
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
‘আমাদের বাড়ী দুর্গা ও জগদ্ধাত্রী—এই দুই পূজা হ’ত। দুর্গোৎসব মহাসমারোহে সম্পন্ন হ’ত। আমাদের উঠানের উপর সামিয়ানা খাটানো আর তিন দিন ধরে নৃত্যগীত আমোদপ্রমোদ, আমাদের আনন্দের আর সীমা থাকতো না। সেই তিন দিন আমরা যেন কল্পনাপ্রসূত এক নূতন রাজ্যে বাস করতুম—নূতন দেশ, নূতন ঋতু, আলো বাতাস সব নূতন।’ পুজোকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ঠাকুরবাড়ির বড়দের তো বটেই, বিশেষ করে ছুঁয়ে যেত ছোটদের। পুজোর ঢের আগে যে আনন্দের সূচনা, পুজো ফুরোলেও তার রেশ রয়ে যেত। গ্ৰাস করত বিষণ্ণতা। সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার বাল্যকাল’ বইতে আছে, পুজো আসছে, এই ভাবনা ছোটদের কতখানি আনন্দ দিত।
কাঠামো তৈরির সূচনাপর্ব থেকেই ছোটোদের আনন্দ আর ধরত না। প্রথমে খড়ের কাঠামো, সেই কাঠামোর গায়ে মাটির প্রলেপ, খড়ি বুলনো, রং করা — এমন কত কাজ। চলত দেবীমূর্তিকে সাজিয়ে তোলা, মৃন্ময়ী দেবী ক্রমেই চিন্ময়ী হয়ে উঠতেন। সব কিছুই ছোটরা ভিড় করে দেখত। মূর্তি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অর্ধচন্দ্রাকৃতি চালার ওপর চলত দেব-দেবীর অবয়ব আঁকার কাজ। শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় দেব-দেবীরা সেজে উঠতেন। তাঁদের পোশাক-আশাকে, সাজসজ্জায় সরসতায় আভাস রয়ে যেত। তাঁদের বাহনদের কাণ্ডকারখানা তো সরসতায় ভরপুর। সে-সব ঘটনার সাক্ষী সত্যেন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘রাংতা দিয়ে যখন ঠাকুরদের দেহমণ্ডন, বসনভূষণ সাজসজ্জা প্রস্তুত হ’ত, আমাদের দেখতে বড়ই কৌতূহল হ’ত। লক্ষ্মী সরস্বতীর চমৎকার বেশভূষা। লম্বোদর গজানন, গণেশ ঠাকুরের মূষিক তাঁর স্থূল দেহের আড়ালে লুকিয়ে থাকত; কিন্তু কার্তিকের প্যাখম-ধরা ময়ূরের যে বাহার তা আর কহতব্য নয়। কার্ত্তিক ঠাকুরের অপূর্ব্ব সাজসজ্জা, তাঁর গুম্ফজোড়া, আকৃতি, বেশভূষা, ফিনফিনে শান্তিপুরে ধুতি—দেখে মনে হ’ত যেন একজন বাঙ্গালীবাবু ময়ূরের উপর এসে অধিষ্ঠান করেছেন।’
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৬: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৬: এক উপেক্ষিতা রাজকন্যার কথা
মহিষাসুরকে নিয়ে ছোটোদের মধ্যে চলত কথা চালাচালি। মনে হত, আহা, বেচারা! বড় শোচনীয় অবস্থা অসুরের। সিংহের কামড়, তার ওপর দশভুজা বর্শাবিদ্ধ করেছেন তাকে। মড়ার ওপর যেন খাড়ার ঘা। নট নড়নচড়ন, এরই মধ্যে মুখে ফুটিয়ে রাখতে হত, বীরত্বের ভাব।মহিষাসুরকে দেখে ঠাকুরবাড়ির ছোটরা বেশ মজা পেত।
পুজোকে কেন্দ্র করে যাত্রার আসর বসত। রং মেখে সং সেজে চলত কতই না ঢং! সেই সঙের ভিড়ে রাম, রাবণ, কুম্ভকর্ণ, রাক্ষস — পুরাণ-মহাকাব্যে চরিত্ররা হেঁটে বেড়াত। ঠাকুরবাড়ির ছোটোরাও যাত্রা দেখতে ভিড় করত। যাত্রা দেখতে দেখতে তারা এক সময় ঘুমিয়েও পড়ত। রাত্রিশেষে ঘুম ভাঙিয়ে তাদের নিয়ে আসতেন অভিভাবকরা।
পুজোকে কেন্দ্র করে যাত্রার আসর বসত। রং মেখে সং সেজে চলত কতই না ঢং! সেই সঙের ভিড়ে রাম, রাবণ, কুম্ভকর্ণ, রাক্ষস — পুরাণ-মহাকাব্যে চরিত্ররা হেঁটে বেড়াত। ঠাকুরবাড়ির ছোটোরাও যাত্রা দেখতে ভিড় করত। যাত্রা দেখতে দেখতে তারা এক সময় ঘুমিয়েও পড়ত। রাত্রিশেষে ঘুম ভাঙিয়ে তাদের নিয়ে আসতেন অভিভাবকরা।

সারদাসুন্দরী দেবী।
তিন দিন অনেক অনেক আনন্দ। তারপরই মন খারাপ, বিষাদ-বিষণ্ণতা। যাত্রাভিনয়ের কথা অবনীন্দ্রনাথের লেখাতেও আছে। যাত্রা হত কয়লাহাটার রমানাথ ঠাকুরের বাড়িতে। অভিনয়ের অনেক দৃশ্য তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল। ছেলেবেলার স্মৃতি পরিণত-বয়সেও মনের কোণে জেগে ছিল। যাত্রা দেখতে দেখতে কখনো চোখে জল এসে যেত। কখনো-বা হাসি পেত। শেষ পর্যন্ত ভয়ই করত। সেসব স্মরণ করেছেন অবনীন্দ্রনাথ। ভীমের গদা ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। কাপড়ের খোলে যে তুলো ভর্তি, তা আর তখন কে জানত! সেই গদা ঘুরিয়ে হা-রে-রে-রে করে ভীম আসরে প্রবেশ করত।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে
দশমীর দিন হত প্রতিমার ভাসান। বিদায়বেলায় ছোটোরা দেবীর চোখে জল দেখতে পেত। অশ্রুপূর্ণ নয়ন। তাদের মনে হত, সত্যিই দেবীর চোখ জলে ভরে উঠেছে। কাঁদছেন তিনি। বিজয়ার দিন ঠাকুরবাড়িতে হত আগমনী ও বিজয়ার গান। বিষ্ণু চক্রবর্তীর গলায় গান শুনে মুগ্ধ হতেন সকলে। ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর ঠাকুরবাড়িতে দুর্গাপুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সত্যেন্দ্রনাথের লেখায় আছে, ‘আমাদের বৈষ্ণব পরিবারে কি ভাগ্যি পশুবলির বীভৎস কাণ্ড ছিল না সেই রক্ষা — পশুর বদলে কুমড়া বলি হয়।’
পুজো বন্ধ হওয়ার আগে ঠাকুরবাড়িতে দেবীর আরাধনা হত এক স্নিগ্ধ পরিবেশে। ছোটরা সাজগোজ করত, বাড়ির মেয়েরা নতুন শাড়ি শুধু নয়, গা-ভরা গয়না পরতেন, চন্দন ও ফুলের প্রসাধনে নিজেদের সাজিয়ে তুলতেন। ছোটরা সব থেকে বেশি আনন্দ করত, তাদের সাজগোজের প্রস্তুতি ঢের আগেই শুরু হয়ে যেত। পোশাকের মাপ নিতে আসত দর্জি। আসত জুতোর চৈনিক কারিগর।
পুজো বন্ধ হওয়ার আগে ঠাকুরবাড়িতে দেবীর আরাধনা হত এক স্নিগ্ধ পরিবেশে। ছোটরা সাজগোজ করত, বাড়ির মেয়েরা নতুন শাড়ি শুধু নয়, গা-ভরা গয়না পরতেন, চন্দন ও ফুলের প্রসাধনে নিজেদের সাজিয়ে তুলতেন। ছোটরা সব থেকে বেশি আনন্দ করত, তাদের সাজগোজের প্রস্তুতি ঢের আগেই শুরু হয়ে যেত। পোশাকের মাপ নিতে আসত দর্জি। আসত জুতোর চৈনিক কারিগর।

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
নতুন জামা-জুতোই যথেষ্ট ছিল না। মাখা হত সুগন্ধি আতর। অবনীন্দ্রনাথের লেখায় আছে প্রস্তুতিপর্বের সেসব কথা। জানা যায়, সবুজ কিংখাপের থানে সোনালি বুটি—এই কাপড় দিয়ে তৈরি হত বাড়ির ছেলেদের চাপকান। ওই কাপড় দিয়েই তৈরি হত জরি দেওয়া অর্ধচন্দ্রাকৃতি টুপি। চীনেম্যান এসে জুতোর মাপ নিয়ে যেত। নতুন জুতোয় ফোস্কা পড়ার সম্ভাবনা রয়ে যায়। তাই চীনেম্যানকে উদ্দেশ করে ছোটোদের কেউ কেউ বলে উঠত, ‘ভালো করে মাপ নিয়েছ তো? ফোস্কা পড়ে না যেন, এমন জুতোই তৈরি করে দিয়ো।’ নাকি সুরে জবাব মিলত, ‘ঠিক হোঁবে, বালো জুতো হোঁবে।’
গ্রিবেল নামের এক ইহুদি সাহেব আতর বেচতে আসত। বড়দের জন্য আতর, ছোটদের জন্য আতর। ছোট ছোট শিশিতে আনত ছোটদের আতর। ভারি সহৃদয়, ছোটোদের খুব ভালোবাসত। ছোটদের জন্য আনা আতরের দাম দিতে হত না।
গ্রিবেল নামের এক ইহুদি সাহেব আতর বেচতে আসত। বড়দের জন্য আতর, ছোটদের জন্য আতর। ছোট ছোট শিশিতে আনত ছোটদের আতর। ভারি সহৃদয়, ছোটোদের খুব ভালোবাসত। ছোটদের জন্য আনা আতরের দাম দিতে হত না।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩১: শ্রেষ্ঠ স্থপতি ও প্রকৌশলী ময়দানবের কৃতজ্ঞতার ঋণশোধ
বাড়িতে পুজো হচ্ছে, সবার মনে কম-বেশি খুশির রোশনাই। একমাত্র ব্যতিক্রম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। পুজো নিয়ে তাঁর তাপ-উত্তাপ ছিল না। নির্লিপ্ত থাকতেন। উৎসব-আনন্দে বাড়ির সবাই যখন মাতোয়ারা, সেই আনন্দ-মুখরিত দিনে দেবেন্দ্রনাথ ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মনোযোগী হয়েছিলেন। তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৯ সালে। দশ বছর পর, ১৮৪৯ সালে ভাইদের নানাভাবে বুঝিয়ে মহর্ষি বাড়ির জগদ্ধাত্রীপুজো বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দুর্গাপুজো বন্ধ করতে আরও বছর ন’য়েক কেটে যায়। রবীন্দ্রনাথ জোড়াসাঁকোয় পারিবারিক-পুজো দেখেননি। তাঁর জন্মের আগেই পারিবারিক পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ঠাকুরবাড়িতে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দমুখরিত পুজোর সেই দিনগুলিতেও মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ জোড়াসাঁকোয় থাকতেন না। বেরিয়ে পড়তেন ভ্রমণে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
মহর্ষি-কন্যা সৌদামিনী দেবী আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, ‘পূজার সময় কোনোমতেই পিতা বাড়িতে থাকিতেন না—এইজন্য পূজার উৎসবে যাত্রাগান আমোদ যত কিছু হইত তাহাতে আর সকলেই মাতিয়া থাকিতেন, কিন্তু মা তাহার মধ্যে কিছুতেই যোগ দিতে পারিতেন না। তখন নির্জন ঘরে তিনি একলা বসিয়া থাকিতেন। কাকীমারা আসিয়া তাঁহাকে কত সাধ্যসাধনা করিতেন, তিনি বাহির হইতেন না।’ জোড়াসাঁকোর বাড়িতে দুর্গাপুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মহর্ষি-পত্নী সারদাসুন্দরী স্বামীর অজ্ঞাতেই পুজো পাঠাতেন রমানাথ ঠাকুরের বাড়িতে।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
ঠাকুরবাড়িতে দুর্গাপুজো বন্ধ হলেও ছুঁয়ে যেত পুজোর আনন্দ। অনেকের স্মৃতিচর্চাতেই ধরা রয়েছে পুজো-আনন্দের খণ্ডচিত্র। নতুন পোশাকআশাক তখনও হত, মিলত পার্বণী। বিজয়ার দিন শুভেচ্ছা-বিনিময় আশীর্বাদ-বিতরণ তো ছিলই, সব থেকে বড় আকর্ষণ ছিল বিজয়াসম্মিলনীর।
বাড়িতে পুজো নেই তো কী হয়েছে! রবীন্দ্রনাথ শারদোৎসবের আনন্দ থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখেননি। তাঁর কবিতায়, ‘ছিন্নপত্রাবলী’-র পত্রে, এমনকি গল্প- উপন্যাসে এসেছে দুর্গাপুজোর কথা, শারদোৎসবের কথা। শরতের সৌন্দর্য কবিকে কতখানি মুগ্ধ করেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নানা রচনায়। ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’ কবিকে প্রাণরসে উজ্জীবিত করেছিল। পুজোর এই আনন্দের দিনে কবির কাছে প্রিয়জনরা নিয়ে আসতেন পার্বণী, উপহারসামগ্রী। রবীন্দ্রনাথের মনে পড়ত ছেলেবেলার কথা, পুজো উপলক্ষে প্রাপ্তিযোগের স্মৃতি।
বাড়িতে পুজো নেই তো কী হয়েছে! রবীন্দ্রনাথ শারদোৎসবের আনন্দ থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখেননি। তাঁর কবিতায়, ‘ছিন্নপত্রাবলী’-র পত্রে, এমনকি গল্প- উপন্যাসে এসেছে দুর্গাপুজোর কথা, শারদোৎসবের কথা। শরতের সৌন্দর্য কবিকে কতখানি মুগ্ধ করেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নানা রচনায়। ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’ কবিকে প্রাণরসে উজ্জীবিত করেছিল। পুজোর এই আনন্দের দিনে কবির কাছে প্রিয়জনরা নিয়ে আসতেন পার্বণী, উপহারসামগ্রী। রবীন্দ্রনাথের মনে পড়ত ছেলেবেলার কথা, পুজো উপলক্ষে প্রাপ্তিযোগের স্মৃতি।

যে দালানে দুর্গাপুজো হত।
রবীন্দ্রনাথের তখন যথেষ্ট বয়স হয়েছে। অশক্ত শরীর। ওই বয়সেও ইচ্ছে করত, ছুটির আনন্দে বেরিয়ে পড়তে, দূরে কোথাও যেতে। কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ পত্নী প্রতিমা দেবী ও কন্যা পুপেকে নিয়ে সেবার গিয়েছিলেন দার্জিলিং-ভ্রমণে। কবিও উন্মনা হয়ে উপলব্ধি করেছিলেন দূরের হাতছানি। নির্মলকুমারী মহলানবিশকে এক পত্রে লিখেছিলেন, ‘আজ ছুটি পাওয়া ছেলেমেয়ের দলও চলল বাড়িমুখে।… ছুটির ঘণ্টা বাজছে আমার বুকের মধ্যে, শিরায় শিরায় রব উঠেছে দৌড় দৌড় দৌড়। কিন্তু হায়রে, আমার বয়েস আমাকে শিকল দিয়ে বেঁধেছে…।’
বৃদ্ধ-বয়সেও হিমের পরশ নিয়ে শরৎ এলে রবীন্দ্রনাথ এইভাবেই আলোড়িত হতেন। বাইরে বেরোনোর ডাক শুনতে পেলেও যাওয়া তাঁর হত না। হয়তো মনে মনেই হারিয়ে যেতন। হারিয়ে যাওয়ার তো নেই মানা।
বৃদ্ধ-বয়সেও হিমের পরশ নিয়ে শরৎ এলে রবীন্দ্রনাথ এইভাবেই আলোড়িত হতেন। বাইরে বেরোনোর ডাক শুনতে পেলেও যাওয়া তাঁর হত না। হয়তো মনে মনেই হারিয়ে যেতন। হারিয়ে যাওয়ার তো নেই মানা।
* * গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।


















