
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
বিয়ে? দাদার সঙ্গে স্নিগ্ধার বিয়ে? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে বৌদি? স্নিগ্ধার সঙ্গে দাদার বিয়ের সম্বন্ধে হবে আর আমি সেটা জানবো না। বড়দিদি, মেজদিদি, জামাইবাবুরা কিছু জানবেন না? মা জানলে তাঁদের বলবে না?
তৃপ্তি কথাটা বলে চুপ করে আছে। হতে পারে দুলাল নিজে কিছু জানত বাড়িতে জানায়নি। কথাটা শোনার পর থেকে মণি যেন ফুঁসছে। দাদার থেকে বা দাদার ওপর কোনও অপবাদ সে সহ্য করতে পারে না! বাবার আচমকা মৃত্যু তার ওপর ভীষণ ধাক্কা দিয়ে গিয়েছিল। বাবার মৃত্যুর পর কি হবে সংসারে! দাদার কোনও চাকরি নেই। তার এমএ পড়ার ইচ্ছে! এক লহমায় যেন ভবিষ্যতটা অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। দাদা পড়া ছেড়ে চটকলে চাকরি নিল। সংসারটা অভাবের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াল। ধারদেনা করে মণির বিয়ে দিল। হ্যাঁ, তার শ্বশুরশাশুড়ি বা স্বামী অত্যন্ত ভদ্রমানুষ। তাদের কোনও দাবিদাওয়া ছিল না। কিন্তু লোকলৌকিকতা বিয়ের আয়োজন এর তো একটা খরচ রয়েছে। দুই দিদি-জামাইবাবুরা যথেষ্ট করেছেন। কিন্তু বাকি টাকাকড়ি দুলাল কীভাবে জোগাড় করেছে সেটা আর দিদি-জামাইবাবুদের জানানো হয়নি। দুলাল পইপই করে মাকে মানা করেছিল।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২৬

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৯: কোটরে প্যাঁচা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬২: আলাস্কা ঘুরে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া দুষ্কর
জামাইবাবুরা অত্যন্ত ভদ্র। নিজের বোনের মতো দায় নিয়ে তাঁরা মণির বিয়ে দিচ্ছেন বলে হাভাতের মতো সব দায় তাদের চাপিয়ে দেব এটা তো হয় না! আমার ধার আমি শোধ করে দেবো।
মণি সবটুকু জানে। তার দাদা যে চড়া সুদে টাকা ধার করেছিল তাও জানে! সেই ধার এখনও চলছে। পাছে দাদার মানে লাগে তাই সেকথা মণি তোলে না! চটকলের এক টাইম-অফিসের বড়বাবু সুদের ব্যবসা করতেন! ধার দিয়ে টাকা ফেরতই পাওয়া যায় না সেখানে সুদের টাকা আদায় করা ভীষণ কঠিন ব্যাপার। কাবলিওয়ালারা পারে। দুলালের চটকলে সেই বাবু টাইম-অফিসে বসতেন তাই ক্ষমতার ব্যবহার বা ব্যক্তিস্বার্থে অপব্যবহার করে চটকল মজদুরদের থেকে টাকা আদায় করতেন। তবে দুলাল সবরকম বিলাসিতা সখ-আহ্লাদ ছেড়ে কঠিন জীবন বেছে নিয়েছিল ধারের টাকা শোধ দিতে।
মণি সবটুকু জানে। তার দাদা যে চড়া সুদে টাকা ধার করেছিল তাও জানে! সেই ধার এখনও চলছে। পাছে দাদার মানে লাগে তাই সেকথা মণি তোলে না! চটকলের এক টাইম-অফিসের বড়বাবু সুদের ব্যবসা করতেন! ধার দিয়ে টাকা ফেরতই পাওয়া যায় না সেখানে সুদের টাকা আদায় করা ভীষণ কঠিন ব্যাপার। কাবলিওয়ালারা পারে। দুলালের চটকলে সেই বাবু টাইম-অফিসে বসতেন তাই ক্ষমতার ব্যবহার বা ব্যক্তিস্বার্থে অপব্যবহার করে চটকল মজদুরদের থেকে টাকা আদায় করতেন। তবে দুলাল সবরকম বিলাসিতা সখ-আহ্লাদ ছেড়ে কঠিন জীবন বেছে নিয়েছিল ধারের টাকা শোধ দিতে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২২: রামের পাদুকাগ্রহণের মাহাত্ম্য, ভরত কী রামের ছায়াশ্রিত প্রশাসক?
এ সব ভাবতে ভাবতেই মণি সেই মোক্ষম প্রশ্নটা করে বসলো !
—এসব তোমায় কে বলল? স্নিগ্ধা?
—না
—তাঁর মানে ছন্দা কাকীমা! বললাম না জাঁহাবাজ মহিলা! মিথ্যের ঝুড়ি! আর কক্ষনো যেও না ওদের বাড়িতে!
মণি চলে গিয়েছিল! কিন্তু সে ব্যাপারটার নিষ্পত্তি চেয়ে পরেরবার পূজোর পরে বিজয়া সারতে এসে আশপাশ দেখে তৃপ্তির আড়ালে মায়ের কাছে বলেছিল।
—মা, একটা কথা আমায় বলতো ! দাদার সঙ্গে স্নিগ্ধার কখনও সম্বন্ধ হয়েছিল?
চাপা গলায় মা বলেছিলেন।
—তোকে এসব কে বলল?
—আমি শুনেছি একজায়গায় ছন্দা কাকিমা তাকে বলেছে!
দুলালের মা নিশ্চিন্ত। সেই একজন তার চেনা-অচেনা যাইহোক বাইরের লোক তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি সেই একজন হল তাঁর বৌমা তৃপ্তি! মেয়ের কাছে লুকোছাপা না করে মা স্নিগ্ধার বিয়েদিনের দুঃসহ উপলব্ধির কথা জানালেন।
—স্নিগ্ধার বিয়েতে গিয়েছিলুম না… তোকে আর বলিনি! মা মেয়ে দুলালের বিয়েতে না যাওয়া নিয়ে সকলের সামনে এমন নাটক শুরু করলো সে তোকে কি বলবো! তাদের কথা শুনে মনে হবে স্নিগ্ধার সঙ্গে দুলালের যেন কতদিনের সম্পর্ক!
—এসব তোমায় কে বলল? স্নিগ্ধা?
—না
—তাঁর মানে ছন্দা কাকীমা! বললাম না জাঁহাবাজ মহিলা! মিথ্যের ঝুড়ি! আর কক্ষনো যেও না ওদের বাড়িতে!
মণি চলে গিয়েছিল! কিন্তু সে ব্যাপারটার নিষ্পত্তি চেয়ে পরেরবার পূজোর পরে বিজয়া সারতে এসে আশপাশ দেখে তৃপ্তির আড়ালে মায়ের কাছে বলেছিল।
—মা, একটা কথা আমায় বলতো ! দাদার সঙ্গে স্নিগ্ধার কখনও সম্বন্ধ হয়েছিল?
চাপা গলায় মা বলেছিলেন।
—তোকে এসব কে বলল?
—আমি শুনেছি একজায়গায় ছন্দা কাকিমা তাকে বলেছে!
দুলালের মা নিশ্চিন্ত। সেই একজন তার চেনা-অচেনা যাইহোক বাইরের লোক তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি সেই একজন হল তাঁর বৌমা তৃপ্তি! মেয়ের কাছে লুকোছাপা না করে মা স্নিগ্ধার বিয়েদিনের দুঃসহ উপলব্ধির কথা জানালেন।
—স্নিগ্ধার বিয়েতে গিয়েছিলুম না… তোকে আর বলিনি! মা মেয়ে দুলালের বিয়েতে না যাওয়া নিয়ে সকলের সামনে এমন নাটক শুরু করলো সে তোকে কি বলবো! তাদের কথা শুনে মনে হবে স্নিগ্ধার সঙ্গে দুলালের যেন কতদিনের সম্পর্ক!
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬: জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৫: অধিকার নয়, অবস্থানই বলে দেয় জায়গা কার– মালিকের? না দখলদারের?
—কিন্তু বিয়ের কোনও প্রস্তাব কি কখনও ওরা করেছে?
—না না, আমার কাছে তো …
—দাদাকে তুমি বরং একবার ।
—না না এখন তার বিয়ে-থা হয়ে গিয়েছে! এখন এসব কথা নিয়ে নাড়াঘাঁটার দরকার নেই!
—বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলেই এখন কথাগুলো পরিষ্কার হয়ে নেওয়া দরকার। একটা কথা ভুলে যেও না। ওই মা আর মেয়ে দুজনেই কিন্তু সাপের মত বিষাক্ত ! ঘরসংসার বর ছেড়ে স্নিগ্ধা কেন এখানে পড়ে রয়েছে দিনের পর দিন?
—তুই এসব বলিসনি মণি! বয়েস হয়ে গিয়েছে …এসব নিয়ে ভাবলেই আমার ভয়ে যেন কেমন বুক ধড়ফড় করে
—সমস্যা হল রোগজ্বালার মতো মা ভয় পেয়ে চিকিৎসা না করালে তো চলবে না। রোগ বিপদ নির্মূল করতে হবে শরীর সংসার সুস্থ রাখতে হবে!
মণি আবার শ্বশুরবাড়ি চলে গেল! লক্ষীপূজো হয় তার শ্বশুরবাড়িতে!
—না না, আমার কাছে তো …
—দাদাকে তুমি বরং একবার ।
—না না এখন তার বিয়ে-থা হয়ে গিয়েছে! এখন এসব কথা নিয়ে নাড়াঘাঁটার দরকার নেই!
—বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলেই এখন কথাগুলো পরিষ্কার হয়ে নেওয়া দরকার। একটা কথা ভুলে যেও না। ওই মা আর মেয়ে দুজনেই কিন্তু সাপের মত বিষাক্ত ! ঘরসংসার বর ছেড়ে স্নিগ্ধা কেন এখানে পড়ে রয়েছে দিনের পর দিন?
—তুই এসব বলিসনি মণি! বয়েস হয়ে গিয়েছে …এসব নিয়ে ভাবলেই আমার ভয়ে যেন কেমন বুক ধড়ফড় করে
—সমস্যা হল রোগজ্বালার মতো মা ভয় পেয়ে চিকিৎসা না করালে তো চলবে না। রোগ বিপদ নির্মূল করতে হবে শরীর সংসার সুস্থ রাখতে হবে!
মণি আবার শ্বশুরবাড়ি চলে গেল! লক্ষীপূজো হয় তার শ্বশুরবাড়িতে!
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-১১: ভাগ্যের ফেরে হাস্যকর ‘লাখ টাকা’
সেদিন কালীপূজো। দুদিন পর ভাইফোঁটা। বড় দুই মেয়ে মণি’র সঙ্গে মিলে একসঙ্গে আবার আসবে দুলালকে ভাইফোঁটা দিতে। জামাইরা তাদের তাদের বোন বা দিদির বাড়ি যাবে। ছোট জামাই একলা আর ভাইবোন নেই। বালিগঞ্জে তার মামাতো দিদির বাড়িতে সকলে মিলে ভাইফোঁটা করে। এই দিনটায় আনন্দ হলেও দুলালের মিডল-ইস্টে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া ছোটভাইটার জন্যে বোনেদের মনখারাপ থাকে। কিন্তু সে আছে হয়ত দূরে কোথাও আছে! যোগাযোগ রাখেনি কিন্তু তার কল্যাণ কামনায় এইদিনটা তার নামে বোনেরা দেওয়ালে ফোঁটা দেয়। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।


















