
ছবি: প্রতীকী।
|| হার্ড ড্রাইভ-১৮ ||
ফোনটা রেখে ইপ্সিতা খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। ঈপ্সিতা নিজের ঘরে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে কথা বলছিল। কারণ মায়ের সামনে এসব কথা বললে মা সামলাতে পারবে না। ঠিক কাউকে না কাউকে বলে বসবে। যতই হোক সেলিব্রিটির একেবারে গোপন কথা যে সোশ্যাল মিডিয়া বা নিউজ মিডিয়ার কেউ জানে না সেটা বলার মধ্যে একটা অন্য আনন্দ রয়েছে। ঈপ্সিতা কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না পুলকের ধমক। কালোচশমা কালোহুডি পরে উত্তরার গোপনে উত্তর কলকাতার ‘The heaven’ কমপ্লেক্সের বি-১৩০১ ফ্ল্যাটে যাতায়াত। পুলককে ভয় দেখানো আর তারপর পুলকের ভয়েস মেসেজ করে দেওয়া হুমকি এই সবকিছুর মধ্যে যে সাংঘাতিক স্কুপটা লুকিয়ে আছে সেটা হল উত্তরা মুখার্জি প্রেগন্যান্ট! কিন্তু ভিডিয়ো মেসেজে কি আছে? তার মানে হাইলি ইনফ্লুয়েন্সিয়াল কেউ খবরটা চেপে দিয়েছে! পলিটিক্যাল প্রেশার? রাজনীতির চেয়ে বেশি ইনফ্লুইয়েন্স আর কোথায় আজকাল? পুলক নয়তো? দিল্লিতে বসে কলকাঠি নাড়ছে?
অনেকদিন হয়ে গিয়েছে উত্তরার মৃত্যুর। প্রায় ছয়-সাত বছর। কোনও কিনারা হয়নি। উত্তরার ভিডিও মেসেজে স্কুপটা বলার আগেই অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর দ্বিতীয়বারের জন্য মন্ত্রী হয়েছে পুলক আর দু’ বছর মন্ত্রিত্ব হয়েও গিয়েছে। ঘটনাটা ভাসাভাসা মনে ছিল। সেদিন ধৃতিমান আর শ্রেয়া এসে এই মৃত্যু বারবার জানতে চাইছিল। একটা জায়গায় তারা নিশ্চিত হতে চাইছিল। উত্তরা মুখার্জির মৃত্যুর ব্যাপারে ইপ্সিতা ঠিক কতটা জানে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

উপন্যাস, পর্ব-৯৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৭০ : কালনাগিনী

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা
ধৃতিমান ছেলেটা একটাও প্রশ্ন করে না! সোফায় বসে ক্রসলেগের হাঁটুর উপরে আলতো কনুই ঠেকিয়ে বসে। ডানহাতটা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো ডান চোয়ালে না ছুঁইয়ে ডানহাতের চেটো আর আঙ্গুলগুলো দিয়ে চিবুক আর মুখঢাকা দিয়ে চুপ করে অন্যের শুনতে থাকে। ইপ্সিতা ছোটবেলায় খুব ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি করতো। ধৃতিমানের হাত আর আঙুলের ভঙ্গি যেন অফ স্পিনার বা ইনসুংঙ্গার বোলারদের মতো।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৯১: কেন পান্থ, চঞ্চলতা!

শারদীয়া স্পেশাল, রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত
একের পর এক প্রশ্ন করছিল শ্রেয়া বাসু।
— মিসেস ভট্টাচার্যি! আমি জানি আপনার এখন মানসিক অবস্থা ঠিক নেই। আপনি বলেছেন যে আপনি ঘুমোচ্ছিলেন পুলকবাবু হয়তো মদ্যপ অবস্থায় ব্যালকনির বড় জানলা দিয়ে বাইরে পড়ে যান। আপনাদের এই বিল্ডিং-এর আর কোন ফ্ল্যাটে কিন্তু ব্যালকনির কাচের জানালা এতটা লম্বা নয় মানে অন্তত কোমর হাইট পর্যন্ত একটা ব্যারিয়ার থাকে। জানি না উনি হয়তো মন্ত্রী বলে কারও তোয়াক্কা না করেই এ রকমের রিস্কি কনস্ট্রাকশন করিয়েছিলেন। বাড়িতে কোনও বাচ্চা থাকলে তো যেকোনও সময় এক্সিডেন্ট হতে পারতো।
— মিসেস ভট্টাচার্যি! আমি জানি আপনার এখন মানসিক অবস্থা ঠিক নেই। আপনি বলেছেন যে আপনি ঘুমোচ্ছিলেন পুলকবাবু হয়তো মদ্যপ অবস্থায় ব্যালকনির বড় জানলা দিয়ে বাইরে পড়ে যান। আপনাদের এই বিল্ডিং-এর আর কোন ফ্ল্যাটে কিন্তু ব্যালকনির কাচের জানালা এতটা লম্বা নয় মানে অন্তত কোমর হাইট পর্যন্ত একটা ব্যারিয়ার থাকে। জানি না উনি হয়তো মন্ত্রী বলে কারও তোয়াক্কা না করেই এ রকমের রিস্কি কনস্ট্রাকশন করিয়েছিলেন। বাড়িতে কোনও বাচ্চা থাকলে তো যেকোনও সময় এক্সিডেন্ট হতে পারতো।
আরও পড়ুন:

দশমী

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট
— বাচ্চা তো ছিল না! বড়রাই থাকতো এই ফ্ল্যাটে!
— হ্যাঁ! এবার এটা যে নিছক অ্যাক্সিডেন্ট-এর পিছনে অন্য কিছু লুকিয়ে নেই সেখানে পৌঁছতে গেলে আমাদের সবকটা সম্ভব না ভালো করে দেখতে হবে আর সেই তদন্ত করতে গিয়েই আমরা দেখেছি যে উত্তরা মুখার্জির অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে হয়তো পুলক ভট্টাচার্যের এই মৃত্যুর কোনও মিল থাকলেও থাকতে পারে। আপনি বলেছেন যে ছ’সাত বছর আগে উত্তরা মুখার্জির সেই এক্সিডেন্টের দিন পুলকবাবু দিল্লিতে ছিলেন।
— হ্যাঁ আরবান ডিপার্টমেন্ট-এর সেন্ট্রাল মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং ছিল আপনারা সেখানকার মিনিটস চেক করতে পারেন।
— হ্যাঁ আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি উনি দিল্লিতে ছিলেন।
— আর উনি এক্সিডেন্টের দিন নয় তার আগের রাত্রের ফ্লাইটে দিল্লি গিয়েছিলেন!
— এরকম একটা অ্যাক্সিডেন্ট এরপর আপনার সঙ্গে মিঃ ভট্টাচার্যের ফোনে কথা হয়নি?
— হ্যাঁ! এবার এটা যে নিছক অ্যাক্সিডেন্ট-এর পিছনে অন্য কিছু লুকিয়ে নেই সেখানে পৌঁছতে গেলে আমাদের সবকটা সম্ভব না ভালো করে দেখতে হবে আর সেই তদন্ত করতে গিয়েই আমরা দেখেছি যে উত্তরা মুখার্জির অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে হয়তো পুলক ভট্টাচার্যের এই মৃত্যুর কোনও মিল থাকলেও থাকতে পারে। আপনি বলেছেন যে ছ’সাত বছর আগে উত্তরা মুখার্জির সেই এক্সিডেন্টের দিন পুলকবাবু দিল্লিতে ছিলেন।
— হ্যাঁ আরবান ডিপার্টমেন্ট-এর সেন্ট্রাল মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং ছিল আপনারা সেখানকার মিনিটস চেক করতে পারেন।
— হ্যাঁ আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি উনি দিল্লিতে ছিলেন।
— আর উনি এক্সিডেন্টের দিন নয় তার আগের রাত্রের ফ্লাইটে দিল্লি গিয়েছিলেন!
— এরকম একটা অ্যাক্সিডেন্ট এরপর আপনার সঙ্গে মিঃ ভট্টাচার্যের ফোনে কথা হয়নি?
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১৩ : ত্রিপুরায় আহোম রাজদূতের গুপ্তচর নিয়োগ/১
— ম্যাডাম শ্রেয়া! আচ্ছা আপনি মিস বাসু তো?
— হ্যাঁ
— দেখনু! পুলক তো কোন দশটা পাঁচটার অফিসে কাজ করতো না বা কোন সেলস ট্যুরেও যায়নি – যে কাজ সেরে হোটেলে ফিরে বিছানায় শুয়ে বৌয়ের সঙ্গে লম্বাসময় ফোনে গল্প করে কলকাতার খোঁজ নেবে, আর আমি খোঁজ নেবো তুমি আজ সারাদিনে কি করলে? কি খেলে? পলিটিক্সে প্রতিমুহূর্তে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জেস আসে আর সেগুলো ফ্যামিলির বাইরেই থাকে। উত্তরা মুখার্জি আমাদের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড ছিলেন না। সুতরাং তার এক্সিডেন্টাল ডেথ নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ ঘটেনি। —চলবে।
— হ্যাঁ
— দেখনু! পুলক তো কোন দশটা পাঁচটার অফিসে কাজ করতো না বা কোন সেলস ট্যুরেও যায়নি – যে কাজ সেরে হোটেলে ফিরে বিছানায় শুয়ে বৌয়ের সঙ্গে লম্বাসময় ফোনে গল্প করে কলকাতার খোঁজ নেবে, আর আমি খোঁজ নেবো তুমি আজ সারাদিনে কি করলে? কি খেলে? পলিটিক্সে প্রতিমুহূর্তে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জেস আসে আর সেগুলো ফ্যামিলির বাইরেই থাকে। উত্তরা মুখার্জি আমাদের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড ছিলেন না। সুতরাং তার এক্সিডেন্টাল ডেথ নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ ঘটেনি। —চলবে।
হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০২৬।
*জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















