
ছবি: প্রতীকী।
দেখেই চিনেছি। হাতে নোটবুক আর পেন্সিল। একমনে কী যেন লিখছেন দাঁড়িয়ে, আমাদের পটলডাঙার মোড়ে।
শুধোলাম, “হ্যাল্লো! বস! আপনিই সেই তিনি না? সুকুবাবুর পদ্যে… আচ্ছা, মশাই, ফড়িংয়ের কটা ঠ্যাং, আর আরশোলা কী কী খায় এসব জেনে আর জানিয়ে লাভ কিছু পেয়েছেন?”
শুধোলাম, “হ্যাল্লো! বস! আপনিই সেই তিনি না? সুকুবাবুর পদ্যে… আচ্ছা, মশাই, ফড়িংয়ের কটা ঠ্যাং, আর আরশোলা কী কী খায় এসব জেনে আর জানিয়ে লাভ কিছু পেয়েছেন?”
তিনি উত্তর করেন, “সেই সুকুবাবুর যুগ থেকে জুকুবাবুর দুনিয়া পর্যন্ত এই একটা কাজ করে আসছি মন দিয়ে। সেই সেবার নৌকোতে উঠলাম, তারপর দারুণ ঝড়, নৌকো ডোবে আর কী! মাঝি ব্যাটা কী যে ফুসমন্তর দিল, জীবনের ষোলো আনাই নাকি আমার… যাক গে, তারপর থেকে এই করছি। লোকে তারকাটা বলে, বলুক। তার তো ছিঁড়ে গিয়েছে কবেই! জোড়াসাঁকোর দাদু তো বলেই দিয়েছিল। ও নিয়ে ভাবি না, জুড়তেও যাই না।”
অ্যাঁ! আঁতকে উঠি। আপনিই সেই বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই নাকি?
“কে বলেছে? এখন আমি গেছোদাদা, একটু আগে ছিলাম রাণাঘাট। এখন রানিগঞ্জ।”
“রানিগঞ্জ হবে কেন? এটা কলকাতা, পটলডাঙা।”
“তাই? দাঁড়া, লিখে রাখি।”
ভাদ্রের রোদে বড় তেজ। বললাম, “ছায়ায় এসে বসুন না দু’দণ্ড। এই রোয়াকেই বসুন। এটাই আমাদের পীঠস্থান।”
অ্যাঁ! আঁতকে উঠি। আপনিই সেই বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই নাকি?
“কে বলেছে? এখন আমি গেছোদাদা, একটু আগে ছিলাম রাণাঘাট। এখন রানিগঞ্জ।”
“রানিগঞ্জ হবে কেন? এটা কলকাতা, পটলডাঙা।”
“তাই? দাঁড়া, লিখে রাখি।”
ভাদ্রের রোদে বড় তেজ। বললাম, “ছায়ায় এসে বসুন না দু’দণ্ড। এই রোয়াকেই বসুন। এটাই আমাদের পীঠস্থান।”
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৮: স্ত্রী সীতার ব্যক্তিত্বের প্রভায় রামচন্দ্রের আলোকিত উত্তরণ সম্ভব হয়েছে কি?
তিনি বলেন, “আমার তো ইন্টারভিউ নিলি খুব। এবার তোর ভাইভা-ভোসেটা নিই, খুব কষে নিতে হবে। কে তুই? নাম কী? ডাকনাম কী? কী করিস? কী কী করিসনা?”
“ভালো নাম সৌপ্তিক, লোকে আমাকে ক্যাবলা বলে, সবজান্তা-ও বলে। এ আই স্কুল অফ লার্ণিংয়ে পড়ি। সব করি, আবার কিছুই করি না।”
“সৌপ্তিক! বেশ বেড়ে নাম। মহাভারতে সৌপ্তিক পর্বে কী হয়েছিল জানিস তো? রাতের অন্ধকারে আসল-নকলের ফারাকটুকু অশ্বত্থামারা ধরতে পারেনি। তাতেই যা হয় হয়েছিল। সুপ্ত থেকে সৌপ্তিক।”
“ভালো নাম সৌপ্তিক, লোকে আমাকে ক্যাবলা বলে, সবজান্তা-ও বলে। এ আই স্কুল অফ লার্ণিংয়ে পড়ি। সব করি, আবার কিছুই করি না।”
“সৌপ্তিক! বেশ বেড়ে নাম। মহাভারতে সৌপ্তিক পর্বে কী হয়েছিল জানিস তো? রাতের অন্ধকারে আসল-নকলের ফারাকটুকু অশ্বত্থামারা ধরতে পারেনি। তাতেই যা হয় হয়েছিল। সুপ্ত থেকে সৌপ্তিক।”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

পর্ব-৩৭: বানরেন্দ্র-জাতক: শক্তি না বুদ্ধি?
“জানি! এক্ষুণি সার্চ লাগাবো, মহাভারত এসে যাবে। আমি সব জানি।”
“এই তোদের মুস্কিল, সব জেনে গেলে জানানোর জন্য কেউ একটা থাকা দরকার, সেটাই আর মানিস না।”
“ধুর মশাই! রাস্তা-ঘাট সব ক্লিয়ার এখন। সার্চ লাগাও, জেনে যাও। কেন ওসব আদ্যিকালের নোটবই আর মান্ধাতার হিসেব নিয়ে চলছেন? ইস্কুল, পড়াশোনা, জ্ঞানগম্যি, ভালোমন্দ এখন ওই চৌখুপিতেই, সার্চ লাগাও, জেনে যাও। বি স্মার্ট ইয়ার!”
“আর ইয়ার! উনিশবার ইয়ারলস করে হাতে নোটবুক তুলে নিয়েছিলাম। তুই তো আমাকে দোটানায় ফেললি!”
“এই তোদের মুস্কিল, সব জেনে গেলে জানানোর জন্য কেউ একটা থাকা দরকার, সেটাই আর মানিস না।”
“ধুর মশাই! রাস্তা-ঘাট সব ক্লিয়ার এখন। সার্চ লাগাও, জেনে যাও। কেন ওসব আদ্যিকালের নোটবই আর মান্ধাতার হিসেব নিয়ে চলছেন? ইস্কুল, পড়াশোনা, জ্ঞানগম্যি, ভালোমন্দ এখন ওই চৌখুপিতেই, সার্চ লাগাও, জেনে যাও। বি স্মার্ট ইয়ার!”
“আর ইয়ার! উনিশবার ইয়ারলস করে হাতে নোটবুক তুলে নিয়েছিলাম। তুই তো আমাকে দোটানায় ফেললি!”
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৮: গ্রিন টি /৬
“আপনি গুরুদেব লোক, উনিশবারের পরেও এখনও চলছে? সুকুবাবু তো এটা বলেননি!”
“গুরুদেবের মানে এখন এই নাকি? আমাদের সময় গুরুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতো। যা শিখেছে তার জন্য একটু কৃতজ্ঞতা থাকতো। তোদের গুরুদেব তো বুঝছি চৌখুপি। তো তাকে পেন্নাম টেন্নাম করিস?”
“দাঁড়ান, সার্চ লাগাই, এখুনি আনসার এসে যাবে। কী বললেন যেন প্রণাম তাই তো?”
“দাঁড়া বাবা! আমাকে গলায় ঢালার মতো স্বচ্ছ, টলটলে, ঠান্ডা এক গেলাস জল দে। আমার হেঁচকি উঠছে।”
“আরে মশাই! অতো ভেঙে পড়লে চলে? নতুন যৌবনের দূত আমরা, নতুন সময় ডাক দিচ্ছে, এখন-ও লেগডাস্ট লেগডাস্ট করে যাচ্ছেন, আর পারি না!”
“এই তো বললি, তুই সব জানিস, সব পারিস, তা মানছিও বৈকী! কাদায় পড়লে তখনও কি সার্চ লাগাবি ওঠার তরিকা জানার জন্য? ধর! তোর চৌখুপি চম্পট, ঘন ট্যাঙ্গানিকা, আর তুই একা, তোর জুতো এইমাত্র শেয়ালে নিয়ে গিয়েছে, জামা-টামাও থাকবে না, এমনকী প্রাণটাও, তখন কি সার্চ লাগাবি ভাইটি?”
“এ তো ভেবে দেখিনি, দাঁড়ান! সার্চ করি।”
“গুরুদেবের মানে এখন এই নাকি? আমাদের সময় গুরুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতো। যা শিখেছে তার জন্য একটু কৃতজ্ঞতা থাকতো। তোদের গুরুদেব তো বুঝছি চৌখুপি। তো তাকে পেন্নাম টেন্নাম করিস?”
“দাঁড়ান, সার্চ লাগাই, এখুনি আনসার এসে যাবে। কী বললেন যেন প্রণাম তাই তো?”
“দাঁড়া বাবা! আমাকে গলায় ঢালার মতো স্বচ্ছ, টলটলে, ঠান্ডা এক গেলাস জল দে। আমার হেঁচকি উঠছে।”
“আরে মশাই! অতো ভেঙে পড়লে চলে? নতুন যৌবনের দূত আমরা, নতুন সময় ডাক দিচ্ছে, এখন-ও লেগডাস্ট লেগডাস্ট করে যাচ্ছেন, আর পারি না!”
“এই তো বললি, তুই সব জানিস, সব পারিস, তা মানছিও বৈকী! কাদায় পড়লে তখনও কি সার্চ লাগাবি ওঠার তরিকা জানার জন্য? ধর! তোর চৌখুপি চম্পট, ঘন ট্যাঙ্গানিকা, আর তুই একা, তোর জুতো এইমাত্র শেয়ালে নিয়ে গিয়েছে, জামা-টামাও থাকবে না, এমনকী প্রাণটাও, তখন কি সার্চ লাগাবি ভাইটি?”
“এ তো ভেবে দেখিনি, দাঁড়ান! সার্চ করি।”
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
“পরে করিস বাবা ওসব, শোন! এসব ক্ষেত্রে আগে মানুষ গুরুবচন স্মরণ করতো, জীবন থেকে কী পেয়েছে আর পায়নি তার হিসেব কষে একটা পথ বের করতো, এসব কষ্ট করে করতে হতো না, জীবন, সময়, আর ভালো শিক্ষাই ঘাড় ধরে করিয়ে নিতো। এখন দিনকাল আলাদা, সব চৌখুপির সার্চ, জীবন বিন্দাস, সময় নেই। দিবস-রাত্রি নিয়ে তোদের ভাবনা কম, তোরাই তোদের ‘দি বস!’, বস, বসে ভাব, রোয়াক তো খোলাই পড়ে আছে। আত্মদীপ হতে তাই কী করবি ভেবে দেখ! আমি আসি, নোটবুকে সব তুলে রাখতে হবে।”
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।


















