
ব্যবসায়ী কানাই লাল মহেশ্বরী একজন মোটাসোটা লোক। বড়সড় নরম চেয়ারে মাথা হেলিয়ে দিয়েছেন। স্নিগ্ধার উত্তরের অপেক্ষা করছেন। মুখটা তুলে নিজের কেবিনের ফলস সিলিং-এর ডিজাইন যেন মন দিয়ে দেখছিলেন মহেশ্বরী। স্নিগ্ধা তাঁর বিশালাকার মুখের দিকে তাকালো। মাঝারি চর্বিবোঝাই চেহারার তুলনায় তার মুখটা বেশ বড়। কানের নিচ থেকে তিনটে থাকে পর, গলাজাতীয় একটা কিছু শুরু হয়েছে। মুখে কোনও বিকার নেই।
এই ধরনের লোকেরা নিজের স্বার্থের জন্য যা খুশি করতে পারে। গোটা পৃথিবীটাকে এরা টাকার পরিমাণে মাপে স্নিগ্ধার মনে হচ্ছিল সে দুলালের মৃত্যুর সুপারি নিতে বসেছে। একজন মানুষের চরিত্রকে হত্যা করা লোকটাকে প্রাণে মেরে দেওয়ার থেকেও ভয়ংকর একটা কাজ। লোকটা মরে গেলে তো শহিদ হয়ে যাবে। কিন্তু অপবাদ নিয়ে বেঁচে থাকলে প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হতে থাকবে দুলাল সেন। যে দুলাল সেন তার শরীরকে তার নারীত্বকে তার লাস্যকে অপমান করেছে। যে দুলাল সেনের প্রেমে বিভোর হয়ে স্নিগ্ধা তার বিবাহিত স্বামীকে কাছে ঘেঁষতে দেয়নি।
আরও পড়ুন:

পর্ব-৩২: আকাশ এখনও মেঘলা

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৪: তালবাতাসি
স্নিগ্ধা উত্তর দিতে অনেকটা দেরি করছে দেখে ড্রয়ার খুলে কিছু একটা দেখতে দেখতে মহেশ্বরী আবার বললেন—
—ওই দুলালের কেরেক্টারের ভিসান বড়াই আছে! আইডিয়ালিস্টিক বোলে ঘমান্ড করে। তাই
ঠিক কারেছি কি তার কেরেক্টারটাকেই ভেঙে দেব, বুঝলেন কিনা?
মুখের কথাটা শেষ হবার আগেই মহেশ্বরী একশো টাকার নোটের আরও একটা বান্ডিল স্নিগ্ধার সামনে কাচের টেবিলে ঠেলে দিলেন। টাকার বান্ডিলটা কাঁচের উপর দিয়ে খানিকটা হড়কে এসে থমকে গেল! এবার স্নিগ্ধাকে হাত বাড়াতে হবে। সে টাকার দিকে তাকিয়ে ভাবল এক্ষুনি এই দশ হাজার টাকাটা নিয়ে নিলে সে কী কী কিনতে পারবে? মা বলছিল সোনার দাম নাকি বেড়ে গিয়েছে। এক ভরি সাত হাজার টাকা! মহেশ্বরী আর স্নিগ্ধার মধ্যে নিঃশব্দে দরকষাকষি চলছে! আর একটা একশো টাকার বান্ডিল পড়ল! ক্যারামের ঘুঁটির মতো নতুন বান্ডিলটা পুরনো নোটের বান্ডিলটাকে ছুঁয়ে দিল!
—ওই দুলালের কেরেক্টারের ভিসান বড়াই আছে! আইডিয়ালিস্টিক বোলে ঘমান্ড করে। তাই
ঠিক কারেছি কি তার কেরেক্টারটাকেই ভেঙে দেব, বুঝলেন কিনা?
মুখের কথাটা শেষ হবার আগেই মহেশ্বরী একশো টাকার নোটের আরও একটা বান্ডিল স্নিগ্ধার সামনে কাচের টেবিলে ঠেলে দিলেন। টাকার বান্ডিলটা কাঁচের উপর দিয়ে খানিকটা হড়কে এসে থমকে গেল! এবার স্নিগ্ধাকে হাত বাড়াতে হবে। সে টাকার দিকে তাকিয়ে ভাবল এক্ষুনি এই দশ হাজার টাকাটা নিয়ে নিলে সে কী কী কিনতে পারবে? মা বলছিল সোনার দাম নাকি বেড়ে গিয়েছে। এক ভরি সাত হাজার টাকা! মহেশ্বরী আর স্নিগ্ধার মধ্যে নিঃশব্দে দরকষাকষি চলছে! আর একটা একশো টাকার বান্ডিল পড়ল! ক্যারামের ঘুঁটির মতো নতুন বান্ডিলটা পুরনো নোটের বান্ডিলটাকে ছুঁয়ে দিল!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৯: ক্ষুদ্র শক্তি সংগঠিত হলে বড় শত্রুও হার মানে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক
বিচ্ছু ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে ঠিক তাদের মতোই বন্ধু জুটে যায়। একটু ভীতু, মন দিয়ে পড়াশোনা করতে চাওয়া ছেলেমেয়েরা এইসব দুঃসাহসী বেপরোয়াদের একটু এড়িয়ে চলে। স্নিগ্ধার সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল একক্লাস উঁচুতে পড়া যূথিকার! স্নিগ্ধা যেমন কোন কালেই স্নিগ্ধ নয়, যূথিকা ঠিক তেমনই জুঁই ফুলের সঙ্গে কোনও মিল নেই। না গন্ধে না বর্ণে! তবে সংস্কৃত যুথী শব্দের আর একটা মানে হল অন্তর্দৃষ্টি ও বুদ্ধিমত্তা। এটার মতোই যুথিকারও অন্তর্দৃষ্টি তো ছিলই, সেই সঙ্গে সুবুদ্ধি না থেকে কুবুদ্ধি ছিল যথেষ্ঠ পরিমাণে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৮: স্ত্রী সীতার ব্যক্তিত্বের প্রভায় রামচন্দ্রের আলোকিত উত্তরণ সম্ভব হয়েছে কি?
বয়সে ছোট স্নিগ্ধাকে যুথিকা বলতো, ভালো ছেলে পটানো হল ছিপ দিয়ে মাছ ধরার মতো! যে ছেলেটাকে তুলতে চাস তার আশেপাশে চার ফেলতে হবে! কখনও একটু চাউনি কখনও একটু ছোঁয়া! ছোঁকছোঁকানি শুরু হয়েছে দেখলেই বঁড়শিতে বড় টোপ লাগিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু ছটফট করলে চলবে না! অনেক সময়ই মাছেরা বঁড়শির আশপাশ দিয়ে টুকটুক করে টোপ খেয়ে নেয় কিন্তু বঁড়শিতে ফাঁসে না! তাই ধৈর্য ধরে নড়াচড়া না করে ছিপ আগলে বসে থাকতে হবে! উৎসাহ দেখালে চলবে না এড়িয়ে থাকতে হবে! একসময় এসে সে তো টোপ গিলবেই তখন তাকে খেলিয়ে তুলে ফেলবি। তবে দুলালের জন্য স্নিগ্ধা এই সমস্ত ফর্মুলা ব্যবহার করেও হেরে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
সেই হারের প্রতিশোধ নিতেই আজ ধুরন্ধর ব্যবসায়ী কানাইলাল মহেশ্বরীর ক্যাবিনে স্নিগ্ধা তার মুখোমুখি বসে আছে। কথায় বলে শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়! সেই বন্ধুর সঙ্গে দর কষাকষি করতে বসে স্নিগ্ধা কুড়ি হাজার টাকার প্রতিও উৎসাহ দেখাচ্ছে না এটা বোঝাতে টাকার বান্ডিল দুটো একটু দূরে ঠেলে দিল!
—এটা ফুল পেমেন্ট নেই। এডভান্স আছে। কাজ হলে এর ডাবল, আর দুলাল বিহাইন্ড দ্য বার হলে ফাইনাল ইনস্টলমেন্ট, টোটাল সেভেন্টি ফাইভ পাবেন!—চলবে।
—এটা ফুল পেমেন্ট নেই। এডভান্স আছে। কাজ হলে এর ডাবল, আর দুলাল বিহাইন্ড দ্য বার হলে ফাইনাল ইনস্টলমেন্ট, টোটাল সেভেন্টি ফাইভ পাবেন!—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















