
কাচের দেওয়ালের দু'দিকে কামনা ও শুভাংশু।
নির্ধারিত সূচি মেনে বুধবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী ঠিক বেলা ১২টা ১ মিনিটে শুভাংশু শুক্লা-সহ চার নভশ্চরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে স্পেস এক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’। আপাতত তাঁদের মহাকাশযান প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করছে।
এদিকে শুভাংশু শুক্লা ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন লেখা শেয়ার করেছেন। সঙ্গে একটি ছবিও দিয়েছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দম্পতি কাচের দেওয়ালের মধ্য দিয়ে একে অপরকে নীরবে বিদায় জানাচ্ছেন।
এদিকে শুভাংশু শুক্লা ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন লেখা শেয়ার করেছেন। সঙ্গে একটি ছবিও দিয়েছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দম্পতি কাচের দেওয়ালের মধ্য দিয়ে একে অপরকে নীরবে বিদায় জানাচ্ছেন।
শুভাংশু লিখেছেন, “আমরা যখন ২৫ জুন ভোরে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি, তখন আমি এই মিশনে জড়িত সবাইকে তাঁদের সমর্থনের জন্য এবং দেশের সকল মানুষকে তাদের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার পরিবার এবং বন্ধুরা যাঁরা এই মিশনে আমার ভিত্তি হয়ে আছেন, তাঁদের অনেক ধন্যবাদ। কখনও কখনও আপনার কাছের মানুষরা এমন ত্যাগ স্বীকার করেন, যা আপনি সবটা বুঝতেও পারেন না। কিন্তু তাঁরা আপনার প্রতি তাঁদের অন্তরের ভালোবাসার জন্য তা করেন।”
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-২৯: মাংস জাতক— বার বার দেখি বন্ধুরই মুখ শুধু

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৩: মা সারদা নিজের কষ্ট গোপন রাখতেন

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২১: মহারাজ অফ শান্তিনিকেতন
এই মিশনে শুভাংশুকে (‘অ্যাক্সিয়ম-৪’) সম্পূর্ণ ভাবে সমর্থনের জন্য স্ত্রীকে কামনাকে তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। “তোমার মতো একজনকে অসাধারণ সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। তুমি ছাড়া কোনও কিছুই সম্ভব ছিল না। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এর কোনওটিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। কেউ একা মহাকাশ ভ্রমণ করে না। আমরা আরও অনেকের কাঁধে ভর করে এটি করি। আমি তোমাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ,” লিখেছেন শুক্লা।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৫: গাঙচিল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৯: খাণ্ডবদহনের প্রেক্ষিতে জরিতা,লপিতা ও ঋষি মন্দপালের উপাখ্যানের আজ প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?
শুভাংশু এবং কামনার প্রথম দেখা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তৃতীয় শ্রেণি থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব। কামনার কথায়, “আমরা তৃতীয় শ্রেণি থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা করছি। শুরুতেই আমরা সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে শুরু করেছিলাম। আমি শুভাংশুকে গুঞ্জন নামে চিনতাম। শুভাংশু ছিল ক্লাসের শান্ত, লাজুক ছেলে। যে এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।” শুভাংশু এবং কামনার ছয় বছরের একটি ছেলেও রয়েছে।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা
নির্ধারিত সূচি মেনে বুধবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী ঠিক বেলা ১২টা ১ মিনিটে শুভাংশু শুক্লা-সহ চার নভশ্চরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে স্পেস এক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’। এখন তাঁদের মহাকাশযান প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করছে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২০: একেজি কলিং
এর আগে ১৯৮৪ সালে রাশিয়ার মহাকাশযানে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন আর এক মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা। তার পর পেরিয়ে গিয়েছে দীর্ঘ চার দশক। এত বছরে আর কোনও ভারতীয় মহাকাশে যাননি। ৪১ বছর পর সেই খরা কাটল। শুভাংশুদের অভিযানের নাম ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’। অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন নাসার প্রাক্তন নভশ্চর তথা অ্যাক্সিয়ম স্পেসের মানব মহাকাশযানের ডিরেক্টর রেগি হুইটসন। এ ছাড়াও থাকছেন পোল্যান্ডের স্লায়োস উজ়নানস্কি-উইসনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু। ১৪ দিনের এই অভিযানের জন্য দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল চার নভশ্চরকে। যাতে মহাকাশে যাওয়ার আগে সংক্রমণজনিত কোনও রোগে অসুস্থ না পড়েন, সে জন্য গত এক মাস ধরে চার জনকেই থাকতে হয়েছিল নিভৃতবাসে (কোয়ারেন্টাইন)। আগামী ১৪ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকবেন চার নভশ্চর। সেখানে অন্তত ৬০টি পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবেন তাঁরা।


















