কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

 

|| হার্ড ড্রাইভ-১৫ ||

ঈপ্সিতার বাবা শতদলবাবুকে একবার একজন ঠিকাদার মাছ আর মিষ্টি বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন। মা বিনীতা দেবীর ওপর কড়া হুকুম ছিল এইসব উপঢৌকন না নিতে। তখন ল্যান্ডলাইন। বিনীতার ফোন পেয়ে শতদল বাবু উপঢৌকন নিয়ে আসার লোকজনদের অফিসে ডেকে পাঠালেন। পুরনো মিউনিসিপ্যালিটি। একটা সস্তার লেবার ক্যান্টিন ছিল। অফিসার এবং চাকরিদের সকলেরই বাড়ির কাছাকাছি তারা বাড়িতে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে অফিসে আসতেন। এই রীতি বহুবছর চালু ছিল। সরকারি অফিসের ঢিলেঢালা মেজাজটা তখন সর্বত্র চালু ছিল। মাছ মিষ্টি সবকিছু লেবার ক্যান্টিনে পাঠিয়ে সেটা লেবারদের খাইয়ে দিয়েছিলেন শতদল বাবু। জানিয়েছিলেন অমুক ঠিকেদার বিবাহবার্ষিকীতে খুশি হয়ে খাওয়াচ্ছেন। এরপর থেকে আর কখনও কোন ঠিকাদার এসবের কথা স্বপ্নেও ভাবেনি।
আবার শাওয়ার খুলে দিয়েছে ঈপ্সিতা। মাথা মোছার পরেই দেওয়ালের র্যাসকে রাখা মোবাইলে মেসেজের শব্দ হয়েছিল। পুলকের ভয়েস মেসেজ দেখেই খুলে ফেলেছিল। ভয়েস মেসেজ শোনবার পরেই খুব দ্রুত হাত মুছে মেসেজটা নিজের অন্য ফোনে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছিল। ঈপ্সিতা জানতো কয়েক মুহূর্ত বাদেই পুলকের খেয়াল হবে এবং সে মেসেজটা ডিলিট করে দেবে। ঠিক তাই ঘটলো।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭২ : ঘটজাতক/৭ : ধরি ধরি মনে করি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

শাওয়ার জলের ধারা ঈপ্সিতার চোখের জলকে ভাসিয়ে দিচ্ছিল। পুলক এই ভয়েস মেসেজে সরাসরি হুমকি দিয়েছে। নাম করে শাসিয়েছে পুলক! পুলকের নিশ্চিত মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে! স্নান সেরে কিছু খাবার পর শান্ত হয়ে বসতেই টেক্সট মেসেজ এলো পুলকের।
— তুমি কোথায়?
— মায়ের কাছে।
— আমি বাড়ি ফিরেছি!
— হঠাৎ? এখন ফিরেছ কেন?
— দিল্লি যেতে হবে। HUA Minister এর জরুরি তলব!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

মহালয়া

মন্ত্রীর বৌ, HUA মানে যে হাউসিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট সেটা বিলক্ষণ জানে!
— ফ্লাইট কটায়? রাত নটায়!
— পৌঁছবে কটায়?
— লেট না হলে পৌনে দু’ ঘণ্টা?
— কিসে যাচ্ছো?
— টিকিট পাঠিয়েছি!
— আমি দেখিনি! ফিরবে কবে।
— বোধহয় পরশু!
— বেডরুমে তোমার ব্রিফকেস গোছানো আছে।
— পেয়েছি।
— আগে জানলে আমি সোজা বাড়ি আসতাম!
— অসুবিধা নেই আমি এক্ষুনি বেরিয়ে যাচ্ছি। বাই! বিরূপাক্ষকে বলা আছে কোনওরকম অসুবিধা হলেই ওকে ফোন করো সেটা সকাল দুপুর রাত যখনই হোক! তোমার আলমারি থেকে কিছু টাকা রেখে গেলাম।
— আমি তাহলে মায়ের এখানেই থাকছি। তুমি যেদিন ফিরবে সেদিন চলে আসব। কিচেনের বাসন সকালেই ধুয়ে গিয়েছে! ফ্রিজে মাছ সবজি আছে।ফ্রিজ যেমন চলছে চলুক! ডোরবেলের সুইচ অফ করে দিও আর বেরোবার আগে ঘরের জানালাগুলো একবার চেক করে নিও। হ্যাঁ মেইন ডোরটা ঠিক করে লক করো! বাই টেক কেয়ার!
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

ঈপ্সিতা হোয়াটসঅ্যাপ খুলে দেখলো এয়ার ইন্ডিয়া এআই ২৭০৮ রাত ন’টার ফ্লাইট। দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা রাত ১১:৩৫। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনও কিছু আগে থেকে ঠিক থাকে না। আচমকা জরুরি দরকার এভাবেই বেরিয়ে যেতে হয়। তাই কেবিন ব্যাগ গোছানোই থাকে। দু-তিন দিনের বেশি বাইরে থাকতে হয় না।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: চন্দ্রবোড়া

একটু আগে পুলকের ফোনটা পেয়ে মনটা আচমকা ভিজে গেল ঈপ্সিতার। হঠাৎ করে মনে হল একটু আগে ফোনে তার সঙ্গে সেই চন্দননগরের পুলক কথা বলছিল। মাঝখানের এতগুলো বছরের সাফল্য। বৈভব। আদর্শচ্যুতি। একটু একটু করে সম্পর্কের দেওয়ালে আঁচড় কেটেছে। সম্পর্কের মেরামতি না হলে সেখানে ফাটল ধরে। সেই ফাটল দিয়ে সময়ের জল ঢুকে দেয়ালের সিমেন্ট বালি ইটের গায়ে ক্ষয় ধরিয়ে দেয়। নিজেদের অজান্তে দেওয়া সম্পর্কের গাঁথুনি, ভিত সবই একদিন অজান্তেই আলগা হয়ে যায়।
পরদিন ভোরবেলা মা ঘুম থেকে জাগালো!
— বুড়ু ওঠ!! দ্যাখ কী কাণ্ড হয়েছে! —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content