রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

আজকের কাহিনির মূলতত্ত্বটি অজ্ঞাত নয়। সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে কার্যসম্পাদন যেমন অনায়াস আসে, একের কাছে তা তেমনটা নয়। দশের লাঠি, একের বোঝা। কলিযুগে নাকি সঙ্ঘশক্তিই প্রবল। সঙ্ঘবদ্ধ যাপনেও বিঘ্ন কিংবা পরাজয় আসে বৈকী, তবে তাতে বিরত না হয়ে সম্মিলিত যাপনেই সুখ আসে। এই কাহিনিটি সেই সুবিদিত সত্যটিকেই পরিবেশন করে। লোককথা কিংবা গল্পসাহিত্যের বাঁকে বাঁকে এমন কতো কাহিনি! তার মাঝেও এই কাহিনিটি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেবে।
ব্যক্তিমানুষের সমাজজীবন কিংবা রাষ্ট্রজীবনে যে কর্তব্য সমীচীন, যা উত্তীর্ণ করে, সার্থক করে সেই কর্তব্যের ইঙ্গিত থাকে গল্পগুলিতে। মানুষের জন্য রচিত গল্পের কেন্দ্রে থাকে মানবচরিত্রগুলিই। সেই এক বৃ্দ্ধ পিতা তার পুত্রদের শিক্ষা দেবেন বলে অনেক লাঠি একসঙ্গে ভাঙতে দিলেন, লাঠি তো ভাঙলো না, কিন্তু একটা লাঠি অনায়াসেই ভেঙে গেল। জাতকমালার আজকের কাহিনির কেন্দ্রে আছেন দেবতারা, শিক্ষাটা মানুষের জন্যই, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
আরও পড়ুন:

পর্ব-৩৭: বানরেন্দ্র-জাতক: শক্তি না বুদ্ধি?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৮: স্ত্রী সীতার ব্যক্তিত্বের প্রভায় রামচন্দ্রের আলোকিত উত্তরণ সম্ভব হয়েছে কি?

একবার ইন্দ্র ঘোষণা করে দিলেন যে, দেবতারা যে যার ইচ্ছেমতো স্থানে বাসস্থান নির্মাণ করতে পারবেন। বোধিসত্ত্ব তখন হিমালয়ের গভীর শালবনে শালবৃক্ষে বাস করেন। তিনি জ্ঞাতি দেবতাদের সেই স্থান ছেড়ে যেতে নিষেধ করলেন, বেঁধে বেঁধে থাকার দরকার আছেই তো। যাঁরা বুদ্ধিমান তারা বোধিসত্ত্বের কথা অমান্য করলেন না। কিন্তু যাঁরা তেমন নন, তাঁরা ভাবলেন, গ্রাম, নগর, রাজধানীর কাছে বসবাসের কতো সুবিধা! এখানে দেবগণ কতো উপহারে সমৃদ্ধ হবেন। তাই তাঁরা তেমন তেমন স্থানেই অঙ্গনে মহাবৃক্ষে বা করতে থাকলেন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

এরপর একদিন ঝড় এল। প্রবল ঝঞ্ঝাবাত। সেই ঝড়ে খড়কুটোর মতো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মহাবৃক্ষ, খড়কুটোর মতো উড়ে গেল দৃঢ়বদ্ধ শাখা, শিকড়, কাণ্ড। সেইসব পরস্পর বিচ্ছিন্ন ভগ্ন মহাবৃক্ষ উন্মূলিত, উত্পাটিত হল। দেবতারা গৃহহীন হলেন। তারা সপরিবারে ফিরে এলেন হিমালয়ের সেই নিবিড় অরণ্যে। সেই ঝড় যখন হিমালয়ের শালবনে পৌঁছেছিল, আছড়ে পড়েছিল ঘন শালের বনে বনে, তখন কিছুই তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারল না পরস্পর দৃঢ়সন্নদ্ধ শালগাছের মর্মস্থলে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৭: গ্রিন টি /৫

গৃহহীন দেবতারা নিতান্ত দুঃখে কাতর হয়ে জ্ঞাতিদের শোনালেন বিপন্নতার কথা। ক্রমে জানলেন বোধিসত্ত্ব। তাঁর নিষেধ, সদুপদেশ অমান্য করেই তো আজ এমন বিপর্যয়। একাকী বৃক্ষ ও সম্মিলিত তরুরাজির মধ্যে নিরাপত্তার যে মৌলিক পার্থক্য আছে, সেই একই ভেদ আছে মানুষের সমাজজীবনেও। যারা জ্ঞাতিনির্বিশেষে নির্বিবাদে থাকে, তারা শত্রুভয়ে ভীত হয় না। সঙ্ঘশক্তিই তাদের বল। কিন্তু যারা বুদ্ধিদোষে কলহপরায়ণ, তাদের কুলক্ষয় অবশ্যম্ভাবী।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

মনে পড়ে যদুবংশের মৌষলপর্ব? কিংবা যা কিছু একান্ত নিজস্ব, তার থেকে বিচ্ছিন্ন নিরালম্ব জীবন্মৃত জীব, সমাজ সার্থক হয় কি? ছিন্নমূল মানুষের বিপন্নতা, শিকড়হীন মানুষের সঙ্কট কি উপলব্ধি করতে পারেন পাঠক? একাকী গায়কের নহে তো গান, মিলিতে হবে দুই জনে/ গাহিবে একজন খুলিয়া গলা, আরেক জন গাবে মনে। —চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content