কলকাতায় বৃষ্টি

মা সারদা।

মেঝেতে আসনে শ্রীমা পা মেলে বসে আছেন। সন্ধ্যার পর ভক্ত সারদেশানন্দ তাঁকে চিঠি পড়ে শোনাচ্ছেন। সামনে একটি লণ্ঠন জ্বলছে। ভক্তটির হঠাৎ চোখে পড়ল, কিছুদূরে একটা মস্ত বড় তেঁতুল বিছে শ্রীমার দিকে এগিয়ে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হল, শ্রীমাকে কামড়াবে না তো। তখনি পা দিয়ে বিছেটাকে সরিয়ে দিলে। তখন লাঠি বা কিছু নেওয়ার কথা মনে আসেনি তার। শুধু ভেবেছেন, মাকে কামড়ালে সর্বনাশ! তাই যেই দেখেছেন অমনি জোরে পা দিয়ে মেরেছেন।
তবে শ্রীমা মৃত বিছেটির দিকে চেয়ে ধীরে ধীরে বললেন, ‘সাধুর পায়ের আঘাতে প্রাণ গেল’, এমনভাবে বললেন যেন জীবটির সদগতি হল। ভক্তটি তার সাধুত্ব কতটা তা না জানলেও শ্রীমার কৃপায় যে জীবটির সদগতি হল তা বেশ বুঝতে পারলেন। আর ভাবলেন যে, সাধুত্বের প্রতি শ্রীমার কি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস। একবার শ্রীমা যখন বাড়িতে ছিলেন না, দুজন হিন্দুস্থানী সাধু ভিক্ষা করতে আসেন। স্বামী সারদেশানন্দ তাঁদের ভাল সিধে দিয়ে বিদায় করেন। যারা সেখানে ছিল, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল যে, এরা সাধু নয়। পেশাদার ভিক্ষুক সাধুর গেরুয়া পোশাক পরে লোক ঠকায়।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৪: মা সারদার নিত্যলীলা

মুভি রিভিউ: সত্যিই তো, সবার নিজের নিজের মতো করে সবটাই নর্মাল

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না

একজন বললে, দিনে সাধু সেজে ভিক্ষা করে, রাতে শেয়াল মেরে খায়। এমন ‘শেয়ালমারা’ এদেশে দেখা যায়। ভক্ত বললে, ‘যেই হোক, মায়ের বাড়িতে আশা করে এসেছে, শুধু হাতে ফিরিয়ে দেওয়া ভাল নয়’। তারাও সিধে পেয়ে খুশি হয়ে চলে গেল। কয়েকদিন পর সেই প্রসঙ্গ উঠলে শ্রীমা সিধে দেওয়ার জন্য খুশি হয়ে বললেন, ‘বাবা, যেই হোক, সাধুর পোশাকে এসেছে তো? তাদের দিয়ে সাধুসেবাই করা হল’।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২২: মহর্ষির নির্দেশে ঘণ্টা বাজত জোড়াসাঁকোয়

শ্রীমার সর্বদা দৃষ্টি থাকত সাধুসন্ন্যাসীদের প্রতি। কাশীতে সাধু তোতাপুরীর গুরুভাই চামেলীপুরীকে শীতের সময় কম্বল দিয়েছিলেন। রাধুদেরও বলতেন, সাধুদের প্রণাম করতে। অন্তরে ত্যাগী নিষ্ঠাবান গৃহীভক্তদের প্রতিও শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করতে বলতেন। উদ্বোধনে ভিক্ষার্থী বৈষ্ণব সাধু-ফকিরদের প্রতিও তিনি মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করতেন। তাই নয় গরীব, আতুর ভিখারিদের প্রতিও তাঁর প্রীতি ও সহানুভূতি শেখার বিষয় ছিল। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিও তাঁর বিশ্বাস ও ভক্তি ছিল। চিৎপুর ব্রিজের নিচে রাস্তার পাশেই ভূতসাহেবের বড় জাগ্রত দরগা ছিল। উদ্বোধন থেকে আর পাশের বাড়ি থেকে মেয়েরা দর্শনে যাবে।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২১: খেলা শুরুর প্রস্তুতি

শ্রীমা ভক্ত সারদেশানন্দকে তাদের সঙ্গে পাঠালেন। দরগা দেখে, সেখানে পুজো, সিন্নি দিয়ে প্রণাম করে বাবা ভূতসাহেবের মাটি-প্রসাদ নিয়ে ফিরে এসে ভক্তটি শ্রীমার হাতে সেই প্রসাদ দিল। শ্রীমা একজায়গায় বসে অতি ভক্তিভরে সেই রজঃ মাথায় স্বয়ং ধারণ করে পাশে দাঁড়ানো ভক্তের হাতে অতি সাবধানে সেটি দিয়ে বললেন, ‘বাবা ভূতসাহেবের প্রসাদী ধূলি গায়ে, মাথায় মাখো, দেহ সুস্থ হবে, বড় জাগ্রত’। শ্রীমার ভক্তিভাব দেখে অবাক হয়ে সন্তান, যার মনে অত আস্থা ছিল না, মাথায় ও দেহে ভক্তিভরেই মাখলে। শ্রীমা তখন কাতরভাবে প্রার্থনা করলেন, ‘বাবা ভূতসাহেব, আমার রোগা ছেলেটিকে ভাল কর, বাবা’।—চলবে।
* আলোকের ঝর্ণাধারায় (sarada-devi): ড. মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় (Dr. Mousumi Chattopadhyay), অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, বেথুন কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content