
একঝলকে
ছবি : সপ্তপদী
ছবির নায়িকা: সুচিত্রা সেন
উত্তম কুমার অভিনীত চরিত্রের নাম: কৃষ্ণেন্দু
পরিচালনা : অজয় কর
প্রেক্ষাগৃহ : রূপবাণী, অরুণা ও ভারতী
মুক্তির তারিখ : ২০.১০.১৯৬১
১৯৬১ সালের ২০ অক্টোবর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সপ্তপদী’ ছবি, বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে অজয় কর পরিচালিত এ ছবি, ৬৫ বসন্ত পার করার পরও চির নতুন।
● বক্স অফিস: ছবিটি মুক্তির পর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রূপবাণী, অরুণা ও ভারতী সিনেমা হলে দীর্ঘ সময় হাউজফুল বোর্ড ঝোলানো ছিল। ছবিটির আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য, কুড়ি বারেরও বেশি পুনর্মুক্তি। উত্তম-সুচিত্রার যে সমস্ত ছবি চললে দীর্ঘদিন হলের বাইরে হাউস ফুল বোর্ড ঝোলানো থাকতো তারপরেও এ ছবি পুনর্মুক্তিতে ইতিহাস তৈরি করেছে। সেদিক দিয়েও ‘সপ্তপদী’ অনেক ছবির কাছে সাফল্যের খতিয়ানে ঈর্ষণীয়।
আসলে উত্তম-সুচিত্রার পারস্পরিক প্রণয় নিয়ে যে ফর্মুলা সেলুলয়েডের বাঁধা গথ ছিল; ‘বড় লোকের মেয়ে’ বনাম ‘গরিবের ছেলে’ তা থেকে বেরিয়ে এসে পরিণয়হীন প্রেমের ভাষা যে ‘নিকষিত হেম’ হতে পারে তা’র প্রতীক এ ছবির প্রতিটি ফ্রেম। একজন শিক্ষিত, রক্ষণশীল-ব্রাহ্মণ বংশের ছেলের কেরিয়ার, ডাক্তারী পড়তে গিয়ে কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা’ই এর উপজীব্য। চিত্রনাট্যের গতি এবং ক্লাইম্যাক্সের টানটান উত্তেজনা আজও দর্শকদের পর্দার সামনে আটকে রাখে।
বিনয় চট্টোপাধ্যায়-র সংলাপের বুনন ও অজয় কর-এর পরিচালনার মিশেলে ছবিটি তৎকালীন সময়ের একটি ব্লকবাস্টার হিট। আলোছায়া প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই ছবি কার্তিক বসুর শিল্প নির্দেশনায়, অজয় কর ও কানাই দে-র দক্ষ ক্যামেরার কাজে, দর্শকরা এক অবিস্মরণীয় ছবি উপহার পেয়েছিল।
● বক্স অফিস: ছবিটি মুক্তির পর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রূপবাণী, অরুণা ও ভারতী সিনেমা হলে দীর্ঘ সময় হাউজফুল বোর্ড ঝোলানো ছিল। ছবিটির আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য, কুড়ি বারেরও বেশি পুনর্মুক্তি। উত্তম-সুচিত্রার যে সমস্ত ছবি চললে দীর্ঘদিন হলের বাইরে হাউস ফুল বোর্ড ঝোলানো থাকতো তারপরেও এ ছবি পুনর্মুক্তিতে ইতিহাস তৈরি করেছে। সেদিক দিয়েও ‘সপ্তপদী’ অনেক ছবির কাছে সাফল্যের খতিয়ানে ঈর্ষণীয়।
আসলে উত্তম-সুচিত্রার পারস্পরিক প্রণয় নিয়ে যে ফর্মুলা সেলুলয়েডের বাঁধা গথ ছিল; ‘বড় লোকের মেয়ে’ বনাম ‘গরিবের ছেলে’ তা থেকে বেরিয়ে এসে পরিণয়হীন প্রেমের ভাষা যে ‘নিকষিত হেম’ হতে পারে তা’র প্রতীক এ ছবির প্রতিটি ফ্রেম। একজন শিক্ষিত, রক্ষণশীল-ব্রাহ্মণ বংশের ছেলের কেরিয়ার, ডাক্তারী পড়তে গিয়ে কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা’ই এর উপজীব্য। চিত্রনাট্যের গতি এবং ক্লাইম্যাক্সের টানটান উত্তেজনা আজও দর্শকদের পর্দার সামনে আটকে রাখে।
বিনয় চট্টোপাধ্যায়-র সংলাপের বুনন ও অজয় কর-এর পরিচালনার মিশেলে ছবিটি তৎকালীন সময়ের একটি ব্লকবাস্টার হিট। আলোছায়া প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই ছবি কার্তিক বসুর শিল্প নির্দেশনায়, অজয় কর ও কানাই দে-র দক্ষ ক্যামেরার কাজে, দর্শকরা এক অবিস্মরণীয় ছবি উপহার পেয়েছিল।
● অভিনয়: উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন-র যুগ্ম অভিনয় ছিল, এ ছবির মূল আকর্ষণ। তাঁদের পরিণত মানসিকতার দ্বন্দ্ব এবং পরে মিলনান্তক বিচ্ছেদ ছিল ছবির প্রাণ। এছাড়া এ ছবির সাপোর্টিং কাস্ট ছিল বেশ পাওয়ারফুল। কাকে ছেড়ে কাকে বলব! ছবি বিশ্বাস, তুলসী চক্রবর্তী, তরুণ কুমার, পঞ্চানন ভট্টাচার্য, ছায়া দেবী পদ্মা দেবী, ডিন গ্যাস্পার, নরম্যান এলিস, গ্লোরিয়া ডাউনিংটন, মার্গারেট ড্রমুণ্ড প্রমুখদের অভিনয়ে সাজানো এ ছবির রতিমেদুরতা।
● সংলাপ: বিনয় চ্যাটার্জী-র কলমে ছবির তীক্ষ্ণ ও আবেদনে-গভীর সংলাপগুলো আজও জনপ্রিয়। বিশেষ করে চূড়ান্ত মিলন অপেক্ষায় বসে থাকা প্রণয়ীদের কাছে দুর্বাসার অভিশাপ-র মত ছবি বিশ্বাসের মর্মভেদী আবেদন, আকস্মিক বিচ্ছেদের ভয়াবহ পরিণতিকে সামলে নিয়ে স্তব্ধ সুচিত্রার বহুমাত্রিক অভিনয়ের প্রয়োজনীয় কথার যোগান এ চলচ্চিত্রের মূল্যবান সম্পদ।
● দর্শক প্রতিক্রিয়া: সাধারণ দর্শকরা ছবিটিকে একটি পরিপূর্ণ ‘মাস এন্টারটেইনার’ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দেখার মতো এক দুর্দান্ত প্যাকেজ ছিল এটি।
● সংলাপ: বিনয় চ্যাটার্জী-র কলমে ছবির তীক্ষ্ণ ও আবেদনে-গভীর সংলাপগুলো আজও জনপ্রিয়। বিশেষ করে চূড়ান্ত মিলন অপেক্ষায় বসে থাকা প্রণয়ীদের কাছে দুর্বাসার অভিশাপ-র মত ছবি বিশ্বাসের মর্মভেদী আবেদন, আকস্মিক বিচ্ছেদের ভয়াবহ পরিণতিকে সামলে নিয়ে স্তব্ধ সুচিত্রার বহুমাত্রিক অভিনয়ের প্রয়োজনীয় কথার যোগান এ চলচ্চিত্রের মূল্যবান সম্পদ।
● দর্শক প্রতিক্রিয়া: সাধারণ দর্শকরা ছবিটিকে একটি পরিপূর্ণ ‘মাস এন্টারটেইনার’ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দেখার মতো এক দুর্দান্ত প্যাকেজ ছিল এটি।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৩: শৃগাল-জাতক—তঞ্চক

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৬৩: আকাশ এখনও মেঘলা

উত্তম কথাচিত্র পর্ব-৮৮ : নেকলেস

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৪: শূর্পনখার কাহিনিতে, ষড়রিপুর প্রভাব, এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত নয় কী?
● ম্যাগাজিন রিভিউ: সমসাময়িক সিনে ম্যাগাজিনগুলো ছবিটিকে উপন্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হিসেবে বর্ণনা করেছিল। উত্তম বাবু নিজের আত্মজীবনী ‘আমার আমি’-তেও বলেছেন উপন্যাসের চিত্ররূপে অনেকেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
সমালোচকরা বিনয় চট্টোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্য এবং অজয় কর এর পেশাদার পরিচালনার প্রশংসা করে উঠতে পারেননি। কিন্তু মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসের হিসেব সব ওলটপালট করে দেয়। বাণিজ্যিক ছবির ক্ষেত্রে সে সময় বড় কোনো জাতীয় পুরস্কার বিরল ছিল, তবে ছবিটি বিভিন্ন আঞ্চলিক চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিএফজেএ (BFJA)-এর বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন ও প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
এটি সেই বিরল ছবিগুলোর একটি, যেখানে সকল কুশীলবকে ছকভাঙ্গা অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ছবি বিশ্বাসের সেই আপোষহীন দাপুটে ব্যক্তিত্ব, জলদ-গম্ভীর কণ্ঠস্বরে যখন ভারতবর্ষের প্রাচীন ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করছেন এবং আগামীর কাছে সজোরে ঝাঁকুনি খাচ্ছেন তখন তাঁর সেই অসহায় আর্তি, যে কোনও দেশের চিত্রমোদীদের গর্বিত করে বৈকি।
ছবিটির সবচেয়ে বড় স্তম্ভ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানুষের আদালতে মানবিকতার আবেদন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে মানুষের হৃদয়বৃত্তিকে মূল্য দেবার জন্যই যেন তাঁর কলম ধরা। কবি, রাইকমল, দেবত্র, বিচারক প্রভৃতির পর এ যেন তারাশঙ্করের মহাকাহিনী। উনি নিজেও ছবির চিত্রায়ণ যে এই মানে হতে পারে তা কল্পনা করতে পারেননি।
সমালোচকরা বিনয় চট্টোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্য এবং অজয় কর এর পেশাদার পরিচালনার প্রশংসা করে উঠতে পারেননি। কিন্তু মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসের হিসেব সব ওলটপালট করে দেয়। বাণিজ্যিক ছবির ক্ষেত্রে সে সময় বড় কোনো জাতীয় পুরস্কার বিরল ছিল, তবে ছবিটি বিভিন্ন আঞ্চলিক চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিএফজেএ (BFJA)-এর বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন ও প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
এটি সেই বিরল ছবিগুলোর একটি, যেখানে সকল কুশীলবকে ছকভাঙ্গা অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ছবি বিশ্বাসের সেই আপোষহীন দাপুটে ব্যক্তিত্ব, জলদ-গম্ভীর কণ্ঠস্বরে যখন ভারতবর্ষের প্রাচীন ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করছেন এবং আগামীর কাছে সজোরে ঝাঁকুনি খাচ্ছেন তখন তাঁর সেই অসহায় আর্তি, যে কোনও দেশের চিত্রমোদীদের গর্বিত করে বৈকি।
ছবিটির সবচেয়ে বড় স্তম্ভ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানুষের আদালতে মানবিকতার আবেদন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে মানুষের হৃদয়বৃত্তিকে মূল্য দেবার জন্যই যেন তাঁর কলম ধরা। কবি, রাইকমল, দেবত্র, বিচারক প্রভৃতির পর এ যেন তারাশঙ্করের মহাকাহিনী। উনি নিজেও ছবির চিত্রায়ণ যে এই মানে হতে পারে তা কল্পনা করতে পারেননি।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জ্ঞানত বা অজ্ঞানত বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পের ভিত গেঁথেছিলেন। তাঁর সার্থক উত্তরসূরী ছিলেন পরবর্তীকালের একঝাঁক তরুণ তুর্কি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, নীহার রঞ্জন গুপ্ত প্রমুখ সাহিত্যিকরা।
দু’বছর আগে “বিচারক” ছবির শেষ দৃশ্যকে, পরিচালক প্রভাত মুখোপাধ্যায় যেভাবে সিনেম্যাটিক করে নিয়েছিলেন ,চলচ্চিত্র শিল্পের রিপিট ভ্যালুকে মাথায় রেখে সেভাবেই উত্তমবাবু ও অজয় বাবুরা “সপ্তপদী” -র শেষ দৃশ্যের মেরামতিতে হাত দিয়েছিলেন ও সফল হয়েছিলেন।
আমরা ছবিটির আঙ্গিক ও ব্যবসায়িক সাফল্য ছাড়াও যে অংশটি নিয়ে অত্যন্ত গর্ববোধ করবো তা হল প্রতিটি শিল্পীর নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার দুর্দমনীয় প্রয়াস। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে উত্তমবাবু যেন নিজের সমস্ত অভিনয় সত্তাকে এযাবদ্ যেভাবে প্রকাশ করেছেন সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এক নীরব অভিব্যক্তিপূর্ণ চরিত্রাভিনয়ে মন দিয়েছেন।
আমরা ছবিটির প্রতিটি ফ্রেম আলোচনার টেবিলে রাখলে সেখানে সবচেয়ে আগে মূল্য পাবে ছবি সম্পাদনার অংশ। এ ছবির স্টোরি টেলিং যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেখানে ছবিটির কয়েকটি বিভাগ উপবিভাগ ভীষণ মূল্যবান। কৃষ্ণেন্দুর ছাত্রজীবন যেখানে অত্যন্ত উজ্জ্বল, সেখানে রীণা এবং ক্লেটনের উপস্থিতি ও পারস্পরিক মহড়ায় কখনো মনে হয়েছিল ছবিটির মধ্যে অযথা একঘেয়েমিপুষ্ট ম্যানারিজম আমদানি করা হচ্ছে কিন্তু অরুণ ততদিনে উত্তম কুমার হয়ে আগামীতে মহানায়ক হবার পথে পা বাড়িয়েছেন।
দু’বছর আগে “বিচারক” ছবির শেষ দৃশ্যকে, পরিচালক প্রভাত মুখোপাধ্যায় যেভাবে সিনেম্যাটিক করে নিয়েছিলেন ,চলচ্চিত্র শিল্পের রিপিট ভ্যালুকে মাথায় রেখে সেভাবেই উত্তমবাবু ও অজয় বাবুরা “সপ্তপদী” -র শেষ দৃশ্যের মেরামতিতে হাত দিয়েছিলেন ও সফল হয়েছিলেন।
আমরা ছবিটির আঙ্গিক ও ব্যবসায়িক সাফল্য ছাড়াও যে অংশটি নিয়ে অত্যন্ত গর্ববোধ করবো তা হল প্রতিটি শিল্পীর নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার দুর্দমনীয় প্রয়াস। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে উত্তমবাবু যেন নিজের সমস্ত অভিনয় সত্তাকে এযাবদ্ যেভাবে প্রকাশ করেছেন সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এক নীরব অভিব্যক্তিপূর্ণ চরিত্রাভিনয়ে মন দিয়েছেন।
আমরা ছবিটির প্রতিটি ফ্রেম আলোচনার টেবিলে রাখলে সেখানে সবচেয়ে আগে মূল্য পাবে ছবি সম্পাদনার অংশ। এ ছবির স্টোরি টেলিং যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেখানে ছবিটির কয়েকটি বিভাগ উপবিভাগ ভীষণ মূল্যবান। কৃষ্ণেন্দুর ছাত্রজীবন যেখানে অত্যন্ত উজ্জ্বল, সেখানে রীণা এবং ক্লেটনের উপস্থিতি ও পারস্পরিক মহড়ায় কখনো মনে হয়েছিল ছবিটির মধ্যে অযথা একঘেয়েমিপুষ্ট ম্যানারিজম আমদানি করা হচ্ছে কিন্তু অরুণ ততদিনে উত্তম কুমার হয়ে আগামীতে মহানায়ক হবার পথে পা বাড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৯ : শুধু মনুভ্যালি নয়, কৈলাসহরের চা বাগান কালীশাসনও বিপ্লবী তৎপরতার সাক্ষী

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (২)
সে যাত্রায় কোনও এক দায়িত্ববোধ যেন তাঁকে নীরব করে দিয়েছে। কাকতালীয়ভাবে এ কথা সত্য ছবিতে কৃষ্ণেন্দু মায়ের মৃত্যুর পর যে লুকিংয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন বাস্তবিক পক্ষে সে সময়ই তাঁর পিতৃবিয়োগ হয়েছিল যার ফলে প্রতিটি দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলার একটা মর্মান্তিক প্রয়াস এই ছবির পরতে পরতে দেখা দিয়েছিল।
পাশাপাশি একথাও সত্য, সুচিত্রা সেনের সঙ্গে সে সময় অফ দ্য ক্যামেরা ব্যক্তিগত মন কষাকষি চলছে। সুচিত্রা ওরফে রমা যেন কোনও কিছু হারানোর আগাম সংকেত পেয়ে অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ছে। বাড়িতেও চলছে একই যন্ত্রণা। সেখানে সুচিত্রাকে সন্দেহ করে কল্পনানির্ভর অভিযোগে বিধ্বস্ত উত্তম অবসাদগ্রস্ত। একরাশ মানসিক হতাশায় বিতৃষ্ণ সুচিত্রার সেই অভিমানী মুখের প্রকাশ যেন কোন অচিনপুরের বাসিন্দা! নবাগতা অনেক নায়িকাদের নিয়ে টলিউডের নতুন সাম্রাজ্য স্থাপনের পুরোহিত উত্তমও কোথায় যেন তীরবেঁধা পাখি।
সালতামামি মাথায় রাখলে ছবির প্রতিটি ফ্রেমে যেখানে কৃষ্ণেন্দুর উপর রাগ অভিমান বর্ষাতে হচ্ছে সেখানে রিনা ব্রাউন কোথাও কোথাও অতি অভিনয়ের একটা বাড়াবাড়িতে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু সবকিছু মুছিয়ে ভুলিয়ে দিল কৃষ্ণেন্দুর সাথে তাঁর সম্পর্কের উন্নতির সময়। সে সময়ের যে অভিব্যক্তিপূর্ণ অভিনয় সুচিত্রা দেখিয়েছেন তা, যে কোন দেশের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।
পাশাপাশি একথাও সত্য, সুচিত্রা সেনের সঙ্গে সে সময় অফ দ্য ক্যামেরা ব্যক্তিগত মন কষাকষি চলছে। সুচিত্রা ওরফে রমা যেন কোনও কিছু হারানোর আগাম সংকেত পেয়ে অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ছে। বাড়িতেও চলছে একই যন্ত্রণা। সেখানে সুচিত্রাকে সন্দেহ করে কল্পনানির্ভর অভিযোগে বিধ্বস্ত উত্তম অবসাদগ্রস্ত। একরাশ মানসিক হতাশায় বিতৃষ্ণ সুচিত্রার সেই অভিমানী মুখের প্রকাশ যেন কোন অচিনপুরের বাসিন্দা! নবাগতা অনেক নায়িকাদের নিয়ে টলিউডের নতুন সাম্রাজ্য স্থাপনের পুরোহিত উত্তমও কোথায় যেন তীরবেঁধা পাখি।
সালতামামি মাথায় রাখলে ছবির প্রতিটি ফ্রেমে যেখানে কৃষ্ণেন্দুর উপর রাগ অভিমান বর্ষাতে হচ্ছে সেখানে রিনা ব্রাউন কোথাও কোথাও অতি অভিনয়ের একটা বাড়াবাড়িতে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু সবকিছু মুছিয়ে ভুলিয়ে দিল কৃষ্ণেন্দুর সাথে তাঁর সম্পর্কের উন্নতির সময়। সে সময়ের যে অভিব্যক্তিপূর্ণ অভিনয় সুচিত্রা দেখিয়েছেন তা, যে কোন দেশের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এক অশান্ত ঘূর্ণি যেন আকাশের বুকে ডানা মেলে উড়ে চলা একটি বলাকাকে তীর বিদ্ধ করল। তাঁর চোখে মুখে অসহায় আকুতির সাথে ফুটে উঠেছিল ধর্ম-কর্তব্য-প্রেম এই তিনের জটিল বীজগণিত। আবার যে দৃশ্যে সদ্য খ্রিস্টান হওয়া কৃষ্ণেন্দুকে প্রত্যাখ্যান করছেন তাওতো ভোলার নয়।
বুকের কষ্ট বুকে চেপে চোখের জলকে আপন করে প্রিয়জনকে নিজ হাতেই বিসর্জন দেওয়ার সে দৃশ্য ভারতীয় সিনেমায় আর হয়েছে কিনা সন্দেহ! ভারতীয় মেধা, অজয় করকে তো চিনতেই পারল না। আটকে রইল নামজাদাদের পায়ের তলায়। সুচিত্রা সেন প্রতিটি মুহূর্তে যেন ভুলেই গিয়েছিলেন উনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সংলাপের চোখাচোখা বিনিময়ে থামাতে পারিনি তার রাজসিক ঐশ্বর্যকে। কোন উচ্চগ্রামের অভিনয়সত্তায় নিজেকে মেলাতে পারলে এ দৃশ্য রচনা করা যায় তা বোধহয় পরিচালক অজয় করও ভাবতে পারেননি। যিনি পরবর্তী সময়ে ‘সাত পাকে বাঁধা’-র মতো কালজয়ী সিনেমা করবেন ওনাকে নিয়ে।
আর উত্তমবাবুও সে দৃশ্যে কম যাননি। যাঁর জন্য সব কিছু ত্যাগ করে সন্ন্যাসীর গৌরব নিয়ে বাড়ি ফিরলেন অকস্মাৎ সেখান থেকেই পেলেন চরম আঘাত। ওলটপালট হয়ে যাওয়া ভাঙা মন নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার দৃশ্যে উত্তমের যে অভিব্যক্তি তা, সর্ব কালের সেরা। এ যেন বাড়িতে স্ত্রী গৌরীর সাথে অকারণ ভুলবোঝাবুঝির শেষে বিনা দোষের ভাগীদার হয়ে বাড়িছাড়া হচ্ছেন। প্রতিটি পল যেন মানুষ একাত্ম করে নিয়েছিল একজন অভিনেতার সাথে। আর দৃশ্যটির চারিদিক অলংকৃত হয়ে উঠছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নায়ক ক্ষণজন্মা সুরকারের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের আলতো ছোঁয়ায়।
রিনা লড়াই শুধু কৃষ্ণেন্দুর বাবার পারিবারিক স্বার্থের সাথেই নয়, ব্রাউন এন্ড ব্রাউন কোম্পানির কর্ণধার নিজের বাবার সঙ্গেও; জন্মদাত্রী মায়ের সম্মান রক্ষার অধিকার নিয়েও। মায়ের দাবি নিয়ে যে দৃশ্যে তিনি সোচ্চার হয়ে উঠবেন সে দৃশ্যও কম মূল্যবান নয়।
আসলে ছবি নির্মাণের সময় সুচিত্রা বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর প্রিয় উত্তমের সাথে তাঁর একান্ত আপনার রোমান্টিক যুগ আর খুব বেশি দিন চলবে না। অন্যরা এসে নতুন যুগ রচনা করবেন। তাই শেষ হয়ে যাওয়ার আগে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার একটা ঐকান্তিক আকুতি ছবিটির পরতে পরতে। কোনও কোনও ফ্রেমে মনেও হয়েছে পরিচালকের দাবি ছাড়াও অনেক বেশি করে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
বুকের কষ্ট বুকে চেপে চোখের জলকে আপন করে প্রিয়জনকে নিজ হাতেই বিসর্জন দেওয়ার সে দৃশ্য ভারতীয় সিনেমায় আর হয়েছে কিনা সন্দেহ! ভারতীয় মেধা, অজয় করকে তো চিনতেই পারল না। আটকে রইল নামজাদাদের পায়ের তলায়। সুচিত্রা সেন প্রতিটি মুহূর্তে যেন ভুলেই গিয়েছিলেন উনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সংলাপের চোখাচোখা বিনিময়ে থামাতে পারিনি তার রাজসিক ঐশ্বর্যকে। কোন উচ্চগ্রামের অভিনয়সত্তায় নিজেকে মেলাতে পারলে এ দৃশ্য রচনা করা যায় তা বোধহয় পরিচালক অজয় করও ভাবতে পারেননি। যিনি পরবর্তী সময়ে ‘সাত পাকে বাঁধা’-র মতো কালজয়ী সিনেমা করবেন ওনাকে নিয়ে।
আর উত্তমবাবুও সে দৃশ্যে কম যাননি। যাঁর জন্য সব কিছু ত্যাগ করে সন্ন্যাসীর গৌরব নিয়ে বাড়ি ফিরলেন অকস্মাৎ সেখান থেকেই পেলেন চরম আঘাত। ওলটপালট হয়ে যাওয়া ভাঙা মন নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার দৃশ্যে উত্তমের যে অভিব্যক্তি তা, সর্ব কালের সেরা। এ যেন বাড়িতে স্ত্রী গৌরীর সাথে অকারণ ভুলবোঝাবুঝির শেষে বিনা দোষের ভাগীদার হয়ে বাড়িছাড়া হচ্ছেন। প্রতিটি পল যেন মানুষ একাত্ম করে নিয়েছিল একজন অভিনেতার সাথে। আর দৃশ্যটির চারিদিক অলংকৃত হয়ে উঠছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নায়ক ক্ষণজন্মা সুরকারের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের আলতো ছোঁয়ায়।
রিনা লড়াই শুধু কৃষ্ণেন্দুর বাবার পারিবারিক স্বার্থের সাথেই নয়, ব্রাউন এন্ড ব্রাউন কোম্পানির কর্ণধার নিজের বাবার সঙ্গেও; জন্মদাত্রী মায়ের সম্মান রক্ষার অধিকার নিয়েও। মায়ের দাবি নিয়ে যে দৃশ্যে তিনি সোচ্চার হয়ে উঠবেন সে দৃশ্যও কম মূল্যবান নয়।
আসলে ছবি নির্মাণের সময় সুচিত্রা বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর প্রিয় উত্তমের সাথে তাঁর একান্ত আপনার রোমান্টিক যুগ আর খুব বেশি দিন চলবে না। অন্যরা এসে নতুন যুগ রচনা করবেন। তাই শেষ হয়ে যাওয়ার আগে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার একটা ঐকান্তিক আকুতি ছবিটির পরতে পরতে। কোনও কোনও ফ্রেমে মনেও হয়েছে পরিচালকের দাবি ছাড়াও অনেক বেশি করে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

সামগ্রিক মূল্যায়ন করলে কখনো কখনো মনে হতে পারে আগামী দিনের মহানায়কও বেশ কিছু অংশে মহানায়িকার কাছে পিছিয়ে পড়েছিলেন এ ছবিতে। এবার আসি ছবিটির একটি মূল্যবান অংশ ওথেলো নাটকের দৃশ্যায়ন প্রসঙ্গে। ওথেলো রূপী উত্তমবাবুর কণ্ঠে উৎপল দত্ত মহাশয়-র সেই শেক্সপিরিয়ান উচ্চারণ আর মহানায়কের সেই অবিস্মরণীয় লিপিং ভারতবর্ষের অন্য কোনও চলচ্চিত্রে আছে কিনা জানা নেই। পাশাপাশি জেনিফার কাপুরের কন্ঠে ডেসডিমোনার ভয়েস ওভার সুচিত্রাকেও হলিউডি ঘরানায় অভিষিক্ত করেছিল। এ দৃশ্যায়নও, ভারতবর্ষের অন্য কোন চলচ্চিত্রে আছে বলে জানা নেই। ভারতবর্ষের কোন্ আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রে এ ধরনের একটি মূল্যবান সংযোজন রয়েছে তা খুঁজতে আমাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।
আসলে ছবির প্রতিটি অংশ এতটাই মূল্যবান যে কোন একটিকে ছেড়ে আরেকটির পূর্ণতা সম্ভব নয়। শেষ দৃশ্যে যেখানে ছবি বিশ্বাসের ওরফে কৃষ্ণেন্দুর পিতার একটি চিঠি তাদেরকে ভাবীকালের জন্য প্রশস্ত করে তুলবে সে অংশেও রেভারেণ্ড মুখার্জি রূপী উত্তম বাবুর চোখের অভিব্যক্তি অন্য ভারতবর্ষকে চিনিয়ে দেয়।
আমরা ‘শোলে’ ছবিতে জয়া ভাদুড়ির ‘কথা না বলা’ অভিনয়ের খুব প্রশংসা করি, জাতীয় স্তরে মান্যতা দিয়ে থাকি। কিন্তু এ ছবিতে ছায়া দেবীর মুখে একটিও কথা না রেখে শুধুমাত্র নীরবতা দিয়ে কিভাবে দৃশ্যকল্প রচনা করা যায় তা যেন উনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছেন। ‘গল্প হলেও সত্যি’ বা ‘সাত পাকে বাঁধা’” ছবির সেই দজ্জাল মহিলা কিভাবে নিজের সমস্ত বেদনাকে একটি সভ্যতার মোড়কে আবৃত করে রেখেছিলেন তা ওনার চরিত্রটিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়।
আসলে ছবির প্রতিটি অংশ এতটাই মূল্যবান যে কোন একটিকে ছেড়ে আরেকটির পূর্ণতা সম্ভব নয়। শেষ দৃশ্যে যেখানে ছবি বিশ্বাসের ওরফে কৃষ্ণেন্দুর পিতার একটি চিঠি তাদেরকে ভাবীকালের জন্য প্রশস্ত করে তুলবে সে অংশেও রেভারেণ্ড মুখার্জি রূপী উত্তম বাবুর চোখের অভিব্যক্তি অন্য ভারতবর্ষকে চিনিয়ে দেয়।
আমরা ‘শোলে’ ছবিতে জয়া ভাদুড়ির ‘কথা না বলা’ অভিনয়ের খুব প্রশংসা করি, জাতীয় স্তরে মান্যতা দিয়ে থাকি। কিন্তু এ ছবিতে ছায়া দেবীর মুখে একটিও কথা না রেখে শুধুমাত্র নীরবতা দিয়ে কিভাবে দৃশ্যকল্প রচনা করা যায় তা যেন উনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছেন। ‘গল্প হলেও সত্যি’ বা ‘সাত পাকে বাঁধা’” ছবির সেই দজ্জাল মহিলা কিভাবে নিজের সমস্ত বেদনাকে একটি সভ্যতার মোড়কে আবৃত করে রেখেছিলেন তা ওনার চরিত্রটিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
আজও অবাক হয়ে যেতে হয় নিতাই ভট্টাচার্য, নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখরা যেভাবে চিত্রনাট্য লিখতেন বিনয় চট্টোপাধ্যায় সেখান থেকে কোন অংশে কম ছিলেন না। দর্শককে সিটের সাথে বেঁধে রাখতে সবার উপরে সাহিত্যগুণকে মাথায় রেখে চিত্র নির্মাণ খুব কঠিন কাজ। যাতে তিনি সহজেই সিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
আমাদের আলোচ্য শিল্পকীর্তির আরও একটি মহা স্তম্ভ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নামক কালজয়ী সুরস্রষ্টার সংগীত আয়োজন। এরকম একটি সিরিয়াস ছবিতে একটিমাত্র গান যা রোম্যান্টিকতার চূড়ান্ত প্রতীক হিসাবে যুগে যুগে মানুষের মনে জায়গা নেবে। গানটির যখন চিত্রায়ণ হয়েছে তখন বারবার মনে হয়েছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়দের জন্ম হয়েছে শুধুমাত্র এ গানটি গাওয়ার জন্য।
ক্যামেরার বিশেষ পজিশনে সুচিত্রা সেনের অনিন্দ্য সুন্দর মুখখানি যখন বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বারবার দর্শকদের মনে আলোড়ন তুলছে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুরের মায়াজাল নির্মাণ যে কি কঠিন কাজ তা, চলচ্চিত্রবোদ্ধামাত্রই অনুমেয়। সর্বোপরি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে স্লো মোশনে যখন সুচিত্রা গুনগুন করছেন ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ সেই অংশটিও ভীষণ দামী মনে হয়েছে ছবির গতিপথে।
আমাদের আলোচ্য শিল্পকীর্তির আরও একটি মহা স্তম্ভ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নামক কালজয়ী সুরস্রষ্টার সংগীত আয়োজন। এরকম একটি সিরিয়াস ছবিতে একটিমাত্র গান যা রোম্যান্টিকতার চূড়ান্ত প্রতীক হিসাবে যুগে যুগে মানুষের মনে জায়গা নেবে। গানটির যখন চিত্রায়ণ হয়েছে তখন বারবার মনে হয়েছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়দের জন্ম হয়েছে শুধুমাত্র এ গানটি গাওয়ার জন্য।
ক্যামেরার বিশেষ পজিশনে সুচিত্রা সেনের অনিন্দ্য সুন্দর মুখখানি যখন বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বারবার দর্শকদের মনে আলোড়ন তুলছে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুরের মায়াজাল নির্মাণ যে কি কঠিন কাজ তা, চলচ্চিত্রবোদ্ধামাত্রই অনুমেয়। সর্বোপরি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে স্লো মোশনে যখন সুচিত্রা গুনগুন করছেন ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ সেই অংশটিও ভীষণ দামী মনে হয়েছে ছবির গতিপথে।

আর অকস্মাৎ দেখা হয়ে যাওয়া কৃষ্ণেন্দুর সাথে সত্যভঙ্গের অপরাধে যখন রিনা মদ্যপান করছেন এবং গ্লাস আছড়ে ফেলছেন সেই মুহূর্তে ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজা ওই স্বর্গীয় কণ্ঠের মায়াবী আবেদন, ছবির সমস্ত মানকে যেন রতিতৃপ্তির এক বিন্দুতে স্থাপন করে দিল। পরিচালনার কথা বাদ দিলে আসে ক্যামেরা প্লেসিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমরা তথাকথিত অনেক ছবির ক্যামেরার কাজ নিয়ে পাতার পর পাতা লিখি। কিন্তু এ ছবিতে যে সময় দুজনের বিনা প্রস্তুতিতে দেখা এবং একটি আয়নাতে ট্রেনের হুইসেল বাজিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কম্পনের তীব্রতা অনুযায়ী মানসিক অভিব্যক্তির একটি তুলনামূলক সেলুলয়েডি উপস্থাপনা, মনে হয় না ভারতবর্ষের অন্য কোন বাণিজ্যিক সিনেমায় দেখা গিয়েছিল।
ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটি যখন চূড়ান্ত সে মুহূর্তে একটি গুলির আঘাতে কেরোসিন বাতি নিভে যাওয়ার ধোঁয়াতে যে চিত্রায়ণ দেখা দিয়েছিল তা, যেকোনও দেশের চলচ্চিত্রগৌরব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এভাবেই চলচ্চিত্রের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত মূল্যবান হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় ছবিটি কালজয়ী সিনেমার পদবী লাভ করেছিল।—চলবে।
আমরা তথাকথিত অনেক ছবির ক্যামেরার কাজ নিয়ে পাতার পর পাতা লিখি। কিন্তু এ ছবিতে যে সময় দুজনের বিনা প্রস্তুতিতে দেখা এবং একটি আয়নাতে ট্রেনের হুইসেল বাজিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কম্পনের তীব্রতা অনুযায়ী মানসিক অভিব্যক্তির একটি তুলনামূলক সেলুলয়েডি উপস্থাপনা, মনে হয় না ভারতবর্ষের অন্য কোন বাণিজ্যিক সিনেমায় দেখা গিয়েছিল।
ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটি যখন চূড়ান্ত সে মুহূর্তে একটি গুলির আঘাতে কেরোসিন বাতি নিভে যাওয়ার ধোঁয়াতে যে চিত্রায়ণ দেখা দিয়েছিল তা, যেকোনও দেশের চলচ্চিত্রগৌরব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এভাবেই চলচ্চিত্রের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত মূল্যবান হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় ছবিটি কালজয়ী সিনেমার পদবী লাভ করেছিল।—চলবে।
* উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।


















