কলকাতায় বৃষ্টি
শাক্য ভিতরে-ভিতরে একটু অস্থির হয়ে উঠেছিল। কালাদেওর গুহায় তাদের অভিযানের রেশ কাটতে-না-কাটতেই এভাবে অরণ্য বসুরায়ের উপর আক্রমণ হবে, তা সে ভাবতে পারেনি। তার মনে হয়েছিল, কয়েকটা দিন অন্তত কালপ্রিটেরা চুপ করে বসে থাকবে। কিন্তু ওরা যেভাবে ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো আক্রমণ শানাচ্ছে, তাতে একটা জিনিস স্পষ্ট হচ্ছে যে, ওরা খুব চাপে আছে। কিছুতেই আর সময় নষ্ট করতে রাজি নয় ওরা। শাক্যর মন বলছিল, ওরা প্রত্যাঘাত হানবে। কিন্তু তা যে অরণ্য বাবুর উপরে এভাবে আঘাত করে শুরু হবে, তা ধরতে পারেনি। নিজের উপর আক্ষেপ হচ্ছে। সে ভেবেছিল, রিসর্টের উপর থেকে নজরদারি তুলে নিলে, আসল কালপ্রিট যদি কেউ ওই টিমের ভিতরেই থেকে থাকে, সে অসতর্ক মুহূর্তে হলেও নিজের দুর্বলতা-সমেত ধরা দেবে। কিন্তু উল্টোটাই হল। নজরদারি থাকলে আজ অরণ্যকে এভাবে আক্রান্ত হতে হত না। আইসিইউর অনতিদূরে এই যে সে, সুদীপ্ত, আফজলকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আজ এখন তার এই কাজ করার কথা ছিল না। সে ভেবেছিল, ইরাবতীর পাঠানো ফাইল পড়বে। কিন্তু ম্যান প্রোপোজেস, গড…!

সুদীপ্ত ভেবেছিল রেস্ট নেবে ক’দিন, বেশ ধকল গিয়েছে পিশাচপাহাড় হেলথ সেন্টার চেজের ঘটনায়, কিন্তু আজ সকালের ঘটনা শুনে সে ছুটে এসেছে। সঙ্গে আফজল নামের ছেলেটিও আছে। আফজল-ও বেশ করিতকর্মা। এক ওই মালাকার ছাড়া এই থানার বাকি সকলের দক্ষতা এবং উদ্যম নিয়ে শাক্যর কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু মালাকার যেন গা-ছেড়ে দিয়েছেন আগে থেকেই। এত কিছুর পরেও তাঁর বিশ্বাস, কালাদেওই এত কিছুর হোতা। কিছুক্ষণ আগেও তার কানের কাছে সেই ব্যাপারে বকবক করছিলেন। পিশাচপাহাড় গুহায় অভিযানের পরে কালাদেও আরও ক্ষেপে উঠেছেন এবং সে-জন্যই ভোরবেলা অরণ্যবাবুর উপর এই আক্রমণ! তাঁর মতে, ওই গুহাই যা-ই হোক না কেন, কালাদেওওর তাতে যখন অসুবিধা ছিল না, তখন পুলিশের সেখানে পা রাখা মোটেই উচিত কাজ হয়নি। এইরকম বকবক করে চলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত শাক্য বলেই ফেলল, “আপনি তো পুলিশের কাজ ছেড়ে দিয়ে তান্ত্রিক-টান্ত্রিক হয়ে যেতে পারেন!”
মালাকার একটু থমকে গেলেন। মুখ অন্ধকার করে বললেন, “কেন এমন কথা বলছেন?”
“আপনি যেভাবে ভূতপ্রেত, তন্ত্রমন্ত্র, মারণ-উচাটনের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন, তাতে আপনাকে সরকারি আরক্ষা-বিভাগের কেউ বলে তো মনে হচ্ছে না!” একটু কড়া গলাতেই বলেছিল শাক্য।
“আপনারা কলকাতার মানুষ। মফস্সলের এ-সব বিশ্বাসের পিছনে যে কত বড় সত্যি লুকিয়ে আছে, তা জানবেন কীভাবে?”
“সত্য যা, তা সব জায়গাতেই সমান মিঃ মালাকার! যে পিশাচ বা প্রেত কলকাতাতে নেই, তা এখানেও নেই। কেবল বেশিমাত্রায় আছে আদিম বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসকে এ-যুগে যাঁরা বয়ে নিয়ে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে আপনি অন্যতম! অথচ আপনার ভূমিকা নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন ছিল। যাক্ গে, আপনি থানায় ফিরে যান। আমি সুদীপ্ত আর তার সঙ্গে যে ছেলেটি হেলথ-সেন্টারে গিয়েছিল, সেই আফজলকে পাঠাতে অনুরোধ করছি!”
মালাকার বেজার মুখে বললেন, “আমার চেয়ে ওদের আপনার বিশ্বাসভাজন বলে মনে হল?”
“হ্যাঁ, হল। আর তার কারণটাও আপনি জানেন। কী জানেন না?” বলে তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে মালাকারের দিকে তাকাল।
“আপনার সব কিছুতেই বাঁকা কথা মশাই! আপনি কে আমাকে হুকুম করার? আপনি বললেই সুদীপ্ত আর আফজলকে পাঠাতে হবে?”
“হবে। কারণ, এই সমস্ত কেসের তদন্ত আপনাকে দিয়ে হয়নি বলেই, কলকাতা থেকে আমাকে পাঠানো হয়েছে। আপনি মেইল পেয়ে গিয়েছেন বুঝতে পারছি, কিন্তু পড়ে দেখেননি। দেখলে সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে দেখতে পেতেন, এই কেসে আমি আমার চোখে যথেষ্ট যোগ্য এবং উদ্যমী অফিসার খুঁজে নেব। আর এক বা একাধিক অফিসার আমার লাগুক, আপনাকে বললে আপনি তা দিতে বাধ্য! তারপরেও আপনি যেভাবে আমাকে প্রায় হুমকির সুরে কত্যহা বলছেন, আমি কিন্তু সেটা ভালোভাবে নিচ্ছি না! আমি চাইলে এক্ষুনি ডিএম সাহেবকে ফোন করে বলতে পারি সব। তখন শেষবয়সে পৌঁছে উল্টাসিধে কথা শুনতে হবে। ভালো লাগে আপনার এ-সব শুনতে?”
মালাকার রাগে ফুঁসতে লাগলেন। কোন জবাব দিলেন না শাক্যর জিজ্ঞাসার।
শাক্য বলল, “যাই হোক, যদি এরপর থেকে আর কোনওদিন এমন কিছু করেন কিংবা আমাকে মেজাজ দেখান, তাহলে আমিও কিন্তু উল্টো মেজাজ দেখাব। আর সেইসঙ্গেই কলকাতায় ফিরেই যথাস্থানে আপনার নামে রিপোর্ট দেব। যান, অযথা তর্ক করবেন না। এখন যা বললাম, সেই অনুযায়ী কাজ করুন। বাকি নির্দেশ আপনি হেড-কোয়াটার্স থেকে ঠিক পেয়ে যাবেন।”
মালাকার শ্রাবণ-সন্ধ্যার মতো মুখ করে চলে গিয়েছিলেন। তারপরেই সুদীপ্ত আর আফজলকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গেই লম্বা করিডোরের একপ্রান্তে গিয়ে আলাপ-আলোচনা করছিল শাক্য।
সুদীপ্ত বলল, “স্যার, আমি ভেবেছিলাম, দুষ্কৃতিদের ইন্টারোগেশনের কাজটা শুরু করব আজ থেকেই। কিন্তু এখানে আসতে হল বলে…”
শাক্য বলল, “বুঝতে পারছি সুদীপ্ত। যারা অলরেডি ধরা পড়েছে, তাদের ইন্টারোগেশন করাটা ইমিডিয়েট দরকার। অবশ্য সাইকেল মাহাতো অ্যান্ড কোং-এর ইন্টারোগেশনের কাজ চলছে। এসপি নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত দু’জন পুলিশ অফিসারকে ইতিমধ্যেই এই কাজেডেপুট করা হয়েছে। আমি অবশ্য একটা কোয়েশ্চেনিয়ার তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছি এসপি সাহেবকে। আমি থাকলে যে-যে পয়েন্টস্গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতাম, সেগুলিই আর-কি…”
“বুঝেছি স্যার। এখানেও ওদের ইন্টারোগেশনের জন্য ওইরকম একটা কোয়েশ্চেনিয়ার তৈরি করে দিলে ভালো হতো।”
“তোমাদের দুজনের উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে সুদীপ্ত। তাছাড়া এখানে ইন্টারোগেশনের সময় আমি নিজে উপস্থিত থাকব ভেবেছিলাম। সেজন্য আর কিছু সাজেস্ট করিনি।”
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৫: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৫

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

আফজল শুনছিল। সে বলল, “ডোন্ট মাইন্ড স্যার। এখানে যারা ধরা পড়েছে, তারা নেহাতই চুনোপুঁটি। এদের মাথা কিংবা মাথারা এখনও ধরা পড়েনি। আমাদের দুটি টিমে ভাগ হয়ে গিয়ে কাজ করাটাই এখন ঠিক বলে মনে হয়। একদল ইন্টারোগেশন করবে, আর সেই ইনফো আর-এক দলকে দেবে। অন্য দল তার বেসিসে মাথাদের ধরার চেষ্টা করবে। আমার মতে এভাবে এগোলেই এই কেসে সাফল্য আসা সম্ভব!”
“ব্রেভো আফজল। এইজন্যই বললাম সুদীপ্তকে, তোমাদের দুজনের উপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমিও সেটাই ভেবেছিলাম। প্রথম দিন কেবল এখানে থাকতে চাইছিলাম, কাল হয়ত আমাকে সদরে যেতে হত। কারণ, সাইকেল মাহাতো যা জানে, এই চুনোপুঁটিরা তার কিছুই জানে না। আমার বিশ্বাস, এরা কেবল টাকার বিনিময়ে কাজ করা ক্রিমিন্যাল। এরা ধরা পড়লে, মাথা নয়, হয়ত ওই সাইকেল মাহাতো পর্যন্তই পৌঁছবো আমরা।”
সুদীপ্ত বলল, “মানে, আপনি বলতে চাইছেন, এরা ইন্টারোগেশনের সময় এদের নিয়োগকর্তা হিসাবে সাইকেল মাহাতোর নামই বলবে?”
“আমার তেমনই মনে হয়। কারণ, এই দলের জেনারেল ট্রেন্ড বলছে, এদের মাথা কিংবা মাথারা নিজেরা সেফ পজিশনে থেকে খেলাটা খেলছে। আর এদের মিডিয়েটর হিসেবে কাজ করছে সাইকেল।”
“তাহলে তো সাইকেলকে ধরলেই মাথা পর্যন্ত পৌঁছনো যাবে!” আফজল বলল।
“আপাতদৃষ্টিতে তেমনই মনে হচ্ছে বটে, তবে আসল ব্যাপার এতটা সহজ না-ও হতে পারে…”
“মানে?” আফজল জিজ্ঞাসা করল।
“মানেটা হল, সাইকেলকে মুখ খোলানো সহজ হবে না। তারপরেও ধরলাম, সে পুলিশি জেরার চাপে ভেঙে পড়ে তার প্রভুর নাম বলে দিল। প্রভুকে কোনভাবে আমরা ধরলামও। কিন্তু…”
“কিন্তু?”
“কিন্তু আমার সন্দেহ হচ্ছে যে, প্রভুকে ধরে নিশ্চিন্ত হলে আমরা হয়তো ভুল করব। কারণ, অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, সবাই যাকে প্রভু ভাবছে, তার উপরেও আর একজন সুপার বস আছে, যেই সকল নাটের গুরু। এক্ষেত্রে যে তেমন আছে, তা বলছি না, তবে সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই হবে। সাইকেল একটা নাম বলল আর আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে হাত তুলে নাচলাম এই বলে যে, আসল কালপ্রিট ধরা পড়েছে, এই ব্যাপারটা সত্যি না-ও হতে পারে!”
“বুঝেছি স্যার,” আফজল বলল।
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

মহাকাব্যের কথকতা পর্ব-১৭০: রাবণ কে? রামায়ণের রাবণ কী আজও নেই?

সুদীপ্ত বলল, “কিন্তু স্যার, এই অরণ্য বাবুর উপর মার্ডার অ্যাটেম্পট্-এর ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগছে। যখন কালাদেওর গুহায় অভিযান চালিয়ে ইল্লিগাল গান এটসেটরা পেয়েছি আমরা, এবং নিশ্চিন্ত হচ্ছি এই বলে যে, গোটা ব্যাপারটা ম্যান মেড, ভূত-প্রেতের গপ্পো স্রেফ বোগাস্, তখন সাবধান হওয়ার পরিবর্তে অরণ্যবাবুর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এই অ্যাটেম্পট্ কোয়াইট আন-ন্যাচারাল!”
আফজল বলল, “হ্যাঁ স্যার, আমারও একই জিজ্ঞাসা। এতটা ডেসপারেট হতে গেল কেন এরা? এখন তো ক্যামাফ্লেজ করে এদের কিছুদিনের জন্য আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়ার কথা! এই-ব্যাপারটা আমিও ঠিক মেলাতে পারছি না।”
শাক্য বলল, “খটকা যে আমার মনেও জাগেনি তা নয়। তবে খটকা জাগলে আমি মনে করি, তা দূর করার সমাধানও আছে। একটা কথা আমার মনে হয়েছে, কালাদেওর কেভে আমাদের অভিযান এদের কোণঠাসা করে দিয়েছে এমনভাবে যে, এরা মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা চালিয়েছে, যাতে আমরা এদের শক্তিকে খাটো করে না দেখি। যদিও এমনও হতে পারে, এরা কালাদেও মিথকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে এমনটা করেছে। কারণ, এরা কমন হিউম্যান সাইকোলজির ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। তারা জানে, পুলিশ কিছুদিন ধরপাকড় করবে, নাড়াচাড়া করবে, দু-একজন চুনোপুঁটিকে গ্রেফতার করে ভাববে অপরাধের শেকড়সুদ্ধ উপড়ে ফেলেছে। ততদিন আসল মাথারা আড়ালে ঠান্ডাঘরে আত্মগোপন করে থাকবে। তারপর অবস্থা একটু থিতিয়ে এলে, আবার দলকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলবে। এই ব্যাপারগুলি এতটাই কমন প্র্যাকটিস যে, তোমাদেরও না-জানা নয়। এখন লোকের মনে যদি এই ভয়টা জাগিয়ে রাখা যায় যে, দেখেছ, কালাদেওর গুহায় পুলিশ বে-আইনি অস্ত্র উদ্ধার করতে পারে, কিন্তু কালাদেও তো আছেনই। তা-না-হলে তিনি কেন তাঁর পরবর্তী শিকার খুঁজে নিলেন? এটা তাঁর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ! তোমরা খবর নাও, দেখবে মানুষের মনে এই ধারণা ইতিমধ্যেই ছড়াতে শুরু করেছে। ফলে বেশ কিছুদিন কিংবা বেশ কয়েকবছর পরে কালাদেওকে ফিরিয়ে আনতে এদের আর অসুবিধা হবে না। তখন আশা করি তোমরা দুজন এই থানায় থাকবে না, আমি তো নয়ই। এমনকি এই ডিএম, এসপি—এঁরা কেউই থাকবেন না। থাকলেও এই ঘটনার সাপেক্ষে এঁদের মনেও যদি এমন বিশ্বাস ক্ষীণমাত্রও জাগে যে, কালাদেও তাহলে মিথ্যে নয়, তখন এই পিশাচপাহাড় আবার কালপ্রিটদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে!”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…

“একমত স্যার।” আফজল বলল।
“কিন্তু আপনি আর-একটা সম্ভাবনার কথাও আমাকে বলেছিলেন…”
“সেটাই এখন বলতে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, অরণ্যের উপর এই আঘাত কালাদেও কাণ্ডের জের নয়। এর জড় অন্য। কারণটা এখনই তোমাদের সঠিকভাবে বলতে পারছি না, কিন্তু যেভাবে কলকাতার এই ট্যুরপার্টির পুরুষ-সদস্যদের উপর হামলা হচ্ছে, তাতে আমার সন্দেহটা পাকা হচ্ছে। তোমরা দেখ, তিন পুরুষ সদস্যদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একজন ডেড্, আর-একজন তার কথামতো অপহৃত হয়েছিল, আর তারপর এই অরণ্য…! ভেবে দেখেছ কী, কেন পুরুষ-সদস্যদের উপরেই বেছে-বেছে আঘাত নেমে আসছে? কালাদেও কি তবে মহিলাদের প্রতি দুর্বল না-কি ক্ষমাশীল? কিংবা কালাদেও-মিথকে কাজে লাগিয়ে আরেকজন কালপ্রিট তার ঘুঁটি সাজিয়ে বসে আছে। তারই প্ল্যানমাফিক এই আক্রমণ! কিন্তু কেন? কেবলমাত্র পুরুষ-সদস্যদের প্রতি তার এই আক্রোশের কারণ কী? মহিলারা কি সব ধোওয়া তুলসী পাতা?”
“স্যার, আরেকজনও কিন্তু মার্ডার হয়েছিল। সুবল। সে কিন্তু এই টিমের কেউ নয়, রিসর্টের এমপ্লয়ি!”
“হ্যাঁ। মনে আছে। কোথাও একটা লিঙ্ক আছে আমার মনে হয়। অন্যগুলির সমাধান হয়ে গেলে সুবলের হত্যারহস্যও আর রহস্য থাকবে না!”
“স্যার, ওই ট্যুরপার্টির সবাইকে ইচ্ছাকৃতভাবে এই পিশাচপাহাড়ে ডেকে আনা হয়নি তো? মানে এই ইন্টেরিয়র প্লেসটাকে কাজে লাগিয়ে আড়ালের সেই কালীচরণ কাজ হাসিল করতে চেয়েছিল!”
“আমারও তেমনটাই বিশ্বাস সুদীপ্ত!”
“তাহলে সে কে, সেটা জানলেই তো কাজ মিটে যায়!”
“এতটা সহজ নয় সুদীপ্ত। আমি অনিলের মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে ওঁদের এই পিশাচপাহাড়ে আসার ব্যাপারটা জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ওঁরা যা বলেছিলেন, তার সারমর্ম এই যে, নিছক একটা আড্ডায় বসে হঠাৎ করে কোথাও যাওয়ার প্ল্যান করা হয় এবং ডেস্টিনেশন হিসাবে পিশাচপাহাড় ঠিক হয় ইউটিউব ঘাঁটতে-ঘাঁটতে। আর যিনি প্রথম এই প্রস্তাব দেন, তিনি অলরেডি মৃত, নান আদার দ্যান, অনিল।”
“তাহলে?” বেকুবের মতো মুখ করে বলে সুদীপ্ত।
“এই তাহলের উত্তর খুঁজতে হবে আমাদের। আর সেটা তাড়াতাড়ি। সেজন্য দরকার, এই ট্যুরপার্টির হোয়্যার-অ্যাবাউটস্ জানার! লালবাজার থেকে ইরাবতী মিত্র স্যারের নির্দেশে এদের সকলের ব্যাপারে ফাইল তৈরি করে পাঠিয়েছেন। আমি সময়ই করে উঠতে পারছি না। কিন্তু খুব দরকার ওটা পড়ার। দেখা যাক, আজ সময় হয় কিনা!”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৭: চাটুকারদের স্তুতিবাক্যই রাজ্যের পতন ডেকে আনে! পেঁচাদের ট্র্যাজেডি আর ‘কথা বলা গুহার’ এক কালজয়ী রাজনৈতিক পাঠ

এমনসময় সুদীপ্তর ফোন বেজে উঠল। ফোনে চোখ রেখে সুদীপ্তর চোখ-মুখ ঈষৎ কুঞ্চিত হয়ে উঠল। তারপর “এক্সকিউজ মিঃ স্যার,” বলে একটু দূরে সরে গিয়ে ফোন কানে নিয়ে চাপা গলায় কথা বলতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছুটে এসে বলল, “স্যার। একটা খবর আছে। আমার এক খবরি খবরটা দিল। চার্চ থেকে একটা সন্দেহজনক ট্রিপ কলকাতার দিকে রওনা হয়েছে জাস্ট এইমাত্র। খবরটা আগে জানতে পারে নি। সকালে কিছুক্ষণ আগেই জেনেছে সে। এখন কী করণীয়?”
“সন্দেহজনক কেন?”
“কোনও এক পেশেন্ট, যার মুখ পর্যন্ত কাউকে দেখতে দেওয়া হয়নি, তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বয়ং ফাদার আন্তোনিও কলকাতা রওনা হয়েছেন। যদিও ভিতরের খবর, আন্তোনিও দেশ ছাড়ছেন এবং পেশেন্টের ব্যাপারটা ধোঁকার টাঁটি!”
শাক্য শুনে চনমন করে উঠল। “বি ক্যুইক সুদীপ্ত। আফজল তুমি এখানে থাক। আমরা ওদিকের কাজ মিটিয়ে এক্ষুনি ফিরছি। যেভাবেই হোক ফাদারকে আটকাতে হবে। নুনিয়া আমাকে ফাদারের ব্যাপারে সাবধান করেছিল যে, ফাদার যেন কেমন বদলে গিয়েছেন ইদানীং!”
সুদীপ্ত বলল, “তাহলে…”
“পথে এবার নাম সাথী, পথে হবে পথচেনা… থুড়ি অপরাধী চেনা…”—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content