।
নদীতীরে এসে সেই কৃতজ্ঞতার ঋণ পরিশোধ করতে আগ্রহী হলেন ময়দানব। জোড় হাতে, সসম্মানে অর্জুনকে বললেন, হে কুন্তীপুত্র অর্জুন, আমায় ছেদন করতে উদ্যত কৃষ্ণ ও দহনেচ্ছু অগ্নি হতে আপনি আমায় রক্ষা করেছিলেন। বলুন আপনার জন্যে আমি কি করতে পারি। অস্মাৎ কৃষ্ণাৎ সুসংরব্ধাৎ পাবকাচ্চ দিধক্ষতঃ। ত্বয়া ত্রাতোঽস্মি কৌন্তেয়! ব্রূহি কিং করবাণি তে।। অর্জুন সবিনয়ে জানালেন, দানব ময়, করণীয় (প্রত্যুপকারের ইচ্ছাপ্রকাশ করে) যা কিছু সবটাই করেছেন। অর্জুনের প্রতি ময়ের এই প্রীতি অক্ষুণ্ণ হোক, তেমনই অব্যাহত থাক অর্জুনদের ময়ের প্রতি (শ্রদ্ধামিশ্রিত) প্রীতি। তবু ময়, বার বার প্রত্যুপকারের ইচ্ছা প্রকাশ করতে লাগলেন। প্রীতিপূর্ব্বং কিঞ্চিৎ কর্তুমিচ্ছামি ভারত। আমি ভালোবেসে আপনার জন্য সামান্য কিছু করতে আগ্রহী। কারণ ময়দানব হলেন দানবদের বিশ্বকর্মা এবং তিনি মহাকবি। অহং হি বিশ্বকর্মা বৈ দানবানাং মহাকবিঃ। ময়ের জীবনরক্ষার বিনিময়ে তাঁর প্রত্যুপকারের প্রস্তাব নাকচ করলেন অর্জুন। তিনি ময়ের এই সদিচ্ছা ব্যর্থ হতে দিতে পারেন না। তাই অর্জুনের প্রতি প্রত্যুপকার করতে হলে, ময়দানব, কৃষ্ণের জন্যে কিছু করুন। কৃষ্ণস্য ক্রিয়তাং কিঞ্চিত্তত্তে প্রতিকৃতং ময়ি।
কৃষ্ণ এই বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত হয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করে, ময়কে বললেন, সভা বৈ ক্রিয়তামিতি। একটি সভা নির্মাণ করুন। শ্রেষ্ঠ শিল্পী, ময়দানব যদি কিছু প্রিয়কাজ করতে ইচ্ছুক হন তবে তিনি ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের উপযুক্ত একটি সভা নির্মাণ করতে পারেন। এই সভাটির নির্মাণকৌশল দেখে, যেন মানবলোকে কোন নিপুণ শিল্পী সেটির অনুকরণ করতে না পারেন। হে ময়, আমরা অসুরগণ এবং মানুষেরা যেন আপনার এই অতিলৌকিক সদিচ্ছাপূর্ণ অভিপ্রায়ের কার্যে পরিণত রূপটি দেখতে পারি। যত্র দিব্যানভিপ্রায়ান্ পশ্যেম বিহিতাংস্ত্বয়া। আসুরান্ মানুষাংশ্চৈব সভাং তাং কুরু বৈ ভয়।।
নদীতীরে এসে সেই কৃতজ্ঞতার ঋণ পরিশোধ করতে আগ্রহী হলেন ময়দানব। জোড় হাতে, সসম্মানে অর্জুনকে বললেন, হে কুন্তীপুত্র অর্জুন, আমায় ছেদন করতে উদ্যত কৃষ্ণ ও দহনেচ্ছু অগ্নি হতে আপনি আমায় রক্ষা করেছিলেন। বলুন আপনার জন্যে আমি কি করতে পারি। অস্মাৎ কৃষ্ণাৎ সুসংরব্ধাৎ পাবকাচ্চ দিধক্ষতঃ। ত্বয়া ত্রাতোঽস্মি কৌন্তেয়! ব্রূহি কিং করবাণি তে।। অর্জুন সবিনয়ে জানালেন, দানব ময়, করণীয় (প্রত্যুপকারের ইচ্ছাপ্রকাশ করে) যা কিছু সবটাই করেছেন। অর্জুনের প্রতি ময়ের এই প্রীতি অক্ষুণ্ণ হোক, তেমনই অব্যাহত থাক অর্জুনদের ময়ের প্রতি (শ্রদ্ধামিশ্রিত) প্রীতি। তবু ময়, বার বার প্রত্যুপকারের ইচ্ছা প্রকাশ করতে লাগলেন। প্রীতিপূর্ব্বং কিঞ্চিৎ কর্তুমিচ্ছামি ভারত। আমি ভালোবেসে আপনার জন্য সামান্য কিছু করতে আগ্রহী। কারণ ময়দানব হলেন দানবদের বিশ্বকর্মা এবং তিনি মহাকবি। অহং হি বিশ্বকর্মা বৈ দানবানাং মহাকবিঃ। ময়ের জীবনরক্ষার বিনিময়ে তাঁর প্রত্যুপকারের প্রস্তাব নাকচ করলেন অর্জুন। তিনি ময়ের এই সদিচ্ছা ব্যর্থ হতে দিতে পারেন না। তাই অর্জুনের প্রতি প্রত্যুপকার করতে হলে, ময়দানব, কৃষ্ণের জন্যে কিছু করুন। কৃষ্ণস্য ক্রিয়তাং কিঞ্চিত্তত্তে প্রতিকৃতং ময়ি।
কৃষ্ণ এই বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত হয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করে, ময়কে বললেন, সভা বৈ ক্রিয়তামিতি। একটি সভা নির্মাণ করুন। শ্রেষ্ঠ শিল্পী, ময়দানব যদি কিছু প্রিয়কাজ করতে ইচ্ছুক হন তবে তিনি ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের উপযুক্ত একটি সভা নির্মাণ করতে পারেন। এই সভাটির নির্মাণকৌশল দেখে, যেন মানবলোকে কোন নিপুণ শিল্পী সেটির অনুকরণ করতে না পারেন। হে ময়, আমরা অসুরগণ এবং মানুষেরা যেন আপনার এই অতিলৌকিক সদিচ্ছাপূর্ণ অভিপ্রায়ের কার্যে পরিণত রূপটি দেখতে পারি। যত্র দিব্যানভিপ্রায়ান্ পশ্যেম বিহিতাংস্ত্বয়া। আসুরান্ মানুষাংশ্চৈব সভাং তাং কুরু বৈ ভয়।।
কৃষ্ণের সেই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করলেন ময়। তিনি উচ্চতায় গগনস্পর্শী (সাততলা ভবনতুল্য) রমণীয় সভা নির্মাণ করলেন। কৃষ্ণ, পার্থ অর্জুন, সমস্ত বৃত্তান্ত ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের কাছে নিবেদন করলেন এবং ময়দানবকে সশরীরে উপস্থাপিত করলেন। যুধিষ্ঠির তাঁকে যথাযোগ্য সম্মানিত করলেন, ময়দানবও তাঁকে তাঁর প্রাপ্য অভিবাদন প্রভৃতি প্রদর্শন করে, সম্মান গ্রহণ করলেন। সেই দানব, ময়, পাণ্ডু পুত্রের কাছে, অসুররাজ বৃষপর্বার চরিত্র জানালেন। তার পরে অসুরদের বিশ্বকর্মা, ময়, সুহৃদগণকে আশ্বস্ত করে, চিন্তা করলেন। অবশেষে মহান পাণ্ডবদের জন্যে সভানির্মাণে উদ্যোগী হলেন। মহাত্মা পাণ্ডবদের ও সেইসঙ্গে কৃষ্ণের ইচ্ছানুসারে একটি পবিত্রদিবসে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল। শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণকে ঘৃতসহকারে পায়েস এবং বহুবিধ ধন প্রদান করে, সামর্থ্যবান ময়দানব, সর্বঋতুর উপযুক্তগুণসম্পন্ন, স্বর্গীয়শোভাযুক্ত, রমণীয়, দশদিকে সহস্রহস্তপরিমাণ সভাটির পরিমাপ নিলেন।
কৃষ্ণ, খাণ্ডবপ্রস্থে (ইন্দ্রপ্রস্থে) এতদিন সুখে, সম্মানিত অতিথির মর্যাদায় বাস করছিলেন, তিনি এবারে পিতার সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছায়, জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠির ও পাণ্ডবজননী দেবী কুন্তীর কাছে বিদায় নিলেন। চোখের জলে বিদায় দিলেন ভগিনী সুভদ্রা। ভগিনীকে স্বল্পকথায় প্রয়োজনীয়, হিতকর, যুক্তিসঙ্গত সত্যোপদেশ দান করলেন কৃষ্ণ। সুভদ্রাও কৃষ্ণকে, বার বার প্রণাম করে, স্বজনবর্গের বিষয়ে অবহিত করলেন। বিদায়কালে কৃষ্ণ, পুরোহিত ধৌম্য ও দ্রৌপদীর সঙ্গে দেখা করলেন। পুরোহিত সৌম্যকে প্রণাম করে, সুভদ্রার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বভার দ্রৌপদীর হাতে অর্পণ করে, পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে অন্যতম, সখা পার্থকে সঙ্গে নিয়ে পাণ্ডববভ্রাতাদের কাছে উপস্থিত হলেন। পাণ্ডবভ্রাতারা তাঁকে ঘিরে দাঁড়ালেন। যাত্রার প্রস্তুতি শুরু হল। যথোচিত বেশবাসে সজ্জিত হলেন কৃষ্ণ। তিনি, দেবতা ও ব্রাহ্মণদের বন্দনা করে, বহির্ভবনে গেলেন। ব্রাহ্মণগণ স্বস্তিবচন পাঠ করলেন। কৃষ্ণ, তাঁদের দক্ষিণা দান করলেন। মাঙ্গলিক প্রদক্ষিণ সমাপনান্তে তিনি শুভক্ষণে, গরুড়ধ্বজ, দ্রুতগামী, গদাচক্রতরবারিবিশিষ্ট, শৃঙ্গনির্মিত, সুবর্ণমণ্ডিত, শৈব্য ও সুগ্রীব নামে অশ্বদ্বয়যুক্ত, রথে আরোহণ করলেন।
কৃষ্ণ, খাণ্ডবপ্রস্থে (ইন্দ্রপ্রস্থে) এতদিন সুখে, সম্মানিত অতিথির মর্যাদায় বাস করছিলেন, তিনি এবারে পিতার সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছায়, জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠির ও পাণ্ডবজননী দেবী কুন্তীর কাছে বিদায় নিলেন। চোখের জলে বিদায় দিলেন ভগিনী সুভদ্রা। ভগিনীকে স্বল্পকথায় প্রয়োজনীয়, হিতকর, যুক্তিসঙ্গত সত্যোপদেশ দান করলেন কৃষ্ণ। সুভদ্রাও কৃষ্ণকে, বার বার প্রণাম করে, স্বজনবর্গের বিষয়ে অবহিত করলেন। বিদায়কালে কৃষ্ণ, পুরোহিত ধৌম্য ও দ্রৌপদীর সঙ্গে দেখা করলেন। পুরোহিত সৌম্যকে প্রণাম করে, সুভদ্রার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বভার দ্রৌপদীর হাতে অর্পণ করে, পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে অন্যতম, সখা পার্থকে সঙ্গে নিয়ে পাণ্ডববভ্রাতাদের কাছে উপস্থিত হলেন। পাণ্ডবভ্রাতারা তাঁকে ঘিরে দাঁড়ালেন। যাত্রার প্রস্তুতি শুরু হল। যথোচিত বেশবাসে সজ্জিত হলেন কৃষ্ণ। তিনি, দেবতা ও ব্রাহ্মণদের বন্দনা করে, বহির্ভবনে গেলেন। ব্রাহ্মণগণ স্বস্তিবচন পাঠ করলেন। কৃষ্ণ, তাঁদের দক্ষিণা দান করলেন। মাঙ্গলিক প্রদক্ষিণ সমাপনান্তে তিনি শুভক্ষণে, গরুড়ধ্বজ, দ্রুতগামী, গদাচক্রতরবারিবিশিষ্ট, শৃঙ্গনির্মিত, সুবর্ণমণ্ডিত, শৈব্য ও সুগ্রীব নামে অশ্বদ্বয়যুক্ত, রথে আরোহণ করলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩২: প্রেম নামে বন

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ
যুধিষ্ঠির সারথি দারুকের স্থান অধিকার করলেন। অর্জুন ধারণ করলেন, শ্বেতশুভ্র,স্ব র্ণদণ্ডযুক্ত চামর। ভীমসেন, নকুল ও সহদেব, পুরোহিত এবং পুরবাসীবৃন্দ তাঁদের অনুসরণ করলেন। শিষ্যরা যেমন গুরুর অনুগমন করেন, পাণ্ডবরা তেমনই গুরুপ্রতিম কৃষ্ণের শোভা হয়ে, তাঁর অনুগমন করলেন। কৃষ্ণ, সখা অর্জুনকে প্রগাঢ় আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরলেন। যুধিষ্ঠির ও ভীমকে প্রণাম জানিয়ে, নকুল ও সহদেবকে স্নেহালিঙ্গনে বিদায় জানিয়ে, যাত্রা করলেন কৃষ্ণ। অর্দ্ধযোজন পথ অতিক্রম করবার পরে, তিনি, যুধিষ্ঠিরকে ফিরে যেতে অনুরোধ করলেন। যুধিষ্ঠির, কৃষ্ণকে পুনরাগমনের অনুরোধ জানিয়ে,তাঁকে বিদায়ের অনুমতি দিলেন। পাণ্ডবরা, কৃষ্ণের যাত্রাপথের দিকে, যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত চেয়ে রইলেন, তাঁদের প্রীতিপূর্ণ মন সঙ্গী হল তাঁর। যেন কৃষ্ণের দর্শনে পাণ্ডবদের মনের আশা মিটছে না।
ক্রমশ কৃষ্ণ দৃষ্টিপথ হতে অন্তর্হিত হলেন। অতৃপ্ত মনে ইন্দ্রপ্রস্থে ফিরে গেলেন কৃষ্ণের প্রতি তদ্গতচিত্ত পাণ্ডবগণ। কৃষ্ণ, যাদববীরদের সঙ্গে নিয়ে,সারথি দারুকচালিত রথে, গরুড়তুল্য দ্রুতগতিতে দ্বারকায় প্রবেশ করলেন। ভ্রাতাদের সঙ্গে,সুহৃদ্গণ পরিবৃত,ধর্মপথে অবিচলিত যুধিষ্ঠির ইন্দ্রপ্রস্থে ফিরে সুহৃদ্বর্গ, ভ্রাতৃগণ ও পুত্রদের বিদায় দিয়ে দ্রৌপদীর সঙ্গে আনন্দ করতে লাগলেন। কৃষ্ণ দ্বারকায় পৌঁছে, উগ্রসেন প্রভৃতি যদুশ্রেষ্ঠদের দ্বারা অভিনন্দিত হয়ে, পিতা বসুদেব ও যশস্বিনী মাতা দেবকী ও জ্যেষ্ঠ বলরামকে প্রণাম করলেন। তিনি প্রদ্যুম্ন, শাম্ব, নিশঠ, চারুদেষ্ণ, গদ, অনিরুদ্ধ ও ভানুকে আলিঙ্গনাবদ্ধ করলেন।পরিশেষে বৃদ্ধগণের অনুমতিক্রমে ভার্যা রুক্মিণীর ভবনে প্রবেশ করলেন।
ক্রমশ কৃষ্ণ দৃষ্টিপথ হতে অন্তর্হিত হলেন। অতৃপ্ত মনে ইন্দ্রপ্রস্থে ফিরে গেলেন কৃষ্ণের প্রতি তদ্গতচিত্ত পাণ্ডবগণ। কৃষ্ণ, যাদববীরদের সঙ্গে নিয়ে,সারথি দারুকচালিত রথে, গরুড়তুল্য দ্রুতগতিতে দ্বারকায় প্রবেশ করলেন। ভ্রাতাদের সঙ্গে,সুহৃদ্গণ পরিবৃত,ধর্মপথে অবিচলিত যুধিষ্ঠির ইন্দ্রপ্রস্থে ফিরে সুহৃদ্বর্গ, ভ্রাতৃগণ ও পুত্রদের বিদায় দিয়ে দ্রৌপদীর সঙ্গে আনন্দ করতে লাগলেন। কৃষ্ণ দ্বারকায় পৌঁছে, উগ্রসেন প্রভৃতি যদুশ্রেষ্ঠদের দ্বারা অভিনন্দিত হয়ে, পিতা বসুদেব ও যশস্বিনী মাতা দেবকী ও জ্যেষ্ঠ বলরামকে প্রণাম করলেন। তিনি প্রদ্যুম্ন, শাম্ব, নিশঠ, চারুদেষ্ণ, গদ, অনিরুদ্ধ ও ভানুকে আলিঙ্গনাবদ্ধ করলেন।পরিশেষে বৃদ্ধগণের অনুমতিক্রমে ভার্যা রুক্মিণীর ভবনে প্রবেশ করলেন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ
এদিকে ইন্দ্রপ্রস্থে ময়দানব, অর্জুনের অনুমতি প্রার্থনা করলেন, ময় স্বয়ং কোনও একস্থানে যাবেন এবং আবার ফিরে আসবেন। কী উদ্দেশ্য তার? দানব ময় জানালেন, কৈলাসপর্বতের উত্তরদিকে মৈনাকপর্বতের কাছে একদা পুরাকালে দানবেরা যজ্ঞ করতে ইচ্ছুক হয়েছিলেন। বিন্দুসরোবরতীরে, সত্যপ্রতিজ্ঞ দানবরাজ বৃষপর্বার জন্যে তাঁর নিজের সংগৃহীত, বিচিত্র ও সুন্দর দ্রব্য (সভানির্মাণোপযোগী উপকরণ) দানবরাজসভায় ছিল, সেগুলি যদি এখনও থাকে তবে ময়দানব সেগুলি নিয়ে আসবেন। ময়দানব কথা দিলেন, তারপরে তিনি পাণ্ডবদের জন্য মহতী কীর্তির আধার, মনোরঞ্জক, আশ্চর্যজনক, রত্নালঙ্কৃত, সভাগৃহ নির্মাণ করবেন। ততঃ সভাং করিষ্যামি পাণ্ডবস্য যশস্বিনীম্। মনঃপ্রহ্লাদিনীং চিত্রাং সর্ব্বরত্নবিভূষিতাম্।। ময় আরও জানালেন,বিন্দু সরোবরের তীরে ভয়ঙ্কর একটি গদা আছে। যুদ্ধে, রাজা বৃষপর্বা সেটি দিয়ে শত্রুদের হত্যা করেছিলেন।
কী বৈশিষ্ট্য আছে সেই গদার? সেই গদাটি স্বর্ণবিন্দু দিয়ে চিত্রিত, গুরুভার তার, এ ছাড়াও ভারবহনে সক্ষম, সুদৃঢ়গঠন, সহস্রগদার তুল্য শত্রুবিনাশী সেই গদা। এই গদাব্যবহারের যোগ্যতা আছে শুধু ভীমসেনের। সেখানে সুন্দর শব্দ সৃষ্টিকারী, বরুণদেবের ব্যবহৃত, দেবদত্ত নামে একটি শঙ্খও আছে।ময়দানব আশ্বস্ত করলেন, এই সবকিছু আমি আপনাদের দেব, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সর্ব্বমেতৎ প্রদাস্যামি ভবতে নাত্র সংশয়ঃ। এই বলে দানব ময়, ঈশান কোণে এগিয়ে চললেন। কৈলাসপর্বতের উত্তরে মৈনাকপর্বতের কাছে সুবর্ণশৃঙ্গবিশিষ্ট, মহামণিমণ্ডিত উন্নত এক পর্বত আছে, সেখানে আছে বিন্দু নামে সরোবর, যেখানে রাজা ভগীরথ, ভাগীরথী গঙ্গার দর্শনলাভের আশায় বহু বৎসর বাস করেছিলেন। এখানে সর্বপ্রাণীর প্রভু মহাদেব, শত শত ও বহু সহস্র প্রধান যজ্ঞানুষ্ঠান করেছিলেন। যেখানে পশুবন্ধনস্তম্ভ ছিল মণিমণ্ডিত, প্রাঙ্গণ ছিল স্বর্ণময়। শোভাসৃষ্টির জন্য এগুলি বিচিত্র মণিময় করা হয়েছিল।
কী বৈশিষ্ট্য আছে সেই গদার? সেই গদাটি স্বর্ণবিন্দু দিয়ে চিত্রিত, গুরুভার তার, এ ছাড়াও ভারবহনে সক্ষম, সুদৃঢ়গঠন, সহস্রগদার তুল্য শত্রুবিনাশী সেই গদা। এই গদাব্যবহারের যোগ্যতা আছে শুধু ভীমসেনের। সেখানে সুন্দর শব্দ সৃষ্টিকারী, বরুণদেবের ব্যবহৃত, দেবদত্ত নামে একটি শঙ্খও আছে।ময়দানব আশ্বস্ত করলেন, এই সবকিছু আমি আপনাদের দেব, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সর্ব্বমেতৎ প্রদাস্যামি ভবতে নাত্র সংশয়ঃ। এই বলে দানব ময়, ঈশান কোণে এগিয়ে চললেন। কৈলাসপর্বতের উত্তরে মৈনাকপর্বতের কাছে সুবর্ণশৃঙ্গবিশিষ্ট, মহামণিমণ্ডিত উন্নত এক পর্বত আছে, সেখানে আছে বিন্দু নামে সরোবর, যেখানে রাজা ভগীরথ, ভাগীরথী গঙ্গার দর্শনলাভের আশায় বহু বৎসর বাস করেছিলেন। এখানে সর্বপ্রাণীর প্রভু মহাদেব, শত শত ও বহু সহস্র প্রধান যজ্ঞানুষ্ঠান করেছিলেন। যেখানে পশুবন্ধনস্তম্ভ ছিল মণিমণ্ডিত, প্রাঙ্গণ ছিল স্বর্ণময়। শোভাসৃষ্টির জন্য এগুলি বিচিত্র মণিময় করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল
সহস্রচক্ষু শচীপতি ইন্দ্র যেখানে যজ্ঞ করে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন, যেখানে সৃষ্টিকর্তা মহাপ্রভাবশালী সনাতন ব্রহ্মা সমস্ত লোকসমূহ সৃষ্টি করে যখন অবস্থান করছিলেন তখন ভূতগণ তাঁর সেবারত ছিল। নর, নারায়ণ, ব্রহ্মা, যম, রুদ্র, এঁরা সেখানে পর্যায়ক্রমে সহস্র যুগ পর্যন্ত যজ্ঞ করে,উপাসনা করেছিলেন। বহু বৎসর যাবৎ শিষ্টদের ধর্মে উদ্বুদ্ধ করতে বাসুদেব, সেখানে শ্রদ্ধার সঙ্গে বহু যজ্ঞ করেছিলেন। তিনি স্বর্ণমাল্যযুক্ত বহু যূপ ও অতি ভাস্বর সহস্র অঙ্গন দান করেছিলেন। ময়দানব সেখানে গেলেন এবং গদা, শঙ্খ,বৃ ষপর্বার স্ফটিকময় সভানির্মাণোপকরণ সংগ্রহ করলেন। কিঙ্কর নামে রাক্ষসরা যে প্রচুর ধন রক্ষা করছিল,সেগুলি ময়দানব গ্রহণ করল। সব কিছু আহরণ করে, সেই অসুর ত্রিলোকখ্যাত, স্বর্গীয়, মণিময়, হিতকর, অতুলনীয় সভাগৃহ নির্মাণ করলেন। তিনি ভীমসেনকে উত্তম গদাটি, অর্জুনকে দেবদত্ত নামে শ্রেষ্ঠ শঙ্খ প্রদান করলেন, যে শঙ্খধ্বনিতে কেঁপে উঠল প্রাণীকুল। সেই সভায় ছিল স্বর্ণময়তরু, সেটি চতুর্দিকে সহস্রহস্তপরিমাণ প্রসারিত ছিল।
সেই সভা অগ্নি, সূর্য, চন্দ্রের সভার তুল্য শোভা বিস্তার করে পরম সুন্দর রূপ ধারণ করল। দীপ্তিতে সূর্যের উজ্জ্বল কান্তি প্রতিহত করে দিব্যরূপবিশিষ্ট সভা, স্বর্গীয়তেজে শোভিত হল। সভাটি যেন গগনব্যাপী নবীনমেঘে পরিব্যাপ্ত, দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বিপুলায়তন ও রমণীয়, ছিল। সেই সভা পাপ বিনাশ করত, ক্লান্তি দূর করত। উত্তমোপকরণসমন্বিত, রত্নময় প্রাকার ও তোরণ বিশিষ্ট, বহুচিত্রযুক্ত এমন নানাপ্রকারে সুনির্মিত ছিল বিশ্বকর্মা ময়দানবকৃত সভাটি। বুদ্ধিমান ময় যে সভা নির্মাণ করেছিল, দেবসভা ও ব্রহ্মার সভাও তেমন সুন্দর ছিল না।
সেই সভা অগ্নি, সূর্য, চন্দ্রের সভার তুল্য শোভা বিস্তার করে পরম সুন্দর রূপ ধারণ করল। দীপ্তিতে সূর্যের উজ্জ্বল কান্তি প্রতিহত করে দিব্যরূপবিশিষ্ট সভা, স্বর্গীয়তেজে শোভিত হল। সভাটি যেন গগনব্যাপী নবীনমেঘে পরিব্যাপ্ত, দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বিপুলায়তন ও রমণীয়, ছিল। সেই সভা পাপ বিনাশ করত, ক্লান্তি দূর করত। উত্তমোপকরণসমন্বিত, রত্নময় প্রাকার ও তোরণ বিশিষ্ট, বহুচিত্রযুক্ত এমন নানাপ্রকারে সুনির্মিত ছিল বিশ্বকর্মা ময়দানবকৃত সভাটি। বুদ্ধিমান ময় যে সভা নির্মাণ করেছিল, দেবসভা ও ব্রহ্মার সভাও তেমন সুন্দর ছিল না।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
ময়নির্মিত সভাটি রক্ষা করত ও (নির্মাণকৌশলহেতু স্থানান্তরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব) স্থানান্তরিত করত,আট সহস্র অন্তরীক্ষে বিচরণকারী, ভয়ঙ্কর, বিশালাকৃতি, মহাবলশালী, রক্তবর্ণ ও পিঙ্গলনয়ন, শুক্তির মতো বর্ণবিশিষ্ট, সশস্ত্র, কিঙ্কর নামের রাক্ষসগণ। সেই সভায় কমলপূর্ণ একটি অনুপম সরোবর নির্মাণ করলেন, ময়। সেই সরোবরের পদ্মপত্রগুলি পরিব্যাপ্ত ছিল বৈদূর্যমণিতে, কমলগুলির নালগুলি ছিল মণিময়। পদ্মাকৃতি সুগন্ধি স্বর্ণোৎপলগুলির কাছে উড়ে বেড়াত বহু পাখি।সেখানে কুসুমিত স্বর্ণপঙ্কজ, কূর্ম ও মৎস্য, সব মিলিয়ে এক বিচিত্র শোভা।
সরোবরটিতে ছিল, বিচিত্র স্ফটিকময় সোপান ও স্বচ্ছ সুনির্মল জল। এর শোভা ছিল, মৃদুমন্দ বাতাসে দোদুল্যমান মুক্তার মতো জলবিন্দু ও (প্রান্তবর্তী) মণিময়শিলানির্মিত বেদী। সরোবরের তলস্থিত মণিরত্নচ্ছটা জলের উপরিতলে প্রতিফলিত হওয়ায় সেই সরোবরটিকে স্থলভাগ মনে করে, কোন কোন রাজা, অজ্ঞতাহেতু (জলে) পড়ে যেতেন। সেই সভার অভ্যন্তরে সর্বদা মহাতরুরাজি ছিল পুষ্পপূর্ণ, বৃক্ষগুলি ছিল নানাবিধ নীলবর্ণ শীতল ছায়াযুক্ত ও রমণীয়। সর্বত্রই ছিল সুগন্ধপূর্ণ কাননভূমি ও পুষ্করিণী। হংস, কারণ্ডবপূর্ণ সেগুলিতে ছিল চক্রবাকের শোভা।জলপদ্ম ও স্থলপদ্মের সুগন্ধবাহী বাতাস, ছিল পাণ্ডবদের সেবারত। সম্পূর্ণ চতুর্দশমাস যাবৎ এমন (চমৎকার) সভা নির্মাণ করে, ময়দানব, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে এই সংবাদ নিবেদন করলেন। ঈদৃশীং তাং সভাং কৃত্বা মাসৈঃ পরিচতুর্দ্দশৈঃ। নিষ্ঠিতাং ধর্ম্মরাজায় ময়ো রাজন্!ন্যবেদয়ৎ।।
সরোবরটিতে ছিল, বিচিত্র স্ফটিকময় সোপান ও স্বচ্ছ সুনির্মল জল। এর শোভা ছিল, মৃদুমন্দ বাতাসে দোদুল্যমান মুক্তার মতো জলবিন্দু ও (প্রান্তবর্তী) মণিময়শিলানির্মিত বেদী। সরোবরের তলস্থিত মণিরত্নচ্ছটা জলের উপরিতলে প্রতিফলিত হওয়ায় সেই সরোবরটিকে স্থলভাগ মনে করে, কোন কোন রাজা, অজ্ঞতাহেতু (জলে) পড়ে যেতেন। সেই সভার অভ্যন্তরে সর্বদা মহাতরুরাজি ছিল পুষ্পপূর্ণ, বৃক্ষগুলি ছিল নানাবিধ নীলবর্ণ শীতল ছায়াযুক্ত ও রমণীয়। সর্বত্রই ছিল সুগন্ধপূর্ণ কাননভূমি ও পুষ্করিণী। হংস, কারণ্ডবপূর্ণ সেগুলিতে ছিল চক্রবাকের শোভা।জলপদ্ম ও স্থলপদ্মের সুগন্ধবাহী বাতাস, ছিল পাণ্ডবদের সেবারত। সম্পূর্ণ চতুর্দশমাস যাবৎ এমন (চমৎকার) সভা নির্মাণ করে, ময়দানব, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে এই সংবাদ নিবেদন করলেন। ঈদৃশীং তাং সভাং কৃত্বা মাসৈঃ পরিচতুর্দ্দশৈঃ। নিষ্ঠিতাং ধর্ম্মরাজায় ময়ো রাজন্!ন্যবেদয়ৎ।।

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
পাণ্ডবদের প্রতি ময়দানবের কৃতজ্ঞতার ঋণ, পরিশোধের জন্যে যে প্রচেষ্টা সেটি নিঃসন্দেহে দৃষ্টান্তমূলক। ময়দানবের এই কৃতজ্ঞতার ঋণপরিশোধ বস্তুতান্ত্রিক, তিনি কৃষ্ণের প্রস্তাবানুযায়ী বৈভবপূর্ণ সভাগৃহ নির্মাণ করলেন।তাঁ র আন্তরিক ইচ্ছাকে সম্মান দিয়েছেন অর্জুন। কৃষ্ণের প্রস্তাবে সেটির বাস্তবে রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে। যদিও কৃতজ্ঞতার কোন বিনিময়মূল্য হয় না।উপকৃত ব্যক্তির আন্তরিকস্বীকৃতির মধ্যেই আছে তার পরিশোধের সদিচ্ছা। এ যে উজ্জ্বল মানবিক গুণ, যে গুণের ঐতিহ্য বহন করছেন একজন দানব। প্রকৃতপক্ষে তথাকথিত দানববৃত্তি বোধ হয় মানুষের মধ্যেও বিরল নয়। দানব ও মানব দুইয়ের সমাহার মানুষের মধ্যেও নিহিত রয়েছে। মহাভারতের রাক্ষসদের অনেকেই গুণী, কৃতী, মেধাবী। এছাড়াও তাঁরা ছিলেন সদ্গুণের আধার।অতি উন্নতমানের নির্মাণাভিজ্ঞ প্রকৌশলী ছিলেন দেবতাদের প্রকৌশলী বিশ্বকর্মা ও দানবদের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী ময়দানব। তিনি স্থাপত্যবিদ্যায় নিপুণ একজন দক্ষ স্থপিতি। ইন্দ্রপ্রস্থে যুধিষ্ঠিরের সভা-বিনির্মাণে তাঁর শিল্পীসত্তা প্রকাশিত হয়েছে। অতুলনীয় নান্দনিকবোধ প্রতিফলিত হয়েছে অকৃত্রিমকে প্রাকৃতিক উপকরণের আধারে কৃত্রিমভাবে পরিবেশনায়। এ যেন বিনির্মিত অপটিকাল ইলিউশন বা দৃষ্টিবিভ্রম, যা প্রযুক্তিগত সৃজনশীলতার মহাকাব্যিক রূপ। শুধু নেই কোনও পরীক্ষাগারে প্রস্তুত প্রযুক্তিনির্ভর বুদ্ধিমত্তা, ময়দানবের প্রতিভাই তাঁর শিল্পীসত্তার একমাত্র মূলধন।
পাণ্ডবদের জন্যে প্রস্তুত এই অপূর্ব শিল্পকলামন্ডিত সভা, এই সব বৈভবময় সমৃদ্ধির প্রকাশ, সবই ক্ষণস্থায়ী হয়েছিল। সব কিছু হারিয়ে পাণ্ডবরা নিঃস্ব প্রতিপন্ন হয়েছিলেন। ধনসম্পদের ঝলক মায়াময়, অলীক, তাতে নেই কোনও স্থায়িত্ব, অনন্ত কীর্তির ঔজ্জ্বল্য। শুধু স্রষ্টা বেঁচে থাকেন তাঁর সৃজনশীলতায়। উপভোক্তাদের যশ নির্ভর করে তাঁদের স্বকৃত কীর্তিমত্তায়, সম্পদের বৈভবময়প্রকাশে নয়। ময়দানবের বিনম্রতা, জীবনদাতাদের প্রতি আনত কৃতজ্ঞতাবোধ,তাঁ র ঋণপরিশোধের প্রচেষ্টা ও তাঁর নান্দনিকবোধে উদ্দীপ্ত বিনির্মাণের সাফল্যে তিনি বেঁচে থাকবেন মহাকাব্যিকবিস্তারে, সেখানে অর্জুনদের চিরকালীন অবস্থান, শৌর্যের প্রকাশে, পেশীশক্তিপ্রদর্শনের মাধ্যমে স্বাধিকারপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। — চলবে
পাণ্ডবদের জন্যে প্রস্তুত এই অপূর্ব শিল্পকলামন্ডিত সভা, এই সব বৈভবময় সমৃদ্ধির প্রকাশ, সবই ক্ষণস্থায়ী হয়েছিল। সব কিছু হারিয়ে পাণ্ডবরা নিঃস্ব প্রতিপন্ন হয়েছিলেন। ধনসম্পদের ঝলক মায়াময়, অলীক, তাতে নেই কোনও স্থায়িত্ব, অনন্ত কীর্তির ঔজ্জ্বল্য। শুধু স্রষ্টা বেঁচে থাকেন তাঁর সৃজনশীলতায়। উপভোক্তাদের যশ নির্ভর করে তাঁদের স্বকৃত কীর্তিমত্তায়, সম্পদের বৈভবময়প্রকাশে নয়। ময়দানবের বিনম্রতা, জীবনদাতাদের প্রতি আনত কৃতজ্ঞতাবোধ,তাঁ র ঋণপরিশোধের প্রচেষ্টা ও তাঁর নান্দনিকবোধে উদ্দীপ্ত বিনির্মাণের সাফল্যে তিনি বেঁচে থাকবেন মহাকাব্যিকবিস্তারে, সেখানে অর্জুনদের চিরকালীন অবস্থান, শৌর্যের প্রকাশে, পেশীশক্তিপ্রদর্শনের মাধ্যমে স্বাধিকারপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। — চলবে
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।


















