কলকাতায় বৃষ্টি
আজ সাধারণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্রের একটি বিশিষ্ট রূপ প্রজাতন্ত্র। প্রজাতন্ত্র ও সাধারণতন্ত্রের ধারণা তত্বগতভাবে কাছাকাছি। ‘Republic ও Democracy’ তে জনগণের ভূমিকা তাত্পর্যমণ্ডিত, কোথাও রাষ্ট্রনায়ক জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, কোথাও জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শাসন পরিচালনায় যুক্ত থাকেন। সকল ক্ষেত্রেই রাজতন্ত্র, রাজা-রাণীর শাসন অবলুপ্ত। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারত সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র। এই শব্দগুলি বিভিন্ন তাত্ত্বিক তাত্পর্য বহন করে। এই দিনটি স্বাধীন ভারতের সুস্থিত রাষ্ট্রজীবনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ স্মরণীয়। এই সকল কিছুই বহু চর্চিত, ভারতীয় গণতন্ত্র, প্রশাসন, রাজনীতি, সমাজ ও পরিবর্তনশীল যুগমানসের প্রেক্ষাপটে বিশেষ প্রাসঙ্গিক।
‘দেশ’কে কেন্দ্র করে যত নিয়ম, সিস্টেম কিংবা তত্ত্ব ও প্রয়োগ— সকলের কেন্দ্রে আছে মানুষ। দেশ পদটির মূলে চলে এলে একটি সংস্কৃত ধাতুকে খুঁজে পাওয়া যাবে– দিশ্। দিশ্ অর্থাৎ দিক। সুতরাং দেশনামক ভূখণ্ডের ধারণায় দিক্ একটি প্রকরণ। এই দিক আক্ষরিক পূর্ব, পশ্চিম, প্রাচ্য, প্রতীচ্য তো বটেই, তবে তাকে পার হয়েও কেন্দ্রীভূত করা, দিশা দেখানোর তাত্পর্য থেকে যায়।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৪ : যেখানে স্বর্ণমুদ্রার ঝনঝনানি, সেখানে সন্তানের চিতার আগুনও ম্লান

ডাক দিয়েছ কোন সকালে?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫১: সাইকেল মাহাতো অ্যান্ড কোং

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল

দেশকে কেন্দ্র করে একটি জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন সাকার হয়, দেশ অগণ্য মানুষের সমষ্টির আত্মপরিচয়, ভারত কিংবা ভারতবর্ষের মতো দেশ তার সাধারণতন্ত্রের উদযাপনে সেই দেশের ধারণা ও দেশবাসী মানুষের সর্বোচ্চ মর্যাদার কথাটিই মনে করায় বলে মনে হয়, যেখানে জেগে থাকার কথা অবিচল মঙ্গলের ভাব, ভারতভাগ্যবিধাতা সেখানে বিপ্লবে-অভ্যুদয়ে-পতনে-জাগরণে নতনয়নে অনিমেষে ভারতাত্মার কল্যাণকর্মে জেগে থাকবেন,আনবেন ঘোর রাত্রি থেকে নতুন প্রভাত।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৩: আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

গণজীবনকে ব্যবস্থিত, সুনিয়ন্ত্রিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার এই তত্ত্বের, ধারণার কেন্দ্রে আছে ‘মানুষ’। মানুষ। সংবিধানে প্রতিপাদিত ভাবী রাষ্ট্রের অভিজ্ঞানে বিধৃত আছে সেই মানুষের-ই কথা। সেই মানুষের ‘সমাজ’, ‘ধর্ম’ সেখানে বিশেষ ব্যঞ্জনা নিয়ে আসে। আসে ‘সার্বভৌম’ ও বিশেষ রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ‘গণ’, যুক্ত থাকে ‘তন্ত্র’-নামক বহুমাত্রিক পরিভাষাটি, ‘রাষ্ট্র’ নামক সুপ্রাচীন ধারণা, প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতির তত্ত্ব।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৮: পরবাস প্রস্তুতি (চার)

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা

আজকের ভারত, স্বাধীনতোত্তর মুক্ত ভারত তার দেশ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারে, প্রস্তাবনায় ভাবী রাষ্ট্রের যে বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছে সেখানে ‘Sovereign, Socialist, Secular, Democratic Republic’ এই বৈশিষ্ট্যগুলি অন্যতম, যা ভাষান্তরে যে শব্দশরীরে আত্মপ্রকাশ করে, তার সূত্রপাত প্রাচীন শাস্ত্রে, সংস্কৃত ভাষায় লেখা রাজনীতি, ধর্মনীতিমূলক গ্রন্থে তার ধারণা বীজাকারে আছে। রাজতন্ত্রের পরিমণ্ডলেও প্রজানুরঞ্জনের তত্ত্ব, আদর্শবাদ, ভাববাদ রাষ্ট্র, রাজা ও প্রজার মধ্যে আত্মিক সম্পর্কের একটা পরিসর রেখেছে। ধারণা ও সত্যের মধ্যে ব্যবধান সবযুগেই থাকে, সে যুগেও ছিল বলাবাহুল্য। কিন্তু এই ব্যবধান দুস্তর হয়ে উঠলে ধারণার মধ্যে সত্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা, সত্যের মধ্যে নিহিত তার ভাবী প্রোজ্জ্বল সম্ভাবনাময়, ধারণাগর্ভ পূর্বরূপ, সত্যের সত্য হয়ে ওঠার পূর্বের আনুমানিক অবস্থা ও উভয়ের প্রচ্ছন্ন যোগসূত্রটি অসার হয়ে যায়। ফলে, তত্ত্ব তখন সত্যবিচ্ছিন্ন হয়ে উপযোগ হারায়।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮০ : হাত বাড়ালেই বন্ধু

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

যোগশাস্ত্রের তত্ত্বে পরম উপাস্যের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের পথে তত্ত্ব ও প্রয়োগ, অভ্যাস তত্ত্বের মধ্যে সাকার হয়ে ওঠার সম্ভাবনাটিকে মনে করায়। রাষ্ট্রের তত্ত্বটিতেও সমষ্টিমূলক সমাজের কিংবা ধারণার্থক ধর্মের, আত্মপ্রতিষ্ঠার পথে ব্যাপক ও পূর্ণতার অভিব্যঞ্জক সার্বভৌমত্বের, নিরপেক্ষতার কিংবা দেশ-দশের কল্যাণের নেপথ্যে প্রজানুরঞ্জনের আকাঙ্ক্ষা, স্বার্থ কিংবা ঔদার্যের বোধটি নিহিত থাকার কথা। আজকের দিন সেই সবার ওপরে মানুষ ও মনুষ্যত্বের পূর্ণ আত্মপ্রকাশের স্বীকৃতিকে কাগজ থেকে কাজে সাকার করার মহত্ কর্তব্যটিকে মনে রাখার দিন। তবেই ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম হয়ে উঠবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content