কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

 

|| ফোটোগ্রাফ-২১ ||

এর আগের হত্যারহস্যের তদন্তে ধৃতিমানের সঙ্গে শ্রেয়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ কথা হত। তদন্তের গতিপ্রকৃতির খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা হত। কিন্তু এই অমিতাভও হত্যা মামলায় একটা ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝি থেকে ধৃতিমান শ্রেয়ার মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বহুদিনের পরিচিতি একসঙ্গে কাজ করার বহু অভিজ্ঞতা পারস্পরিক বন্ধুত্ব তৈরি করেছিল সেটা কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়েছে। নীলাঞ্জনার হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস মেসেজ শ্রেয়া ধৃতিমানকে সেই রাত্রেই পাঠিয়ে দিয়েছিল। সেখানে নীলাঞ্জনার স্বীকারোক্তিতে রুণার ফোনের প্রসঙ্গ ছিল। অমিতাভের বাড়ি থেকে পাকাপাকি চলে আসার পর নীলাঞ্জনাকে রুণা ফোন করেছিল। অমিতাভের দূরত্বের কথা জানিয়ে রুণা জানিয়েছিল আরও একটি-দুটি ঘটনা। শ্রেয়ার ধারণা সেই ভয়েজ মেসেজের সূত্র ধরেই ধৃতিমান আজ রিজেন্ট পার্কে অমিতাভর সিল করা ফ্ল্যাটে এসেছিল।
কিন্তু ধৃতিমান নীলাঞ্জনা আর অমিতাভ ঘরে রাখা ল্যামিনেট করা যুগলছবিটা নিয়ে বেরিয়ে এসে বাসনার সঙ্গে আর একবার কথা বলতে চেয়েছে। ছবিতে কী এমন আছে ?
কী আছে সেটা জানতে যেতে হবে কোনও ডিজিট্যাল এডিটিং সেট-আপে। তার আগে অমিতাভর চারটি ব্যাংকে যেতে হবে। ধৃতিমান বলেছে সবচেয়ে কম ট্রাঞ্জাকশন যে ব্যাঙ্কে হয় সেখান থেকে শুরু করতে হবে। অফিস থেকে ডীটেলস পেয়ে গেছে শ্রেয়া। অমিতাভ সরকারি রাষ্ট্র এবং বেসরকারি ব্যাংক মিলিয়ে চারটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকে টাকা রাখতেন। তার মধ্যে সবথেকে কম ট্রানজাকশন হয়েছে কাছেই চারু অ্যাভিনিউয়ের একটি ব্রাঞ্চে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৩৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২০

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৪: “যোগ্য পাত্র ছাড়া কন্যাদান নয়”— শাস্ত্রের শৃঙ্খল ভেঙে কন্যার সম্মতির জয়

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৪ : শেষ অঙ্ক

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৪: ভাবি প্রশাসক রামের প্রশিক্ষণের সূচনা—রাক্ষস খরের সঙ্গে সংঘাত

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬০ : কাকজাতক — ভেবে দেখ মন

শ্রেয়া ধৃতিমান নিয়ে সেই চারু অ্যাভিনিউয়ের ব্যাংকে পৌঁছে নিজেদের পরিচয় দিতেই ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আর সব কাজ সরিয়ে তাদের নিয়ে বসলেন।
—বলুন ম্যাডাম কি হেল্প চাইছেন?
শ্রেয়া জানেনা ধৃতিমান ঠিক কিসের খোঁজ করছেন? তাই সে তাকাতেই ধৃতিমান বলে উঠল
— এই অ্যাকাউন্টের কিছু পেমেন্ট ডিটেলস চাই।
— কোনও সময় থেকে, মানে কবে থেকে কবে’র মধ্যে একাউন্ট স্টেটমেন্ট চান সেটা বলুন প্লিজ
ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে আঙুল ছুঁইয়ে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ডেক্সটপে অ্যাকাউন্ট প্রোফাইল খুলে, অভ্যস্ত আঙুলের চটপট টাইপ করতে করতে কথাটা বললেন। উত্তরটা দেওয়ার সময় ধৃতিমান একটু কুণ্ঠাগ্রস্ত
— দেখুন এক্সাক্ট টাইমটা বলতে পারব না – তবে পেমেন্ট কোথায় হয়েছে সেটা বলতে পারবো!
— নো প্রব্লেম স্যার! বলুন ।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৬: কাঠবিড়ালি

ধৃতিমান আবার সময় নেয়।
— এক্স্যাক্টলি, পার্টির নামটা বলতে পারব না হসপিটাল বা নার্সিংহোম শ্রেয়া বোঝার চেষ্টা করছে যে ধৃতিমান ঠিক কি খুঁজছে? সেটা তখনও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না! কিন্তু চটপটে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নানা রকম কী-ওয়ার্ড দিয়ে করতে করতে পেমেন্ট ডিটেলস বের করে ফেললেন। তবে এরকম পেমেন্ট মাত্র দুবার হয়েছে। মোটা টাকার পেমেন্ট একবার। ২৩ হাজার ৭০০ টাকা। সেটা চার বছর আগে। আর একেবারে হালে । মাসদেড়েক আগে।সেটা ১৫ হাজার ৩১২ টাকা। পেমেন্ট হয়েছে কলকাতার বাইরের দুটি নার্সিংহোমের নামে। একটি কল্যাণীতে অন্যটি আসানসোলে।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

শ্রেয়া লোকাল থানায় ফোন করতে হবে কল্যানী আর আসানসোলে। কলকাতা থেকে ওখানে গিয়ে ইনভেস্টিগেট করবার সময় নেই। আমার শুধু পেশেন্টের নাম আর এড্রেস প্রুফটা লাগবে। শ্রেয়া সঙ্গে সঙ্গে ফোনে সেই দুটি থানায় খবর পাঠিয়ে দিল। লেক মার্কেট এর কাছে পরিচিত একটি এডিটিং কনসোলে ধৃতিমানকে নিয়ে গেল শ্রেয়া।
নীলাঞ্জনা আর অমিতাভ ঘরে রাখা ল্যামিনেট করা যুগলছবিটা থেকে রিফ্লেক্সনের চেহারা ক্রমশ স্পষ্ট হলো। বাসনা।
— থ্যাঙ্ক ইউ! শ্রেয়া এনি আপডেট?
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭২ : শুধু হাসি-খেলা?

আপডেট এল এই দুটি নার্সিং হোমে বাসনা মণ্ডলের চিকিৎসা হয়েছিল। চিকিৎসাটা কী হয়েছিল সেটা টেলিফোনে শুনে শ্রেয়া হতচকিত। ধৃতিমান ইশারায় কিছু জানতে চাইল? শ্রেয়া চোখের ইশারায় জানালো ধৃতিমান যা ভাবছে তাই। যে পরিবেশে ওরা তখন ছিলেন সেখানে চিকিৎসার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার উপায় ছিল না। যিনি প্রশ্ন করলেন যিনি উত্তর দিলেন তারা জানলেন দু’ দুবার বাসনা মণ্ডলের গর্ভপাত করানো হয়েছে। কল্যাণী আর আসানসোলের নার্সিংহোম থেকে। আর সে খরচ দিয়েছেন নিহত অমিতাভ চক্রবর্তী। কিন্তু কেন ? জীবনের সব সমাধান কি সরলরৈখিক ? —চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content