
লাল পোলের উত্তরে ধুধু মাঠ। আর মাঠের শেষ প্রান্ত দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে রেললাইন। চলতে চলতে যেন আকাশে গিয়ে মিশেছে। পোলের ওপাশের ঢাল বেয়ে ওরা সাঁই সাঁই গড়িয়ে যায় একেবারে নিচের কানায়। সেখানে যত ইচ্ছে লুকোচুরি খেল। বাধা দেবার কেউ নেই। এখন কিন্তু সুধা ভালোই খেলে। ভালোই দৌড়ায়। পায়ে পা জড়িয়ে যায় না। নিজেকে কাঠপুতুল মনে হয় না। চাষিদের ধান ঝেড়ে ফেলে যাওয়া ফাঁকা মড়াইয়ের গর্তে, ঘাড় ভাঙা কাকতাড়ুয়ার টলমলে কঙ্কালের পিছনে যেখানে পারো লুকিয়ে পড়ো। মাঠের মধ্যে অনেক দূরে দূরে কবেকার পুরনো জং পড়ে যাওয়া দু’চারটে কামানও আছে। বিশাল বিশাল কামানের ইয়াব্বড় বড় হাঁ। তার মুখের ফোকড়ে দিব্যি পা ঝুলিয়ে বসে দোল খাওয়া যায়।
এই মাঠটার নাম হল সাহেবের মাঠ। অনেককাল আগে এখানে ছিল অত্যাচারী নীলকর সাহেবদের কুঠি। সুধা এত সব জানে না। ফুলদি জানে। সেই ওকে সব বলেছে। ঠিক এই জায়গাটাতেই সুধা ওর ফুলদির কাছে হেরে যায়। সুধা যা দেখে সেটা ফুলদি দেখতে পায় না এটা ঠিক। সবাই তাই বলে। বলে, গৌরীর দৃষ্টি সুধার মতো তীক্ষ্ণ নয়। সুধা হল বুদ্ধিমতি আর গৌরী চোখের মাথা খাওয়া। কিন্তু ওর ফুলদি যা জানে তার সিকিও যে সুধা জানে না। জানবে কি করে? ফুলদিকে তো সকল শিক্ষা দেন বাবা। ফুলদি ওর বাবার লাঠি। সুধা মায়ের, গৌরী বাবার। তবে এটা ঠিক অত পড়াশোনা আর জ্ঞানের কথা সুধার ভালো লাগে না। তার চেয়ে অনেক ভালো লাগে মায়ের সঙ্গে হাতে হাতে কাজ করতে। উনুন নিকোনো। কয়লা ভাঙা। গুঁড়োকয়লায় জল মিশিয়ে মনের আনন্দে চটকানো। তারপর গুল পাকানো। ঘুঁটে দেওয়া। মায়ের কাছ থেকে শিখে হাতের চাপে ছোট ছোট মাটির উনুন ও বানাতে পারে। আর পারে মায়ের হাতটি ধরে যে কোন দরকারে কোথাও বেড়িয়ে পড়তে। সেটা যে শুধু ঘুরতে যাবার জন্য তা কিন্তু নয়। ও যায় ওর মাকে আগলাতে। মাকে ওর বড় একলা মনে হয়। মনে হয় সুধা থাকলে মায়ের কোনও ভয় নেই।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (১)

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৯ : শুধু মনুভ্যালি নয়, কৈলাসহরের চা বাগান কালীশাসনও বিপ্লবী তৎপরতার সাক্ষী

উত্তম কথাচিত্র পর্ব-৮৮ : নেকলেস

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৪: শূর্পনখার কাহিনিতে, ষড়রিপুর প্রভাব, এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত নয় কী?
এই সব কারণেই গৌরীর অহংকার আজকাল বাড়ছে। গোটা চত্বরে ওর মতো খেলতে কেউ পারে না। ওর মতো ইংরেজি ইতিহাস ভূগোল বিজ্ঞান ও বোঝেনা কেউ। বুঝবে কি করে তার বাবার মত বাবা আছে কারো? বাবা যখনই হাঁটতে বেরোবেন সঙ্গে যাবে গৌরী। সে ভোরবেলা হোক বা সন্ধ্যায়। তখন ওর সব খেলাধুলো বয়কট। সবাইকে হাত মুখ নেড়ে সরে যেতে বলবে। চোখ মুখের ভাবই তখন আলাদা। আসলে বুকের ভেতর মসমস করে গর্ব। এমনিতেই গাট্টাগোট্টা । বাবা ডাকলে সেই ছাতি ফুলে দশ হাত। কারণ বাবা শুধু ওকেই ডাকেন।
—কই, আমার গৌরী মা, আছস কোথায়?
—সঙ্গে সঙ্গে সে একছুটে হাজির। বলে—
—এই যে বাবা, চলেন।
—কই, আমার গৌরী মা, আছস কোথায়?
—সঙ্গে সঙ্গে সে একছুটে হাজির। বলে—
—এই যে বাবা, চলেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১২৮: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৯
আড় চোখে অনেক সময় দেখেছে সুধা আড়াল থেকে তাকিয়ে আছে খানিক কপাল কুঁচকে। কিন্তু এই সময়ে ওর আর বাবার মাঝখানে তৃতীয় জন কে ঢুকতে দেবে না সে। কত কথা বলেন বাবা। এই জড় আর জীবজগতের কথা। গ্রহ নক্ষত্রের কথা। জোয়ার ভাটার কথা। দেশ বিদেশের ইতিহাসের কথা। গৌরী কিছু বোঝে আর বেশিটাই বোঝেনা। তবু মন দিয়ে শোনে। তেমনি কোন সময় বাবার মুখে শুনেছে সাহেবের মাঠের কথা। অত্যাচারী নীলকর সাহেব আর দুঃখী নীল চাষিদের গল্প।
আরও আরও অনেক কিছু বলেন বাবা। বাংলা নয়, অন্য কোনও ভাষার কবিতা। তারপর তাতে সুর লাগিয়ে অপূর্ব গান করেন। বাবাকে জিজ্ঞাসা করে সে জানতে পেরেছে, ওই ভাষার নাম হল দেবভাষা। আর ওই কথাগুলো নাকি উপনিষদের কথা। কোনও মানে না বুঝেই সেই সুরের মধ্যে নিজের অজান্তে ডুবে যায় গৌরী। শুনতে শুনতে মুখস্থ হয়ে গিয়েছে এক আধটা কবিতা।বাবাকেও শুনিয়েছে। সুর করে।
কুর্বন্নেবেহ কর্মাণি জিজীবিষেৎ শতং সমা ।
এবং ত্বয়ি নান্যথেতোঅস্তি ন কর্ম লিপ্যতে নরে।
খুব খুশি হয়েছিলেন বাবা। মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন—
—একদিন এই ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করে তুমি অনেক বড় হবে দেইখ্যো।
আবার একদিন সান্যাল খুড়োদের দিঘির পাড়ে বসে আশ্চর্য একটা কথা বলেছিলেন তার বাবা। দিঘির পারে পড়ে থাকা ইট পাটকেল নিয়ে জলের মধ্যে ছুঁড়ছিল গৌরী। হঠাৎই বাবা বলেছিলেন—
—গৌরীমা, একটা কথা কই, চিরকালের মতো হৃদয়ের মধ্যে ভইরা লও।
—কন বাবা?
—এই যে তুমি পাথর ছুইড়া দীঘিতে ফেললে এতে কি হইল কও?
গৌরী বোঝে না। তাই চুপ করে থাকে।
—শান্ত কণ্ঠে বাবা বলেন—
—আবারও ছোট একখান পাথর ছোড়ো মা।
গৌরী ছোঁড়ে। বাবা বলেন—
—দেখো, দিঘির জলে তরঙ্গ। দিঘির জলে ঢেউ। তোমার পাথরের আঘাতেই কিন্তু হইল। কিন্তু সেই পাথর তোমার হাতে কি আর ফিরত আইল মা?
—না তো বাবা। গৌরী বিস্ময়ে মাথা নাড়ে।
আরও আরও অনেক কিছু বলেন বাবা। বাংলা নয়, অন্য কোনও ভাষার কবিতা। তারপর তাতে সুর লাগিয়ে অপূর্ব গান করেন। বাবাকে জিজ্ঞাসা করে সে জানতে পেরেছে, ওই ভাষার নাম হল দেবভাষা। আর ওই কথাগুলো নাকি উপনিষদের কথা। কোনও মানে না বুঝেই সেই সুরের মধ্যে নিজের অজান্তে ডুবে যায় গৌরী। শুনতে শুনতে মুখস্থ হয়ে গিয়েছে এক আধটা কবিতা।বাবাকেও শুনিয়েছে। সুর করে।
এবং ত্বয়ি নান্যথেতোঅস্তি ন কর্ম লিপ্যতে নরে।
খুব খুশি হয়েছিলেন বাবা। মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন—
—একদিন এই ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করে তুমি অনেক বড় হবে দেইখ্যো।
আবার একদিন সান্যাল খুড়োদের দিঘির পাড়ে বসে আশ্চর্য একটা কথা বলেছিলেন তার বাবা। দিঘির পারে পড়ে থাকা ইট পাটকেল নিয়ে জলের মধ্যে ছুঁড়ছিল গৌরী। হঠাৎই বাবা বলেছিলেন—
—গৌরীমা, একটা কথা কই, চিরকালের মতো হৃদয়ের মধ্যে ভইরা লও।
—কন বাবা?
—এই যে তুমি পাথর ছুইড়া দীঘিতে ফেললে এতে কি হইল কও?
গৌরী বোঝে না। তাই চুপ করে থাকে।
—শান্ত কণ্ঠে বাবা বলেন—
—আবারও ছোট একখান পাথর ছোড়ো মা।
গৌরী ছোঁড়ে। বাবা বলেন—
—দেখো, দিঘির জলে তরঙ্গ। দিঘির জলে ঢেউ। তোমার পাথরের আঘাতেই কিন্তু হইল। কিন্তু সেই পাথর তোমার হাতে কি আর ফিরত আইল মা?
—না তো বাবা। গৌরী বিস্ময়ে মাথা নাড়ে।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫২: কূটবণিক্-জাতক — ভাণ্ডার তোর পণ্ড যে হয়

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
বাবা বলেন—
জীবনের ক্ষেত্রেও ঠিক এইডাই হয় গৌরীমা। কথা হল ঢিলের মতন। সংসার হইল দীঘির জল। সংসারের মধ্যে কখনো ইট পাটকেলের মত কথা ছুইড়া দিবে না মা। তাতে জীবনে বড় ঢেউ উঠব। সেই ঢেউকে নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য তোমার হাতে থাকব না।
পাখির কুজন ঘেরা সন্ধ্যায় দীঘির ঘাটে বসে সেদিন গৌরীর গায়ে কাঁটা দিয়েছিল বাবার কথায়। কেন জানে না। তবে সে কথার গভীর মূল্য নিজের মত করে বুঝে নিয়েছিল গৌরী। সাহেবের মাঠের শেষ প্রান্ত দিয়ে যে রেললাইনটা গিয়েছে সেখান দিয়ে মাঝে মাঝে ট্রেন চলে। কু কু ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক। অবাক চোখে দুই বোন দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা রেলগাড়ি দেখে। ট্রেন চলে গেলে দু’জনে মনের সুখে ঠান্ডা লাইন ধরে হাঁটতে থাকে। ইস্পাত রেখার একদিকে সুধা অন্যদিকে তার ফুলদি। কাচির মতো বেঁকেবেঁকে পা ফেলে ফেলে চলে সরু লাইনে। তখনও শক্ত করে দু’জনের হাত দু’জনে ধরা। আচমকা কখনও বেসামাল হলেই ধপাশ। চিৎপাত পড়ে যায় লাইনের কাঠের পাতে। পাতের মাঝখানে বিছিয়ে রাখা কাঁকড় ফুটে যায় পিঠে। তখন হাসি আর হাসি। সরু সরু লম্বা কাঠের ফাঁকে নুড়ি পাথর আর ঘাসফড়িং। তারই মধ্যে দু’বোন ঠান্ডা লাইনে কান পেতে শোনে দূরে ট্রেনের শব্দ। শব্দ শুনেই সুধা লাফ দিয়ে উঠে গৌরীকে হাত ধরে টানে।
ফুলদিরে শিগগির উঠ, ট্রেন আসে ট্রেন আসে।
—গৌরী বলে, খাড়া না, মজা লাগে।
ভয় হিম হয়ে যায় সুধা। তার ক্ষ্যাপা দিদিটাকে শরীরের সব শক্তি একজোট করে টানতে থাকে। আর নাকি সুরে কাঁদে,
— না ফুলদি উঠ, আমার মাথা খা, আমার দিব্যি নে।
জীবনের ক্ষেত্রেও ঠিক এইডাই হয় গৌরীমা। কথা হল ঢিলের মতন। সংসার হইল দীঘির জল। সংসারের মধ্যে কখনো ইট পাটকেলের মত কথা ছুইড়া দিবে না মা। তাতে জীবনে বড় ঢেউ উঠব। সেই ঢেউকে নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য তোমার হাতে থাকব না।
পাখির কুজন ঘেরা সন্ধ্যায় দীঘির ঘাটে বসে সেদিন গৌরীর গায়ে কাঁটা দিয়েছিল বাবার কথায়। কেন জানে না। তবে সে কথার গভীর মূল্য নিজের মত করে বুঝে নিয়েছিল গৌরী। সাহেবের মাঠের শেষ প্রান্ত দিয়ে যে রেললাইনটা গিয়েছে সেখান দিয়ে মাঝে মাঝে ট্রেন চলে। কু কু ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক। অবাক চোখে দুই বোন দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা রেলগাড়ি দেখে। ট্রেন চলে গেলে দু’জনে মনের সুখে ঠান্ডা লাইন ধরে হাঁটতে থাকে। ইস্পাত রেখার একদিকে সুধা অন্যদিকে তার ফুলদি। কাচির মতো বেঁকেবেঁকে পা ফেলে ফেলে চলে সরু লাইনে। তখনও শক্ত করে দু’জনের হাত দু’জনে ধরা। আচমকা কখনও বেসামাল হলেই ধপাশ। চিৎপাত পড়ে যায় লাইনের কাঠের পাতে। পাতের মাঝখানে বিছিয়ে রাখা কাঁকড় ফুটে যায় পিঠে। তখন হাসি আর হাসি। সরু সরু লম্বা কাঠের ফাঁকে নুড়ি পাথর আর ঘাসফড়িং। তারই মধ্যে দু’বোন ঠান্ডা লাইনে কান পেতে শোনে দূরে ট্রেনের শব্দ। শব্দ শুনেই সুধা লাফ দিয়ে উঠে গৌরীকে হাত ধরে টানে।
ফুলদিরে শিগগির উঠ, ট্রেন আসে ট্রেন আসে।
—গৌরী বলে, খাড়া না, মজা লাগে।
ভয় হিম হয়ে যায় সুধা। তার ক্ষ্যাপা দিদিটাকে শরীরের সব শক্তি একজোট করে টানতে থাকে। আর নাকি সুরে কাঁদে,
— না ফুলদি উঠ, আমার মাথা খা, আমার দিব্যি নে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৪: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— অলিভ রিডলে কচ্ছপ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
এই কথাগুলো সুধা নতুন শিখেছে। নতুন মানে তিন মাস হল। ডিএল রায় স্ট্রিটের বাড়িতে কোন একটা মন খারাপের সন্ধ্যেবেলায় সুধা বসেছিল বাড়ির নিচের চওড়া লাল রোয়াকে। অন্ধকার ঘন হয়ে এসেছিল। স্ট্রিট লাইট জ্বলে উঠেছিল দূরে। তার বাবার বাড়ির দেওয়ালে ছড়িয়ে পড়েছিল তার রেশ। একটু দূরে গলির মাথায় টুকটাক গাড়ির আলো সরে সরে যাচ্ছিল। হঠাৎ সুধা দেখে ওদিক থেকে সাইকেল চেপে তার দিদির বয়সের একটা মেয়েকে নিয়ে একটা চ্যাংড়া ছেলে এসে ঝপ করে নামলো সুধাদের বাড়ি পেরিয়ে একটু দূরে। দেয়ালের আঁধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছেলেটা মেয়েটাকে কী যেন বলছিল। আর মেয়েটা মাথা নাড়িয়ে বলছিল—
—না না। আজ নয়। আজ হবে না।
ওরা সুধাকে দেখেনি। ছেলেটা বলছিল—
—তাহলে কবে যাবে, বল? এখনই বল।
মেয়েটা নাকি সুরে বলছিল—
—আমার মাথা খাও আজ না। আর একদিন যাব। ছেলেটা বলছিল,
—ঠিক বলছো? আমার দিব্যি?
তারপর দুজনের কি যুক্তি হল শুনতে পায়নি সুধা। আর ওরাও সাইকেলে চেপে উধাও হয়ে গিয়েছিল। সেই কথাগুলোই সুধার মস্তিষ্কে গেঁথে গিয়েছে।
—উঠ উঠ ফুলদি। আমার মাথা খা। আমার দিব্যি নে।
একসময় গৌরী উঠে পড়ে হাসতে হাসতে। বোনকে ভেঙিয়ে বলে—
—মাথা খা, দিব্যি নে, ভিতুর ডিম কোথাকার।
তারপরেই চটে গিয়ে চোখ পাকিয়ে বলে—
—চল খেলবি চল।
যেন এটাই সুধাকে দেওয়া কঠিনতম শাস্তি। যেন রেললাইনে কান পাততে না দিলে এমন ভয়ানক জরিমানাই সে বুঝে নেবে বোনের কাছ থেকে। ভয়ে ভয়ে সুধা বলে, চল।—চলবে।
—না না। আজ নয়। আজ হবে না।
ওরা সুধাকে দেখেনি। ছেলেটা বলছিল—
—তাহলে কবে যাবে, বল? এখনই বল।
মেয়েটা নাকি সুরে বলছিল—
—আমার মাথা খাও আজ না। আর একদিন যাব। ছেলেটা বলছিল,
—ঠিক বলছো? আমার দিব্যি?
তারপর দুজনের কি যুক্তি হল শুনতে পায়নি সুধা। আর ওরাও সাইকেলে চেপে উধাও হয়ে গিয়েছিল। সেই কথাগুলোই সুধার মস্তিষ্কে গেঁথে গিয়েছে।
—উঠ উঠ ফুলদি। আমার মাথা খা। আমার দিব্যি নে।
একসময় গৌরী উঠে পড়ে হাসতে হাসতে। বোনকে ভেঙিয়ে বলে—
—মাথা খা, দিব্যি নে, ভিতুর ডিম কোথাকার।
তারপরেই চটে গিয়ে চোখ পাকিয়ে বলে—
—চল খেলবি চল।
যেন এটাই সুধাকে দেওয়া কঠিনতম শাস্তি। যেন রেললাইনে কান পাততে না দিলে এমন ভয়ানক জরিমানাই সে বুঝে নেবে বোনের কাছ থেকে। ভয়ে ভয়ে সুধা বলে, চল।—চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): দেওয়াল পারের দেশ (Dewal Parer Desh)। লিখছেন জয়িতা দত্ত (Dr. Jayita Dutta), বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, হুগলি মহসিন কলেজ।


















