রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
ডিএম এবং এসডিপি-র সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মিটিং শেষ করে শাক্য এবং সুদীপ্ত বেরিয়ে এসেছিল ঘণ্টা চারেক পর। তখন ছ’টা বেজে গিয়েছে। জেলাসদর আলোয় ঝলমল করছে। দেখে কে বলবে, কয়েক মাইল গেলেই জঙ্গলের গা-ঘেঁষে অন্ধকারে মোড়া সব গ্রাম, রাস্তার ধারের টিমটিম করে জ্বলতে থাকা বাল্বের হলুদ ঘোলাটে আলো এমন এক আজব ইলিউশন তৈরি করবে যে, মনে হবে যেন, অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকের কোন পৃথিবীতে এসে পড়েছে তারা।

ফেরার তাড়া ছিল অবশ্যই। ডিএম অফিসের পাশেই গাড়ি রাখার জায়গায় জীবনবাবু অপেক্ষা করছিলেন গাড়ি নিয়ে। তাদের দেখেই কিছুটা এগিয়ে এলেন। তাঁর দিকে তাকিয়ে শাক্যর খারাপ লাগল। সেই কোন সকালে এগারোটা-বারোটার দিকে তাদের নিয়ে রওনা হয়েছিলেন জীবনবাবু। তারা ডিএমের ঠান্ডা ঘরে চা-কফি-স্ন্যাকস্ খেয়ে নিজেদের জঠরকে শান্ত করলেও এই মানুষটি নিশ্চয়ই কিছু খাননি। বড়জোড় চা-বিস্কুট খেতে পারেন। এঁরা কতই বা আর মাইনে পান, নিজের জন্য সামান্য বিলাসিতা দেখানোর কথা ভাবতেও পারেন না। মনে হয়, ওই সামান্য টাকাটুকুও সংসারের জন্য কত অপরিহার্য। সে বেরিয়েই জীবনবাবুকে কিছু খেয়ে নিতে অনুরধ করল। নিজের উপর লজ্জা হল তার, ডিএমের কাছে যাওয়ার সময় তার উচিৎ ছিল জীবনবাবুকে কিছু টাকা দিয়ে যাওয়া। যদিও সে নিশ্চিত নয় যে, সেই টাকা পেলেই মানুষটি কিছু কিনে খাবেন। হয়তো সে-টাকাও সংসারের জন্য তুলে রাখতেন।
সে সুদীপ্তকে বলল, “সুদীপ্ত আমরা রওনা হওয়ার আগে জীবনবাবুকে কিছু খাইয়ে দিই? সেই কখন আমাদের নিয়ে এসেছেন। নিশ্চয়ই কিছু খাননি!”
সুদীপ্ত শুনে বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ শাক্যদা, এটা আমারই ভাবা উচিৎ ছিল। আচ্ছা আমি খাইয়ে দিচ্ছি কিছু!”
“না না ব্রো, তুমি নয়। আমি খাওয়াবো। তারপর আমরা রওনা হবো।”
সুদীপ্ত বলল, “না দাদা, সদরে এসেছি, কিছু কেনাকাটা করে নিই। সবসময় তো আসা হয় না ! তারপর ভালো দেখে একটা রেস্টুরেন্টে খেয়ে তারপর ফিরবো!”
“খুব দেরি হয়ে যাবে না? আমাদের অনেকটা পথ ফিরতে হবে। জীবনবাবুর অসুবিধা হবে না তো?”
“না না! ওঁর অভ্যাস আছে। এর চেয়ে অনেক রাতে আমরা এখান থেকে ফিরেছি। জীবনবাবু সঙ্গে থাকলে আমার কোন চিন্তা থাকে না!”
শাক্য বলল, “বেশ। তবে রেস্টুরেন্টে কেবল তুমি-আমি খাবো না, জীবনবাবুও খাবেন!”
“আমার আপত্তি নেই দাদা। ইনফ্যাক্ট বড়বাবু না-থাকলে আমি কোথাও খেলে জীবনবাবু সঙ্গে থাকলে তাঁকেও ডেকে নিই। প্রথম-প্রথম লজ্জা পেতেন, আসতে চাইতেন না, কিন্তু এখন প্রাথমিক সংকোচ কেটে গিয়েছে।”
“গেলে ভালো, তবে এখন আমি আছি, কতটা সহজ হতে পারবেন জানি না! দাঁড়াও ওঁকে ডেকে বলে নিই আমাদের প্ল্যানটা!” বলে শাক্য জীবনবাবুকে ডাকল।
জীবনবাবু কাছে এগিয়ে এসে বিনীত স্বরে বললেন, “বলুন স্যার!”
“আপনি কিছু খেয়েছেন?”
জীবনবাবু আমতা-আমতা করে বললেন, “হ্যাঁ স্যার। ওজন্য চিন্তা করতে হবে না…!”
“কী খেয়েছেন? সলিড কিছু ? না-কি চা-বিস্কুট?”
“আজ্ঞে স্যার! ওই মানে…! আমি তো বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে বেরিয়েছিলাম। পান্তা ভাত স্যার। অনেকক্ষণ পেট ভর্তি থাকে!”
“সে তো কোন সকালে! এতক্ষণে সেটা হজম হয়ে গিয়ে পরের খাবার হজম হয়ে যাওয়ার কথা। যাই হোক, শুনুন, আর একটুক্ষণ সহ্য করুন। আপনার সাহেবের কিছু কেনাকাটার আছে, তারপর আমরা কোথাও ডিনার করব। আপনিও আমাদের সঙ্গে ডিনার করবেন। তারপর রওনা হবো। বড়জোর আর দেড়-দু ঘন্টা পরে। আটটা-সাড়ে আটটার দিকে। অসুবিধা হবে?”
“না না স্যার। এর চেয়েও অনেক রাতে আমাদের ফিরতে হয়। ঘটনা-দুর্ঘটনা যাই বলুন, সে-কি আর সময় বিচার করে আসে?” জীবনবাবু স্মিত হাসলেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৮: রাখে হরি, মারে কে?

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৯: চেন টেনে উমাচরণের জেল হয়েছিল

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন

এই মানুষটিকে যত দেখছে শাক্য, ততই অবাক হচ্ছে। আগেও সে লক্ষ্য করেছে, কী অদ্ভুত মার্জিত কথাবার্তা।
সে শ্রদ্ধামিশ্রিত গলায় বলল, “খুব ভালো বলেছেন জীবনবাবু। আপনার মতো মানুষ আমাদের সার্ভিসে সত্যিই বিরল। আপনি যদি আজকের দিনে জন্মাতেন, তাহলে সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার হিসাবে অনেক নাম করতে পারতেন। অবশ্য এখনও পারেন!”
“সেটা কী স্যার?” জীবনবাবু প্রশ্ন করলেন।
“একধরণের মানুষ, যাঁদের কথাবার্তা, বক্তব্য, ভাবনাচিন্তা সমাজের অনেক-অনেক মানুষকে প্রভাবিত করে, চেতনাসমৃদ্ধ করে। অবশ্য সব কিছুর ভালোমন্দের মতো খারাপ দিকও আছে! কখন-কখন এঁদের মধ্যে কেউ-কেউ আবার ভালোর চেয়ে খারাপ কোন ধারণা বা সংস্কার ছড়িয়ে দিয়ে এদের ভক্তবৃন্দের মধ্যে মানসিক অন্ধত্ব আনে!”
জীবনবাবু কতটা বুঝলেন কে জানে, মাথা নাড়লেন শুনে, বললেন, ‘আমি কাউকে প্রভাবিত করতে চাই না স্যার। কেবল, ভালোভাবে জীবন কাটাতে চাই, যাতে অন্য কারুর কাছে আমার বেঁচে থাকাটা কষ্টদায়ক না নয়, এটাই আমার লক্ষ্য স্যার!”
যতই বলা হোক, দেড় দু-ঘণ্টা, শপিংমলে গিয়ে ঘুরে দেখা, কেনাকাটা করায় অনেকখানি দেরি হয়ে গেল। সুদীপ্ত কিছু দরকারি জিনিষপত্র কিনলো, শাক্যকে কিছু গিফট্ দিয়েই ছাড়বে ও। শাক্য যতই ‘না, না’ করে, সে শুনবেই না। অগত্যা শাক্য একটা জিম ভেস্ট নিল। সুদীপ্তকে একটা সাদার উপর প্রিন্টেড শার্ট গিফট্ করল পরিবর্তে। আর একটা শার্ট কিনল সে, জীবনবাবুর জন্য।
মল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সেটি জীবনবাবুর হাতে দিতেই ভদ্রলোক প্রথমে লজ্জিত, পরে অভিভূত হলেন, বললেন, “স্যার, আমার জন্য আবার…!”
“আবার কবে এমন সুযোগ পাবো জানি না তো…! এটা পরলে আমার কথা যদি মনে থাকে…!” শাক্য বলল।
“এমনিতেও থাকত স্যার। আপনি একেবারে আলাদা মানুষ। কিছু মনে করবেন না স্যার, কলকাতা থেকে এর আগেও তো অনেক স্যারেরা এসেছেন। তাঁদের কেউ আপনার মতো নয়!”
সুদীপ্ত বলল, “এটা ঠিক স্যার, আপনি আলাদাই!” তারপর জীবনবাবুকে বলল, “জীবনবাবু, আগের বার যে রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম না আমরা, সেখানে নিয়ে চলুন। চিকেন বটি কাবাব আর পরাঠা…সঙ্গে মালাই লস্যি। আহা। মুখে লেগে আছে। আপনার আপত্তি নেই তো স্যার?”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৭: আশ্রমকন্যা শকুন্তলার পুত্রের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চিরন্তন মাতৃত্বের প্রকাশ এবং দুষ্মন্তের লাম্পট্য ও প্রতারণা, সব যুগেই বিদ্যমান

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

শাক্য বলল, “সুদীপ্ত, যদিও আমি যত্রতত্র খাই না, বুঝতেই পারছেন, ফিটনেস ফ্রেক বলে আমার খাবারদাবার খুব রেস্ট্রিক্টেড্, কিন্তু এখন তো অনন্যোপায়। পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে। অতএব আজকে না-হয় চিট্-ডে বলেই মনে করলাম। কলকাতায় ফিরে জিমে বেশি সময় দিতে হবে এক্সট্রা ক্যালরি বার্ণ করার জন্য!” বলে হেসে উঠল।

খাওয়া-দাওয়া সেরে যখন তারা রওনা হল, তখন দশটা বেজে গিয়েছে। রেস্টুরেন্টটির খাওয়া-দাওয়ার মান সত্যিই চমৎকার। গাড়িতে উঠে যখন গাড়ি স্টার্ট দিল, তখন ঘড়িতে দশটা দশ। এখান থেকে পিশাচপাহাড়ে ফিরতে ঘন্টা দুই লাগবে। তার মানে রাত বারোটার আশেপাশে তারা ঢুকবে পিশাচপাহাড়ে।

চমৎকার একটা রাত। আস্তে-আস্তে সদর শহরের ঝমমলে আলোকবৃত্ত ছেড়ে তারা কিছু পরেই ঢুকে পড়ল আদিম এক পৃথিবীতে। রাস্তার দু-পাশে কোথাও শাল-সেগুন-বিড়িপাতা-কুসুমের জঙ্গল থেকে ভেসে আসছে অন্যরকম এক গন্ধ, কোথাও ন্যাড়া ক্ষেত-খামার, ফসলশূন্য রিক্ত অবস্থায় শুয়ে আছে আবার ফসল ফলানোর অপেক্ষায়। রাস্তার ধারে ঝোপেঝাড়ে জোনাকি জ্বলছে। আকাশ এখানে কলকাতার আকাশের মতো ঘোলাটে নয় যে, দু’-একটি তারাই কেবল চোখে পড়বে।

এখানে আকাশের দিকে তাকালে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যেতে হয়। এত সুন্দর এই পৃথিবীতে এত হিংসা, এত হানাহানি, এত বিদ্বেষ নিয়ে যারা থাকে, তারা কি সত্যিই চেতনাবান কেউ? সামান্য হৃদয়টুকুও যার আছে, সে এই পরমসুন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মনের সবটুকু অসূয়া ভুলে যাবে। কিন্তু এ-চিন্তা ভাবনার জগতেই সুন্দর। বাস্তবে তা হয় না। কেউ-কেউ এত সুন্দরের মাঝখানে দাঁড়িয়েও অসুন্দরের আবাহণ করেন। অসুন্দরকেই তাঁরা সুন্দর বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। এইসব মানুষের জন্যই সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে ধর্মান্ধতা, সন্ত্রাসবাদ, হিংসা, হানাহানি, যুদ্ধ! তা যদি না হতো মানুষের ইতিহাস তবে অন্যরকম হতো।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৬: গ্রিন টি /৪

জীবনবাবু সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। রাত বলে যে রাস্তা জনশূন্য তা নয়। দ্রুত গতিতে ছুটে যাচ্ছিল লোডেড ট্রাক-লরি ইত্যাদি। দু’একটি প্রাইভেট কারও চোখে পড়ল। মাঝেমধ্যে এক-একটা জায়গায় কিছু বাড়িঘর, বন্ধ দোকানপাট, পথবাসী কুকুর, কিছু আলোময় নিস্তব্ধতা জানান দিচ্ছিল যে, তারা মানুষের পৃথিবীতে আছে। তারপর আবার সেইসব নির্জন ক্ষেত আর জঙ্গল আর ঘুমন্ত কিছু গ্রাম। মাঝেমধ্যে টিলাও আছে। এই রাস্তায় সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাতে হয়। রাতের অন্ধকারে অনেকসময়েই পশুরা এদিক-ওদিক যাতায়াত করে। তারা যাতে গাড়ির ধাক্কায় আহত না হয়, সে-জন্য জায়গায়-জায়গায় নির্দিষ্ট স্পিডলিমিট বজায় রেখে গাড়ি চালানোর কথা জানিয়ে হোর্ডিং লাগান। তবে সেটা যে সকলে মানে না, বিশেষ করে ট্রাক-লরির মতো মালপত্র পরিবহনের মাধ্যমগুলি মানে না, সে তো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রাস্তায় অনেকখানি আসার পরেও কোনও পুলিশ পেট্রলিং ব্যবস্থা চোখে পড়ল না তার।

সে সুদীপ্তকে একসময় জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা সুদীপ্ত, আপনাদের এখানে পুলিশ-পেট্রলিং-এর ব্যবস্থা নেই। মানে লোকাল থানাগুলি তাদের এলাকায় রাতের বেলা টহল দেবে, এটাই তো দস্তুর। তার উপর জায়গাটা আন্তঃ-রাজ্য সীমানার কাছে!”
সুদীপ্ত বলল, “খাতায়-কলমে আছে স্যার। কিন্তু বোঝেনই তো। খাতায় লেখা থাকে কার কোনওদিন ডিউটি, কিন্তু যাদের ডিউটি দেওয়ার কথা, তারা অনেকসময় ঘুমিয়ে থাকে, আর যিনি ডিউটি অ্যালট করেন, তিনিও হয় ঘুমান, না-হয় দেখেও না-দেখার ভাণ করেন!”
“এটা মোটেও ঠিক নয়। এর জন্যই ক্রিমিন্যালরা এত সাহস আর সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে যে, পিশাচপাহাড়কে তাদের নিরাপদ ডেন বানিয়ে ফেলেছে!”
“যথার্থ কথা স্যার!” সুদীপ্ত সায় দিল।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

জীবনবাবু নিঃশব্দে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। শাক্যর ফোনের রিং-টোন বেজে ওঠায় সে দেখল, দিদি কল করছে। সে ফিরেছে কি-না সেটা জানার জন্যই দিদি ফোন করছে তা সে জানে। এবং যতক্ষণ না তাকে জানাবে যে সে নিরাপদে ফিরেছে, তা সে যত রাতই হোক, দিদি জেগে বসে থাকবে। সে ফোন ধরে জানালো যে, সে রাস্তায় আছে। ফিরতে বারোটা বাজবে প্রায়। সে ফিরে মেসজ করে দেবে। দিদি যেন ঘুমিয়ে পড়ে। তাতে অবশ্য দিদি চোখা-চোখা বাক্যবাণে তাকে প্রায় ঘায়েল করে যে-কথা সাব্যস্ত করতে চাইল যে, দু’দিন হল পিশাচপাহাড়ে এসে বছর তিরিশের শাক্য একেবারে ধরাকে সরাজ্ঞান করেছে। কলকাতায় ফিরলে দিদি আবার তাকে মানুষ করে তুলবেন, এটা যেন সে মনে রাখে। পিঁপড়ের পাখা কখন গজায় সেটাও তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন দিদি। শুনে শাক্যর মনে হচ্ছিল যে সে, লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের করিতকর্মা অফিসার নয়, নিতান্ত স্কুল-কলেজে যাওয়া টিনস।

“আচ্ছা আচ্ছা, পৌঁছে বাংলোয় ঢুকে আমি তোকে ভিডিও কল করবো। তারপর তুই ঘুমাস। কিন্তু আপাতত টেনশন করা বন্ধ কর!” বলে ফোন রাখল শাক্য।
সুদীপ্ত বলল, “আপনার দিদি নিশ্চয়ই?”
এই ক’দিনে অনেক কথাই হয়েছে সুদীপ্তর সঙ্গে। দিদির কথাও। ফলে সে জানে তার জন্য দিদি সর্বদা কতটা টেনশন করেন। তার কথায় শাক্য মাথা নাড়ল।
হঠাৎ সেইসময়, জীবনবাবু বিচ্ছিরিভাবে গাড়িটা ব্রেক কষলেন। হুমড়ি খেয়ে সামনের দিকে প্রায় উল্টে পড়ার উপক্রম হল শাক্য এবং সুদীপ্তর।
“কী হল জীবনবাবু? এত জোরে হঠাৎ ব্রেক কষলেন যে?” সুদীপ্ত অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল।
“স্যার, সামনের দিকে তাকিয়ে দেখুন!” বলে জীবনবাবু আঙুল তুলে দেখালেন।
সেদিকে তাকিয়েই বিস্ময়ে শাক্য এবং সুদীপ্তর মুখে হাঁ হয়ে গেল! —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content