বিচিত্রের বৈচিত্র

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪২: শূকরজাতক: কাপুরুষ? মহাপুরুষ?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪২: শূকরজাতক: কাপুরুষ? মহাপুরুষ?

রাষ্ট্রশক্তির বলা বলের দৃষ্টিকোণেও এই প্রতিটি পর্যায় প্রাসঙ্গিক। যুদ্ধের প্রয়াস, সামর্থ্যের অনুধাবন, অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত ও পরাজয়ের আশঙ্কা, কপটতার আশ্রয়ে নিন্দিত অনৈতিক জয়লাভ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পশ্চাদপসরণ ও ভাবী অনিষ্টের বীজন্যাস – সবকটি ক্ষেত্র নৈতিক জয়-পরাজয়, বলাবল, আদর্শ ও বাস্তবের দ্বন্দ্বটিকে তুলে ধরে। শূকরটি জয়ী না হয়েও জয়ী।

read more
বন্দে মাতরম্

বন্দে মাতরম্

বাল্মীকি বেদব্যাসের রামায়ণ ও মহাভারত ভারতবর্ষের বুকে চির প্রেরণাস্রোত। এই দুটি মহাকাব্য দেখিয়েছে কবি হবেন ক্রান্তদর্শী, তাঁর বাণী হবে অভ্রান্ত, অজেয়। সকলেই কবি হন না, কেউ কেউ কবি। বন্দে মাতরম্ মহাসঙ্গীত আধুনিক ভারতবর্ষে চিরন্তন ভারতাত্মার সেই অন্তর্লীন মহাযাত্রার সার্থক উত্তরসূরী।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪১: সহ্যজাতক : সুখ অসুখ

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪১: সহ্যজাতক : সুখ অসুখ

রাজপুত্র রাজা হয়ে সিংহাসনে বসলে পুরোহিতপুত্র ভাবলেন, যথাসময়ে তাঁর মিত্র তাঁকে পৌরোহিত্যে বরণ করবেন। কিন্তু তিনি তার অভিলাষী নন। তিনি প্রব্রজ্যা নেবেন। তাই সংসারধর্ম, সংসারচিন্তা তাঁর জন্য নয়। তিনি মাতাপিতার অনুমতি লাভ করে বিপুল বৈভব ত্যাগ করে গৃহত্যাগ করলেন। হিমালয়ের সুরম্য প্রদেশে পর্ণকুটির নির্মাণ করে তপশ্চরণে ক্রমে ক্রমে সিদ্ধির পথে এগিয়ে চললেন।

read more
ভাইয়ের কপালে

ভাইয়ের কপালে

কার্ত্তিকমাসের শুক্ল দ্বিতীয়ায় ভাইফোঁটা, ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। যমুনা যমকে ফোঁটা দেয়, দিদি বোনরাও ভাইকে লোহার ভাঁটা হয়ে দীর্ঘায়ু হওয়ার শুভাকাঙ্ক্ষা জানায়। শক্তিরূপিণী নারী তাঁর জীবনের জয়তিলক এঁকে দেন ভাইয়ের কপালে। আজকের দুনিয়ায় ভাইফোঁটা দিতে হলে আসন পেতে না বসলেও চলে। ইন্টারনেটে ফোঁটা হয়, হোয়াটসঅ্যাপে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। সিনেমার পর্দায় দেখা যায় দেয়ালে ফোঁটা দিতে, জেলনিবাসী ভাইয়ের জন্য। সেখানেও প্রাণের উষ্ণতার অভাব থাকে না। তাছাড়া আজকাল ভাই বোনকে, ভাই ভাইকে, বোন বোনকেও ফোঁটা দিতে পারে। এছাড়াও, ঠাকুমা...

read more
প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে

প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে

আলো নিয়ে মানুষের মনে নানা যুক্তি-তর্ক। গরমের দিনে কাঠফাটা রোদ, ঘন বর্ষার শেষে মেঘের ফাঁক থেকে রোদের লুকোচুরি, ভোরের আলো, গোধূলির আলো, পড়ন্ত বেলার আলো, পূর্ণিমার আলো, অমাবস্যার আলো ইত্যাদি প্রভৃতির পাশাপাশি জোনাকির আলো থেকে হ্যাজাক বা হারিকেনের আলো, মশালের আলো থেকে দীঘির ধারে ওই যে কীসের আলো, কনে দেখা আলো থেকে জ্ঞানের আলো, চোখের আলো থেকে মাথায় জ্বলে ওঠা আলো, পাড়ার পুজোর আলো থেকে লোডশেডিংয়ে চলে যাওয়া আলো…নানারকম।

read more
যাঁকে ছবিতে দেখা যায় না, অথচ সকলে তাঁর কথা বলে : অঞ্জন মুখোপাধ্যায়

যাঁকে ছবিতে দেখা যায় না, অথচ সকলে তাঁর কথা বলে : অঞ্জন মুখোপাধ্যায়

যুবক বয়সে আর সকলের মতো সিনেমা দেখতাম। ভালো লাগতো। বালিকা বধু দেখতে গিয়েছিলাম। হল থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম সকলেই একজন লোকের নাম বলছে যাকে ছবিতে কোথাও আমরা দেখিনি! বাড়ি ফিরে ভাবতে বসলাম এমন কি গুণের অধিকারী সেই লোক ‘যাঁকে ছবিতে দেখা যায় না অথচ সকলে তাঁর কথা বলে’ বালিকা বধূ ছবিতে তিনি হলেন সেই স্বনামধন্য চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদার।

read more
আনন্দশঙ্করের অনুষ্ঠানের জন্য রুদালীর রেকর্ডিংয়ে বম্বে যেতে পারিনি: সরোজ বড়ুয়া

আনন্দশঙ্করের অনুষ্ঠানের জন্য রুদালীর রেকর্ডিংয়ে বম্বে যেতে পারিনি: সরোজ বড়ুয়া

ভূপেনদা আমি আর আমাদের সেই সময়কার তবলিয়া চঞ্চল খান! দাদার ডিরেকশনে আমরা অ্যারেঞ্জমেন্ট সাজিয়ে দিতাম। ভূপেনদা সেটা রেকর্ড করে নিয়ে মুম্বই যেতেন। ভূপেনদার সুরে লতা মঙ্গেশকর কিন্তু অনেক অসমীয়া গান গেয়েছেন। আনন্দশংকরের প্রোগ্রামের জন্য রুদালীর রেকর্ডিংয়ে মুম্বই যেতে পারিনি।

read more
ভি বালসারা আমাকে প্রথম হিন্দুস্থান রেকর্ডসে নিয়ে গিয়েছিলেন : সরোজ বড়ুয়া

ভি বালসারা আমাকে প্রথম হিন্দুস্থান রেকর্ডসে নিয়ে গিয়েছিলেন : সরোজ বড়ুয়া

প্রাককথন: আমাদের আশেপাশে কত মানুষ, কত তাঁদের গুণ, কত তাঁদের অধ্যাবসায়, মনের মধ্যে কত জমে থাকা কথা। সে মানুষকে জানা হয় না, চেনা হয় না। কারণ আমরা সাফল্যের পোস্টার দেখে মানুষের গুণের বিচার করি। অসংখ্য প্রতিভা নানা কারণে যাঁদের জীবন সেভাবে আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি। মুখ্য আলোকবৃত্তের বাইরে গৌণ থেকে গিয়েছে যাঁদের অধ্যাবসায়, গুণ, কৃতিত্ব আমার খুব ঘনিষ্ঠ তেমন দু’জন অত্যন্ত গুণীজনের সঙ্গে আমার এবারের পুজোর আড্ডা। দুজনেই কলকাতার বাসিন্দা। একজন মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার, অন্যজন দক্ষিণে বেহালার আর্কেডিয়া এলাকার।...

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪০: মঙ্গলজাতক : ভালোমন্দের হিসেব

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪০: মঙ্গলজাতক : ভালোমন্দের হিসেব

বোধিসত্ত্ব সেই জন্মে মগধের রাজগৃহ নগরের একটি রাজোদ্যানে অবস্থান করছিলেন। পূর্বাশ্রমে তিনি উদীচ্য ব্রাহ্মণকুলে জন্ম নিয়ে প্রব্রজ্যা আশ্রয় করে হিমালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে হিমালয় থেকে অবতরণ করে এই রাজোদ্যানে প্রথম দিনটি অতিবাহিত করে দ্বিতীয় দিনে নগরে ভিক্ষার্থে প্রবেশ করলেন।

read more
মহালয়া এবং…

মহালয়া এবং…

আমাদের সমস্যাগুলোকে ঠেলেঠুলে দুর্গতিহারিণী শরণ্যা ত্র্যম্বকজায়া গৌরীর আগমনী সুর, তাঁর নুপূরনিক্বণ বাজে তাঁর পিত্রালয়ে। আনন্দময়ী চিন্ময়ী মহামায়ার মৃন্ময়ীরূপে আবাহন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। মহালয়ার “আরব্ধ আগমনী”র ভোরে প্রজন্মবাহিত সংশয় আর শারদ অশ্রুজলটুকু পাশে রেখেই কুমোরটুলি থেকে সার সার লরিগুলোতে একে একে উঠে আসেন সবাহন দুর্গা, মহিষাসুর, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্ত্তিক। রেডি, স্টেডি, অন ইওর মার্ক! গো… গাড়ি ছেড়ে দেয়।

read more
বিশ্বকর্মা

বিশ্বকর্মা

বিশ্বকর্মা এলিট নন। এই নন-এলিট দেবতা স্বয়ং যেন সাব-অল্টার্ণ থিওরি হয়ে মণ্ডপে দাঁড়িয়ে থাকেন, হাতির গায়ে হেলান দিয়ে। হাতে হাতুড়ি, ছেনি, ঘুড়ি। যাবতীয় যন্ত্রপাতির মধ্যে তাঁর বাস। সে বাস হোক, কিংবা লরি, বৃহত্ শিল্প অথবা ক্ষুদ্র শিল্প, সাইকেল, অটো, বাইক, রিক্সা, টোটো, ভ্যান, ভ্যানো সর্বত্র আলো জ্বালেন দেব বিশ্বকর্মা।

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৩৯: শীলমীমাংসা-জাতক চরিত্রবল

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৩৯: শীলমীমাংসা-জাতক চরিত্রবল

বোধিসত্ত্ব সেই জন্মে বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তের রাজপুরোহিত। তিনি দানধ্যানে অতুলনীয়, পঞ্চশীলের পালনে একাগ্রচিত্ত। তাঁর গুণমুগ্ধ রাজা অন্যান্য ব্রাহ্মণদের তুলনায় তাঁকে অধিক সম্মান, মর্যাদা প্রদর্শন দেখাতেন।

read more
রজনীর রবি

রজনীর রবি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রজনীকান্ত সেনের পরিচয়, আলাপ, পত্র-বিনিময়, সাহিত্যকেন্দ্রিক ও সাঙ্গীতিক আলোচনা বহু চর্চিত। কিন্তু চর্চার আড়ালে রয়ে গেছে তাঁদের গানে একে-অপরের সুরের আনুগত্যর কথা, যে আনুগত্যের ছায়া পড়েছে তাঁদের সঙ্গীত ভাবনাতে, এমনকি তাঁদের গানে কথার মালা গাঁথাতেও!

read more
টিচার্স ডে

টিচার্স ডে

দেখেই চিনেছি। হাতে নোটবুক আর পেন্সিল। একমনে কী যেন লিখছেন দাঁড়িয়ে, আমাদের পটলডাঙার মোড়ে।

শুধোলাম, “হ্যাল্লো! বস! আপনিই সেই তিনি না? সুকুবাবুর পদ্যে… আচ্ছা, মশাই, ফড়িংয়ের কটা ঠ্যাং, আর আরশোলা কী কী খায় এসব জেনে আর জানিয়ে লাভ কিছু পেয়েছেন?”

read more
গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৩৮: বৃক্ষধর্ম-জাতক: সঙ্ঘে শক্তিঃ কলৌ যুগে

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৩৮: বৃক্ষধর্ম-জাতক: সঙ্ঘে শক্তিঃ কলৌ যুগে

ব্যক্তিমানুষের সমাজজীবন কিংবা রাষ্ট্রজীবনে যে কর্তব্য সমীচীন, যা উত্তীর্ণ করে, সার্থক করে সেই কর্তব্যের ইঙ্গিত থাকে গল্পগুলিতে। মানুষের জন্য রচিত গল্পের কেন্দ্রে থাকে মানবচরিত্রগুলিই। সেই এক বৃ্দ্ধ পিতা তার পুত্রদের শিক্ষা দেবেন বলে অনেক লাঠি একসঙ্গে ভাঙতে দিলেন, লাঠি তো ভাঙলো না, কিন্তু একটা লাঠি অনায়াসেই ভেঙে গেল। জাতকমালার আজকের কাহিনির কেন্দ্রে আছেন দেবতারা, শিক্ষাটা মানুষের জন্যই, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

read more

 

 

Skip to content