এবছর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে দেবী সরস্বতীর আবাহন। তাত্পর্যপূর্ণ বটে। চলার পথে কখনও কখনও দুটো ট্রেন ঝমঝমিয়ে পরস্পরকে পার হয়ে যে যার গন্তব্যে চলে যায়। কেউ অপেক্ষা করে না কারও জন্য। তবু তারা মেলে।
এবছর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে দেবী সরস্বতীর আবাহন। তাত্পর্যপূর্ণ বটে। চলার পথে কখনও কখনও দুটো ট্রেন ঝমঝমিয়ে পরস্পরকে পার হয়ে যে যার গন্তব্যে চলে যায়। কেউ অপেক্ষা করে না কারও জন্য। তবু তারা মেলে।
বোধিসত্ত্ব সেবার ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেছেন, তক্ষশিলায় সর্বশিল্পে পারদর্শী হয়ে ফিরে এলেন, অবলম্বন করলেন গার্হস্থ্যধর্ম। কিন্তু তাঁর পত্নীবিয়োগ ঘটল। তিনি পুত্রকে নিয়ে চলে গেলেন হিমালয়ে, প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলেন। আশ্রমে পুত্রকে রেখে অরণ্যে ফলমূলাদি সংগ্রহে যেতেন। এমনই এক দিনের কথা।
স্বামী বিবেকানন্দ মানুষের অন্তর্লোকের বন্ধনমুক্তির পথ প্রশস্ত করছিলেন তখন। দেশের মানুষের জাগতিক দৈন্য-অপ্রাপ্তি-অসহায়তার মূলে তার ন্যুব্জ তমসাবৃত জীবনের অচলায়তনকেই তিনি কারণ মনে করেছেন। তাঁর প্রায়োগিক অদ্বৈতবাদ এখানেই প্রযুক্ত, সেই নিষ্ফল স্থবির জীবনকে জাগিয়ে, আলোড়িত করে, প্রকম্পিত করে অভীষ্টপানে ধাবমান করার বিপুল তরঙ্গ তুলেছিলেন তিনি সব চরাচর উদ্বেল করে।
বোধগম্য শব্দে বললে ক্রৌঞ্চজাতক। ক্রৌঞ্চের কাহিনি মনে পড়ে? ঋষি বাল্মীকির আদিকাব্যে শোকসঞ্জাত শ্লোক জেগে উঠেছিল সঙ্গমরত ক্রৌঞ্চযুগলের ওপর নেমে আসা আকস্মিক অনভিপ্রেত মৃত্যুকে দেখে। ক্রৌঞ্চের প্রসঙ্গ থাকলে তার সঙ্গে জুড়ে থাকে যেন মৃত্যুর আখ্যান। আজকের জাতকমালার গল্পটিও এক হতভাগ্য ক্রৌঞ্চীর দগ্ধ মাতৃহৃদয় থেকে উদ্গত শোক ও উত্তরণের ভাষ্য। তখন বোধিসত্ত্ব বারাণসীরাজ। তিনি ধার্মিক ও নিরপেক্ষ। অর্থাৎ রাজকীয় কল্যাণগুণে ভূষিত। এই ক্রৌঞ্চীটি রাজার দৌত্যকার্য সম্পাদন করতো। রাজার পত্রবার্তা নিয়ে উড়ে যেত অন্য রাজ্যের রাজার...
মূল্যবোধের জগতে পরিবর্তন আসছে। যুগের হাওয়া, দেশ-কালের গতিবিধি মানুষের বোধের জগতেও আলোড়ন তোলে। এককালে যা ভালো বলেই মনে হয়েছে, তা আজ আর ততটা ভালো নয়। এককালে যা গর্হিত বলেই বিবেচিত হতো, আজ তা গৃহীত। তবে এ-ও আপেক্ষিক, সকলের কাছেই যে নৈতিকতার বোধ সমতুল, এমন নয়। তবে কিছু কিছু আচরণীয় বিষয় মানুষের জগতে ছিল ও আছে, যা থাকবে। অন্ততঃ আছে বলে মনে হয়, ভবিষ্যতেও থাকা উচিত বলেই মনে হয়।
বোধিসত্ত্বরূপী মহিষ যখন বৃক্ষতলে বিশ্রাম নিতেন, তখন বানরটি নিচে নেমে আসতো। তারপর যা শুরু হতো তাকে বাঁদরামি বলে। মহিষটির পিঠে চেপে মলমূত্র ত্যাগ করে, শৃঙ্গ ধরে ঝুলে ঝুলে, লেজ ধরে দুলে দুলে কেলি করতো। ধূর্ত মর্কটের এমন উপদ্রব মহিষটি সহ্য করতো, কোনও বিরক্তি না দেখিয়েই। দুষ্ট বানর এই নীরবতার প্রশ্রয়ে বারবার এই নীতিহীন কাজ করতে থাকল।
বোধিসত্ত্ব তখন জেতবনে অবস্থান করে শিষ্যদের নানা উপদেশ দিতেন। উপদেশকালে হাঁচি হলে শিষ্যরা মহা কোলাহল করে “জীবতু” ইত্যাদি বলে উঠতেন। বোধিসত্ত্ব তখন জানালেন যে এসব অমূলক, আয়ুর্বৃদ্ধি কিংবা আয়ুক্ষয়ের সঙ্গে এর যোগ নেই। অনর্থক বাধায় বিনয়ভঙ্গ ঘটে। এরপর পাপের ভয়ে ভিক্ষুরা নীরব হয়ে গেলেন। তাদের কখনও হাঁচি হলে নগরের অধিবাসীরা “জীব, জীব” আশীর্বাদ করলেও ভিক্ষুরা তাদের-ও চিরজীবী হওয়ার প্রত্যভিবাদন করতেন না। তাতে নাগরিকগণ ভিক্ষুদের অমার্জিত মনে করা শুরু করল। ক্রমে ক্রমে বোধিসত্ত্ব সেকথা জানতে পেরে অনুমতি দিলেন। গৃহস্থরা...
হরিবংশ রায় বচ্চনের কবিতার এমন মহত্ব ছিল যে, যে পাঠকবৃন্দের কবিতার প্রতি কোনও রুচি ছিল না, তাঁরাও তাঁর কবিতা পড়তে শুরু করেন ও কাব্যসংসারের নিয়মিত পাঠক হয়ে যান। নিজস্ব পড়াশোনায় তিনি শাস্ত্র অথবা খুব অধ্যবসায় সহকারে ব্যাকরণ পড়ার সুযোগ পাননি কিন্তু আম ভারতীয়ের ভাষা তিনি জানতেন। বচ্চনের ভাষা সাহিত্যিক হলেও সাধারণ কথোপকথনের অনুরূপ ছিল। ছায়াবাদী কবিতার ভাষার মতো অলঙ্কৃত, সৌন্দর্যদৃপ্ত, কল্পনাক্লিষ্ট, ধ্বনিযুক্ত নয়, সেই ভাষা সহজ, রসযুক্ত, প্রেরণাস্পর্শী, অর্থযুক্ত, ব্যথামথিত ও আনন্দগন্ধী।
উগ্রশ্রবা কর্কশস্বরে বললেন, কিন্তু আজ অমাবস্যা যে… বৈশম্পায়ন বললেন, যথার্থ। কলিকালে আজকের দিনটি ওই নামেই বিবেচিত হবে। মাননীয় দুর্বাসা মুনি ইদানীং ভাবীকালে নিমগ্ন আছেন, তাই তাঁর কাছে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সমান ঠেকছে। তবে নভেম্বর মাসের ঊনিশ তারিখে মনুষ্যপ্রজাতির পুরুষ-দিবস বটে। আন্তর্জাতিক হলেও, মনুষ্যভিন্ন অন্যদের ক্ষেত্রে এসব প্রযোজ্য হবে না, তারাও এ নিয়ে কিছুমাত্র ভাবিত হবে না।
রাষ্ট্রশক্তির বলা বলের দৃষ্টিকোণেও এই প্রতিটি পর্যায় প্রাসঙ্গিক। যুদ্ধের প্রয়াস, সামর্থ্যের অনুধাবন, অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত ও পরাজয়ের আশঙ্কা, কপটতার আশ্রয়ে নিন্দিত অনৈতিক জয়লাভ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পশ্চাদপসরণ ও ভাবী অনিষ্টের বীজন্যাস – সবকটি ক্ষেত্র নৈতিক জয়-পরাজয়, বলাবল, আদর্শ ও বাস্তবের দ্বন্দ্বটিকে তুলে ধরে। শূকরটি জয়ী না হয়েও জয়ী।
বাল্মীকি বেদব্যাসের রামায়ণ ও মহাভারত ভারতবর্ষের বুকে চির প্রেরণাস্রোত। এই দুটি মহাকাব্য দেখিয়েছে কবি হবেন ক্রান্তদর্শী, তাঁর বাণী হবে অভ্রান্ত, অজেয়। সকলেই কবি হন না, কেউ কেউ কবি। বন্দে মাতরম্ মহাসঙ্গীত আধুনিক ভারতবর্ষে চিরন্তন ভারতাত্মার সেই অন্তর্লীন মহাযাত্রার সার্থক উত্তরসূরী।
রাজপুত্র রাজা হয়ে সিংহাসনে বসলে পুরোহিতপুত্র ভাবলেন, যথাসময়ে তাঁর মিত্র তাঁকে পৌরোহিত্যে বরণ করবেন। কিন্তু তিনি তার অভিলাষী নন। তিনি প্রব্রজ্যা নেবেন। তাই সংসারধর্ম, সংসারচিন্তা তাঁর জন্য নয়। তিনি মাতাপিতার অনুমতি লাভ করে বিপুল বৈভব ত্যাগ করে গৃহত্যাগ করলেন। হিমালয়ের সুরম্য প্রদেশে পর্ণকুটির নির্মাণ করে তপশ্চরণে ক্রমে ক্রমে সিদ্ধির পথে এগিয়ে চললেন।
কার্ত্তিকমাসের শুক্ল দ্বিতীয়ায় ভাইফোঁটা, ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। যমুনা যমকে ফোঁটা দেয়, দিদি বোনরাও ভাইকে লোহার ভাঁটা হয়ে দীর্ঘায়ু হওয়ার শুভাকাঙ্ক্ষা জানায়। শক্তিরূপিণী নারী তাঁর জীবনের জয়তিলক এঁকে দেন ভাইয়ের কপালে। আজকের দুনিয়ায় ভাইফোঁটা দিতে হলে আসন পেতে না বসলেও চলে। ইন্টারনেটে ফোঁটা হয়, হোয়াটসঅ্যাপে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। সিনেমার পর্দায় দেখা যায় দেয়ালে ফোঁটা দিতে, জেলনিবাসী ভাইয়ের জন্য। সেখানেও প্রাণের উষ্ণতার অভাব থাকে না। তাছাড়া আজকাল ভাই বোনকে, ভাই ভাইকে, বোন বোনকেও ফোঁটা দিতে পারে। এছাড়াও, ঠাকুমা...
আলো নিয়ে মানুষের মনে নানা যুক্তি-তর্ক। গরমের দিনে কাঠফাটা রোদ, ঘন বর্ষার শেষে মেঘের ফাঁক থেকে রোদের লুকোচুরি, ভোরের আলো, গোধূলির আলো, পড়ন্ত বেলার আলো, পূর্ণিমার আলো, অমাবস্যার আলো ইত্যাদি প্রভৃতির পাশাপাশি জোনাকির আলো থেকে হ্যাজাক বা হারিকেনের আলো, মশালের আলো থেকে দীঘির ধারে ওই যে কীসের আলো, কনে দেখা আলো থেকে জ্ঞানের আলো, চোখের আলো থেকে মাথায় জ্বলে ওঠা আলো, পাড়ার পুজোর আলো থেকে লোডশেডিংয়ে চলে যাওয়া আলো…নানারকম।
যুবক বয়সে আর সকলের মতো সিনেমা দেখতাম। ভালো লাগতো। বালিকা বধু দেখতে গিয়েছিলাম। হল থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম সকলেই একজন লোকের নাম বলছে যাকে ছবিতে কোথাও আমরা দেখিনি! বাড়ি ফিরে ভাবতে বসলাম এমন কি গুণের অধিকারী সেই লোক ‘যাঁকে ছবিতে দেখা যায় না অথচ সকলে তাঁর কথা বলে’ বালিকা বধূ ছবিতে তিনি হলেন সেই স্বনামধন্য চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদার।