মঙ্গলবার ৯ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
নিজের ছেঁড়াফাটা ব্লাউজের ওপর ছেঁড়া শাড়ির আঁচলটা স্নিগ্ধা এমনভাবে টানার চেষ্টা করে, তার অনাবৃত কাঁধ সেখানে নখের আঁচড়ের দাগ যাতে জনতার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়। দুলালের দম আটকে আসছে, মাথাটা ঘুরছে। এরকম নিখুঁতভাবে তাকে জালে ফেলা হবে আর সেই ভয়ংকর চক্রান্তের মূল ভূমিকায় একসময়ের অত্যন্ত পরিচিত স্নিগ্ধা থাকবে এমনটা অতি দুঃস্বপ্নেও মাথায় আসেনি দুলালের।

কানাইলাল মহেশ্বরী অত্যন্ত নীচ সে জানতো কিন্তু এরকম প্রতিহিংসাপরায়ণ সেটা কোনওদিন ভাবেনি। রাস্তায়ঘাটে আচমকা হামলা হতে পারে, দল বেঁধে আক্রমণ করাতে পারে এই সব শারীরিক আক্রমণের জন্যে দুলাল তৈরি ছিল। কিন্তু তার চরিত্রকে কুপিয়ে কাটা হবে, কালি মাখিয়ে পাঁকে পুঁতে দেওয়া হবে তা ভাবতে পারেনি।
আগে ‘বিদায় অভিশাপ’ কবিতায় দেবযানী হয়ে বা ‘কর্ণ-কুন্তী সংবাদ’-এ কুন্তীর ভূমিকায় অতিনাটুকেপনা করে বারবার দুলালের কাছে বকুনি খেতো স্নিগ্ধা। কবিতা বলা মানেই যে কাঁপা কাঁপা গলায় সুর করে টেনে টেনে বলা নয়, সেটা বোঝাতে অনেক সময় দিয়েছিল স্নিগ্ধাকে। কিন্তু সেই স্নিগ্ধা তার স্বাভাবিক চিরাচরিত ঢঙে কান্না কান্না গলায় আরও মেলোড্রামা করে শেখানো সাজানো সংলাপ বলে—
—এখন আমি কি করবো আপনারা বলতে পারেন!
—কী আবার করবেন থানায় যাবেন!
—উনি পার্টির লোক থানা কিছু করবে না।
জনতা গর্জে ওঠে “আলবাত করবে আমরা সবাই যাবো থানায়, সাক্ষী দেবো”।
—এই ক্যামেরায় তো প্রুফ রয়েছে। আপনি ঘাবড়াবেন না দিদি! আমরা সবাই আপনার সঙ্গে আছি।
এতক্ষণ পরে দুলাল বলে ওঠে—
—থানায় আমিও যাব। আমি প্রমাণ করে দেবো এটা আমার বিরুদ্ধে একটা সাজানো চক্রান্ত!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৫

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ

থানায় দুলাল কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। দেশের আইনকানুন এমনই যে, সমস্ত সহানুভূতি জনতার রোষ ক্যামেরায় তোলা ছবি সবকিছু দুলালের বিরুদ্ধে গিয়েছে। তার সঙ্গে ড্রাইভার সাক্ষী। কারখানার গন্ডগোলের রাগে সে ড্রাইভারকে মেরেছে এবং গাড়িটা কারখানার মালিক কানাইলাল মহেশ্বরীর জানতে পেরে গাড়ির মধ্যে বসে থাকা তার পরিচিত স্নিগ্ধার ওপর তার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে। এবং দুলাল তার শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করে। টুকরো টাকরা নিউজ চ্যানেল তখন অনেক। আর সেখানে সেই বিয়েবাড়ির ক্যামেরাম্যানদের ভিডিও রাতভর চলতে লাগল, শ্রমিক নেতা দুলাল সেন ধর্ষণের অপরাধে গ্রেপ্তার হল।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

থানায় দুলালের কোনও কথাই শোনা হয়নি। যদিও পুরনো এক সাব ইন্সপেক্টর দুলাল সেনকে খুব ভালো করে চিনতেন! তার বারবার মনে হয়েছিল যে, দুলাল সেনকে কোনওভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এর পিছনে কোনও না কোনও ভাবে এই বন্ধ জুট মিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরীর হাত রয়েছে। কিন্তু নতুন ওসি বীরেশ দত্ত লাঞ্চিতা অপমানিতা স্নিগ্ধা কর-এর সব অভিযোগ শিরোধার্য করে নিলেন। স্নিগ্ধ তার ছেঁড়া শাড়ি বা ব্লাউজ বদলাতে বাড়ি যাননি, পাড়ার একজন সহৃদয় ব্যক্তি বাড়িতে খবর দিয়েছিলেন বৃদ্ধা মা থানায় এসেছিলেন একটা শাল নিয়ে মেয়ের আব্রু বাঁচাতে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

নিউজ চ্যানেলে দেখানো ভিডিও ক্লিপিং স্থানীয় মানুষজনের সাক্ষ্য এবং ড্রাইভার ও ক্যামেরাম্যানের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দুলালকে যখন স্যাঁৎস্যাঁতে অন্ধকার ভিজে একটা চাপা দুর্গন্ধময় সেলের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হল, দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বুজে দু’বার ভাবতে চেষ্টা করল যে আসলে কি ঘটেছিল! দুলালকে থানায় আনার আগেই উন্মত্ত জনতা তার সাইকেলকে ভেঙে চুরমার করে দেয়!
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

কারখানার গেট থেকে খবর পেয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন ছুটে গিয়েছিল থানায়! সেখানে কোনও সুবিধা করতে না পেরে তাদের ক’জন পার্টির এক নেতার বাড়িতে ছুটল আর জনাকয়েক গেল দুলালের বাড়িতে। তখন অনেক রাত। সদর দরজা বন্ধ। খানিকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর কেউ দরজা খুলল না! — চলবে
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content