উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। যদিও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে অসহনীয় গরম বাড়তে থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে দুই-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিক্ষিপ্ত ভাবেই বৃষ্টি হবে। আপাতত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। যদিও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে অসহনীয় গরম বাড়তে থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে দুই-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিক্ষিপ্ত ভাবেই বৃষ্টি হবে। আপাতত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহবাস তাঁর সাহিত্যজীবনকে সমৃদ্ধ করেছিল। গরিবগুরবো মানুষ কত কষ্টে আছে. কত দুঃখ আছে, তা নিকট থেকে দেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আলোকিত হয়েছে তাঁর সাহিত্য, বিশেষত গল্পসম্ভার। কবিতায় সেভাবে আসেনি মানুষের কথা, এসেছে গল্পে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এই পর্বের বেশ কিছু গল্পে সেই অভিজ্ঞতা ভিন্নতর মাত্রা পেয়েছে।
সুকুমার রায় ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে জানিয়েছেন, জনৈক খগেনের মামাশ্বশুর শ্যাম বাগচী, তাঁর জামাই কেষ্টমোহন। কেষ্টমোহনকে নিয়ে আমরা কি করব? কিছুই না, ঠিকানা এমনিতেই মেলে না। সেই যে সব অতি বড় বৃদ্ধ পতি কুলীন জামাইরা রীতিমতো লেজার বুক আর অ্যাটেন্ডেন্স রেজিস্টার মেনটেইন করে করে শ্বশুর বাড়ি ঘুরতেন পাঁচশো কিংবা তার একটু বেশি-কম বিয়ে করে, তাদের যদি জামাইষষ্ঠীর দিন ডাকা হতো তাঁরা কি করতেন?
মায়ের কাছে শুনেছিল কিন্তু এবার দুলালের বিয়ের কার্ড দেখেই মাথায় আগুন জ্বলে উঠল, যেন নিজের স্বামীর কাছে গুরুত্ব না পেয়ে মায়ের কাছে এসে উঠেছে স্নিগ্ধা। দুলালকে সেদিন দেখে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু দুলাল এই জন্যই তাকে এড়িয়ে যাচ্ছিল! প্রথমে ভাবল দুলালের ভাবী শ্বশুরবাড়িতে একটা চিঠি পাঠিয়ে দুলালের নামে কুৎসা করবে, সে কিছুতেই চায় না তাকে প্রত্যাখ্যান করার পর দুলালের বিবাহিত জীবন সুখের হোক! কিন্তু কানাঘুষোয় সব খবর জোগাড় করে ফেলল স্নিগ্ধা। মেয়েটার মা-বাবা নেই। এক ভাই ছিল সেও মারা গিয়েছে। জ্যাঠামশায়ের সংসারে...
কণ্ঠী ঘুঘু লম্বায় হয় ৩০ থেকে ৩৩ সেন্টিমিটার, আর ওজন হয় ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম। এদের পিঠের দিকের পালকের রং হালকা বাদামি বা বালিরঙা ধূসর। দুই ডানার রঙ কালচে ধূসর, আর প্রান্তের দিকের রং কালো। তবে বুকের কাছে রং সামান্য গোলাপি আভাযুক্ত। আর পেট ছাইরঙা। আগেই বলেছি এদের ঘাড়ের কাছে একটা কালো রঙের অসম্পূর্ণ বলয় আছে। এই বলয়টা আজকালকার দিনে অনেকে ঘাড়ে ইয়ারফোন ঝুলিয়ে রাখলে যেমন লাগে অনেকটা তেমন দেখায়!
সাইকেল থমথমে মুখে জিজ্ঞাসা করল, “কী হল ডাগ্দারবাবু, চুপ করে গেলেন কেন? বলেন, কী বলেছিল নুনিয়া আপনাকে যে, আপনি থানায় যেতেন?”
সত্যব্রত সামলে নিলেন। বেফাঁস কথাটি বলে ফেলেছেন, এখন থুতু গেলা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই। যে-ভাবেই হোক ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে হবে। না হলে কেবল নিজেরই বিপদ না, নুনিয়াকেও বিপদে ফেলে দেওয়া হবে। এমনিতেই ওরা নুনিয়াকে শেষ করে দেওয়ার জন্য শিকারী কুকুরের মতো খুঁজছে, এবারে একেবারে মরিয়া হয়ে উঠবে।
সত্যজিৎ রায়ের ছবির ‘ফ্রেম’গুলোর মধ্যেই আরও কতশত ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত কিংবা অনন্ত সমান্তরাল। সুকুমার রায় এককালে জীবনজুড়ে নানাবিধ খাবারের কথা বলেছিলেন ‘খাই খাই’তে। তাঁর ছেলের তৈরি চলচ্চিত্রগুলিকে দেখতে বসে প্রথমেই চোখ পড়ে গেল ওই দিকেই। খাদ্য আর তার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা উঠলে ‘অশনি সংকেত’ থেকে ‘শাখাপ্রশাখার’র টেবিলে বিস্তীর্ণ ভাতের গন্ধটুকু থেকে রকমারি খাদ্যের এটা ওটার মাঝেও সহসা টেবিলে তালে তালে সেই অদ্ভুত লোকটার চাপড় মনে পড়ে?
আমকে বলা হয় ফলের রাজা। আম খেতে ভালোবাসেন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আম কেবল স্বাদে ও গন্ধেই অতুলনীয় নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। গরম মানেই আম। এই প্রচণ্ড গরমে পাওয়া ফলগুলোর মধ্যে আম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
মনোবিদেরা বলছেন, অবসর জীবনের কাছাকাছি পৌঁছনোর আগে থেকেই যদি প্রতি দিনের রুটিনে একটু একটু করে কিছু কাজ আমরা যোগ করতে পারি, তা হলে জীবনের গতি অনেকটা সাবলীল হয়। এর ফলে হঠাৎ অবসর শরীর এবং মনের উপর তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। কী কী কাজ করা যেতে পারে?
প্রাচীন বাংলা গদ্য সাহিত্য সৃষ্টির ইতিহাসের সঙ্গে কোচবিহারের নাম শুনে আসছি আমরা। সেই ষোড়শ শতকে দোর্দ্দন্ড প্রতাপ কোচ নৃপতি নরনারায়ণ আহোম রাজা চুকামফা স্বর্গদেবকে যে পত্র দিয়েছিলেন সেটাই বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাচীনতম দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই পত্র লেখার বহু বছর আগে, এমনকি ত্রিপুরায় বহুকথিত বহু চর্চিত ধর্ম্ম মানিক্যের আমলের 'রাজমালা' সৃষ্টিরও অনেক আগেই নাকি বাংলা গদ্যে লেখা হয়ে গিয়েছিল 'ত্রিপুরা রাজাবলী'। একদা এই গ্ৰন্হ আবিষ্কৃত হয়েছিল এশিয়াটিক সোসাইটির পুস্তকালয়ে। আর আবিষ্কারকর্তা...
ঠিক এখন চলন্ত ট্রেনের জানলা দিয়ে ছিপছিপে তন্বী মেয়েটিকে দেখে আচমকা কেমন যেন একটা অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করলো অমলেন্দু! লেভেল ক্রসিংটা এসে যাচ্ছে! লেভেল ক্রসিং টপকালেই প্রতিমা হারিয়ে যাবে! অমলেন্দু কি প্রতিমাকে হারিয়ে ফেলবে চিরকালের মতো! নাকি মিথ্যে দিয়ে অতীতের অস্বস্তিকর অধ্যায়কে চাপা না দিয়ে যে মেয়ে সহজভাবে স্বীকার করতে পারে— ‘সেটা দূর্ঘটনা! একসময়ের ভুল ছিল’। তাকে বিশ্বাস করা যায়? সে স্বীকার করেছে যে সেই অন্যায় সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চেষ্টা করছে সে। তাই অমলেন্দুর সঙ্গে বিয়েতে মত দিয়েছে! অমলেন্দু তো জিজ্ঞেস...
আগেই নিম্নচাপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। আপাতত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর সেই নিম্নচাপ সুস্পষ্ট আকার নিয়ে অবস্থান করছে। এই নিম্নচাপ ধীরে ধীরে আরও ঘনীভূত হয়ে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে এই নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অযোধ্যার সিংহাসনের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী দশরথপুত্র রামকে, রাজ্যে অধিষ্ঠিত করবার লক্ষ্যে ভরত এসেছেন অরণ্যে। রাম, ভরতের প্রস্তাব দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করলেন। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির অবতারণা করলেন দুই ভাই। মৃত পিতার কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাম, সত্যপ্রতিজ্ঞারক্ষায় অটল। জীবনের অনিত্যতা, মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা অনুভব করে, পিতার আজ্ঞানুবর্তী রাম ভরতের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। ভরতেরও প্রচেষ্টার শেষ নেই। সেই মন্দাকিনীতীরে ধার্মিক ভরত, প্রজানুরঞ্জক ধর্মজ্ঞ রামকে অর্থপূর্ণ চিত্তাকর্ষক নানা কথা বলতে লাগলেন।
এত সব শান্তিপাঠ, স্বস্ত্যয়ন করা হলেও মা সারদার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হল না। তবে এই অসুস্থতার মধ্যেও পাহারায় নিযুক্ত সেবকদের বুঝতে না দিয়ে অথবা তাদের অনুরোধ না শুনে শ্রীমা ভক্ত-সন্তানদের মনস্কামনা পূর্ণ করেছেন। যেমন কাউকে তার ইষ্টদর্শন করিয়ে, কারওকে দীক্ষা দিয়ে, আবার কারও সেবা গ্রহণ করে ধন্য করেছেন। দুর্গেশ দাস চৈত্রমাসে তাঁর আত্মীয়া প্রিয়ংবদা মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে আসেন শ্রীমার কাছে। তখন সকলে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রিয়ংবদাকে মন্ত্রদান করেছিলেন।
বিগত দিনে আমি চিন্তিত ছিলাম দুটি মৃত্যু সংবাদ নিয়ে। দু’জন নারীর মৃত্যু হয়েছে হঠাৎ করেই। আরও জানার আগ্রহের কারণে জানতে পারলাম, মৃত্যুর কারণ কখনও নিজেদের শারীরিক অসুস্থতাকে প্রকাশ করে চিকিৎসা না করানো। দু’জন নারী পারিবারিক বৃত্তে ভালো নারী হওয়ার উপাধি পেয়েছিলেন। উভয়ই কখনও ঝগড়া করতেন না। দু’জনেই বাড়ির কাজ খুব নিপুণ ভাবে করতেন। সবার খুব যত্ন নিতেন। দুজনের স্বামীরা স্ত্রীর মৃত্যুর পর খুব অবাক হয়ে বলেছেন, কোনওদিন জানতে পারেননি তাদের স্ত্রীদের শারীরিক অসুস্থতার কথা। মৃত্যুর পর জানতে পেরেছেন! এই সতী হতে পারা...