
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সূর্যোদয় দেখছেন শুভাংশু শুক্ল। ছবি: অ্যাক্সিয়ম স্পেস।
মহাকাশ স্টেশনের জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল। মুখে হাসি। বাইরে ঝলমলে রোদ। এ বার এমনই ছবি প্রকাশ্যে আনল অ্যাক্সিয়ম স্পেস। শুভাংশু শুক্লাই ভারতের প্রথম নভশ্চর, যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ পা রেখেছেন।
শুভাংশুদের এই অভিযানের নাম অ্যাক্সিয়ম-৪। এতে শুভাংশু ছাড়াও রয়েছেন নভশ্চর ক্রু-কমান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজ়নিউস্কি, টিবর কাপু। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১০ দিন কাটিয়েও ফেলেছেন শুভাংশুরা। এখন তাঁরা নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২২: মহর্ষির নির্দেশে ঘণ্টা বাজত জোড়াসাঁকোয়

মুভি রিভিউ: সত্যিই তো, সবার নিজের নিজের মতো করে সবটাই নর্মাল

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে মা-বাবা-বোনের সঙ্গে কথা বলেছেন। মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখায়, সূর্যোদয় কেমন লাগে এ সবই পরিবারকেও দেখিয়েছেন। শুভাংশুর বাবা শম্ভুদয়াল শুক্ল জানিয়েছেন, ‘‘এই সূর্যোদয়ের তুলনা হয় না। পাহাড়-চূড়া থেকে নয়, বিমান থেকে নয়, পৃথিবী থেকে অনেক অনেক মাইল দূরে মহাকাশ কেন্দ্রের জানলা থেকে সূর্যোদয়!’’
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২১: খেলা শুরুর প্রস্তুতি
শুভাংশু আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখতে লাগে? শুভাংশু জানিয়েছিলেন, মহাকাশ থেকে দেশ-বিদেশের সীমানা দেখা যায় না। দেখা যায় না কাঁটাতারের বেড়া। মহাকাশ জাগিয়ে তোলে ঐক্য এবং মানবতার অনুভূতি!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২০: সত্য ও ন্যায় পরস্পরের সম্পূর্ণ বিরোধী নয়, তবে? ঔজ্জ্বল্য বেশি কার?

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৫: সমাপ্তি: শেষ হয়ে হইল না শেষ
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে চার জন আইএসএস-এ ১০ দিন কাটিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা এখন নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা করেছেন। সঙ্গে চলছে প্রচারমূলক কাজও। গত ৩ এবং ৪ জুলাই দুই স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে একটি কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন শুভাংশু। বেঙ্গালুরুর তিরুঅনন্তপুরম এবং লখনউয়ের ওই স্কুলের ৫০০-রও বেশি ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়। এই কর্মসূচির লক্ষ্য, মহাকাশের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের কৌতূহল জাগানো।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৩: দুর্জনের সম্মান, সাধুর জন্য ফাঁদ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৫: মা সারদার সাধুভক্তি
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একগুচ্ছ গবেষণাও করছেন শুভাংশুরা। সে সবের মধ্যে অন্যতম হল মায়োজেনেসিস। এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল, মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতি কী ভাবে পেশিক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। টার্ডিগ্রেড্স নিয়েও গবেষণা চলছে। পৃথিবীর এই আনুবীক্ষণিক সামুদ্রিক জীব মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণশূন্য পরিবেশেও বেঁচে থাকবে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন শুভাংশুরা। পাশাপাশি মাইক্রোঅ্যালগি (ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শৈবাল) ও সায়ানোব্যাক্টিরিয়া (সালোকসংশ্লেষে সক্ষম ব্যাক্টিরিয়া) মহাকাশে কেমন আচরণ করে, সে সব নিয়েও পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে।


















