এই দেশ এই মাটি

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৭: কাছাড়ে মণিপুরী রাজত্ব

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৭: কাছাড়ে মণিপুরী রাজত্ব

বরাক উপত্যকায় কাছাড়ি রাজাদের রাজত্ব ছিল। কাছাড়ের শেষ রাজা ছিলেন গোবিন্দচন্দ্র। তাঁর রাজত্বকালের শেষের দিকে ১৮১৮ থেকে ১৮২৪ সাল, এই ছয় বছর কাছাড়ের শাসনভার ছিল মণিপুরী রাজার হাতে। ইতিহাসের এই পর্বটি যেন এক গল্পের মতো। যে গল্পের শুরু অসমের প্রতিবেশী রাজ্য মণিপুর থেকে। মণিপুরের রাজদণ্ড ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো এদিক-ওদিক হয়েছে। পিতা-পুত্র কিংবা ভাইদের মধ্যে প্রায়শই চলেছে দ্বন্দ।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

ফ্রেজারগঞ্জ হারবারে গিয়ে বেশ কয়েকবার নজরে পড়েছিল ঠিক গাঙচিলের মতো কিছু পাখি, দলবদ্ধ হয়ে উড়ছে। গাঙচিলের মতো বললাম কারণ আপাতদৃষ্টিতে গাঙচিল বলে মনে হলেও ওদের সাথে গাঙচিলের বহিরাকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই সেই পার্থক্য নজরে আসে। এমনিতেই মৎস্যবন্দরে যেহেতু অনেক ট্রলার প্রায়শই মাছ নিয়ে এসে নোঙর করে আর পচা বা বাতিল মাছগুলো ট্রলারের মৎস্যজীবীরা জলেই ছুঁড়ে দেয় তাই সেগুলোকে জল থেকে ছোঁ মেরে তুলে নেওয়ার জন্য প্রচুর গাঙচিল হাজির হয়। তাই গাঙচিল এবং ওই পাখিগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে আলাদা বলে বোঝা...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৪: তালবাতাসি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৪: তালবাতাসি

ছোট থেকেই দেখতাম প্রধাণত বিকেলের দিকে বিশেষ একরকম ছোট ছোট পাখি কী দ্রুতবেগে আকাশে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চক্কর খেত। সাত-আটটা কিংবা তারও বেশি পাখি দ্রুতবেগে উড়ে যাচ্ছে এক একদিকে, তারপর গোঁত্তা খেয়ে আবার আরেক দিকে। কখনও নিচের দিকে নেমে আসছে, আবার উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। ওদের গতিবেগ এত দ্রুত যে ভালো করে দেখতে পেতাম না পাখিটার চেহারা কেমন। তবে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট বুঝতে পারতাম যে পাখিটার লেজ ইংরেজি ‘V’ এর মতো চেরা। আর পাখিটার রঙ কালো বলেই মনে হত। বর্ষার পরের দিনগুলোতে ওদের ওড়াউড়ি যেন খুব বেড়ে যেত। ওদের...

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক। রাজধানীর প্রজাদের অনেকের ঘরে সেদিন গ্রন্হের প্রতিলিপি রাখাও হয়েছিল। কিন্তু কালের কবলে পড়ে একসময় সবই হারিয়ে যায়। পরবর্তীকালে আগরতলার উজির বাড়িতে রক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি পণ্ডিত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছিল। বলাই বাহুল্য সেটিও এখন দুষ্প্রাপ্য। মহারাজা রাধাকিশোর পণ্ডিত চন্দ্রোদয়কে মূল রাজমালা পুণঃসম্পাদনারও দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন

"শকুনের নজর সবসময় ভাগাড়ের দিকে"—নামে বাংলায় একটা প্রবাদ অনেকের মুখে যখন তখন শোনা গেলেও শকুন আজ আর সুন্দরবনবাসীর নজরে তেমন পড়ে না। সুন্দরবনের বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ের কাছে শকুন হল বইয়ের লেখা, ছবি আর বড়দের কাছে শোনা গল্প-গাথা। অথচ এইতো সেদিন আমার শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোতে অর্থাৎ ৪০-৪৫ বছর আগেও সুন্দরবনের জনবসতি এলাকার সীমানায় নদী বা খালের ধারে থাকা ভাগাড় বা অন্য কোথাও মৃত জীবজন্তুকে ঘিরে গৃধ্র-সমাবেশ দেখা যেত। দেখা যেত মৃত জীব জন্তুর মাংসের ভাগ নিয়ে গৃধ্র-সারমেয় লড়াই। আর আকাশে দেখা দু’ডানা...

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭২: রাজার ইচ্ছানুসারে ‘অরুণ’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭২: রাজার ইচ্ছানুসারে ‘অরুণ’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয়

আগরতলার রাজমালা প্রেস থেকে ‘অরুণ’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো। উল্লেখ করা যায় যে, বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের পর দেশব্যাপী আন্দোলনের সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল ‘অরুণ’ পত্রিকায়। এ সি ভট্টাচার্যের ‘প্রোগ্রেসিভ ত্রিপুরা’ গ্রন্হসূত্রে জানা যায়, পণ্ডিত চন্দ্রোদয় ‘হিতবাদী’ নামেও একটি পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন। ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাগণ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি ইতিহাস চর্চায়ও সর্বদাই উৎসাহী ছিলেন।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৬: অসমের ইতিহাস বিজড়িত রাস্তা ‘ধোদর আলি’

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৬: অসমের ইতিহাস বিজড়িত রাস্তা ‘ধোদর আলি’

আহোম রাজারা অসমে সুশাসন করেছিল ইবং তাঁদের রাজত্বকালে অসমের অনেক উন্নতি হয়েছিল। আহোম রাজারা বিশ্বাস করতেন, কর্ম প্রাধান্যের মধ্য দিয়েই উন্নতি সম্ভব। এই ধোদর আলি পরিকল্পনাটি মূলত করম উদ্যোগী প্রজাদের মনে ফূর্তি আনয়ন করার এক বিশেষ পদক্ষেপ ছিল। ধোহার অলি অসমের একটি ঐতিহাসিক মজাদার ঘটনার গল্প শোনায়। এই পথটি নির্মাণ করা হয়েছিল গোলাঘাট জেলার কোমরগাঁও থেকে জয়পুর নামক অঞ্চল পর্যন্ত।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১২: দাঁড়কাক

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১২: দাঁড়কাক

দাঁড়কাকরা পাতিকাকদের মতো মরা পচা মাছ, ব্যাঙ ও জীবজন্তু, মাছের নাড়িভুঁড়ি, কসাইখানার বর্জ্য, পাখির ডিম, ভাত, তরকারি, পাকা ফল ইত্যাদি প্রায় সব খাবারই খায়। এরা শিকার করতেও দারুণ দক্ষ। পাখির বাচ্চার সাথে সাথে ইঁদুর, কাঠবিড়ালি ইত্যাদি শিকার করতে ভালোবাসে। তবে মুরগি বা হাঁসের বাচ্চা এদের খুব প্রিয়। খুব মনে পড়ে আমাদের গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলায় দেশি মুরগি পোষা হত।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭১: ত্রিপুরার রাজসভা আলোকিত করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয় ভট্টাচার্য

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭১: ত্রিপুরার রাজসভা আলোকিত করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয় ভট্টাচার্য

ত্রিপুরার আবৃত ইতিহাস উন্মোচনে রাধাকিশোর খুবই উৎসাহী ও উদ্যোগী ছিলেন। ত্রিপুরার প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের বিবরণ লিপিবদ্ধ করার জন্য রাজা পণ্ডিত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপর ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় তিনি ক্ষেত্র সমীক্ষা করেন। বিভিন্ন মন্দির ও স্হাপত্য সমূহের শিলালিপি সংগ্ৰহ করে তা লিপিবদ্ধ করেন, অনুবাদ করেন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১১: পাতিকাক

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১১: পাতিকাক

পাতিকাক হল এমন এক পাখি যা গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র উপস্থিত। শৈশব থেকে যৌবন যখন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে কাটিয়েছি তখন যেমন অসংখ্য পাতিকাক বাড়ির আশেপাশে দেখেছি ঠিক তেমনই পড়াশুনোর জন্য যখন শহরবাস করেছি এবং বর্তমানে আধা শহরের বাসিন্দা সেখানেও বিপুল পরিমাণে পাতিকাকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। শহর হোক বা গ্রাম কোথাও এদের অন্তত খাদ্যাভাব হয়েছে বলে মনে হয় না কারণ যে কোনও জৈববস্তুই মনে হয় এদের খাদ্য।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোঁয়া যখন ত্রিপুরায় লেগেছিল তখন আদিবাসীরা যে ভাবে বিপ্লবীদের সাহায্য করেছিলেন, কেউ কেউ বিপ্লবী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, তেমনই ঊনবিংশ শতাব্দীতে সিপাহি বিদ্রোহের সময়ও বিদ্রোহী সিপাহিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন পার্বত্য ত্রিপুরার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। দুই শতাব্দীর এই সব ঘটনাবলী বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৫: অসমের কয়েকটি জনপ্রিয় খেলা

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৫: অসমের কয়েকটি জনপ্রিয় খেলা

খেলাধুলা মানুষের জীবনের অঙ্গ। আজকের এই ‘টু মিনিট নুডলস’ সময়ের দৌড়েও মানুষ কিন্তু তার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে খেলতে এখনও পছন্দ করে। খেলাধুলা মানুষের মনে বিপুল আনন্দ প্রদান করে, জীবনী শক্তিতে ভরিয়ে দেয়। বৃহত্তর পরিসরে শুধুই মনোরঞ্জনের জন্য খেলা নয়, দেশ কিংবা রাজ্যের জন্য যখন খেলোয়াড়রা খেলেন তখন তার মধ্যে এক বিশেষ ভাবনা বা অনুভূতি কাজ করে।অসমে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের খেলা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ধোপখেল’। এই খেলাটি বল নিয়ে খেলা হয়। এতে ১১ জন করে দুটি দলের প্রয়োজন হয়। মাঠে ৪টি পতাকা থাকে। একটি...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

“প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি, খাসা তোর চ্যাঁচানি। শুনে শুনে আনমন নাচে মোর প্রাণমন।” (প্যাঁচা আর প্যাঁচানি / সুকুমার রায়) প্যাঁচার চ্যাঁচানি শুনে প্যাঁচানির প্রাণ নেচে উঠলেও সাধারণ মানুষের কিন্তু বুক ধুকপুক করে ওঠে ভয়ে। কারণ প্যাঁচার ডাক। রাতের নিস্তব্ধতা খানখান করে যখন ‘তু-হু-হু’ কিংবা ‘বুম বুম’ শব্দে প্যাঁচা ডেকে ওঠে তখন গা ছমছম করে ওঠে। তার ওপর এদের মুখের গড়ন পাখিদের মতো নয়। মাথাটা চেহারার চেয়ে অনেক বড়। চ্যাপ্টা মুখমন্ডল। আর ড্যাবা-ড্যাবা দুটো চোখ মানুষের চোখের মতো থাকে মুখমন্ডলের সামনে। আবার এদের ঘোরাফেরা রাতের...

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৯: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৯: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী

খিলাফৎ ও অসহযোগ আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে কৈলাসহরে যে ধর্মসভা স্হাপিত হয়েছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন সতীশচন্দ্র চৌধুরী ও আব্দুল মুজাহির মজুমদার। ১৯৪২ সালে কৈলাসহর বাজার এলাকায় মিলন সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠেছিল। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম অম্বিকা চক্রবর্তী দু’বার কৈলাসহর সফর করে মিলন সমিতির সদস্যদের উৎসাহিত করেন। কৈলসহরের জনমানসেও সেদিন স্বদেশানুরাগের প্রাবল্য ছিল।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৯: কোটরে প্যাঁচা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৯: কোটরে প্যাঁচা

ছোটবেলা থেকে সুন্দরবনের মানুষের মুখে শুনে এসেছি এই কোটরে প্যাঁচারা হল অলক্ষুণে। এদের দেখা বা এদের ডাক শোনা অমঙ্গলের প্রতীক। অবশ্য আমাদের বাড়িতে প্যাঁচাদের নিয়ে এমন কুসংস্কার কোনওদিনই ছিল না। কোটরে প্যাঁচার ডাক বেশিরভাগ মানুষের কাছে বিকট শোনালেও পৌরাণিক কাহিনিতে কিন্তু এর গুণগান করা হয়েছে। নারদ মুনিকে নাকি প্যাঁচার কাছে গান শেখার জন্য মানস সরোবরের কাছে পাঠানো হয়। আবার প্যাঁচাকেই জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা দিয়েছিল দোর্দন্ডপ্রতাপ মোঙ্গোল সম্রাট চেঙ্গিস খান। এ নিয়ে এক চিত্তাকর্ষক কাহিনি আছে।

read more

Skip to content