
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, উত্তম কুমার ও তরুণ কুমার।
একঝলকে
অনেকদিন পর তিনি একটা চরিত্র পেয়েছিলেন যেখানে সমাজের নীচু তলার তথা সুশীল সমাজের বাইরের লোকের ভূমিকায় তাকে অভিনয় করতে হয়েছিল। এযাবত যত চরিত্র করেছেন সেখানে সত্যের বিজয় বার্তা তার চোখে মুখে ফুটে উঠতো। কিন্তু ‘অবাক পৃথিবী’ ছবিটার তৈরি থেকেই উত্তমবাবু নিজেকে ভেঙেচুরে একটি অন্য মানের চরিত্রে দাঁড় করাতে চাইছিলেন।
সমাজের অন্য লোকেরা যখন আইনের কাছে প্রশ্ন জাগায় কেন তার শাস্তি হবে না তখন আইনের কচকচানি নিমেষে বন্ধ করে দেয় শিশুকণ্ঠের আর্তি। তোমাকে কেন ধরেছে, তুমিতো আমায় চুরি করে পালাওনি? তখন হাউজে এমন কোন দর্শক বাকি ছিল না, যার চোখ দিয়ে জল পড়েনি। একটি কয়েকদিনের অভুক্ত মানুষ, সামনে খাবার ফেলে পরম নিশ্চিন্ততায় কীভাবে তা গলাধঃকরণ করেন ছবির রেস্টুরেন্টের দৃশ্যটি দেখলেই তা বোঝা যায়। খাবার অর্ডার দেওয়া শুরু থেকে মাংসের হাড় চিবানো, চেয়ারে পা তুলে বসা, প্রতিটি ফ্রেমকে এক অনন্য আলপনায় এঁকে দিয়েছেন উত্তম কুমার নামক একজন ক্ষণজন্মা শিল্পসাধক।

উত্তম কথাচিত্র পর্ব-৭৩ : ‘খেলাঘর’

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৫: আকাশ এখনও মেঘলা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪১: ঘটি চেয়ে বঁটি
উত্তমবাবুর ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো যদি পারস্পরিক বিশ্লেষণের দাবি নিয়ে প্রকৃত মননের অপেক্ষায় রাখি সেখানে ‘নায়ক’-পরবর্তী ‘নায়ক’-পূর্ববর্তী এই ইজমগুলো অনেকভাবে ধাক্কা খাবে। সেই দিক দিয়ে উত্তমবাবুর মতো একজন ক্ষণজন্মা অভিনেতা যিনি, কমার্শিয়াল ছবির মূলধন হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর সারস্বত সাধনা অনেক অংশে কালোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। সেটা বোঝার মতো বোধশক্তি, সেসময়ের তো নয় এ সময়েও অনেকের হয়ে উঠল না এটাই উত্তমবাবুর মতো শিল্পীর দুর্ভাগ্য।

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৩: আঁধারে আছে আততায়ী

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৭: জৌরালি
ছবির কাহিনি এতটাই নিটোল ছিল যে উত্তমবাবু চোখের অভিব্যক্তি দিয়ে প্রতিটি মুহূর্তকে নির্মাণ করেছেন তা এক কথায় অনবদ্য। আর কিছুদিন পর, এধরণের আরো একটি ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘রাজা সাজা’ নামক ছবিতে। আমরা এ সময়ের যে উত্তমকে পাব বা পেয়েছি সেটা গতানুগতিক সুচিত্রা উত্তমের বাঁধা গদ থেকে অনেক দূরে।

অবাক পৃথিবী ছবিতে বাবলা ও উত্তম কুমার।
আমরা যখন কোন ছবির প্রাণভোমরা নিয়ে আলোচনা করি তখন অধিকাংশ সময়ে চিত্রনাট্য তৈরীর ব্যাপারটিকে আলোচনার বাইরে রাখি। বেশি জোর দিই প্লেয়ার কাস্টিং সাংগীতিক বিন্যাস অভিনয়ের কুশীলবদের দক্ষতার উপর। কিন্তু ভারতবর্ষের বুকে “শোলে”-র মতো ছবি তৈরি হয়েছে শুধু ভালো চিত্রনাট্যকে মূলধন করে। আসলে অদৃশ্য ভাবে চিত্রনাট্যই ছবির নায়কের ভূমিকা পালন করে। তার কাঁধে ভর করেই কুশীলবরা নিজস্ব আকাশে ডানা মেলে ওড়ে। ১৯৫৯ সালে “অবাক পৃথিবী”-র মতো সমান্তরাল চিত্রনাট্য আমাদের দেশে খুব কমই তৈরি হয়েছে।

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৬ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী?
কোন চলচ্চিত্র-শিক্ষার্থী যদি আলোছায়ার খেলা দেখার জন্য এ ছবিটিকে মনোনয়ন করে থাকেন তাহলে বুঝতে হবে ভবিষ্যতে সে অনেক দূর যাবে।
সাধারণ বাণিজ্যিক ছবিতেও যে শিল্প সচেতনতা সে সময় দেখা যেত তা যে কোন দেশের গৌরবকে অনেক অংশে বাড়িয়ে রাখতো। ছবিটির চতুর্থ মূলধন অসামান্য সংগীত পরিচালনা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ভাই অমল মুখোপাধ্যায় ছবিটিতে সুর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং তিনি যোগ্যতার মাপকাঠিতে অনেককে পিছিয়েই সামনের সারিতে উঠে এসেছিলেন।

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৩: ত্রিপুরা : ঊনকোটির বহু মূর্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে

পিতার ঔজ্জ্বল্য কখনও ম্লান হয়নি পুত্রের খ্যাতিতে

কোন উৎসবের জন্য নয়, জাতীয় পুরস্কারের মালা গলায় পরার জন্য নয়, শুধু দর্শকদের জন্য তৈরি শিশুমনের সরলতা এবং এক সামাজিক অর্থনৈতিক চাপের অলংকৃত ছবি “অবাক পৃথিবী” আজও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।—চলবে।
* উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।


















