শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কানাইলাল মহেশ্বরী যে একজন পাকা ক্রিমিনাল, সেটা স্নিগ্ধা বুঝতে পেরেছিল সেদিন রাতে পিছনের সিটে দুলালকে হ্যাঁচকাটান দিয়ে নিজের ওপর ফেলার ঠিক পরেই। স্নিগ্ধার শাড়ি সায়া ব্লাউজ সব আগের থেকে ছেঁড়া ছিল। কিন্তু সে গায়ে একটা হালকা চাদর চাপা দিয়ে গাড়িতে উঠেছিল মহেশ্বরীর নির্দেশ মতো। মহেশ্বরী লোকটা ওর ড্রাইভারকেও বিশ্বাস করে না! ভয়ে বা টাকার লোভে যদি লোকটা উল্টো গায়। তাই অন্যদিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে স্নিগ্ধা অফিস থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠেছিল।
ড্রাইভার বেচারি লোকটা জানেই না আসলে ঠিক কী হতে যাচ্ছে। কলকাতা থেকে যতটা সময় লাগবে ভেবেছিল, তার একটু আগে পৌঁছে গিয়েছিল স্নিগ্ধারা। আশ্চর্যভাবে লেভেল ক্রসিংয়ে দাঁড়াতে হয়নি কোথাও। তাই ঘড়ি দেখে রাস্তায় একটা চায়ের দোকানে আদা দিয়ে লাল লেবু চা খেতে স্নিগ্ধাকে গাড়ি দাঁড় করিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে। তবুও দুলাল আর কয়েক মূহুর্ত হলেই বড় রাস্তার থেকে গলিতে ঢুকে যেত। এর আগে পরপর চারদিন রোজ ঘড়ি ধরে ঠিক দশ মিনিট আগে স্নিগ্ধা বাড়ি পৌঁছেছে। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে চলে গিয়েছে, তারপর স্নিগ্ধা দোতলার অন্ধকার বারান্দা থেকে দেখেছে। দুলাল ঠিক কখন সাইকেল নিয়ে বড় রাস্তা থেকে গলিতে ঢোকে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪১: কারুর কেউ নই-কো আমি…

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৫ : Twoকি!

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪০: বেচারা বড় কষ্টে আছে, মহর্ষি সাহায্য পাঠিয়েছিলেন সাত হাজার টাকা

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

আজ দুলাল পাঁচ মিনিট আগেই চলে এসেছিল। দূর থেকে দুলালকে দেখে ড্রাইভারকে ধমক দিয়েছিল তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। গলির ঠিক আগে যখন দুলালকে ওরা ক্রস করছে তখনই স্নিগ্ধা “দুলাল দা দুলাল দা” বলে নাটক শুরু করল আর গলির মুখে ধমক দিয়ে গাড়ি দাঁড় করাতে বলে বলল—
—কোথায় নিয়ে যাচ্ছ আমায়?
দুলাল এসে দাঁড়াতেই তার নাটকে ফেঁসে গিয়ে দুলাল ড্রাইভারকে মারল। স্নিগ্ধা গায়ের পাতলা স্কার্ফটা ড্রাইভারের পিছনের সিট-পকেটে লুকিয়ে ফেলে তৈরি। ড্রাইভার মার খেয়ে হতভম্ব। দুলাল স্নিগ্ধার ওপর পড়েছে। কিন্তু গোটা রাস্তা তো তখন শুনশান। লোকজন কেউ কোত্থাও নেই। স্নিগ্ধা ভাবছে এরপর কী? ঠিক তখনই দেবদূতের মতো মোটরবাইক নিয়ে ওই বিয়েবাড়ির ভিডিয়ো করা ছেলেদুটো উপস্থিত! এদের ব্যাপারটা স্নিগ্ধা ঘুণাক্ষরেও জানতো না! ঠিক যেমন মহেশ্বরীর ড্রাইভার জানতোই না আজ কী ঘটতে যাচ্ছে!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৮: সুনীতির পথ জন্মান্তরে

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, সুন্দরবনের বারোমাস্যা পর্ব-১২৬: সুন্দরবনের পাখি: গুলিন্দা বাটান

তারপর যে লোকগুলো হই-হই করে ফাঁকা রাস্তায় লোকজন জমা করে ফেলল, খানিক পরে স্নিগ্ধা সেই দু-তিনজনকে আশেপাশে কোথাও দেখতে পায়নি! পরে যারা এসেছিল তারা কিছু দেখেনি। ঘটনাটা শুনেছে। কিন্তু তারা সবাই এমনভাবে বলতে শুরু করল যেন তাদের সামনেই সব ঘটেছে। আর ভিডিয়োর যে অংশ নিউজ চ্যানেলে চলেছে সেটা এমনভাবে তোলা এবং দেখানো হয়েছে তা যেন লোকজনের সামনেই ঘটেছে। জনতার এই স্বভাব, ধুরন্ধর ব্যবসায়ী কানাইলাল সুচতুরভাবে ব্যবহার করেছেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি

এই ভিডিয়োর ছেলে দুটো সত্যিই এই অঞ্চলের ? সেদিন বিয়েবাড়ির ভিডিয়ো কভার করে তারা ফিরছিল কি? সে সব নিয়ে না পুলিশ না আদালত কেউ কিছু জানতে চাননি। কারণ স্নিগ্ধা খবর পেয়েছিল ইউনিয়নের সূত্রে যে উকিল দাঁড়িয়েছিলেন দুলাল সেনের জামিনের পক্ষে তিনি একটিও কথা বলেননি। স্নিগ্ধা বুঝতে পেরেছিল এই যুগটায় অসৎ লোকেরাই ভালো থাকে। সত্যবাদী সৎ মানুষের কপালে অশেষ দুর্গতি যন্ত্রণা অপমান আর দুর্ভোগ লেখা আছে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

তৃপ্তিও তাই বিশ্বাস করত। তার বাবা বা মা জ্ঞানত কোনওদিন কাউকে অপমান করেননি কারও কোন ক্ষতি করেননি। তাদের অপঘাতে ভয়ংকর মৃত্যু হল। সন্ত্রাসবাদীদের বোমা-বিস্ফোরণে দু’জনের দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। শুধু বাবার পকেটের কোম্পানির আইডি কার্ড আর মায়ের শরীরে লেপটে থাকা ঝলসে যাওয়ার চামড়ার ভ্যানিটি ব্যাগে ভেতরে দু’জনের রেলওয়ে টিকিটটা গরমে বাদামি হয়ে গেলেও আশ্চর্যভাবে শক্ত হয়ে টিকে ছিল। দেহাবশেষ এসেছিল। একই চিতাতে সেগুলোতে অগ্নিসংযোগ করেছিল পাড়ার লোকজন। তৃপ্তি বা তার ছোটভাই সেখানে যায়নি। তৃপ্তির ছোটভাই কখনও একটা পাখিকে ঢিল ছুঁড়েও মারেনি, দু’পক্ষের বোমা মারামারিতে বেঘোরে প্রাণ দিল সে।—চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content