আসলে গান বাজনা মানুষের জীবনে সভ্যতার সেই শুরুর সময় থেকেই অঙ্গ হয়ে রয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের বিভিন্ন উৎসবে পার্বনে গান নাচ করে মানুষ। অসমের মতো বহুল জন জাতির মানুষের রাজ্যে তাই দেখতে পাওয়া যায় এক বর্ণময় সাংস্কৃতিক পরিবেশ।
আসলে গান বাজনা মানুষের জীবনে সভ্যতার সেই শুরুর সময় থেকেই অঙ্গ হয়ে রয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের বিভিন্ন উৎসবে পার্বনে গান নাচ করে মানুষ। অসমের মতো বহুল জন জাতির মানুষের রাজ্যে তাই দেখতে পাওয়া যায় এক বর্ণময় সাংস্কৃতিক পরিবেশ।
বিলের বালুবাটান পাখিটি সুন্দরবন অঞ্চলে নদীর ধারে বা খাঁড়ির মুখে কিংবা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে যেখানে জোয়ারের সময় জল পৌঁছে যায় সেখানে দেখা যায়। অনেকসময় প্লাবিত ধানজমিতেও ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এরাও গোত্রার মতো পরিযায়ী পাখি। অজয়বাবু লিখেছেন, এরা নোনা জলের থেকে মিষ্টি জল বেশি পছন্দ করে। আর তাই মিষ্টি জলের জলাভূমিগুলিতে এদের প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। কিন্তু সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ অঞ্চলও যে ওদের পছন্দের জায়গা তা ওদের উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয়।
সঠিক ইতিহাস অনাবিষ্কৃত হলেও উনকোটি, পিলাক কিংবা দেবতামুড়ার ভাস্কর্যের সৃষ্টি ত্রিপুরার মাণিক্য রাজবংশ প্রতিষ্ঠার অনেক অনেক আগেই শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তা হলে কোন রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্টি হয়েছিল এসব ভাস্কর্য? সব মিলিয়ে ত্রিপুরা ও নিকটবর্তী এলাকার প্রত্ন সম্পদের আলোকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ যেন আজ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
অসমে গাওয়া বোনগীতের মধ্যে অসমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া যায়। বোন-জঙ্গল, ফুল ইত্যাদি নিয়ে বেশ রোমান্টিক ধরনের গান এই বোনগীত। অসমের প্রচলিত গানগুলি আসলে অসমের সংস্কৃতি, লোক উৎসব এবং অসমের বৈচিত্রের কথা বলে। অসমের গান-বাজনা নিয়ে কথা বলতে গেলে বিহুগীতের প্রসঙ্গ খুব সহজেই ছলে আসে।
আগের লেখায় উল্লেখ করেছিলাম যে ঘোড়ামারা দ্বীপ থেকে ট্রলারে চেপে ফেরার সময় হারউড পয়েন্ট জেটিঘাটের কাছাকাছি একটি চরে তিন ধরনের পাখিকে জলে কিছুটা পা ডুবিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে দেখেছিলাম। সেগুলিকে পরে শনাক্তও করতে পেরেছিলাম। সেই পাখিগুলির মধ্যে একটি ছিল বাটান যার কথা আগেই বিস্তারিত বলেছি। দ্বিতীয় যে পাখিটিকে দেখেছিলাম তার পায়ের রং ছিল হলদেটে সবুজ। আকারেও অন্য দুই প্রকারের থেকে বড়। এরাও পরিযায়ী পাখি। ইংরেজিতে এদের নাম ‘Greenshank’ বা ‘Common Greenshank’, বাংলায় অজয় হোম নাম লিখেছেন গোত্রা। এই পাখিটিকে স্থানীয়...
অভিমান করে নয়, সুরের সাধনাই তাঁকে প্রথমে কলকাতা এবং পরে মুম্বই নিয়ে গিয়েছিল। পিতা পড়ার জন্য নিয়ে গেলেন কলকাতা। সেখানেও সঙ্গীত সাধনা। খোলে গেল এক বিপুল সম্ভাবনার দিগন্ত। বাংলার মন জয়ের পর আকৃষ্ট হল মুম্বই। আরব সাগরের তীরে জীবনের শেষ অধ্যায়ে সাফল্যর শীর্ষে তিনি। ত্রিপুরার রাজপরিবারের কুমার শচীন হয়ে উঠলেন দেশের এসডি বর্মণ।
ফুলেরতল কিংবা লক্ষীপুরের প্রসঙ্গ উঠলে আনারস চাষের কথা না বললে চলে না। ফুলেরতলে চাষ হওয়া আনারসের স্বাদ অতুলনীয়। এখানে উৎপাদিত আনারস আকারে বড় হয়। এখানকার আনারস এখন সারা বিশ্বে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে। এই অঞ্চলের মারকুলিন এবং জিরিঘাটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বিস্তীর্ণ টিলাতে আনারস চাষ হয়। এই আনারস ক্ষেত বড়ই নয়নাভিরাম। দূর থেকে দেখতে খুবই সুন্দর। প্রায় আট হাজারেরও বেশি পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এই আনারস চাষের উপর।
বাংলায় এই পাখিটির নাম হল বাটান। ইংরেজিতে নাম ‘Spotted Redshank’। বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘Tringa erythropus’। বাটান পাখিটি হল সুন্দরবনের অন্যতম পরিযায়ী পাখি। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস হল সুন্দরবন অঞ্চলে এদের পরিযানের সময়। এদের মূল বাসস্থান হল উত্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়া, রাশিয়া এবং সাইবেরিয়া। এটা হল এদের প্রজননের অঞ্চল।
ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের দেওয়ালি মেলা ত্রিপুরার সবচেয়ে বড় মেলা। ত্রিপুরা ও দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বহুসংখ্যক পুণ্যার্থী মানুষ দিওয়ালি মেলা উপলক্ষ্যে এসময় উদয়পুরের মাতাবাড়ি অর্থাৎ ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে আসেন। মেলা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে মন্ডপ খোলা হয়। রাতভর নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হয়।
২০২২ সালে জানুয়ারি মাসে অর্থাৎ করোনাকালের শেষ দিকে সপরিবারে বকখালি ও ফ্রেজারগঞ্জ ভ্রমণে গিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে মাত্র ৩৯ কিলোমিটার। সুতরাং সকালবেলায় গিয়ে সারাদিন ঘুরে সন্ধেবেলা চলে আসা যায়। বকখালি পৌঁছে পূর্বদিকে যেদিকে এক সময় অসংখ্য ঝাউ গাছ ছিল কিন্তু আমফান ঝড়ের পর প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে সেই দিকে বেশ কিছুটা হাঁটতে নজরে এল ৫-৬টি পাখি সমুদ্র সৈকতে প্রায় হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে খাবার খুঁজছে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হল এই পাখিগুলোকেই ২০০৯ সালে ফ্রেজারগঞ্জে দেখেছিলাম। কিন্তু একটু এগিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্য করে...
একদিন রেকর্ড বের হল শচীনকর্তার। প্রথম রেকর্ড বের হয় হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি থেকে। এক পিঠে ছিল রাগপ্রধান গান ‘এ পথে আজ এসো প্রিয়া’। রেকর্ডের অপর পিঠে ছিল লোকগীতি ‘ডাকলে কোকিল রোজ বিহানে’। রেকর্ডটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শচীনকর্তাকে।
সম্ভবত ২০০৯ সাল। কলকাতা থেকে বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় এসেছেন ডিসেম্বরের শেষে। এই সময় আত্মীয় বন্ধু-বান্ধবরা এলে সাধারণত একদিন বরাদ্দ থাকে বকখালি ও ফ্রেজারগঞ্জ বেড়ানোর জন্য। সকাল সকাল রওনা দিয়ে বকখালির সৈকতে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে একটা হোটেলে লাঞ্চ সেরে নিলাম। তারপর গন্তব্য ফ্রেজারগঞ্জ সৈকত। ফ্রেজারগঞ্জ সৈকতে পৌঁছে আপন খেয়ালে উত্তর দিকে কিছুটা এগিয়ে যেতেই বেশ কিছুটা দূরে দেখি সমুদ্র সৈকতে আগে কখনও না-দেখা সাত-আটটি পাখি। অনেকটা দূরে বলে ভালো বুঝতে পারছিলাম না। কিছুটা এগিয়ে যেতেই চেহারাটা মোটামুটি নজরে এল।...
রাজার পর সাধারণত রাজপুত্রই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও ঘটে। আর এই ব্যতিক্রমী ঘটনার সূত্রেই একদিন ত্রিপুরা যাকে হারিয়েছিল পরবর্তী সময়ে তিনিই হয়ে উঠেছেন দেশবন্দিত সুরকার।
সুন্দরবনের যেখানেই জলজ আগাছা, কলমি, হিংচে, কচুরিপানা ইত্যাদি ভরা জলাশয় রয়েছে আর আশেপাশে প্রচুর ঝোপঝাড় রয়েছে সেখানে কাম পাখিদের থাকার সম্ভাবনা বেশি। তীরে ঝোপঝাড় রয়েছে এমন নদীর তীরেও দেখা যায়। অবশ্য সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে শৈশব থেকে ৩০ বছর অতিক্রান্ত করলেও কখনও কোনও কামপাখি নজরে পড়েনি। এইরকম জায়গায় এরা অনর্গল ছোট্ট লেজটাকে ওঠানামা করিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে খাবার-দাবার খুঁজে বেড়ায়। অনেক সময় ধানক্ষেতের মধ্যেও এদের দেখা যায়। স্বভাবে কিন্তু এরা ভীষণ ভীতু।
দুর্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা। তাই দুর্গাপূজার সঙ্গে যেন একটা যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ তৈরি হয়ে আছে সূচনা লগ্ন থেকেই। পুরাণ, কিংবদন্তী কিংবা ইতিহাসও তারই স্বাক্ষ্য দেয়। রাজ্যভ্রষ্ট রাজা সুরথ দেবীর পূজা করেছিলেন তাঁর রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য। আবার সীতাকে ফিরে পাবার জন্য রামচন্দ্র করেছিলেন দেবীর অকাল বোধন। সুদূর অতীতে রাজা-মহারাজা আর সম্পন্ন জমিদাররাই দুর্গাপূজা করতেন। কখনও যুদ্ধ জয়ের জন্য, কখনও রাজ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য কিংবা জমিদারী পরিচালনা নিষ্কন্টক রাখার জন্য দেবী দুর্গার আরাধনা হতো। কালক্রমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও...