
জুট মিল থেকে শ্রমিকদের উৎখাত করা যায়নি। দুলালের নেতৃত্বে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গেটের সামনে পালা করে পাহারায় থাকছে শ্রমিকরা। যতদিন তাদের পাওনা টাকা না পাওয়া যাচ্ছে ততদিন কারখানার যন্ত্রপাতি কারখানা থেকে বের হতে দেবে না তারা। দুলাল প্রতিদিন শ্রমিকদের সঙ্গে রাত দশটা সাড়ে দশটা পর্যন্ত কাটায়, তারপর সাইকেল চালিয়ে জুট মিল থেকে বাড়ি ফেরে! রাস্তাটা তখন প্রায় খালিই থাকে! সেদিন বেশ খানিকক্ষণ বৃষ্টি হয়েছিল সন্ধ্যে থেকে রাস্তাটা আরও ফাঁকা। তখন বৃষ্টি বন্ধ হলেও মফস্বলের পাকা রাস্তায় চারদিকের ছড়ানো রাস্তায় জল জমে আছে!
দুলালের পিছন দিক থেকে একটা কালো অ্যাম্বাসেডর গাড়ি যাওয়ার সময় ভিতর থেকে যেন স্নিগ্ধা চিৎকার করে বলল, “দুলাল দা!”। বড় রাস্তাটা বাঁক নিয়ে খানিকটা এগিয়ে এলেই রাস্তার বাঁদিকে যে গলি ঢুকে গিয়েছে তার প্রথম দিকেই স্নিগ্ধাদের বাড়ি আরো খানিকটা এগিয়ে গেলে দুলালদের বাড়ি। এত রাতে গাড়ির মধ্যে স্নিগ্ধাকে দেখে এবং তার চিৎকার শুনে দুলাল ধরেই নিল স্নিগ্ধার কোনও বিপদ হয়েছে। প্যাডেলের গতি বাড়িয়ে বাঁক নেওয়া রাস্তাটা টপকাতেই দেখল গলির মুখে গিয়ে গাড়িটা দাঁড়িয়ে পড়েছে! গাড়িটা যাতে বের হতে না পারে তাই দুলাল সাইকেলটা গাড়ির সামনে রাখলো। ভিতরে দেখলো স্নিগ্ধা ড্রাইভার-এর সঙ্গে চোটপাট করছে!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ
—একা মেয়ে পেয়ে বদমাইশি না! দেখো তোমার কী হাল করি আমি!
দুলাল জানতে চাইল!
—কী হয়েছে রে!!
—দেখো না বদমাইশি করছে!
ড্রাইভারটাকে দেখেই দুলালের চেনা মনে হল! মাথায় বিদ্যুতের মতো খেলে গেল। এই লোকটাকে সে জুটমিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরীর গাড়ি চালাতে দেখেছে।
—মহেশ্বরীর ড্রাইভার?
ড্রাইভারটা মাথা নাড়তেই দুলালের মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। সে ড্রাইভারকে টেনে নামিয়ে একটা চড় মারল।
—শালা যেমন মনিব তেমনই ড্রাইভার!
ড্রাইভার ছেলেটা ছিটকে দূরে সরে গেলো! দুলাল পিছনের দরজা খুলে স্নিগ্ধাকে বলল—
—ভয় নেই নেমে আয়! এত রাতে তুই এই গাড়িতে কোথা থেকে আসছিস?
দুলাল জানতে চাইল!
—কী হয়েছে রে!!
—দেখো না বদমাইশি করছে!
ড্রাইভারটাকে দেখেই দুলালের চেনা মনে হল! মাথায় বিদ্যুতের মতো খেলে গেল। এই লোকটাকে সে জুটমিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরীর গাড়ি চালাতে দেখেছে।
—মহেশ্বরীর ড্রাইভার?
ড্রাইভারটা মাথা নাড়তেই দুলালের মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। সে ড্রাইভারকে টেনে নামিয়ে একটা চড় মারল।
—শালা যেমন মনিব তেমনই ড্রাইভার!
ড্রাইভার ছেলেটা ছিটকে দূরে সরে গেলো! দুলাল পিছনের দরজা খুলে স্নিগ্ধাকে বলল—
—ভয় নেই নেমে আয়! এত রাতে তুই এই গাড়িতে কোথা থেকে আসছিস?
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ
স্নিগ্ধা পেছনের সিট ঘষটে এগিয়ে এলো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দুলাল স্নিগ্ধা নামতে গিয়ে যেন পা ফসকে পড়ে যাচ্ছিল তাই দুলালকে জাপটে ধরে ফেলল। ওই অবস্থাতেই দুলালকে নিয়ে স্নিগ্ধা পিছনের সিটে প্রায় শুয়ে পড়ল। দুলাল কিছু বুঝে ওঠার আগেই ড্রাইভারটা চিৎকার শুরু করল।
—কে আছ এই দিদিটাকে বাঁচাও কে আছো বাঁচাও!
স্নিগ্ধা দুলালকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চিৎকার করছে।
—একী দুলাল দা একি করছ! এভাবে আমার ক্ষতি করো না! প্লিজ ছি ছি ছি! একী করছো!
—এসব কি আবোলতাবোল বলছিস স্নিগ্ধা।
—অসভ্য ইতর!
—কে আছ এই দিদিটাকে বাঁচাও কে আছো বাঁচাও!
স্নিগ্ধা দুলালকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চিৎকার করছে।
—একী দুলাল দা একি করছ! এভাবে আমার ক্ষতি করো না! প্লিজ ছি ছি ছি! একী করছো!
—এসব কি আবোলতাবোল বলছিস স্নিগ্ধা।
—অসভ্য ইতর!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল
স্নিগ্ধা চিৎকার করছে ড্রাইভার চেঁচাচ্ছে চিৎকার করছে! ঠিক এই সময় একটা বাইক থেকে দুটো ছেলে দাঁড়াল। বাইক চালক বলে উঠল—
—কী হয়েছে? কী হয়েছে দিদি?
স্নিগ্ধা ককিয়ে উঠল।
—আমায় বাঁচান ভাই বাঁচান। ইনি আমায় এই দেখুন আমার শাড়ি ব্লাউজ সায়া সব ছিঁড়ে দিয়েছে।
ড্রাইভার সায় দেয়।
—এই দেখুন লোকটা আমায় কি ভাবে মেরেছে!
হতভম্ব দুলাল বলে ওঠে।
—স্নিগ্ধা এসব কী বলছিস!
বাইকচালক ছেলেটা পিঠে বড় ব্যাকপ্যাক নেওয়া ছেলেটাকে বলল—
—খোল খোল! আপনি যা বলবার ক্যামেরায় বলুন আমরা বিয়ে বাড়ি করে ফিরছি! দুলালের মনে হল তার পিঠে একটা ধারালো ছোরা কেউ আস্ত ঢুকিয়ে দিয়েছে। দুলালের মাথা ঘুরছে সে কোনক্রমে গাড়িটা ধরে দাঁড়িয়ে আছে আস্তে আস্তে চেনা অচেনা লোক জমছে স্নিগ্ধা তার ছেঁড়া শাড়ি ব্লাউজ এমনকি সায়া ক্যামেরাতে দেখাতে দেখাতে ইনিয়ে-বিনিয়ে মিথ্যে বলে যাচ্ছে।
—এনাকে আপনি চেনেন?
—হ্যাঁ সকলেই জানে পাড়ার দাদা হিসেবে চিনি, উনি শ্রমিক নেতা দুলাল সেন।
—ঘটনাটা কি হয়েছিল?
—কী হয়েছে? কী হয়েছে দিদি?
স্নিগ্ধা ককিয়ে উঠল।
—আমায় বাঁচান ভাই বাঁচান। ইনি আমায় এই দেখুন আমার শাড়ি ব্লাউজ সায়া সব ছিঁড়ে দিয়েছে।
ড্রাইভার সায় দেয়।
—এই দেখুন লোকটা আমায় কি ভাবে মেরেছে!
হতভম্ব দুলাল বলে ওঠে।
—স্নিগ্ধা এসব কী বলছিস!
বাইকচালক ছেলেটা পিঠে বড় ব্যাকপ্যাক নেওয়া ছেলেটাকে বলল—
—খোল খোল! আপনি যা বলবার ক্যামেরায় বলুন আমরা বিয়ে বাড়ি করে ফিরছি! দুলালের মনে হল তার পিঠে একটা ধারালো ছোরা কেউ আস্ত ঢুকিয়ে দিয়েছে। দুলালের মাথা ঘুরছে সে কোনক্রমে গাড়িটা ধরে দাঁড়িয়ে আছে আস্তে আস্তে চেনা অচেনা লোক জমছে স্নিগ্ধা তার ছেঁড়া শাড়ি ব্লাউজ এমনকি সায়া ক্যামেরাতে দেখাতে দেখাতে ইনিয়ে-বিনিয়ে মিথ্যে বলে যাচ্ছে।
—এনাকে আপনি চেনেন?
—হ্যাঁ সকলেই জানে পাড়ার দাদা হিসেবে চিনি, উনি শ্রমিক নেতা দুলাল সেন।
—ঘটনাটা কি হয়েছিল?
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
—আমি একটা কাজে কলকাতায় আটকে পড়েছিলাম! এই ড্রাইভার দাদা কলকাতা থেকে চুঁচুড়ায় জুট মিলে যাতায়াত করেন আমি আগে দেখেছি আমি ওর গাড়ি চড়ে আসছিলাম! আমাদের বাড়ির গলিটা উনি না বুঝতে পেরে এগিয়ে যাবেন এই ভয়ে আমি এই পাড়ার দাদাকে ডাকলাম। খালি রাস্তা ও এসে সাইকেলটা গাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে প্রথমে ড্রাইভার টাকে অকথ্য মারধর করল। তারপর পিছনের সিটে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ! আমি কোনদিন ভাবতে পারিনি যে নিজের পাড়ায় বাড়ির সামনে আমাকে এভাবে কেউ আমার শ্লীলতাহানি করবে। আমাকে রেপ করবে।
কথাটা বলে ডুকরে কেঁদে ওঠে স্নিগ্ধা। —চলবে
কথাটা বলে ডুকরে কেঁদে ওঠে স্নিগ্ধা। —চলবে
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















