রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
সত্যজিতের ব্যোমকেশ উত্তমকুমার, ফেলু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দু’ জনেই বাংলা ছবির দুই দিকপাল। সত্যজিতের ব্যোমকেশ আর ফেলুদার মধ্যে দূরত্ব ঠিক কতটা? তাঁদের ড্রয়িংরুমে যাওয়া যাক, বিশেষ করে যেখানে তাঁরা বসেন, ভাবেন, কথা বলেন সেখানকার অন্দরসজ্জা কেমন? কী ব্যঞ্জনা থেকে যায় সেখানে?

বইয়ের পাতার ব্যোমকেশ নিখাদ বাঙালি, বুদ্ধিদীপ্ত চোখের তাত্পর্যহীন চেহারার আপাদমস্তক ছা-পোষা বাঙালি। সংসারধর্ম ও সত্যান্বেষণ সেখানে পরস্পরবিমুখ তো নয়-ই, বরং পরিপূরক বলেই মনে হয় যেন। আর ফেলুদা অবিবাহিত, পাশ্চাত্ত্যবিদ্যায় তাঁর অনুসন্ধিৎসা, শরীরচর্চায় তাঁর আগ্রহ, মগজের পুষ্টির জন্য নানা বিষয়ের অলিগলিতে তাঁর অবাধ আনাগোনা। চলন-বলনে, আদব-কায়দায় তিনি যেন এক ইয়ুথ আইকন আন্তর্জাতিক বাঙালি, হৃদয়ে-মননে যাঁর বাঙালির জাতিসত্তা ষোলআনা। পর্দায় ফেলুদা দেখা দিয়েছেন তাঁর স্রষ্টার হাত ধরেই। কিন্তু ব্যোমকেশের বেলায় উপন্যাসের বাঁকে বাঁকে গড়ে ওঠা অবিস্মরণীয় চরিত্রটি পর্দায় অন্যভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে, এবং যেভাবে অবিসংবাদী ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী’ হয়ে উঠেছে তাকে প্রত্যক্ষ করাও এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে, যদি দর্শক সমকালীন বাস্তবতা, শরদিন্দুর ব্যোমকেশ আর সত্যজিতের ব্যোমকেশের মধ্যে থাকা দূরত্ব, ব্যবধানটুকুকে মেনে নিতে পারেন।
ফেলুদা ও ব্যোমকেশ দুজনেই পর্দায় বিশিষ্ট দুটি কালের, সমকালের প্রতিনিধি। ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির মুক্তিকাল ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ। ‘সোনার কেল্লা’ মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে, ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ১৯৭৯ সালে। সত্যজিতের দুই সত্যসন্ধানীর ডিটেকশনে ছয়ের দশকের শেষলগ্ন থেকে সাতের দশকের শেষের ভারতবর্ষ ও কলকাতার সময় ও সংকট জেগে থাকে। ফেলুর মতো পর্দার ব্যোমকেশ-ও অকৃতদার, কিন্তু নারীসঙ্গবর্জিত হলেও প্রেমিকের অন্তঃকরণ, মনস্তত্ত্বের গভীরলোকে তাঁর অনায়াস যাতায়াত। ব্যোমকেশের এই কাহিনীতে রিপু, প্রণয়, সমাজ ও অ-সমাজ, বৈধ অবৈধ, কামনা ও অস্তিত্বের পাশে অনস্তিত্বের সংকট প্রবল হয়ে উঠেছে। নামকাটা মানুষদের ‘চিড়িয়াখানার’ মূল তত্ত্বে ঔপন্যাসিকের দর্শনটি বহমান থেকেছে, পাশাপাশি জেগে উঠেছে সত্যজিতের সমকাল।

ফেলুদা সকলের হয়েও অপরিণতমনস্ক কিশোর কিশোরীদের দুনিয়ার ‘হিরো’, তাই তাঁর জীবনচর্যা ও বৌদ্ধিক কার্যকলাপের বাঁকে বাঁকে উত্তেজনা, টান টান রহস্য, মারাত্মক ভিলেন, হিউমার, ঐতিহ্যানুরাগ, ভ্রমণের আনন্দ, অপরাধ সকল কিছু থাকলেও যা তথাকথিত ‘বড়দের’ দুনিয়ার তা এখানে নেই বা সংযতভাবে আছে। পর্দার “চিড়িয়াখানা” গোলাপ কলোনী যদি তাবত্ বিশ্ব আর তার বিচিত্রমুখী জীবনে ফুটে ওঠা ফুল ও অনিবার্য কাঁটাটির নেপথ্যে বহমান রাজনীতি, রণনীতি ও বৃহত্তর রহস্যের ভাষ্য হয় তবে “সোনার কেল্লা” সেই জীবনের-ই অন্তরালে জমে থাকা অন্তর্লীন, অবচেতন স্বপ্নের কথা বলে, যেখানে বাস্তবের ধুলো মেখে উঁকি দেয় পরাবাস্তব, অধিবিদ্যা, যেখানে মিথ্যা সত্য বলে মনে হয়, সত্য মিথ্যার ভেদটুকু অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর, “জয় বাবা ফেলুনাথ” আরও ঘন রহস্যের মাঝেও নিভৃতে গড়ে তোলে, যাপন করে এক ‘হিরোইজম’।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৫ : য-এ যুদ্ধ

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৬৩: আকাশ এখনও মেঘলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০০ : প্রাচীন ভারতের ‘স্টিং অপারেশন’-এরও নজির মেলে পঞ্চতন্ত্রের কূটনীতিতে!

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার

এই কথাটুকু বলে নিতে হয় তাঁদের চেনার জন্য। বলা ভালো, তাঁদের রুচি, অভিরুচি ও মনস্তত্ত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য। আর সেজন্যই তাঁদের বসার ঘরটিতে চোখ রাখা। ব্যোমকেশ অজিতের সঙ্গে একটি ঘরে থাকেন। অজিত এখানে বিবাহিত, কিন্তু তাঁর স্ত্রী কাহিনিতে অনুপস্থিত। তাই তাঁদের একত্রবাস। এই ঘরের-ই একপাশে নিজেদের ও আগন্তুকদের আটপৌরে বসার জায়গা। তার অনতিদূরেই একটি রাইটিং টেবল। সত্যান্বেষী ও সাহিত্যিকের কর্মপীঠ। সেখানে একটি ফুলদানিতে কৃত্রিম ফুল ইঙ্গিতবহ। এছাড়াও আনুষঙ্গিক এটা সেটা। তবে উল্লেখযোগ্য হল টেবিল সংলগ্ন দেওয়ালটি, যা ব্যোমকেশের খেয়ালের সাক্ষী। সেখানে ছোট বড় নানা কাগজে নানা মন্তব্য লিখে দেওয়ালে সাঁটা। এছাড়াও পর্দার ব্যোমকেশ একটি সাপ পোষেন, তাকে ঢুকিয়ে রাখেন কাচের প্রশস্ত বাক্সে। কাচের বাক্সের পিছনে অজস্র সর্পিল পথচিহ্নে আকীর্ণ একটি ম্যাপ দেখা যায়। হাওড়া ও কলকাতা নগরের মানচিত্র। এই সাপ ও সর্পিল পথ নিঃসন্দেহে ছবির আগামী ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গে অর্থবহ, প্রাসঙ্গিক জীবনের বিপুল রহস্যবিস্তারেও।

ব্যোমকেশের টেবিলের অনতিদূরে একটি লম্বমান মানবকঙ্কাল দেখা যায়। রহস্য-রোমাঞ্চের সঞ্চারেই কেবল নয়, যাবতীয় রিপুসংঘাতের আপাতঃ আসক্তির অন্তরালের শ্বেতশুভ্র উন্মুক্ত সারসত্যটি যেন ছবির প্রথমেই প্রস্তাবিত হয়। বোঝা যায়, ব্যোমকেশের সত্যান্বেষণ নিছক “হু ডান ইট” নয়, বরং তার থেকেও উচ্চতর, বৃহত্তর সত্যসম্ভাবনার একনিষ্ঠ সাধক তিনি। নামে ব্যোমকেশ শিবের সাযুজ্য নিয়ে মানবকপালের অনুষঙ্গে যেন এক অঘোরী কাপালিক সাধক জীবনের রূপ-রসের সত্যসন্ধানে নেমেছেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৮ : বিনা বিচারে আটকদের নিয়ে রাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যকে চিঠি লিখেন নেহরু

ক্যামেরার চোখ দেখায় ইলেকট্রিক সুইচ, ফ্যানের রেগুলেটর, দেওয়ালে শোভমান নরকরোটি ও অন্যান্য অনুষঙ্গসহ বিকটদর্শন মুখোশ। এর নিচেই শোভা পায় দুটি নেপালি কুকরি। যেন দুটি হাতের তালুর মাঝে রক্ষিত দীপবর্তিকা। আরক্ষক শক্তির পীঠস্থলে বিকৃত ভয়ালের সমাবেশ। দেয়ালে বড় দেয়াল ঘড়িতে পৌনে বারোটা বাজতে দেখা যায়। এছাড়াও বাক্স, কেটলি, বইয়ের তাক, পুরনো দরজার মাথায় কাচের অর্ধচন্দ্রাকার আর্চ-সদৃশ রঙিন কাচের শার্সি। মুখোশ ও অস্ত্রের সমাবেশের নিচেই সেই বাক্যগুলো সাজানো থাকে। তার-ও নিচে কৃত্রিম ফুল থাকে ফুলদানিতে। পেনদানিতে কলম-পেন্সিলের সম্ভার, ডায়াল ঘোরানো ল্যাণ্ডফোন, টেবল ল্যাম্প। আলো-আঁধারি ঘরের নিষ্প্রভ দেয়ালের আশেপাশে গৃহস্থের সকল ব্যবহার্য ও শখের সামগ্রী একটা ইঙ্গিত হয়ে দেখা দেয়। গৃহস্থের চরিত্র, পেশা, নেশা, শখ, অবসর ও জীবনবেদ যেন এই সংক্ষিপ্ত পরিসরেই ধরা দিতে চায়। এই সকল কিছুর মধ্যে সমকাল গেঁথে থাকে তার আর্থ-সামাজিক বার্তা নিয়ে। যে কাল পরাধীনতা পার হয়ে স্বাধীনতা, দেশভাগ, দাঙ্গা, নতুন সত্তা, আরও যুদ্ধ, আদর্শ, স্বপ্ন, অভাব, আন্দোলন, সংকট ও ধারাবাহিক জীবনসংগ্রামের নিরন্তর সাক্ষী। ওই সাপ, মানবকঙ্কাল সেই দিশাহীন, ভাঙাচোরা অথচ নবোন্মেষণের কালের নেপথ্যেও প্রতীকে জেগে থাকে স্মৃতি-সত্তা ও সমাজের আনাচে কানাচে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৩: জরাসন্ধ ও কৃষ্ণের কথোপকথন সূত্রে নিহিত আছে রাজনীতির পাঠ

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

শিরোদেশে শক্তির আস্ফালন ও ভয়ের দ্যোতনা নিয়ে, পালিকা শক্তির বরাভয়টুকু নিয়ে পাদদেশে থাকে কৃত্রিম পুষ্পভার, মধ্যবিত্তের পুষ্পাধারের শোভা হয়ে। আধুনিকতার এই বুঝি এক অপূর্ব বিদ্রূপ, যেখানে গন্ধহীন ফুলের রঙ-শোভার মিথ্যাটুকুই সত্যের অধ্যাস নিয়ে বাঁচে। তার অনতিদূরেই সাপের বাসা। যে সর্পকে রজ্জুতে আপতিত করে দার্শনিক নানা সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন কালে কালে। সত্যান্বেষীও সেই বিচিত্রগতি বিবিধ সম্ভাবনার পথের যাত্রী। অনুমান থেকে উপলব্ধিতে পৌঁছোন তিনি।

তবে এই গোলাপ ফুলে গন্ধ যেমন নেই, কাঁটাও নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভারতবর্ষ স্বাধীনতার ফুল পেলেও, সেই পুষ্পশোভা কণ্টকদষ্ট। অথবা ফুল ভেবে যা সে পায়, তার রঙ-শোভা নেহাতই নির্গন্ধ নকল। এর মাঝেই জেগে থাকে নানা বাক্য, জীবনের দেয়ালের শোভা হয়ে। ছয়টি নানা মাপের কাগজে সাঁটা থাকে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য’ এই সাবধানবাণী। এই প্রসঙ্গ আগেই উত্থাপিত হয়েছে। তার নিচেই ‘ট্রেসপাসারস’ উইল বি প্রোসিকিউটেড’… যেমনটা দেখা যেত কোনও এক স্বার্থপর দৈত্যের বাগানে। আরও বড় অক্ষরে ‘টু লেট’… বিলম্ব নয়, ভাড়ার প্রসঙ্গ। ব্যোমকেশ এখানে মক্কেলপ্রত্যাশী নিতান্ত মধ্যবিত্ত ভাড়াটিয়া। তবে সকল বাক্যের মধ্যে এই ভাড়ার প্রসঙ্গ, যা নিজের নয়, তাকে ক্ষণিকের জন্য নিজের করে পাওয়ার মধ্যে যাদৃশ ব্যঞ্জনা থাকতে পারে, সমকালের পৃথিবী ও জীবন, চিরকালের পৃথিবী ও জীবন আর, প্রস্তাবিত রহস্যসম্ভাবনার গর্ভে তার তাত্পর্য নিহিত থেকে যায়। আরও দেখা যায় ‘ফিক্সড প্রাইস’, ‘নো ভ্যাকান্সি’ ও ‘পকেটমার হইতে সাবধান’ এই তিনটি বাক্য, তিনটি নানা মাপের পোস্টারসদৃশ কাগজে। সম্ভবত নবরূপায়িত দেশ দুনিয়ার এই ছয়টি নিত্যসত্য তথাকথিত আধুনিক জীবনের ললাটলিখন হয়ে জেগে থাকে মাথায় শক্তি ও ভয় নিয়ে, তার পদপাতে কৃত্রিম আনন্দের ভার, সত্য বলে প্রতীয়মান নিখাদ মিথ্যার আবিল আবেশ। স্বাধীন, কর্মহীন আত্মপর জাতির অভিজ্ঞান হয়ে পাশেই জাগে নরকঙ্কাল। যাদের ক্ষুদ্রপ্রাণ ‘পকেট’ বাঁচানোর তাগিদ যেমন একমাত্র সত্য, তেমন-ই জীবনের সকল দিক তখন থেকেই নির্দিষ্ট মূল্যমানে চিহ্নিত হয়ে পণ্যের তুলাদণ্ডে উঠে গিয়েছে, বাঁধা দরে বিশ্বের হাটে বিকিয়ে যাচ্ছে সবকিছু, ক্রেতাও যথার্থমূল্যে বিনা দরকষাকষিতেই তুলে নিচ্ছে নিজের চাহিদামতো, বাঁধা দরে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৪: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— অলিভ রিডলে কচ্ছপ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

কাহিনির প্রতিপাদ্যে এই বোধ আরও ঘনায়মান হবে। অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও জীবনের সার্বিক সঙ্কটের কালে সত্যান্বেষী কোনও পুরোধাপুরুষ সঙ্কটমোচক ত্রাতা নন, বরং তিনি যাত্রী, নিবিষ্ট নিরীক্ষক, সত্যের অচঞ্চল আদর্শে দীক্ষিত হয়ে ইতঃস্ততঃ জমে থাকা অনৃতের অন্ধকারে সত্যের আলো ফেলে ফেলে চলেন। উপলব্ধি করা যায়, গোলাপ কলোনীর বিচিত্র ও নানা মেজাজ-স্বভাবের মানুষকে ঘিরেই চিড়িয়াখানার গণ্ডী নয়, বরং তার বিস্তার আরও দূরে, বিশ্বব্যাপী। তথাকথিত ‘সভ্য’ মানুষের সমাজ ও নিয়মের বাইরে যা নিছক বিনোদনের; খাঁচায় রাখা জীবের রক্ষণালয় হয়ে যা পরিজ্ঞাত হয় কেবল, আবাসিকদের বৃদ্ধি, বিকাশ ও স্থিতির লক্ষ্যে যাকে মনুষ্যনির্মিত পুনর্বাসনভূমি হয়ে মানুষের উত্তুঙ্গ মাহাত্ম্যের স্মারক হয়ে থাকতে হয়, তা-ই কি কেবল চিড়িয়াখানা? নাকি সভ্যতার মুখোশটুকু সরে গেলে সারা পৃথিবীর নরকুলকে ঘিরে থাকা বেষ্টন— ‘সমাজ’টাই চিড়িয়াখানা হয়ে যায় নিমেষেই?

ছবিতে সত্যান্বেষী ব্যোমকেশের সত্যসন্ধান ও সত্যের আদর্শ ধীরে ধীরে সাকার হবে দর্শকের কাছে। ছবির শুরুতেই তার আটপৌরে যাপনকক্ষে জমে থাকা সময়, সমকাল, পৃথিবী ও জীবন যেন চারদেয়ালের মাঝে তাদের সকল রূপ, বেদনা, সঙ্কট ও রহস্য নিয়ে ধরা দেয়।

পাঁচের দশক— ছয়ের দশকের বাস্তবতা খানিক পরিবর্তিত হয়েছে সাতের দশক জুড়ে। তার বোধ, মনন, শিল্পচেতনা ছাপ রেখে যায় ফেলুর ড্রয়িংরুমের অন্দরসাজে। পরের পর্বে আমাদের গন্তব্য তাই ফেলুদার অন্দরমহল।—চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content