রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কনকনে ঠান্ডা এয়ারকন্ডিশন্ড ঘরে বসেও স্নিগ্ধার গরম লাগছে! ৭৫ হাজার টাকা! দুলালকে শিক্ষা দিতে এসে বিনা পয়সাও কাজটা করতে রাজি ছিল! আবার যূথিকার কথা মনে পড়ে গেল। বজ্জাত মেয়েটা হাসতে হাসতে বলত, “সিনেমায় হিরো-হিরোইন হওয়াটা সব থেকে মস্তি! দুজনে চুটিয়ে দু’জনের মজা নিচ্ছে। আবার কেউ নিন্দেও করতে পারবে না। কারণ পর্দায় জাপটাজাপটি চুম্মাচুম্মি যা হচ্ছে খাতাকলমে সে তো সত্যি নয়! সবটাই সিনেমা, দুজনের ‘সম্ভ্রম’ রেখে নাকি প্রেমের অভিনয়! অভিনয় শেষ আবার তারকারা সতী-লক্ষ্মী স্বামী-স্ত্রী হয়ে যে যার ঘরে ফিরছে! আবার পরের দিন ক্যামেরার সামনে চুটিয়ে প্রেম আর ক্যামেরার আড়ালে প্রেমের গভীর প্রস্তুতি! এইসব করবার পরেও দুহাত ভরে টাকা, সমাজে দেশে মানসম্মান! আর একটা কাজ বল যেখানে এসব কিছু একসঙ্গে পাবি।”
ভাবনার মধ্যেই কানাইলাল মহেশ্বরীর খসখসে কণ্ঠস্বরে পান পরাগে থকথকে মোটা জিভে ভোঁতা উচ্চারণ।
—লেডিজ হিসাবে আপনার একটা রিস্ক ফেক্টর থাকছে! পাঁচাত্তর নয়, ফাইনাল কোর্ট ওর্ডার হয়ে গেলে পুরা এক দিবো! একের পিছে ফাইভ জিরোস…
স্নিগ্ধা একটাও কথা না বলে একটা বড় টাকা রোজগার করে ফেলল! কিন্তু এবার তাকে কথা বলতে হবে স্নিগ্ধা টার্গেট অন্য কিছু!
—এই এককালীন টাকাটা ঠিক আছে। কিন্তু আপনার সঙ্গে যখন যোগাযোগ হয়েই গেল তখন একটা ফেভার করতে হবে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৪: ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্থ অতীতের ত্রিপুরা নিয়ে গবেষণার দিশারী

ফেভার কথাটার মধ্যে স্নিগ্ধা তার আইলাইনার টানা ঈষৎ ঘোলাটে চোখের গভীর দৃষ্টি মিশিয়ে দিয়েছিল! আর তখনই তার নজরে এলো কানাই লাল মহেশ্বরীর নিশ্চল চোখ তার শরীর দেখছে!
—ফেভর! কী ফেভর চান?
—একটা কাজ চাই? এখানে আপনার অফিসে! আমি কোথাও চাকরিবাকরি করি না। হঠাৎ করে এতগুলো টাকা আমি ব্যবহার করবো কি করে? মোটামুটি মাইনের একটা চাকরি পেলে সেটা অসুবিধা হবে না!
—একজন পাবলিক রিলেশন অ্যাসোসিয়েট লাগবে! দুলালের কেসটা আপনার টেস্ট! সাকসেসফুল হয়ে গেলে your entire life will be smooth.
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

—কাজটা কী?
—বাললাম যে পাবলিক রিলেশনস। ইম্পরট্যান্ট পাবলিকের সঙ্গে রিলেশনস! স্নিগ্ধা মেডাম টাকাটা উঠায়ে লিন, লছমীজি কো রেসপেক্ট করেন!
—কাজটা মানে ঠিক কী ধরণের?
পলক না পড়া চোখে সদ্য নগদে কেনা শরীর দেখতে দেখতে কপালে পবিত্র চন্দন ও সিঁদুরলেপা কানাইলাল মহেশ্বরী বলেন—
—বোলা না, পাবলিক রিলেশনস, হিউম্যান রিলেশনস! লছমীজি কো উঠায়ে লিন মেডাম!
রাস্তায় ঘাটে স্কুলে, কলেজে কিশোরী থেকে নারী হবার ক্ষণে স্নিগ্ধা পুরুষের চোরানজর দেখেছে —সবসময়ে যে অস্বস্তি হয়েছে নিজের কাছে এমন মিথ্যে দাবি স্নিগ্ধা করে না। নিজের মোহিনী চেহারার জন্য বরং মনে মনে গর্ব হয়েছে! তবে এসব নগ্ন কথা বাইরে বলার নয়! কিন্তু আজ অব্দি মহেশ্বরীর মতো নির্লজ্জ বেহায়া চাউনি সামনে স্নিগ্ধা কখনও পড়েনি।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৯: শকুন্তলারা আজও আছেন

এরকম দৃষ্টির সামনে স্নিগ্ধার মনে হচ্ছিল তার শরীরে যেন কোনও কাপড়জামা নেই! মোটা ঠোঁট থাবড়া নাকের দ’পাশে দুটো নিশ্চল ফ্যাটফ্যটে চোখ দিয়ে লোকটা যেন তার জামাকাপড়ের আড়ালে রাখা বেআব্রু শরীরটা সরাসরি দেখতে পাচ্ছে। রাস্তাঘাটের চোরা নিষিদ্ধ চাউনিতে একটা চাপা অপরাধবোধ একটা ধরা-পড়ে যাওয়া চমক থাকে, কিন্তু কানাইলালের মতো লোকজনের চোখে সেসবের কোনও বালাই নেই। সে যেন মাংসের দোকানে ঝোলানো জলে ধোওয়া রোববারের খাসি দেখতে দেখতে ভাবছে সিনা, দাবনা না সামনের বা পিছনের রানের মাংস কোনটা কাটতে বলবে!
আরও পড়ুন:

টিচার্স ডে

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

কিন্তু স্নিগ্ধা জানতো এতকিছুর পর প্ল্যানমাফিক কাজটা ঠিকঠাক না হলে মহেশ্বরী থাকে কিমা করে কুঁচিয়ে কাটার ব্যবস্থা করবে। তাই এর ঠিক এক সপ্তাহ পর সৎ দৃঢ় চরিত্রের শ্রমিক নেতা দুলাল সেনের চরিত্র হননের ভয়ংকর চিত্রনাট্য লেখা হল।— চলবে
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content