
দ্বিজেন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথ তখন খ্যাতির শিখরে, বিশ্বের মানুষ সম্মানে, স্বীকৃতিতে ভরিয়ে তুলেছেন তাঁর জীবন। প্রাপ্তির ভাঁড়ার কানায় কানায় পরিপুর্ণ। একজনের কাছে তিনি সেই ছোট্টটি রয়ে গিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী তাঁর ‘স্মৃতিচিত্র’ বইতে পিতৃপ্রতিম সেই মানুষটির কথা লিখেছেন। লিখেছেন ঠাকুরবাড়ির আরও অনেকে। যেন-বা গল্পের মানুষ, তাঁকে নিয়ে বিস্ময়ের শেষ ছিল না। ফলে ঠাকুরবাড়ির বাইরের মানুষজন যাঁরাই তাঁর স্নেহ-সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাঁরাই লিখেছেন এই আশ্চর্য মানুষটিকে নিয়ে। দার্শনিক-পণ্ডিত হয়েও সারল্যে ভরপুর, অতীব সাদামাঠা ছিল জীবনযাপন। কবির জন্য তাঁর কাতরতার, স্নেহময়তার অজস্র নজির রয়েছে নানা স্মৃতিচর্চায়। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে কতখানি ভক্তি করতেন, তাঁর জন্য মনের কোণে যে পেতে রেখেছিলেন শ্রদ্ধা-সম্ভ্রমের আসন, দৈনন্দিন নানা ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিমা দেবী লিখেছেন,’বাবামশায় তাঁকে দেখামাত্র প্রণাম করে আসন দিতেন। তিনিই তখন কেবল একজন মাত্র, আশ্রমে যাঁকে বাবামশায়ও প্রণাম করতেন।’
এই আশ্চর্য মানুষটি, যাঁকে রবীন্দ্রনাথও প্রণাম করতেন, তিনি আর কেউ নন, রবীন্দ্রনাথের বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথ। দ্বিজেন্দ্রনাথের পাশে বসে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য নিয়ে, দর্শন নিয়ে কত কথা বলতেন। পরস্পরের মধ্যে মতবিনিময় হত। মতপার্থক্য হত। প্রতিমা দেবী সবসময়ই লক্ষ করতেন, কথা বলবার সময় রবীন্দ্রনাথের ‘মুখের দিকে চেয়ে বৃদ্ধের চোখ দুটি উজ্জ্বল হয়ে উঠত।’ কবির পুত্রবধূর মনে হয়েছে, সব সময়ই ‘বাবামশায়’ তাঁর কাছে ‘শিশু রবি’ ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তখন জগৎসভায় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পেয়েছেন। নোবেল জয়ী অনুজকে চিঠি লিখে সেই আনন্দক্ষণে আশীর্বাদ পাঠিয়েছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ। সেই চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘সেদিনের সেই শিশু রবি আজ আবার পৃথিবীর বিদ্বান ও গুণীমহলে এত নাম করবে, এ আমার স্বপ্নেও মনে হয়নি।’
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৯: আশ্রমের ছাত্ররা বৃষ্টিতে ভিজলে কুইনাইন খাওয়ানো হত

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০২: শ্রীমার অন্তিম সময়কালীন ভবিষ্যবাণী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা
প্রতিমা দেবী সবে তখন বধূ হিসেবে এসেছেন। শান্তিনিকেতনে গিয়ে দ্বিজেন্দ্রনাথকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর সারল্য, স্নেহময়তা প্রতিমা দেবীকেও ছুঁয়ে গিয়েছে। তুখোড় অঙ্কবিদ, দর্শন-ভাবনায়, কাব্য-রচনায় স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী এই মানুষটি কখনো মনের বয়স বাড়তে দেননি, মনের কোণে একটি শিশু যেন সারাক্ষণই সজাগ ও সক্রিয় ছিল।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি ছিল অফুরান ভালোবাসা। এমন প্রায়ই ঘটত, দ্বিজেন্দ্রনাথ হয়তো নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, লিখছিলেন; লিখতে লিখতে হঠাৎই ছোটো ভাইয়ের কথা মনে পড়েছে। মনেপড়া মাত্র ভাইটির কাছে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর আনন্দময় উপস্থিতিতে কবিও আনন্দিত হয়েছেন। প্রতিমা তখন নতুন, পূর্বঅভিজ্ঞতাহীন, একবার দ্বিজেন্দ্রনাথের পোশাক দেখে ভীষণ রকমের অবাক হয়েছিলেন। একী পরেছেন তিনি! গায়ে পরা জামাটা আগাগোড়া বাঁধা, সাদা ফিতে দিয়ে, শরীরের সঙ্গে।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি ছিল অফুরান ভালোবাসা। এমন প্রায়ই ঘটত, দ্বিজেন্দ্রনাথ হয়তো নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, লিখছিলেন; লিখতে লিখতে হঠাৎই ছোটো ভাইয়ের কথা মনে পড়েছে। মনেপড়া মাত্র ভাইটির কাছে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর আনন্দময় উপস্থিতিতে কবিও আনন্দিত হয়েছেন। প্রতিমা তখন নতুন, পূর্বঅভিজ্ঞতাহীন, একবার দ্বিজেন্দ্রনাথের পোশাক দেখে ভীষণ রকমের অবাক হয়েছিলেন। একী পরেছেন তিনি! গায়ে পরা জামাটা আগাগোড়া বাঁধা, সাদা ফিতে দিয়ে, শরীরের সঙ্গে।

দ্বিজেন্দ্রনাথ।
দ্বিজেন্দ্রনাথ যে এইরকম বিচিত্র কাণ্ডকারখানায় অভ্যস্ত, তা প্রতিমা দেবী তখনও জানতেন না। ফলে ব্যাপারটা খুব ‘অদ্ভুত’ লেগেছে তাঁর কাছে। দ্বিজেন্দ্রনাথের পুত্রবধূর হেমলতার সঙ্গে প্রতিমার স্নেহ-মধুর সম্পর্ক ছিল। হেমলতা দেবীর কাছে প্রতিমা জানতে চেয়েছেন, এই বন্ধনের কারণ কী?
হেমলতা এসব দেখতে অভ্যস্ত। তাই তাঁর কাছে ‘অদ্ভুত’ মনে হয়নি। জানতেন, মানুষটি স্বক্ষেত্রে কত বড়ো, অতুলনীয় তাঁর অন্তঃকরণ। প্রতিমাকে সহজভাবেই হেমলতা বলেছিলেন, ‘হাওয়াতে জামা উড়ে যায়, সেটা ওঁর পছন্দ নয়, তাই তাকে শরীরের সঙ্গে বেঁধেছেন।’
হেমলতা এসব দেখতে অভ্যস্ত। তাই তাঁর কাছে ‘অদ্ভুত’ মনে হয়নি। জানতেন, মানুষটি স্বক্ষেত্রে কত বড়ো, অতুলনীয় তাঁর অন্তঃকরণ। প্রতিমাকে সহজভাবেই হেমলতা বলেছিলেন, ‘হাওয়াতে জামা উড়ে যায়, সেটা ওঁর পছন্দ নয়, তাই তাকে শরীরের সঙ্গে বেঁধেছেন।’
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৩: জলপিপি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৮: সত্যনিষ্ঠতার মাপকাঠি কী নাস্তিকতার নিরিখে বিচার্য?
রবীন্দ্রনাথ শুধু নন, জোব্বা-পোশাক ঠাকুরবাড়ির অনেকেই পরতেন। এই পোশাক গগনেন্দ্রনাথের মস্তিষ্কপ্রসূত। দ্বিজেন্দ্রনাথ বানিয়েছিলেন কাগজের জোব্বা। রঙিন কাগজ কেটে কেটে তৈরি সেই জোব্বা-পোশাক পরে তিনি কলকাতার রাস্তাতেও ঘুরেছিলেন। পোশাক নিয়ে তাঁর বিচিত্র খামখেয়ালিপনা ছিল।
দ্বিজেন্দ্রনাথ ছিলেন স্বভাব-উদাসীন, বৈষয়িক- ভাবনা কখনোই তাঁকে গ্রাস করেনি। দ্বিজেন্দ্রনাথের একটি রিকশা ছিল আশেপাশে ঘোরাঘুরির জন্য। কখনো সেই রিকশা নিয়ে জোড়াসাঁকোর ছাদেও ঘোরাঘুরি করেছেন। দ্বিজেন্দ্রনাথের একটা জুড়িগাড়ি ছিল। সে গাড়ি শেষে হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল, মানুষকে বিশ্বাস করে হারাতে হয়েছিল। দ্বিজেন্দ্রনাথের কাছে একজন অনুরাগী শ্রোতা মাঝেমধ্যেই আসত। স্বভাবসুলভভাবে তাকে আদরে সাদরে বসতে দিতেন। হয়তো সদ্য কোনও দর্শন বিষয়ক প্রবন্ধ লেখা শেষ করেছেন। শোনাতেন তাকে। লোকটি বুঝুক না বুঝুক মন দিয়ে শুনত
দ্বিজেন্দ্রনাথ ছিলেন স্বভাব-উদাসীন, বৈষয়িক- ভাবনা কখনোই তাঁকে গ্রাস করেনি। দ্বিজেন্দ্রনাথের একটি রিকশা ছিল আশেপাশে ঘোরাঘুরির জন্য। কখনো সেই রিকশা নিয়ে জোড়াসাঁকোর ছাদেও ঘোরাঘুরি করেছেন। দ্বিজেন্দ্রনাথের একটা জুড়িগাড়ি ছিল। সে গাড়ি শেষে হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল, মানুষকে বিশ্বাস করে হারাতে হয়েছিল। দ্বিজেন্দ্রনাথের কাছে একজন অনুরাগী শ্রোতা মাঝেমধ্যেই আসত। স্বভাবসুলভভাবে তাকে আদরে সাদরে বসতে দিতেন। হয়তো সদ্য কোনও দর্শন বিষয়ক প্রবন্ধ লেখা শেষ করেছেন। শোনাতেন তাকে। লোকটি বুঝুক না বুঝুক মন দিয়ে শুনত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
দর্শনের কোনও দুরূহ বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লিখেও দ্বিজেন্দ্রনাথের মনে হত, কাউকে শোনাই। হাতের কাছে গৃহভৃত্যটি ছাড়া আর কেউ নেই। বিজ্ঞের মতো মুখভঙ্গি করে শোনার পর তার কাছে ‘কেমন হয়েছে’, জানতেও চেয়েছিলেন। জানতে চাওয়ায় সে ততোধিক বিজ্ঞের মতো মতামত জানিয়েছে, ‘আজ্ঞে কর্তা, বড়ো খাসা হয়েছে।’ গৃহভৃত্যের মুখে একথা শুনে দ্বিজেন্দ্রনাথের বড়ো ভালোলাগে। সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হয়, আমাদের দেশে অশিক্ষিত মানুষজন ভিতরে ভিতরে বেশ শিক্ষিত। দুরূহ তত্ত্বও বুঝতে পারে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২: “জনৈক গণশত্রুর জবানবন্দি”

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৯: নীল হ্রদের পারে, নীল আকাশের নিচে লাল রঙের হেলিকপ্টার অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল
এমনই আরেক দিনের কথা। সেদিনও দ্বিজেন্দ্রনাথ সদ্য লেখা দর্শনের প্রবন্ধ শোনার জন্য লোক খুঁজছিলেন। সেদিন এসেছিল ওই লোকটি, যে বেশ ভালো শ্রোতা, যত শক্ত প্রবন্ধই হোক না কেন, মন দিয়ে শোনে। শোনালেন তাকে। শুনে লোকটি উচ্ছ্বসিত, জানাল তার ভালোলাগার কথা। ভালো লেগেছে জেনে দ্বিজেন্দ্রনাথ যখন খুশিতে আপ্লুত, ঠিক তখনই লোকটি জানাল তার কষ্টের কথা। অনেক দূরে থাকে, হাঁটতে হাঁটতে দ্বিজেন্দ্রনাথের প্রবন্ধ শোনার আকর্ষণে আসে।

প্রতিমা দেবী।
এমন অনুরাগী শ্রোতা তো সহজে পাওয়া যায় না। দ্বিজেন্দ্রনাথ ভেতরে ভেতরে খুবই খুশি ছিলেন। লোকটি কত কষ্ট করে আসে, সে কথা ভেবে বিগলিত হলেন। তারপরই যা তিনি করলেন, সত্যিই তা ভাবা যায় না। নিজের জুড়িগাড়িটি দিয়ে দিলেন তাকে। বললেন, এবার থেকে পায়ে হেঁটে নয়, প্রবন্ধ শোনার জন্য গাড়িতে চড়ে আসতে। আর এসেছে সে! এরপর লোকটি না এসেছে জোড়াসাঁকোর বাড়িতে, না ফেরত দিয়েছে নিয়ে যাওয়া জুড়িগাড়ি।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ
দ্বিজেন্দ্রনাথের একটা বড়ো ট্রাই সাইকেল ছিল। সাইকেল নিয়ে বেরোতেন বাজার-দোকান করতে। কখনো ইচ্ছে হলে কোনও কারণ ছাড়াই ট্রাই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। মনের আনন্দে ইতস্তত ঘুরতেন। সাধের সাইকেলটিও তিনি হারিয়েছিলেন। হারিয়েছিলেন বলা বোধহয় ঠিক হল না, দান করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ সে ঘটনার সাক্ষী। কী ঘটেছিল সেদিন? জোড়াসাঁকোর বাড়িতে এক ভিখারি এসেছিল। মাঝেমধ্যেই এরকম আসে। খালি হাতে ফিরে যায় না। এটা-সেটা দেওয়া হয়। সেদিন ভিখারি এসে ভিক্ষে চাইছিল। দ্বিজেন্দ্রনাথ তখন দোতলার বারান্দায়, বারান্দা থেকে সাহায্যপ্রার্থী ভিখারিটিকে নজরে পড়ে তাঁর।

হেমলতা দেবী।
দ্বিজেন্দ্রনাথকে বারান্দায় দেখে তাঁকে উদ্দেশ করেই সাহায্য চেয়েছিল ভিখারি। সে মুহূর্তে ভেবে পাননি তিনি, কী দিয়ে সাহায্য করবেন। বারান্দার নীচে ছিল ট্রাই সাইকেলটি। ভিখারিকে ওটাই নিয়ে যেতে বললেন দ্বিজেন্দ্রনাথ। ভিখারির কাছে তো অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি। এমন প্রাপ্তিযোগ যে কখনও কোনওদিন হতে পারে, তা সে ভাবতেও পারেনি। প্রত্যাখ্যানের প্রশ্নই নেই, তৎক্ষণাৎ সাইকেলটি নিয়ে জোড়াসাঁকো-বাড়ি ত্যাগ করার জন্য তৈরি হয়েছে। সাইকেলে উঠে চালাতে শুরু করে দিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে এসব ঘটে যায়। বাড়ির এক কর্মী দৌড়ে গিয়ে চিৎকার করে সাইকেলটিকে থামানোর চেষ্টা করে। না, সাইকেল থামেনি।
সুপণ্ডিত দ্বিজেন্দ্রনাথের ঔদার্য ও সারল্যে মুগ্ধ হতেই হয়। তাঁর মহানুভবতার কোনো তুলনা হয় না। আশ্রমের এই একজনকেই রবীন্দ্রনাথ পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেন।
সুপণ্ডিত দ্বিজেন্দ্রনাথের ঔদার্য ও সারল্যে মুগ্ধ হতেই হয়। তাঁর মহানুভবতার কোনো তুলনা হয় না। আশ্রমের এই একজনকেই রবীন্দ্রনাথ পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেন।
* গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।


















