কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

 

ফটোগ্রাফ-৩

ঠিকই। শ্রেয়া বুবুর অনেক ছবি তুলেছেন। বুবুকে নিয়ে সেলফিও আছে কয়েকটা। আবার বলে ওঠেন মি: চক্রবর্তী
—আফটার অল তোমার অ্যাসিস্ট্যান্ট, তার স্ট্যাটাস শার্লকের ওয়াটসন, পোয়ারোর ক্যাপ্টেন হেস্টিংস, ফেলুদার তোপসে, ব্যোমকেশের অজিত, কিরীটীর সুব্রত, শবরের নন্দলাল বা মিতিন মাসির টুপুরের থেকে কম নয়। গোয়েন্দা পরাশরের অবশ্যই কোন সহকারী ছিলেন না।

গোয়েন্দা কর্তা ভৈরব চক্রবর্তীর সিনেমা প্রেম থেকেই বাবু মানে আমাদের ধৃতিমান চৌধুরী সঙ্গে আলাপ। কিন্তু এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের চাপ সামলে চক্রবর্তী সাহেব যে খুঁটিয়ে গোয়েন্দা সাহিত্য পড়েন তা নয়, গড় গড় করে আর্থার কোনান ডয়েল থেকে আগাথা ক্রিষ্টি হয়ে প্রেমেন্দ্র মিত্র, শরদিন্দু, সত্যজিত টপকে শীর্ষেন্দু সুচিত্রা ভট্টাচার্যদের মূলচরিত্রদের নাম ঠিকানা টপাটপ বলে যেতে পারেন।

—ওকে শুনুন ধৃতিমান।
তারপর গোয়েন্দা কর্তার থেকে নির্দেশ এলো।
বুবুকে আজকে ব্রেকফাস্টের বদলে ব্রাঞ্চ দিতে হবে। কারণ সকালে বেরিয়ে কখন ফেরার সম্ভব হবে সেটা চক্রবর্তী সাহেব নিজেও জানেন না। উল্টোডাঙার মুচিবাজারের আরিফ রোডে বাবু মানে ধৃতিমানের ভাড়া বাড়ি থেকে একটা অ্যাপক্যাব নিয়ে তাকে পৌঁছতে হবে সুদূর দক্ষিণে রিজেন্ট পার্ক পোস্ট অফিসের পাশে। অমিতাভ চক্রবর্তী একে টেলি নায়িকার স্বামী তার ওপর আবার গলায় ওড়না ঝুলিয়ে মৃত্যু। মিডিয়াতে যেন ডবল ডিমের এগ রোল। ঠাসা মাংসের পুর!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১২১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৮: শূন্যতা ও পূর্ণতার প্রতীক, রামের প্রিয় অপরূপ হেমন্ত

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৪ : গরুর পালে বাঘ

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২১: বিবাহ সংবাদ, আদিনাথ-গোরা

বাড়ির সামনে থিকথিক করছে মানুষের ভিড়। মেন রোড থেকে ভেতরে ঢোকার উপায় নেই। রিজেন্ট পার্ক পোষ্ট অফিস পেরোতেই বাঁদিকে রাস্তাটা টপকে এনএসসি বোস রোডের ওপরেই অ্যাপকাব ছেড়ে নেমে এলো ধৃতিমান। টং করে করে শব্দ। বাড়তি ইলেকট্রন ছাড়ার মতো ধৃতিমানের ব্যাঙ্ক থেকে ক্যাব কোম্পানীর খাতে টাকা চলে গেল। আওয়াজ শুনে ড্রাইভার সায় দেয়
—ঢুকে গেছে দাদা। থ্যাঙ্ক ইউ! … এখানে আবার কী হয়েচে … আজব শহর মাইরি, একটা না একটা ক্যাচাল।
আরও পড়ুন:

শিবরাত্রির বিশেষ পর্ব : শিব

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৬ : ‘চণ্ডাল-কূপ’ ও অস্পৃশ্যতা: পঞ্চতন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ভারতের এক দগদগে ইতিহাস

ড্রাইভার দাদার স্বগতোক্তির বাকি অংশ ধৃতিমান আর শুনতে পায়নি। অসংখ্য মানুষ। অসংখ্য মন্তব্য। ধৃতিমান কান বন্ধ রেখে চোখ খুলে চলেছে। ডানদিকে মোমোর দোকান তারপরে একটা চশমার দোকান তারপরের বাড়ি। হ্যাঁ! ঠিক তাই ওই বাড়িটার নিচে দুটো পুলিশের জিপ দাঁড়িয়ে। একটা সম্ভবত লোকাল থানার। অন্যটায় শ্রেয়া এসেছেন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৯: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — চিতল হরিণ

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৪ : শুন বরনারী

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইলে শ্রেয়া বেজে ওঠে। মানে শ্রেয়ার ইনকামিং টোন! ধৃতিমানের ঈশ্বর সত্যজিৎ রায়কৃত সোনার কেল্লার ক্যামেলরাইড সিকোয়েন্সের সুর। বহুবার শোনা অবিস্মরণীয় সাসপেন্স মিউজিক। দুলকি তালে চেলো আর ট্রাম্পেটের দুরন্ত মিশ্রণ। ট্রেনের মোটিফ আর আর ফেলুদার নিজস্ব থিমে ভরপুর।
—এসে গিয়েছি!
—আই য়োগার সামনে?
—হ্যাঁ তাই তো? দোকানের নামটা অদ্ভুত ! চশমার দোকান নাকি চশমার যোগাশ্রম?
—জানি না! আমি আপনাকে দেখতে পাচ্ছি।
—কোথায়?
—মাথাটা তুলুন। ওপরে ফোর্থ ফ্লোর। ব্যালকনিতে তাকান। হ্যাঁ!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯২: কৈলাসচন্দ্র সিংহ ছিলেন সত্যনিষ্ঠ আপসহীন এক ঐতিহাসিক

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

মোটামুটি সাজানো গোছানো থ্রিবিএইচকে ফ্ল্যাট। শোবার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বারান্দা দেখেই সন্দেহ হল বাইরে থেকে কেউ ঘরে ঢুকে ছিল কিনা। বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। সকালবেলা কাজের লোক বাসনা এসে মৃতদেহ আবিষ্কার করে হাউমাউ করে কেঁদে কেটে কেটে থানায় ফোন করেছে। তার মানে বাসনার কাছে বাড়ির চাবি ছিল। বাসনা এ বাড়ির বাসন মাজে। ঘরদোর পরিষ্কার। জামাকাপড় শুকোতে দেওয়া। সকাল বিকালের রান্না করে বিকেলবেলা বাড়িতে যায়। তার মানে সে মোটামুটি এ বাড়ির অল ইন ওয়ান। ইতিমধ্যেই বাসনার সঙ্গে কথা বলেছে। বাসনা খুব ঘাবড়ে আছে। বারবার বলছে, এ বাড়ি থেকে অনেকগুলো টাকা মাইনে পাওয়া যেত সেটা তার চিরকালের বন্ধ হয়ে গেল। খেটে খাওয়া মানুষের স্বাভাবিক দুশ্চিন্তা। বাসনা ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়।—চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content