এই দেশ এই মাটি

অন্য পুজো: ইতিহাসের আলোকে ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা

অন্য পুজো: ইতিহাসের আলোকে ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা

দুর্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা। তাই দুর্গাপূজার সঙ্গে যেন একটা যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ তৈরি হয়ে আছে সূচনা লগ্ন থেকেই। পুরাণ, কিংবদন্তী কিংবা ইতিহাসও তারই স্বাক্ষ্য দেয়। রাজ্যভ্রষ্ট রাজা সুরথ দেবীর পূজা করেছিলেন তাঁর রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য। আবার সীতাকে ফিরে পাবার জন্য রামচন্দ্র করেছিলেন দেবীর অকাল বোধন। সুদূর অতীতে রাজা-মহারাজা আর সম্পন্ন জমিদাররাই দুর্গাপূজা করতেন। কখনও যুদ্ধ জয়ের জন্য, কখনও রাজ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য কিংবা জমিদারী পরিচালনা নিষ্কন্টক রাখার জন্য দেবী দুর্গার আরাধনা হতো। কালক্রমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৯: হাট্টিমা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৯: হাট্টিমা

হাট্টিমা মাঠেই বাসা বানায় ও সেখানে ডিম পাড়ে। পড়ে দেখলাম। কিন্তু শিং তো নেই। মনে হয় চোখের দু’পাশ থেকে সাদা রঙের যে দুটো ডোরা দাগ রয়েছে ওটাকেই হয়তো সুকুমার রায় শিং-এর সাথে তুলনা করেছেন কিংবা পাখিটার মাথায় কল্পনার শিং গজিয়ে ছড়াটি লিখেছেন। এই তাহলে সুকুমার রায়ের হাট্টিমা পাখি। কিন্তু মনে হল “Birds of India”-র অনুবাদ “সাধারণ পাখি” বইয়ের সূচিপত্রে অন্য এক জায়গায় হাট্টিমা নামটা নজরে পড়েছে। সন্দেহ নিরসন করার জন্য “সাধারণ পাখি” বইটির সূচিপত্রে গেলাম।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

ছোট বাবুইবাটান স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে একই রকম। প্রজনন ঋতুতে এদের চঞ্চুর গোড়া উভয়েরই কমলা বা লাল হয়ে যায়। প্রজননের সময় পুরুষ পাখি স্ত্রীকে সামান্য ঠোক্কর দিয়ে বা খাবার দিয়ে তার মন জয় করতে চেষ্টা করে। মন দেয়া-নেয়া হয়ে গেলে খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের মিলন হয়। তারপর ডিম পাড়ার পালা।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৬: এক উপেক্ষিতা রাজকন্যার কথা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৬: এক উপেক্ষিতা রাজকন্যার কথা

মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব এবং তাঁর অবিশ্বাসী, কূটিল চরিত্রের কথা আমরা কে না জানি! কিন্তু ঔরঙ্গজেব কন্যা জেবউন্নিসা বেগমের কথা? কেউ কেউ জানলেও বেশিরভাগই জানেন না, এই জেবউন্নিসা ছিলেন তদানীন্তন মোগল ভারতের এক বিশিষ্ট কবি। একদিন এই কবির জীবনে নীরবে এসেছিল প্রেম। হতভাগ্য লাহোরের শাসনকর্তা আকিল খাঁ! সম্রাট দুহিতার সঙ্গে গোপন প্রণয়ের পরিণতিতে নির্মম ভাবে মৃত্যু ঘটেছিল তার।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৮: অসমের বিশেষ ধরনের ধান

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৮: অসমের বিশেষ ধরনের ধান

অসমে মূলত চার ধরনের ধান চাষ করা হতো। আহু বা আউশ ধান, বাও ধান, লহি এবং সালি। এছাড়াও আরও কয়েক ধরনের ধান চাষ করা হত, সেগুলি এখন খুব একটা চাষ হয় না। চাকুয়া, বোরা এবং জোহা এই বিশেষ ধরনের ধান অল্প-সল্প চাষ হয়ে থাকে। চাকুয়া এবং বোরা এই দুই ধরনের ধানকে ম্যাজিক ধানও বলা যেতে পারে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল

পক্ষিবিদদের মতে, নিজেদের গোষ্ঠীর এলাকা রক্ষা করতে কিংবা স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে এরা গান ধরে। আর স্ত্রী আবাবিলও প্রজনন ঋতুর শুরুতে ছোট ছোট স্বরে কয়েকদিন গান ধরে। বাসা বানানোর কাজ শেষ হলে স্ত্রী আবাবিল একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। সাদা রঙের ডিমের ওপর লালচে-বাদামি বা বেগুনি রঙের ছিট দেখা যায়। সাধারণত স্ত্রী আবাবিলকেই বেশি তা দিতে দেখা যায়। ১৪-১৯ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চারা বেরিয়ে আসে। তারপর বাবা-মা মিলে প্রায় এক সপ্তাহ বাচ্চাদের খাওয়ানোর দায়িত্ব সামলায়। তারপর বাচ্চারা বাসা ছেড়ে উড়তে শেখে।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ

উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য সমূহের মধ্যে সীমা বিরোধ নতুন কোনও বিষয় নয়। মাঝে মাঝে এই সীমা বিরোধ ঘিরে বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠে।এমন কি ঘটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও। যদিও সাম্প্রতিককালে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সমূহের নানা উদ্যোগের ফলে অনেকাংশে এই সীমা বিবাদের অবসান হয়েছে। তবুও এখনও এই সমস্যার পুরোপুরি অবসান হয়নি।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ

একনজরে মনে হল এরা তালবাতাসি পাখি। এদের আমি ছোট থেকেই দেখে এসেছি। খুব চেনা পাখি। তবুও আর একটু ভালো করে দেখব বলে কিছুদিন আগে কেনা বাইনোকুলারটা হাতে নিয়েই ছাদে উঠি। তো সেই বাইনোকুলারটা চোখে লাগালাম। নাঃ, খুব ভালো করে যে দেখতে পেলাম তা নয়। কারণ ওদের দ্রুতগতি। কিন্তু মনে হল এদের লেজটা তো তালবাতাসিদের মতো চেরা নয় মনে হচ্ছে। তালবাতাসি দের লেজ ইংরেজি ‘V’-এর মতো চেরা। স্পষ্ট বোঝা যায়।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৪: ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্থ অতীতের ত্রিপুরা নিয়ে গবেষণার দিশারী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৪: ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্থ অতীতের ত্রিপুরা নিয়ে গবেষণার দিশারী

আজ থেকে প্রায় সোয়াশো বছর আগেই যে প্রত্নভূমি ঊনকোটিতে ব্যাপক ধ্বংস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তা বোঝা যায় চন্দ্রোদয়ের লেখা থেকে।তিনি লিখেছেন—’পর্ব্বত পার্শ্বে বহুসংখ্যক মূর্ত্তি খোদিত ছিল, কালক্রমে সমস্তই বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে। এখন যাহা আছে,তাহাও আর বেশীদিন থাকিবে বলিয়া বোধ হয় না।কারণ প্রস্তর ক্রমে ধসিয়া পড়িতেছে।’ উনকোটিতে একটি প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৭: কাছাড়ে মণিপুরী রাজত্ব

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৭: কাছাড়ে মণিপুরী রাজত্ব

বরাক উপত্যকায় কাছাড়ি রাজাদের রাজত্ব ছিল। কাছাড়ের শেষ রাজা ছিলেন গোবিন্দচন্দ্র। তাঁর রাজত্বকালের শেষের দিকে ১৮১৮ থেকে ১৮২৪ সাল, এই ছয় বছর কাছাড়ের শাসনভার ছিল মণিপুরী রাজার হাতে। ইতিহাসের এই পর্বটি যেন এক গল্পের মতো। যে গল্পের শুরু অসমের প্রতিবেশী রাজ্য মণিপুর থেকে। মণিপুরের রাজদণ্ড ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো এদিক-ওদিক হয়েছে। পিতা-পুত্র কিংবা ভাইদের মধ্যে প্রায়শই চলেছে দ্বন্দ।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

ফ্রেজারগঞ্জ হারবারে গিয়ে বেশ কয়েকবার নজরে পড়েছিল ঠিক গাঙচিলের মতো কিছু পাখি, দলবদ্ধ হয়ে উড়ছে। গাঙচিলের মতো বললাম কারণ আপাতদৃষ্টিতে গাঙচিল বলে মনে হলেও ওদের সাথে গাঙচিলের বহিরাকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই সেই পার্থক্য নজরে আসে। এমনিতেই মৎস্যবন্দরে যেহেতু অনেক ট্রলার প্রায়শই মাছ নিয়ে এসে নোঙর করে আর পচা বা বাতিল মাছগুলো ট্রলারের মৎস্যজীবীরা জলেই ছুঁড়ে দেয় তাই সেগুলোকে জল থেকে ছোঁ মেরে তুলে নেওয়ার জন্য প্রচুর গাঙচিল হাজির হয়। তাই গাঙচিল এবং ওই পাখিগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে আলাদা বলে বোঝা...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৪: তালবাতাসি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৪: তালবাতাসি

ছোট থেকেই দেখতাম প্রধাণত বিকেলের দিকে বিশেষ একরকম ছোট ছোট পাখি কী দ্রুতবেগে আকাশে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চক্কর খেত। সাত-আটটা কিংবা তারও বেশি পাখি দ্রুতবেগে উড়ে যাচ্ছে এক একদিকে, তারপর গোঁত্তা খেয়ে আবার আরেক দিকে। কখনও নিচের দিকে নেমে আসছে, আবার উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। ওদের গতিবেগ এত দ্রুত যে ভালো করে দেখতে পেতাম না পাখিটার চেহারা কেমন। তবে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট বুঝতে পারতাম যে পাখিটার লেজ ইংরেজি ‘V’ এর মতো চেরা। আর পাখিটার রঙ কালো বলেই মনে হত। বর্ষার পরের দিনগুলোতে ওদের ওড়াউড়ি যেন খুব বেড়ে যেত। ওদের...

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক। রাজধানীর প্রজাদের অনেকের ঘরে সেদিন গ্রন্হের প্রতিলিপি রাখাও হয়েছিল। কিন্তু কালের কবলে পড়ে একসময় সবই হারিয়ে যায়। পরবর্তীকালে আগরতলার উজির বাড়িতে রক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি পণ্ডিত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছিল। বলাই বাহুল্য সেটিও এখন দুষ্প্রাপ্য। মহারাজা রাধাকিশোর পণ্ডিত চন্দ্রোদয়কে মূল রাজমালা পুণঃসম্পাদনারও দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন

"শকুনের নজর সবসময় ভাগাড়ের দিকে"—নামে বাংলায় একটা প্রবাদ অনেকের মুখে যখন তখন শোনা গেলেও শকুন আজ আর সুন্দরবনবাসীর নজরে তেমন পড়ে না। সুন্দরবনের বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ের কাছে শকুন হল বইয়ের লেখা, ছবি আর বড়দের কাছে শোনা গল্প-গাথা। অথচ এইতো সেদিন আমার শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোতে অর্থাৎ ৪০-৪৫ বছর আগেও সুন্দরবনের জনবসতি এলাকার সীমানায় নদী বা খালের ধারে থাকা ভাগাড় বা অন্য কোথাও মৃত জীবজন্তুকে ঘিরে গৃধ্র-সমাবেশ দেখা যেত। দেখা যেত মৃত জীব জন্তুর মাংসের ভাগ নিয়ে গৃধ্র-সারমেয় লড়াই। আর আকাশে দেখা দু’ডানা...

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭২: রাজার ইচ্ছানুসারে ‘অরুণ’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭২: রাজার ইচ্ছানুসারে ‘অরুণ’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয়

আগরতলার রাজমালা প্রেস থেকে ‘অরুণ’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো। উল্লেখ করা যায় যে, বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের পর দেশব্যাপী আন্দোলনের সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল ‘অরুণ’ পত্রিকায়। এ সি ভট্টাচার্যের ‘প্রোগ্রেসিভ ত্রিপুরা’ গ্রন্হসূত্রে জানা যায়, পণ্ডিত চন্দ্রোদয় ‘হিতবাদী’ নামেও একটি পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন। ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাগণ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি ইতিহাস চর্চায়ও সর্বদাই উৎসাহী ছিলেন।

read more

Skip to content