কলকাতায় বৃষ্টি
ট্যাবে ফাইলটা আগেই লোড করে নিয়েছিল শাক্য। মূলত কিছু পড়ার জন্য সে ট্যাবটা ইউজ করে। ভীষণ আই-স্যুদিং। ব্ল্যাক কফিটা পেটে পড়ার পর একটু চাঙ্গা লাগছিল। আর দেরি করা ঠিক হবে না। ফাইলটা খুলে পড়তে-পড়তে মাথাটাকে ঘামাতে হবে। ইরাবতী নিশ্চয়ই ফাইলটা তৈরির সময় কেসটা নিয়ে ভেবেছেন। দুর্ধর্ষ ব্রেন ভদ্রমহিলার। বেশ কয়েকটি জটিল কেস এমন স্মুথলি হ্যান্ডেল করেছেন যে লালবাজারের গোয়েন্দা-পুলিশ বিভাগ গর্বিত। দেখা যাক, তাঁর রিপোর্ট থেকে কী ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

রিপোর্টের প্রথমেই যাঁর নাম, তিনি বর্তমানে মৃত। অনিলের সাধারণ পরিচয় হিসাবে লেখা— মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানি অর্কিড হেলইথ কেয়ার লিমিটেডের হাওড়া ব্রাঞ্চের এরিয়া ম্যানেজার। বাড়ি পার্ক সার্কাস। অবিবাহিত। অসমর্থিত সূত্র থেকে খবর, একটি মেয়েকে ভালবাসলেও তার অন্যত্র বিবাহ হয়ে যাওয়ায় সংসার করেনি। দক্ষিণ কলকাতার একটি প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে এমএসসি করে তারপর ফার্মাসি নিয়ে পড়েছে। মাইনেপত্র ভালোই। মদ্যপানের প্রতি প্রবল আসক্তি আছে। কৌমার্যব্রত পালন করে না। মাসে দু’বার অন্তত কলগার্ল হায়ার করে দূরের কোণ রিসর্টে ছুটি কাটিয়ে আসে। সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট না করলেও নিয়মিত উঁকিঝুঁকি মারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সমইয় নারীঘটিত একটি বাজে ব্যাপারে জড়িয়ে পড়ে। তবে কোন প্রভাবশালীর সাহায্যে মুক্তিও পায়। মাঝে একটি হোটেল-ব্যবসায়ে লগ্নি করেছিল। তবে পরে সে ব্যবসা ছেড়ে বেরিয়ে আসে। আর ও-পথে এগোয়নি। লোকটির ব্যাংক-অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস্‌ কিন্তু আয়ের অতিরিক্ত অর্থের কথা বলছে। খুব জাঁকজমকপূর্ণ জীবন কাটাতে অভ্যস্ত অনিলের অ্যাকাউন্টে মাঝেমধ্যেই বড় অংকের টাকা জমা পড়েছে। নিজেই জমা করেছে। ক্যাশ। টাকার সোর্স ধোঁয়াটে। কোন গোপন কাজকারবারে যুক্ত থাকা আশ্চর্যের নয়। কিংবা ব্ল্যাকমেল। কাউকে কি ব্ল্যাল্কমেল করত সে? কাকে? কী নিয়ে ব্ল্যাকমেল করত? পিশাচপাহাড়ে ট্রিপ করার পরিকল্পনা অনেকটাই অনিলের মস্তিষ্কপ্রসূত। তবে সম্ভবত জানত না যে, এখানেই তার নিয়তি অপেক্ষা করে আছে মৃত্যুদূত হয়ে। জানলে হয়ত ডেস্টিনেশন অন্য কোথাও হতো।
অনিল সম্পর্কে পড়ার পর শাক্য নিজের মনে প্রশ্ন সাজালো। এই রিপোর্টে অনিলের ফ্যামিলির কোন ডিটেইলস্‌ নেই। কেন? তার বাবা মা, দাদা ভাই বোন ইত্যাদি কেউ নেই? না কি থাকলেও তাঁদের সঙ্গে অনিলের কোনও সম্পর্ক ছিল না। না থাকলেও ইরাবতীর অন্তত উল্লেখ করা উচিত ছিল। যে মানুষটি নেই, তার সম্পর্কে জানতে হলে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব এঁদের দরকার। অনিলের ক্ষেত্রে তাহলে কার কাছে যাবে সে? তাছাড়া অনিল কোণ এক হোটেল ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার সেই ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে কিছু লেখা নেই। তাছাড়া হোটেলটা কোথায়? এখনও তার অস্তিত্ব আছে কি? এমন নয়তো যে, হোটেল ব্যবসা প্রত্যক্ষভাবে ছেড়ে দিলেও অন্যভাবে যুক্ত ছিল সে। সেই ‘অন্য’টি কীভাবে তা জানতে হবে। অনিলের মির্ত্যু নেহাতই আকস্মিক ব্যাপার নাকি পূর্বপরিকল্পিত, তা জানার জন্য এই তথ্যগুলি জানা দরকার। আর তার ওই টাকার উৎস। ইয়াবতী যে পরিমাণ টাকার কথা উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করেছেন, তা কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। তাও তিন-চার মাস অন্তর। অনিলের এই নিয়মিত টাকার উৎস কী ছিল?

পরের নাম অরণ্যের, যে এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে দক্ষিণ কলকাতার একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অনিলের কলেজ-জীবনের বন্ধু। বাবার অগাধ পয়সা। বাবা একসময় পার্টি-পলিটিকস করতেন। মন্ত্রীও হয়েছিলেন একটা টার্মের জন্য। পরে রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসায় মন দেন। এক দিদি আছে। বিবাহের পর সে দেশের বাইরে থাকে। বাড়িতে আছেন মা এবং এক বিধবা পিসি। অরণ্য নিজে একটি মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানিতে চাকরি করেছে কিছুদিন। পরে সেখানে মন না বসায় নিজের একটি জিম খুলেছে। জিম তার প্যাশান। বর্তমানে তার আয়ের অন্যতম উৎসই হল জিম। পাশাপাশি স্পাও আছে। পার্ক স্ট্রিটের মতো নামি জায়গায় তার জিম অ্যান্ড স্পা। একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে। বিবাহ না করলেও রাতের পর রাত বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটানো তার হবি। বিবাহিত মহিলাদের সঙ্গে হুকআপের জন্য বেশ কয়েকবার ঝামেলার মুঝোমুখি হয়েছে। খুনের হুমকিও পেয়েছে। উভকামী। একইসঙ্গে ছেলেদের সঙ্গেও সে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ত। সোশ্যাল মিডিয়ায়ে অর্দ্ধনগ্ন ছবি, ওনলি ফ্যানসের মতো বিতর্কিত সাইটে নিজের নগ্ন ছবি দিয়ে সে কাস্টমারদের অ্যাট্রাক্ট করে। এক রাত কাটানোর চার্জ অনেক। ছেলেদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। পিশাচ পাহাড়েও যার সঙ্গে এসেছে, সেই তৃধাও বিবাহিত। তবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সূত্রে বহুকালের বন্ধু। কোণ ভালোবাসার সম্পর্কে নয়, নিতান্ত জৈবিক তাড়নাতেই এখানে আসা উভয়ের। ব্লু-ফিল্মে অভিনয় করেছে বলে শোনা যায়। যদিও সেই ফুটেজ মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নারীঘটিত কোনও কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালী বাবার চেষ্টায় অভিযোগ থেকে মুক্তিও পায়। তারপর কিছুকাল বিদেশে চলে যায়। এক বছর পরে ফিরে এসে স্টাডি শেষ করে। খোলামেলা স্বভাবের। নিজের চরিত্র সম্পর্কে রাখঢাক করে না। অনেক শত্রু থাকা আশ্চর্যের নয়। পিশাচপাহাড়ে যাওয়ার ব্যাপারে তেমন সায় ছিল না। তবে পাকেচক্রে পড়ে রাজি হয়।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৭: চন্দ্রবোড়া

শাক্য একটু থামল। ইরাবতী যখন এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন, তখন অনিল মারা গেলেও অরণ্য জীবিত। আচ্ছা, অরণ্যের বাবা জীবিত আছেন? সম্ভবত, না। তাহলে ইরাবতী উল্লেখ করতেন। তার চেয়েও বড় কথা, ভদ্রলোক নিজের পুরাতন কানেকশন ব্যবহার করে নিজের ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু একটা জায়গায় খটকা লাগছে। ইরাবতী অরণ্যের পিসির উল্লেখ করার সময় ‘বিধবা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তাহলে অরণ্যের মায়ের সম্পর্কে বলতে গিয়ে ‘বিধবা’ শব্দটি ব্যবহার করলেন না কেন? তাহলে কি ভদ্রলোক জীবিত কিন্তু এতটাই অসুস্থ যে, ছেলের এ-হেন অবস্থায় সাহায্য করার মতো উপায় নেই! তাছাড়া বাবার ব্যবসাপাতি গুলি কি এখনও আছে? থাকলে তার দেখভাল কে করে? ইরাবতী কি ওই দিকটা ভেবে দেখেননি? জানতে হবে। সব উত্তর না পেলে তদন্ত ঠিক পথে এগোবে না।

পরের নাম আর্য। ইরাবতী আগে পুরুষদের ধরেছেন। পরে এসেছেন মহিলারা। আর্য মোটামুটি সাহিত্যজগতে নাম আছে এমন একজন কবি, সেইসঙ্গে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সংবাদপত্রে ফিচার লেখে। বনেদি বাড়ির ছেলে। পড়তি অবস্থা যদিও। অধ্যাপক বাবা আগেই মারা গিয়েছেন। মা স্কুলটিচার। নিজে কিছু না করলেও যেহেতু ফিনান্সিয়াল ব্যাকআপ আছে, ফলে সে কিছুটা বোহেমিয়ান জীবনযাপন করে। তার সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন কিছুটা ভিন্ন। এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় লাইফে তাকে নানারকম বুলিং-এর শিকার হতে হয়েছে। তবে তার বন্ধুবৃত্তের মধ্যে অনিল, অরণ্য, তৃধা, উন্মেষার মতো আলাদা-আলাদা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা মানুষেরা কেমন করে যেন জড়িয়ে গিয়েছে। এমনিতে প্রাণোচ্ছ্বল, কিন্তু মাঝেমাঝে মুড স্যুইং করে। তখন সে একেবারে আলাদা রকম আচরণ করে।

সাম্প্রতিককালে তার অ্যাকাউন্টে জনৈক হর্ষ বটব্যাল তিন লক্ষ টাকা জমা করেছেন। ঝাড়খণ্ডের কোন ব্রাঞ্চ থেকে ট্রানইজাকশন হয়েছে। কারণ অজানা। হর্ষ বটব্যালের পাতাঠিকানা জোগাড়ের কাজ চলছে। পেলে কী কারণে এত বড় মাপের টাকাকড়ি লেনদেনের কারণ বোঝা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় লাইফে আর্যও একই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিল। তবে সম্ভবত সরাসরি সে যুক্ত ছিল না। দলে থাকতে পারে। কিন্তু তার সাক্ষ্য বাকিদের নিরাপদ মুক্তিতে সাহায্য করেছিল বলে সকলের মনেই তার জন্য সফট্‌ কর্ণার আছে। বিশেষ করে উন্মেষার মনে। উন্মেষার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক আর্যর। কিন্তু তৃধার সঙ্গে সম্পর্ক একটু জটিল। তৃধা আদৌ পছন্দ করে কিনা তাকে তা নিয়ে মতভেদ আছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক বন্ধু। তাদের অধিকাংশই কবি-লেখক। কিন্তু ভিন্ন নামে একটি ফেক অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গেছে, সেখানে সকলেই তার কমিউনিটির বন্ধুবান্ধব। তাদের অনেকের সঙ্গে সে ওয়ান নাইট স্ট্যাণ্ড রিলেশনেও গিয়েছে। চ্যাট থেকে তার ভুরু ভুরি প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। পিশাচ পাহাড়ে আসার ব্যাপারে প্রথম থেকেই উৎসাহী ছিল। যদিও তার মা তার ট্যুর প্রোমোট করেননি। অঞ্জন সাক্সেনা, উন্মেষার বস কাম উড বি হাজব্যান্ড তার হয়ে টাকাটা দেয়। অনিলও কিছু সাহায্য করেছিল। অনিলের সঙ্গে আর্যর অন্য কোন সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। তবে সেটা যৌনতার নয়, অন্য কিছু। অনিল মারা যাওয়াতে অবশ্য সে খুব একটা আপসেট হয়নি। অন্তত তার চ্যাট থেকে এই মনোভাবের প্রমাণও মেলে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭২ : ঘটজাতক/৭ : ধরি ধরি মনে করি

আর্য সম্পর্কে আর কিছু নেই। একটা ব্যাপার আশ্চর্য লাগল শাক্যর। অনিল, অরণ্য, আর্য, তৃধা, উন্মেষা সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বন্ধুত্ব বজায় রেখে চলেছে, কিন্তু বাইরে থেকে যতই ভালো লাগুক না কেন, তাদের বন্ধুত্বের ভিতটা কোঠাও যেন নড়বড়ে। অনিলের মৃত্যুতে সকলের ঔদাসীন্য মনে এমন প্রশ্নের জন্ম দেয়। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আর্যর সাক্ষীতে বাকিরা নিরপরাধ প্রমাণিত হয় অংশটা হাইলাইট করেছেন ইরাবতী। তারও মনে প্রশ্ন জেগেছে জায়গাটি পড়ে। আর্য কেন মিথ্যে সাক্ষী দিয়েছিল? বন্ধুত্বের খাতিরে নাকি অন্য কোণ প্রলোভনে? হর্ষ বটব্যাল নামের লোকটি তিন লক্ষ টাকা কেনি বা পাঠাতে গেল তাকে? সে এমন কোণ বড় মাপের ফ্রিল্যান্সিং করে না যে, তাকে অ্যাডভান্স টাকা দিয়ে কেউ হায়ার করবে। আর্যর এই টাকা পাওয়ার কথা তার বন্ধুরা জানে? নিশ্চয়ই নয়। সে ফিরে আসার পর তার সঙ্গে কথা বলার সময় বরং মনে হয়েছিল, ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি নিয়ে সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তাছাড়া তার হঠাৎ অন্তর্ধান, ম্ররুত্যুর গুজব রটা এবং তারপরে হঠাৎ ফিরে আসার গোটা পর্বটাই রহস্যময়। আচ্ছে, তাকে যদি আটকে রাখা হয়েছিল ধরে নেওয়া যায়, তাহলে কেন আটকে রাখা হয়েছিল? অনিলের মৃত্যু হবে বলে কি? কোথায় বা আটকে রাখা হয়েছিল? যেখানে সত্যব্রতকে আটকে রাখা হয়েছিল সেখানে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানা খুব জরুরি।

পরের নামটি অঞ্জন সাকসেনার। এদের মধ্যে একমাত্র অঞ্জন সাকসেনাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু নয়। উন্মেষার ইমিডিয়েট বস হিসেবেই তার পরিচিতি। তবে অনেকদিন যাবৎ পরিচয়ের সূত্রে এখন অঞ্জনকে প্রায় বন্ধুই বলা যায়। বিবাহিত। একটী বাচ্চা আছে। বাড়ি সাউথ ক্যালকাটার প্রিন্স আনোয়ার শাহ, রোডে। তবে সেখানে এখন থাকে না। বর্তমানে সে থাকে পার্ক স্ট্রিটের একটি কমপ্লেক্সে। ভাড়ার বাড়ি। খুব তাড়াতাড়ি জোকার কাছে একটি কমপ্লেক্সে ফ্ল্যাট কিনে উঠে যাবে। বউয়ের সঙ্গে ডিভোর্সের মামলা আদালতের বিচারাধীন। ডিভোর্স পেলেই বিয়ে করবে। তারপর উন্মেষার সঙ্গে জোকার ফ্ল্যাটেই থাকবে ঠিক আছে। পার্টি ম্যান। শহরের নাইট ক্লাবগুলিতে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। তবে উন্মেষার সঙ্গে নয়। একাধিক নারী সঙ্গী থাকলেও এবং তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থাকলেও উন্মেষাকে সে সত্যিকারের ভালোবাসে। কারণ আজ অবধি উন্মেষার সঙ্গে কোনও জোরজবরদস্তি করার কোন খবর পাওয়া যায় নি কোন সূত্র থেকেই।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

তবে উন্মেষা এই ট্রিপে শেষ পর্যন্ত কোণ কারণে আসতে চায়নি। অঞ্জনই তাকে রাজি করায়। সকলের সঙ্গে সে আসেনি। অঞ্জন নিজে বাইকে করে তাকে নিয়ে এসেছে। বাইকটা দামি এবং সম্প্রতি কেনা। লাখ চারেক টাকা দামের স্পোর্টস বাইক। অঞ্জন তার কোম্পানির সিইও। স্যালারি ভালোই। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে ভালোই পুঁজি জমিয়েছে। মাঝেমধ্যে রেসের মাঠে যায়। চায়না টাউনেও তাকে মাঝেমধ্যে যেতে দেখা গিয়েছে। সেখানে কোনও একটি বিশেষ বারে সে মাসে একবার হলেও যায়। অবৈধ নেশার বস্তু পাওয়া যায় বলে বারটির বদনাম আছে। বেশ কয়েকবার রেইড হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। এমন কোন কায়দা আছে, যা সহজে ধরা যায় না, কিন্তু সেইভাবেই নেশার বস্তু চালান করা হয়। ওই বারে ড্রেস কোড আছে। শীত-গ্রীষ্ম সবসময়েই সাদা রঙের কোট পরেই যাওয়া যায়। অন্য কোন কালারের কোট পরলে এন্ট্রি দেওয়া হয় না। বারটির নামও হোয়য়াইট কোট। সম্ভবত সেজন্যই এইরকম একটা ব্যবস্থা। তবে উন্মেষাকে কখনও সেখানে যেতে দেখা যায়নি। কিন্তু অরণ্যকে গিয়েছে। অঞ্জনের সঙ্গেই সে একদিন ওই বারে গিয়েছিল বলে পুলিশের কাছে খবর এসেছে। তবে নেশাটেশা করেছে কিনা, তা জানা যায়নি। তার নামে নারীঘটিত কিংবা অন্য কোন স্ক্যান্ডাল নেই। আর্যের প্রতিতার একটা আলাদা ফ্যাসিনেশন আছে। সেটা কতটা উন্মেষার জন্য তা বোঝা যায় না। তবে আর্যকে মাঝেমধ্যেই সে সাহায্য করে থাকে, আর্থিক সাহায্য। কারণ, অঞ্জন নিজে বাঙালি না হলেও বাঙ্গালার সাহিত্যিক এবং শিল্পীদের খুব রেসপেক্ট করে। মনে করে, ভারতবর্ষে যত সাহিত্যের চর্চা হয়, বাংলার লেখকদের চেয়ে অন্য ভাষার কবি-সাহিত্যিকেরা কেউ এমন উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনা করতে পারেন না।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহালয়া

শাক্য রিপোর্টটা পড়ে ভাবলো, তবে কি একমাত্র অঞ্জনকেই ক্লিনচিট দিতে হয়? কারণ, তার সঙ্গে অনিল কিংবা অরণ্যের কোনও পূর্বশত্রুতা থাকবার কথা নয়। যেহেতু উন্মেষার চাকরি পাওয়ার আগে পর্যন্ত বাকিদের সঙ্গে অঞ্জনের কোন আলাপ-পরিচয় ছিল না। আবার আলাপ-পরিচয় থাকলেও আর্য ছাড়া আর কারুর সঙ্গে অঞ্জনের কোনওরকম বন্ডিং আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু উন্মেষা এখানে আসতে রাজি নয় জেনেও কেন অঞ্জন নিজে উদ্যোগী হয়ে এখানে তাকে নিয়ে এল, এবং উন্মেষাও রাজি হল, এটা বোঝা যাচ্ছে না। তাছাড়া ইন্টারোগেশনের সময় উন্মেষা কিংবা অঞ্জন কেউই একবারও বলেনি যে, উন্মেষাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে। কিন্তু কেন? উন্মেষার কলেজ জীবনের বন্ধুদের মিলিত ট্রিপ। তার না-আসার কারণ কী? উড বি হাজব্যান্ড কিংবা ফিয়াসেঁর সঙ্গে প্রি-হানিমুন কাটানোয় আপত্তি? তাছাড়া অঞ্জনের বাংলা সাহিত্যপ্রেম এবং সেই সূত্রে আর্যকে মাথায় করে রাখার গল্পটা অতিরঞ্জিত মনে হচ্ছে। খবরি অন্তত এই খবরটা সাতকাহন করে বলেছে ইরাবতীকে। কিন্তু কিছু একটা সম্পর্ক কিংবা উদ্দেশ্য তো আছে। নাহলে শেয়ার বাজারের লগ্নিকারী এবং বিরাট কোম্পানির ব্যস্ত সিইও এমনি-এমনি কারও পিছনে টাকা খরচ করবে, তা মনে হয় না। এই ব্যাপারটা ক্লিয়ার করতে হবে। —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content