বুধবার ১০ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

—দরজা তো লক করা মনে হচ্ছে বাড়িতে বোধহয় কেউ নেই! বৌদি কি সব শুনে ছেলেকে নিয়ে কোথায় চলে গেছেন?
—হতে পারে। এরকম ঘটনা শোনার পর কি আর বাড়িতে বসে থাকবে?
কিন্তু একজন জানত যে দুলাল অনেকটা রাতে বাড়ি ফেরে বলে সদর দরজার চাবি দুলালের কাছে থাকে সে চাবি খুলে বাড়ি ঢোকে ।
—দুলালদাদের কাছে পিঠে কেউ নেই, বউদির বাড়ি শ্যামনগর, দাদার বোনের বাড়ি কলকাতা!
আরো কয়েকবার ডাকাডাকির পর দোতলার বারান্দার আলোটা জ্বলল!
—কে?
বৌদির গলায় কোনও উদ্বেগ নেই। সাধারণ প্রশ্ন এটা শোনার পরেই শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনের মধ্যে একটা গুঞ্জন। তার মানে কি উনি কিছু জানেন না!
—বৌদি আমরা শ্রমিক ইউনিয়নের!
এবার তৃপ্তির কণ্ঠস্বরে উদ্বেগ ফুটে উঠল!
—কেন কী হয়েছে? দাঁড়ান আমি আসছি…
কে জবাব দেবে? কী জবাব দেবে এসব ভাবতে ভাবতে ক্লাস এইটে পড়া ১৪ বছরের ছেলের হাত ধরে দরজা খুললো তৃপ্তি।
—আপনাকে একটু থানায় যেতে হবে দুলালদাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ ৩৬

দশভুজা : আমার দুর্গা—বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

মুহূর্তের জন্য তৃপ্তির মনে হল আশপাশের দেওয়াল দরজা বা সামনের লোকগুলো আচমকা কেমন একটা দূরে চলে গেছে ছেলেটার হাতধরা আছে। কিন্তু সেও যেন অনেকটা দূরে। ছোটবেলায় একবার পুজোর সময় খুব জ্বর হয়েছিল। তখন সবেসবে মা-বাবা একসঙ্গে চলে যাওয়ার দুর্ঘটনাটা ঘটে গেছে। দুপুরবেলায় ঘোর ভেঙ্গে মনে হল ছাদটা যেন অনেকটা উঁচুতে। জানলাগুলো লম্বাটে দরজাটা লম্বাটে পাখাটা ঘুরতে ঘুরতে একবার উঠে যাচ্ছে একবার নেমে আসছে।
—মা হাতটা ছাড়ো লাগছে!
ছেলেটার গলা শুনে খেয়াল হল সে একটা ঘোরের মধ্যে ছেলের হাতটা খুব জোরে চেপে ধরেছিল! কেন দুলালকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে। তৃপ্তি সেটা জানতে চায়নি হয়তো ভেবেছে ইউনিয়নের কারণেই হবে। তাতে অবশ্য খবর দিতে আসা জুটমিলের সহকর্মীরা খানিকটা নিশ্চিন্ত।কিন্তু থানায় পৌঁছালে তো সব জানাজানি হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

অন্য পুজো: আনন্দশঙ্করের অনুষ্ঠানের জন্য রুদালীর রেকর্ডিংয়ে বম্বে যেতে পারিনি: সরোজ বড়ুয়া

তৃপ্তি ছেলেকে বাড়িতে রেখে গেল।
—বৌদি আপনার ছেলে একা বাড়িতে থাকতে পারবে?
—হ্যাঁ ও অনেক শক্ত! আর ওকে আমি থানার পরিবেশে নিয়ে যেতে চাই না।

থানার কথা শোনার থেকেই তৃপ্তির মাথাটা কি রকম ঘুরছিল। জীবনে সে একবারই থানায় গেছে। ছোট ভাইকে নিয়ে আসতে গিয়ে, আসলে থানা থেকে বলা হয়নি যে ছেলেটি মারা গেছে। বলা হয়েছিল থানায় এসে তাকে নিয়ে যেতে জ্যাঠামশাইয়ের সঙ্গে তৃপ্তি এসেছিল। চটে বাঁধা রক্তাক্ত ভাইয়ের মৃতদেহটা দেখে থানাতেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল তৃপ্তি।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ

থানার নতুন ওসি বীরেশ দত্ত তখন বাড়ি চলে গেছেন। থানায় দঙ্গল পাকানো জনতার ভিড়টা নেই। থানার পুরনো সাব ইন্সপেক্টর হাসান আলি ছিল! পুলিশে চাকরি করলেও হাসানের মনুষ্যত্বটা মানুষের মত আছে!
—দেখুন বৌদি! আপনার মনের অবস্থাটা আমি বুঝতে পারছি। ছোটছেলেকে বাড়িতে একা রেখে এসেছেন। আমি দুলালদাকে বহুবছর চিনি। এই ধরনের নোংরা কাজ দুলাল দা কখনো করতে পারেন না।
— নোংরা কাজ মানে কি বলছেন ?
হাসান অবাক হয়ে সঙ্গে লোকজনদের দিকে তাকায়।
— বৌদিকে আপনারা কিছু…
উত্তরে শ্রমিক সংগঠনের লোকেরা মাথা নামিয়ে নেয়।
— বেশ আমি কথা বলছি আপনারা একটু বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করুন।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

হাসান আলি অত্যন্ত কুন্ঠার সঙ্গে নম্রস্বরে তৃপ্তিকে ঘটনাটা বলতে বলতে দেখল গোড়াকাটা চারাগাছের মতো সে যেন নুইয়ে পড়ছে। কোন গতিকে বিষয়টা শেষ করে হাসান আশপাশে খেয়াল করে চাপাস্বরে বলে ওঠে—
—বৌদি এত বছর পুলিশে চাকরি করছি আমি নিশ্চিত দুলালদাকে একটা খুব বড়সড় চক্রান্তে ফাঁসানো হয়েছে। একটা ভালো উকিল পেলে জামিন হয়ে যাবে।
—আমি এসব বুঝি না, আমার তো কোন জানাশোনা নেই!
—আচ্ছা আমি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে দেখছি ওদের তো নিশ্চয়ই উকিল আছে। আপনি কি দুলালদার সঙ্গে একবার
তৃপ্তি আচমকা দাঁড়িয়ে ওঠে।
—না ছেলেটা বাড়িতে অনেকক্ষণ একা আছে! আমি যাই! — চলবে
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content