
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি।
আপাতভাবে মনে হতেই পারে, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ছকে বাঁধা জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন না। সংসার-উদাসীন, নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতেন তিনি। বাস্তবে কিন্তু তেমনটি নয়। মহর্ষিদেব কখনো ব্যস্ত থেকেছেন ধর্মপ্রচারে, কখনো পরিব্রাজক হয়ে ঘুরেছেন দেশে-দেশান্তরে। বেদ-উপনিষদ পড়তেন, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টাও করতেন। ব্রাহ্মধর্ম-প্রচার ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। মানুষকে বোঝাতেন ব্রাহ্মধর্মের স্বাতন্ত্র্য, আধুনিকতার আলোয় তা কতখানি আলোকিত। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ প্রবল উৎসাহী ছিলেন ভ্রমণে।জলপথে ভ্রমণ, সড়কপথে ভ্রমণ। মুসৌরি, দেরাদুন, কাশ্মীর, সিমলা— কোথায় না গিয়েছেন তিনি! এমনকি দেশান্তরেও, চিন-সিংহল-বর্মায়।
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ বালক-পুত্র রবীন্দ্রনাথকে হিমালয়-পাহাড়ে নিয়ে গেলেও সপরিবারে পাহাড়ে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন না। একবার সারদাসুন্দরী পাহাড়-ভ্রমণের ব্যাপারে অত্যুৎসাহী হয়ে কান্নাকাটিও করেছিলেন। কিন্তু নাকের বদলে নরুণ পেয়েছিলেন তিনি। পাহাড়ের পরিবর্তে মহর্ষিদেব নিয়ে গিয়েছিলেন গঙ্গাবক্ষে নৌভ্রমণে। সারদাসুন্দরীর আগ্রহ-উৎসাহে জল ঢেলে দিতে পাহাড়ে যাওয়া কতখানি ক্লান্তিকর ও ক্লেশময়, সে বর্ণনা দিয়েছিলেন মহর্ষি। পদে পদে নাকি বিপদ, সেই বিপদের মধ্যে ‘স্ত্রীলোকের পক্ষে’ যাওয়া সম্ভব নয়, মহর্ষিদেব বুঝিয়েছিলেন সারদাসুন্দরীকে।

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ।
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ নির্জন পাহাড়-বাসের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন। ভিন্নতর ছিল তাঁর জীবনযাপন, জীবনবোধ। ব্রাহ্মধর্মের প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, জমিদারির তত্ত্বাবধান নিয়েও কম ব্যস্ততা ছিল না, ফলে পরিবারের জন্য খুব বেশি সময় না দিতে পারলেও তিনি সংসার-উদাসীন ছিলেন না। পুত্র-কন্যাদের অবহেলা করেননি কখনও। তাঁদের মধ্যে সৃজনশীলতার সামান্যও প্রকাশ ঘটলে বরাবর উৎসাহিত করেছেন। রবীন্দ্রনাথকে বালক-বয়সে তাঁর পিতৃদেব কীভাবে উজ্জীবিত করেছিলেন, তা আমাদের অজানা নয়। স্বর্ণকুমারীকেও প্রাণিত করেছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। স্বর্ণকুমারীর লেখা পড়ে তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন এভাবে, ’স্বর্ণ, তোমার লেখনিতে পুষ্পবৃষ্টি হউক।’
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ
মহর্ষির এমনতরো প্রেরণাদায়ী কথাবার্তায় সন্তান-সন্ততিরা পথ-চলার রসদ খুঁজে পেয়েছিলেন। তবে সবারই যে তিনি মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করতেন, তা নয়। তাঁর প্রশংসার যোগ্য হয়ে ওঠা সহজ কাজ ছিল না।
পুত্র-কন্যাদের সাফল্য মহর্ষিকে আনন্দ দিলেও তাঁর জীবন খুব সুখের ছিল না। জমিদারি পরিচালনার ক্ষেত্রে অসন্তোষ, সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও অসন্তোষ। যেভাবে তিনি সম্পত্তি ভাগাভাগি করেছিলেন, তা নিয়ে পরিবারের অনেকেই ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন। দুঃখ-বেদনাও মহর্ষিদেব কম পাননি। দীর্ঘ জীবনে অনেক মৃত্যু দেখতে হয়েছিল তাঁকে। সন্তানের মৃত্যু, এমনকি পরম স্নেহভাজন পৌত্র ও পৌত্রীর মৃত্যু। বাড়ির কারও কারও আচার-আচরণ নিয়ে মহর্ষিদেবের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধেছিল। বিশেষত পুত্রবধূ জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর কর্মকাণ্ড তিনি মেনে নিতে পারেননি। এক সময় জোড়াসাঁকো ছেড়ে পার্ক স্ট্রিটের বাড়িতে থাকতেন। কন্যা সৌদামিনী সে বাড়িতে পিতার দেখাশোনা করতেন।
জীবনের প্রান্ত সীমায় পৌঁছে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ আবার জোড়াসাঁকোয় ফিরে এসেছিলেন। পার্ক স্ট্রিটে থাকার সময় তাঁর মধ্যে মৃত্যুচেতনা প্রবল হয়ে উঠেছিল। ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক উমেশচন্দ্র দত্তকে বলেছিলেন, ‘এখন পুঁটুলি বাঁধা ঠিক হইয়া আছে, ডাক হইলেই চলিয়া যাইব।’
পুত্র-কন্যাদের সাফল্য মহর্ষিকে আনন্দ দিলেও তাঁর জীবন খুব সুখের ছিল না। জমিদারি পরিচালনার ক্ষেত্রে অসন্তোষ, সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও অসন্তোষ। যেভাবে তিনি সম্পত্তি ভাগাভাগি করেছিলেন, তা নিয়ে পরিবারের অনেকেই ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন। দুঃখ-বেদনাও মহর্ষিদেব কম পাননি। দীর্ঘ জীবনে অনেক মৃত্যু দেখতে হয়েছিল তাঁকে। সন্তানের মৃত্যু, এমনকি পরম স্নেহভাজন পৌত্র ও পৌত্রীর মৃত্যু। বাড়ির কারও কারও আচার-আচরণ নিয়ে মহর্ষিদেবের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধেছিল। বিশেষত পুত্রবধূ জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর কর্মকাণ্ড তিনি মেনে নিতে পারেননি। এক সময় জোড়াসাঁকো ছেড়ে পার্ক স্ট্রিটের বাড়িতে থাকতেন। কন্যা সৌদামিনী সে বাড়িতে পিতার দেখাশোনা করতেন।
জীবনের প্রান্ত সীমায় পৌঁছে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ আবার জোড়াসাঁকোয় ফিরে এসেছিলেন। পার্ক স্ট্রিটে থাকার সময় তাঁর মধ্যে মৃত্যুচেতনা প্রবল হয়ে উঠেছিল। ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক উমেশচন্দ্র দত্তকে বলেছিলেন, ‘এখন পুঁটুলি বাঁধা ঠিক হইয়া আছে, ডাক হইলেই চলিয়া যাইব।’

সারদাসুন্দরী দেবী।
জোড়াসাঁকোয় অসুস্থ মহর্ষি ফিরে আসবেন জেনে সাজো সাজো রব পড়ে যায়। জোড়াসাঁকোয় বসবাসকালে যে ঘরটিতে তিনি থাকতেন, সে ঘরটিকেই নতুন করে সাজানো হয়। দ্বিজেন্দ্রনাথের পুত্র দ্বিপেন্দ্রনাথ এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে পুরনো ঘর নতুন করে সেজে ওঠে। দ্বিপেন্দ্রনাথ ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ পৌত্র। মহর্ষিদেব অত্যন্ত স্নেহ করতেন তাঁকে। নতুন করে সাজানো ঘরের চারদিকে ছিল দ্বিপেন্দ্রনাথের রুচির ছাপ। বয়সের ভারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ তখন ন্যুব্জ, অসুস্থও বটে। তাঁর পক্ষে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ সহ্য করা কষ্টকর। দ্বিপেন্দ্রনাথ বুদ্ধি খাটিয়ে তাপ নাশ করারও ব্যবস্থা করেছিলেন। রোদ্দুরের তাপ ওপরতলার ঘরে ছাদ ভেদ করে ভিতরে ঢোকে। ঢুকে পড়া তাপ ঘরের ভিতর ঘুরপাক খেতে থাকে। গরমে অতিষ্ঠ হতে হয়। এই তাপ রোধ করার জন্য দ্বিপেন্দ্রনাথ যে ব্যবস্থা করেছিলেন, তা যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত। তেতলার ছাদে সারি সারি মাটির কলসি উপুড় করে রাখা হয়েছিল। জানলা গলে রোদ্দুর আসা তো স্বাভাবিক, সেই রোদ রোধ করারও ব্যবস্থা করেছিলেন দ্বিপেন্দ্রনাথ। অবনীন্দ্রনাথ রানি চন্দকে জানিয়েছিলেন, ‘বড় বড় ক্যানভাস জাহাজের ডেকের মতো ঘরের সামনে টাঙানো হল।’
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ
সাজানোগোছানো, সুন্দর পর্দা লাগানো সে ঘর মহর্ষিদেবের অবশ্য পছন্দ হয়নি। রাগ দেখিয়ে নাতিকে বলেছিলেন, ‘এসব তুমি নিয়ে গিয়ে তোমাদের বৈঠকখানা সাজাও। এসব আসবাব আমার দরকার নাই।’ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বর কাছে সকলেই নতজানু হত। তাঁকে ভয় পেত, সম্ভ্রম দেখাত। তাই সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো প্রায় সব আসবাবই স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন দ্বিপেন্দ্রনাথ। থাকার মধ্যে ছিল দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি চৌকি ও মোড়া। দ্বিপেন্দ্রনাথ ছিলেন অত্যন্ত রুচিবান, শৌখিন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ঘরে তিনি রেখেছিলেন হাতে-আঁকা একটি গির্জার ছবি। ছবির গির্জায় একটি ছোট্ট ঘড়িও ছিল। ভারি সুন্দর সেই ঘড়িটি টংটং করে বাজত।

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ।
ঘরের প্রায় সব আসবাব মহর্ষির কথায় দ্বিপেন্দ্রনাথ অন্যত্র নিয়ে গেলেও কিছুদিন পরই আবার ওই ঘরে নতুন আসবাব এনেছিলেন। বাধ্য হয়েই এনেছিলেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ তখন যথেষ্ট অসুস্থ। আসবাব-বিরোধিতার প্রশ্ন উঠেনি। তাঁকে ভালো রাখার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শেই দ্বিপেন্দ্রনাথ সে ব্যবস্থা করেছিলেন। অবনীন্দ্রনাথ ঘটনাটির সাক্ষী।
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে সারাক্ষণ শুয়ে থাকতেন। হাজার চেষ্টা করেও সোজা হয়ে বসতে পারতেন না। অবনীন্দ্রনাথ সেই সংকটময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, ‘ডাক্তাররা বললেন, একটা অ্যাবসেস ফর্ম করেছে, অপারেশন করতে হবে। দীপুদা ইনভ্যালিড চেয়ার, প্রকাণ্ড ইনভ্যালিড কৌচ কিনে নিয়ে এলেন সাহেবি দোকান থেকে। কৌচটা চামড়া দিয়ে মোড়া, এক হাত উঁচু গদি…।’
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে সারাক্ষণ শুয়ে থাকতেন। হাজার চেষ্টা করেও সোজা হয়ে বসতে পারতেন না। অবনীন্দ্রনাথ সেই সংকটময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, ‘ডাক্তাররা বললেন, একটা অ্যাবসেস ফর্ম করেছে, অপারেশন করতে হবে। দীপুদা ইনভ্যালিড চেয়ার, প্রকাণ্ড ইনভ্যালিড কৌচ কিনে নিয়ে এলেন সাহেবি দোকান থেকে। কৌচটা চামড়া দিয়ে মোড়া, এক হাত উঁচু গদি…।’
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ
দ্বিপেন্দ্রনাথের এনে দেওয়া সেই কৌচেই মহর্ষিদেবের শেষ ক’টা দিন কেটেছিল। কীভাবে অসুস্থ, যন্ত্রণাদীর্ণ মানুষটি ওই কৌচে শুয়ে থাকতেন, তাও জানিয়েছেন অবনীন্দ্রনাথ। চোখের সামনে কর্তাদাদামশায়ের এমন করুণ অবস্থা বেদনাহত করেছিলেন তাঁকে। অবনীন্দ্রনাথ আরও জানিয়েছেন, ‘তিনি (মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ) বরাবর দক্ষিণদিকে পা করে শুতেন, আমাদের আবার বলে, উত্তর দিকে মাথা দিয়ে শুতে নেই, কিন্তু কর্তাদাদামশায়কে দেখেছি তার উলটো। দক্ষিণদিকে পা নিয়ে শুতেন, মুখে হাওয়া লাগবে। দীর্ঘ পুরুষ ছিলেন, অত বড় লম্বা কৌচটিতে তো টান হয়ে শুতেন— এতখানি হাঁটু অবধি পা বেরিয়ে থাকত কৌচ ছাড়িয়ে।’

স্বর্ণকুমারী দেবী।
ডাক্তারের পরামর্শ মতো মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের অপারেশনও হয়েছিল। ডাক্তার সান্দার্স তাঁর অপারেশন করেছিলেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের জীবনীকার আশ্রম-শিক্ষক অজিতকুমার চক্রবর্তীর লেখায় সেই নিদারুণ পরিস্থিতির কথা আছে। মহর্ষির জীবনীগ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘পরলোকগমনের কিছু পূর্বে তাঁহার (মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের) বুকে একটা ফোড়া দেখা দেয়-ডাক্তার সান্দার্স অস্ত্রচিকিৎসা করেন। সেই অষ্ট-আশি বছরের বৃদ্ধ অস্ত্র করার সময়ে কোনো রকমের অস্থিরতা প্রকাশ করিলেন না-শান্ত হইয়া রহিলেন। অস্ত্র করিয়াই ডাক্তার বলিলেন যে আর বেশি দিন তিনি বাঁচিবেন না। ডাক্তার যখন রোজ আসিয়া ক্ষতস্থানে গজ পুরিতেন ও ক্ষতস্থান পরিষ্কার করিতেন, তখনো তাঁহার মুখ যন্ত্রণায় একদিনের জন্যও বিবর্ণ বা বিকৃত হয় নাই। কী আশ্চর্য! তিনি নিজেও বুঝিতে পারিয়াছিলেন যে, পৃথিবী হইতে তাহার বিদায় সময় উপস্থিত।’
আরও পড়ুন:

টিচার্স ডে

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
সম্পাদক উমেশচন্দ্র দত্ত মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলির সাক্ষী। নিজের দিনলিপিতে সেসব দিনের বর্ণনাও তিনি লিখে রেখেছেন। মহর্ষিদেবের অন্তিমকালের যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তা বড়োই মর্মস্পর্শী। দিনলিপিতে উমেশচন্দ্র লিখেছেন,‘তাঁহার অন্তিমকাল শুনিয়া দেখিতে গেলাম। দ্বিজেন্দ্রবাবু, সত্যেন্দ্রবাবু প্রভৃতি শয্যার কাছে দণ্ডায়মান। তিনি হাঁ করিয়া নিঃশ্বাস ফেলিতেছেন, যেন শ্বাস। একবার মুখ বুজাইয়া হাতটা নাড়িয়া বালিশে ফেলিলেন। মুমূর্ষু অবস্থা। রাত্রি যায় কি না সকলের ভাবনা।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সকলের আন্তরিক চেষ্টা শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথকে ধরে রাখা যায়নি। মুমূর্ষু মহর্ষি চেয়েছিলেন, সকলে মিলে তাঁকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুক। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হোক। রবীন্দ্রনাথও শান্তিনিকেতনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। না পিতা, না পুত্র কারও শেষনিঃশ্বাস শান্তিনিকেতনের বাতাসে মিশে যায়নি। অন্তিম ইচ্ছা অপূর্ণই রয়ে গিয়েছে।
* গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।


















