সোমবার ৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

বোধিসত্ত্ব সেই জন্মে মগধের রাজগৃহ নগরের একটি রাজোদ্যানে অবস্থান করছিলেন। পূর্বাশ্রমে তিনি উদীচ্য ব্রাহ্মণকুলে জন্ম নিয়ে প্রব্রজ্যা আশ্রয় করে হিমালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে হিমালয় থেকে অবতরণ করে এই রাজোদ্যানে প্রথম দিনটি অতিবাহিত করে দ্বিতীয় দিনে নগরে ভিক্ষার্থে প্রবেশ করলেন। রাজা তাঁকে দেখে আসন, আহার্য ইত্যাদি দ্বারা সম্মানিত করে সেই রাজোদ্যানেই অবস্থান করার অঙ্গীকার করালেন। তখন থেকে তিনি সেখানেই থাকতেন, রাজপ্রাসাদে আহার গ্রহণ করতেন। দিন কাটতে থাকল এভাবেই।
তখন রাজগৃহে অপর এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন যিনি শুভাশুভ মঙ্গলামঙ্গল ইত্যাদি নিমিত্ত-লক্ষণে আস্থাশীল ছিলেন। তাঁর পরিধেয় বস্ত্র একবার ইঁদুর কেটে দিলে তিনি মনে মনে ঘোর আশঙ্কিত হয়ে ভাবলেন, এ যে মহা অনর্থের উপক্রম হল। যে বা যারা এই দুর্লক্ষণযুক্ত বস্ত্র পরিধান করবে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত, সুতরাং এই বস্ত্র পুত্র, কন্যা, আত্মীয় বা ভৃত্যগণকে দিলে অনিষ্ট হবে। একে শ্মশানে ফেলে দিয়ে আসতে হবে। কিন্তু ভৃত্যদের দিয়ে একাজ হবে না। তারা হয়তো লোভের বশবর্তী হয়ে গৃহে নিয়ে চলে যাবে, তার চেয়ে পুত্রকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া যাক। এই ভেবে পুত্রকে ডেকে সব জানিয়ে তাকে সাবধান করে দিলেন। হাত দিয়ে স্পর্শ না করে লাঠির আগায় করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার কঠিন কাজটি যে তাকেই করতে হবে।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৩৯: শীলমীমাংসা-জাতক চরিত্রবল

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ

সেই মতো ব্রাহ্মণপুত্র শ্মশানের দিকে যাত্রা শুরু করল। তবে বোধিসত্ত্ব তার আগেই সেখানে উপস্থিত হলেন এবং বালক বস্ত্রটি ত্যাগ করলে তিনি তা গ্রহণ করে ফিরে এলেন। বালক গৃহে ফিরে এসে পিতাকে সকল বৃত্তান্ত জানালে ব্রাহ্মণ মনে মনে ভাবলেন যে, রাজার প্রিয়পাত্র এই তপস্বীর বিনাশ এবার নিশ্চিত। কী করা যায়?
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল

ব্রাহ্মণ বোধিসত্ত্বের কাছে এসে বস্ত্রটি ত্যাগ করার অনুরোধ করলেন। বোধিসত্ত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করে জানালেন যে, শ্মশানচীবর-ই তাঁর পরিধেয়। বুদ্ধ, প্রত্যেকবুদ্ধ, বোধিসত্ত্ব প্রমুখ সিদ্ধপুরুষগণ নিমিত্তে বিশ্বাসী নন, কোন্ লক্ষণে কী জাতীয় দুর্ভাগ্যের সঞ্চার হতে পারে এসকলে তাঁরা আস্থাশীল নন। তাঁদের অনুসরণ করেন ধীমান সুধীগণ, তাঁরাও এসকল বিশ্বাস করেন না।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

বোধিসত্ত্ব উপদেশে বললেন, যিনি লক্ষণ, অলক্ষণ, মঙ্গল, অমঙ্গল নিয়ে শঙ্কিত নন, তিনি উল্কাপাত কিংবা দুঃস্বপ্নের অভিঘাতে অক্ষুব্ধচিত্ত থাকেন। দুঃস্বপ্ন দেখেও যিনি স্থির তিনি পণ্ডিত, যিনি ভ্রমাত্মক কুসংস্কার ত্যাগ করতে পারেন তিনি জ্ঞানী হন, মুক্ত হন, রুদ্ধ হয় পুনর্জন্ম, ত্রিতাপভোগের জন্য ফিরতে হয় না পৃথিবীতে। এই সংসারের কোনও ক্লেদ ও পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। ব্রাহ্মণ অযৌক্তিক সংস্কার ত্যাগ করে বোধিসত্ত্বের শরণ নিলেন।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

এই কাহিনির প্রতিপাদ্য অনায়াসবোধ্য। মনের গতিপ্রকৃতি দুর্বোধ্য। মনের গভীরে লালিত ভ্রান্ত ধারণা জীবনকে পূর্ণ করতে পারে না। জীবন পূর্ণ হয় সত্যের মঙ্গলস্পর্শে। মঙ্গলজাতকের এই কাহিনি সেই উপলব্ধির দ্বারপথে করাঘাত করে।— চলবে
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content