রাজার পর সাধারণত রাজপুত্রই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও ঘটে। আর এই ব্যতিক্রমী ঘটনার সূত্রেই একদিন ত্রিপুরা যাকে হারিয়েছিল পরবর্তী সময়ে তিনিই হয়ে উঠেছেন দেশবন্দিত সুরকার।
রাজার পর সাধারণত রাজপুত্রই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও ঘটে। আর এই ব্যতিক্রমী ঘটনার সূত্রেই একদিন ত্রিপুরা যাকে হারিয়েছিল পরবর্তী সময়ে তিনিই হয়ে উঠেছেন দেশবন্দিত সুরকার।
অরিন্দম তার প্রগলভতায় বিস্মিত হন, হয়তো খানিক আকৃষ্ট-ও। তবে নায়কসুলভ তথাকথিত দুর্বলতার বিপরীতে তিনি তখন সংযত, ভদ্র, শিষ্ট। স্তব্ধ রাত, একাকী এক নারী ও রূপোলী দুনিয়ার হার্টথ্রব নায়ক, মুচমুচে গল্পের জন্য এর চেয়ে আকর্ষণীয় আর কী হতে পারে? মেয়েটি কি বিবাহিতা? এই প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটি ডুকরে কেঁদে ওঠে, বিচলিত অরিন্দম দু’ পা “এগোতেই” মেয়েটি খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে।
মহাপুরুষ ছবির শেষদৃশ্যটি মনে করুন। নায়কের ঠিক কীরকম পরিণতি হয়, রাতের অন্ধকারে তাড়া খেয়ে পাশে চতুর্ভুজ পঞ্চানন ‘কেবলানন্দ’ মহাদেবকে নিয়ে শূন্য গলির মোড়ের দিকে চলে যেতে হয়। বিরিঞ্চিবাবাকে নায়ক ভাবুন কিংবা না-ই ভাবুন, অরিন্দম চ্যাটার্জি নায়ক। নায়কের সংজ্ঞা ঠিক কী, সেই নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই।
আজ বাইশে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। রবীন্দ্রজন্ম-শতবর্ষে নির্মিত চলচ্চিত্র “মণিহারা”র কিছু দৃশ্য থাকল আজ। চলচ্চিত্রের দৃশ্যভাষায় বাঙ্ময় হয়ে ওঠা কিছু মুহূর্তের অধিবাস্তবতার নেপথ্যে জেগে থাকা দুর্জ্ঞেয় মনোলোকে আজ যাওয়া যাক। সেই মরজগৎ দেহাতীত অতীন্দ্রিয় অনুভূতির যূথীগন্ধে অশান্ত হয়, সেখানে করুণসুরে বিচ্ছেদের সুর বাজে।
সুকুমার রায় তথ্যচিত্রের একটি দৃশ্যে দেখা যায় এক পণ্ডিতমশাইকে। নেপথ্যে প্রাচ্য বনাম পাশ্চাত্যশিক্ষার দ্বন্দ্ব। হযবরলতেও এই দ্বন্দ্ব আছে। প্রসঙ্গটি বিতর্কিত। এ যেন সুকুমার রায়ের কবিতার সেই “খিলখিল্লির মুল্লুকেতে থাকত নাকি দুই বেড়াল/ একটা শুধােয় আরেকটাকে, “তুই বেড়াল, না মুই বেড়াল?”
আজ আমরা শিক্ষাঙ্গনে একটু উঁকি মারি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শিক্ষা মানুষ গড়ার একটি মাধ্যম। বিদ্যা আলোকগামী করে। প্রথমে প্রসন্ন গুরুমশায়ের পাঠশালায় ঢোকা যাক। অপুর পাঠশালায় প্রথম দিন। দাঁড়িপাল্লা হাতে গুরুমশাই দোকান সামলাতে সামলাতে কিছু ডিকটেশন দিচ্ছেন। তাঁর দৈনন্দিন দোকানদারি আর পাঠদানের মধ্যে সেতু বেঁধে দেয় নানা উচ্চ অনুচ্চ ধ্বনি, বিক্রিবাটা আর পড়াশোনা দুটোতেই তারা সমান অর্থবহ
রুকু, ভালো নাম রুক্মিণীকুমার ঘোষাল। লাল হাফ প্যান্ট, সঙ্গে চেক চেক ফুলস্লিভ শার্ট। তাকে প্রথম দেখা যাবে ঘোষালবাড়ির ছাদের কার্ণিসে দাঁড়িয়ে বন্দুক তাক করে ফায়ার করতে। এখন সে আমাদের সামনে, মুখে চিউয়িংগাম, ছাদের আধ-খোলা আধা-বন্ধ দরজার একটি আংশিক ভাঙা পাল্লার ফ্রেমের এপারে চিত্রবত্ দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে ফেলু, তোপসে, জটায়ু। কাশীর ঘোষালবাড়ির প্রশস্ত ছাদের একটি অংশে সিঁড়ি ভেঙে নেমে মোড় ঘুরে ক্যাপ্টেন স্পার্কের ঘর, রুকুর অন্দরমহল। এখানে সোজা পথে পৌঁছনো যায় না, বাঁক ঘুরে, সিঁড়ি ভেঙে গভীরে প্রবেশ করতে হয়।
মৃন্ময়ীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। নববধূর বেশে সকলকে লুকিয়ে রাতের বেলায় নদীর তীরে তার প্রমোদভূমিটিতে দোলনায় দুলে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সেই রথতলায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রথ, রথের কোন্ কোণটিতে পিঞ্জরগত চরকি, বটগাছের শাখা থেকে লম্বমান দোলনা, রাত্রির অপার্থিব মায়া, আলো আঁধারিতে সাজানো রহস্যময়ী ধরিত্রীর বুকে নিদ্রিত মৃন্ময়ীর মধ্যে জেগে থাকা মুক্ত প্রকৃতির ব্যঞ্জনাঘন দৃশ্যকাব্যের পরেও চরকিকে ভুলতে পারবেন না রসজ্ঞ দর্শক। ভুলবেন না রথের অনুষঙ্গটি।
পরশপাথর কিংবা শাখাপ্রশাখার প্রসঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠল যখন, তখন আরেকটি দৃশ্য দেখা যাক। দেখা যেতে পারতো জন-অরণ্য, দ্য মিডলম্যান, অথবা ঘরেবাইরে কিংবা নির্বাক ছবি ‘টু’, অথবা ‘সদগতি’ কিংবা অন্য কিছু। কিন্তু আজ আমরা বেছে নিলাম ‘মহাপুরুষ’।
১৯৫৮ থেকে ১৯৯০ সালের যাত্রাপথ। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পাওয়া পরশপাথরে যে জীবন, দেশ দুনিয়ার কথা, মোহমুক্ত হয়ে জীবনকে জয় করার কথা বলা হচ্ছে ১৯৯০ সালের ছবিতে আসন্ন মুক্ত অর্থনীতির দেশের স্বপ্নে আকাঙ্ক্ষায় আর একটা সহস্রাব্দের শেষ বিন্দুতে পৌঁছে এতদিনের বয়ে চলা, লালিত পালিত বোধ-বুদ্ধি, আদর্শ ও বিশ্বাসের পরিসরে সেই জীবনের জয়গান কি শোনা যাচ্ছে?
গণশত্রুর কথা মনে পড়ে? হেনরিক্ ইবসেনের “অ্যান এনিমি অব দ্য পিপল্” অবলম্বনে সত্যজিৎ রায়ের ছবি গণশত্রু। প্রথম ও শেষদৃশ্য। মফঃস্বল শহরের জনৈক চিকিৎসক, অশোক গুপ্ত বুঝতে পেরেছিলেন শহরে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। নামে অশোক, যিনি শোকোত্তীর্ণ, পদবীতে গুপ্ত। তাঁকে চেনা খানিক কঠিন নয় কি?
সত্যজিৎ রায়ের ছবির ‘ফ্রেম’গুলোর মধ্যেই আরও কতশত ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত কিংবা অনন্ত সমান্তরাল। সুকুমার রায় এককালে জীবনজুড়ে নানাবিধ খাবারের কথা বলেছিলেন ‘খাই খাই’তে। তাঁর ছেলের তৈরি চলচ্চিত্রগুলিকে দেখতে বসে প্রথমেই চোখ পড়ে গেল ওই দিকেই। খাদ্য আর তার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা উঠলে ‘অশনি সংকেত’ থেকে ‘শাখাপ্রশাখার’র টেবিলে বিস্তীর্ণ ভাতের গন্ধটুকু থেকে রকমারি খাদ্যের এটা ওটার মাঝেও সহসা টেবিলে তালে তালে সেই অদ্ভুত লোকটার চাপড় মনে পড়ে?
‘নায়ক’ ছবিতে উত্তমকুমারের মুখে পক্সের দাগ ছিল। সেই অবস্থায় শুটিং করতে তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু কীভাবে মেকআপ ছাড়া শট টেকিং করা হল সেই তথ্য আমাদের জানিয়েছেন চলচ্চিত্রাভিনেতা অধ্যাপক ড. শঙ্কর ঘোষ।
আজ খবরের শিরোনামে যে ‘আর জি কর হসপিটাল’, সেখানেই আনা হয়েছিল ছবি বিশ্বাসের মৃতদেহ। কিন্তু বরেণ্য শিল্পীর ময়নাতদন্ত করা হয়নি। সেই সম্পর্কে জানাচ্ছেন অভিনেতা-অধ্যাপক ড. শঙ্কর ঘোষ।
অপর্ণা সেন যে ভাবে সলিল দত্তের ছবিতে ঢুকলেন ‘অপরিচিত’ ছবির মাধ্যমে সেই তথ্য আমাদের জানিয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেতা অধ্যাপক ড. শঙ্কর ঘোষ।