
উজ্জ্বল কৈলাসহর। ছবি : সংগ্রহীত।
নকল ফাদার আন্তোনিও ওরফে আনাতোলের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তে উপস্থিত সবাই যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। কী করবে, বুঝে উঠতে পারছিল না কেউ। আকস্মিক এমন ঘটনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি ছিল না কারও-ই। যে দিকে ঘটনাপ্রবাহ এগোচ্ছিল, তাতে সকলেই ভেবেছিল, খেলা একেবারে শেষের পথে। স্বরূপ উদ্ঘাটনের পরে নকল ফাদার আন্তোনিও ভেঙে পড়ে সারেন্ডার করবে। কিন্তু সে যে পকেট থেকে রিভলভার বার করে খেলা ঘুরিয়ে দিতে চাইবে, এমনটা কেউ ভাবেনি। মিস্টার শর্মা শাক্য এবং সুদীপ্তর মুখের দিকে তাকালেন।
আনাতোল বিশেষ করে তাঁদের মুখের দিকেই খরচোখে তাকিয়েছিল। কারণ সে জানে, এই দলের মধ্যে কেবল এই তিনজনের যে কেউই হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠে আক্রমণ শাণাতে পারে। মিস্টার শর্মাকে শাক্যদের দিকে তাকাতে দেখে আনাতোল গলার মধ্যে শব্দ করে উঠল। তারপর চেঁচিয়ে বলল, “লিসন্, মেক ইভন অয়ান ইঞ্চ, অ্যান্ড ইউ আর আ ডেড ম্যান! ডোন্ট ইভন থিংক অ্যাবাউট ট্রাইং এনি ডার্টি ট্রিকস্; দ্য গান ইন আনাতোল’স্ হ্যান্ড ওন্ট শো এনি মার্সি!”
আনাতোল বিশেষ করে তাঁদের মুখের দিকেই খরচোখে তাকিয়েছিল। কারণ সে জানে, এই দলের মধ্যে কেবল এই তিনজনের যে কেউই হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠে আক্রমণ শাণাতে পারে। মিস্টার শর্মাকে শাক্যদের দিকে তাকাতে দেখে আনাতোল গলার মধ্যে শব্দ করে উঠল। তারপর চেঁচিয়ে বলল, “লিসন্, মেক ইভন অয়ান ইঞ্চ, অ্যান্ড ইউ আর আ ডেড ম্যান! ডোন্ট ইভন থিংক অ্যাবাউট ট্রাইং এনি ডার্টি ট্রিকস্; দ্য গান ইন আনাতোল’স্ হ্যান্ড ওন্ট শো এনি মার্সি!”
মিস্টার শর্মা বললেন, “ইউ আর মেকিং আ হিউজ মিসটেক, আনাতোল! ডু ইউ থিংক দ্য গভর্ণমেন্ট অফ দিস কান্ট্রি উইল লেট ইউ অফ থে হুক ইফ ইউ অ্যাটাক্ গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ?”
আনাতোল প্রত্যুত্তরে মুখ বিকৃত করে একটা নোংরা ইঙ্গিত করল। বলল, “ফাক্ ইয়োর গভর্নমেন্ট। আমাকে ধরতে পারলে তো? তোমাদের সবকটাকে এখানে আটকে রেখে যাব। কেবল জামিন হিসেবে তোমাদের তিনজনকে তুলে নিয়ে যাবে আমার লোক। আমি এয়ারপোর্টে পৌঁছে এ-দেশ ছেড়ে চলে গেলে তারপর আমার লোক ভেবে দেখবে তোমাদের ছাড়বে কি-না। তবে আমি খুব নরম মনের মানুষ। অযথা রক্তপাত পছন্দ করি না। কেউ আমার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালে তবেই তাকে আমি গুলির মুখে উড়িয়ে দিই কিংবা দিতে বলি। আশা করি আমার কথায় বুঝতে পেরেছ যে আমি তোমাদের নিয়ে কী করতে চলেছি?”
মিস্টার শর্মা নয়, শাক্য মাথা নাড়ল। বলল, “না আনাতোল, আমরা তোমার কথা কেউই বুঝিনি। সুদীপ্ত তুমি বুঝেছ?” বলে সে সুদীপ্তর দিকে তাকিয়ে এক চোখ বন্ধ করে ইশারা করল।
সুদীপ্ত দ্রুত বুঝে নিল, শাক্য দা কথায়-কথায় সময় নিতে চাইছে। ততক্ষণে এসপির দলবল চলে আসবে আর কথাবার্তা বলতে-বলতে আনাতোলও অসতর্ক হয়ে পড়তে পারে। অতএব সে বলল, “অন্য কারুর কথা জানি না, আমি তো বুঝিনি। একটু বুঝিয়ে বলবে গণ্ডগোল?”
“গণ্ডগোল? হোয়াট ডু ইউ মিন বাই গণ্ডগোল?” আনাতোল চিবিয়ে-চিবিয়ে কথাটা বলল।
“কে তোমার নাম গণ্ডগোল নয়?” সুদীপ্ত ভাজা মাছটি না খেতে পারার মতো মুখভঙ্গি করে বলল।
“আর ইউ জোকিং উইথ মি? তাহলে কিন্তু তোমার কপালে দুর্ভোগ আছে, বলে দিলাম!” রেগে বলল আনাতোল।
“দেখ, আমি পাতি সাব-ইন্সপেক্টর। অত শিক্ষিতও নই। ইংরাজি-ফিংরাজি বুঝি না। তাও তোমার অত জড়ানো-মড়ানো ইংরাজি! কাজের সূত্রে যাদের সঙ্গে ডিল করি, তারা চোর-বদমাশ-ডাকু—আই মিন তোমার স্বগোত্র, জাতভাই সব। তারা বেশিরভাগ বাংলায় কথা বলে, বড়জোর কেউ-কেউ হিন্দুস্তানি বা ভোজপুরী ভাষায়। এর বাইরে আর একটাই ভাষা আমি বুঝি, কেলানির ভাষা। তুমি তো এ-সব ভাষা বোঝো না, তাই না?”
“সব বুঝি! আজ এতগুলি বছর এখানে আন্তোনিওর ভূমিকায় কি এমনি-এমনি অভিনয় করছি ভেবেছ? তোমাকে কীভাবে বোঝাতে হয় জানা আছে। উলঙ্গ করে সবার মাঝে ছেড়ে দেব, ভালো হবে?”
আনাতোল প্রত্যুত্তরে মুখ বিকৃত করে একটা নোংরা ইঙ্গিত করল। বলল, “ফাক্ ইয়োর গভর্নমেন্ট। আমাকে ধরতে পারলে তো? তোমাদের সবকটাকে এখানে আটকে রেখে যাব। কেবল জামিন হিসেবে তোমাদের তিনজনকে তুলে নিয়ে যাবে আমার লোক। আমি এয়ারপোর্টে পৌঁছে এ-দেশ ছেড়ে চলে গেলে তারপর আমার লোক ভেবে দেখবে তোমাদের ছাড়বে কি-না। তবে আমি খুব নরম মনের মানুষ। অযথা রক্তপাত পছন্দ করি না। কেউ আমার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালে তবেই তাকে আমি গুলির মুখে উড়িয়ে দিই কিংবা দিতে বলি। আশা করি আমার কথায় বুঝতে পেরেছ যে আমি তোমাদের নিয়ে কী করতে চলেছি?”
মিস্টার শর্মা নয়, শাক্য মাথা নাড়ল। বলল, “না আনাতোল, আমরা তোমার কথা কেউই বুঝিনি। সুদীপ্ত তুমি বুঝেছ?” বলে সে সুদীপ্তর দিকে তাকিয়ে এক চোখ বন্ধ করে ইশারা করল।
সুদীপ্ত দ্রুত বুঝে নিল, শাক্য দা কথায়-কথায় সময় নিতে চাইছে। ততক্ষণে এসপির দলবল চলে আসবে আর কথাবার্তা বলতে-বলতে আনাতোলও অসতর্ক হয়ে পড়তে পারে। অতএব সে বলল, “অন্য কারুর কথা জানি না, আমি তো বুঝিনি। একটু বুঝিয়ে বলবে গণ্ডগোল?”
“গণ্ডগোল? হোয়াট ডু ইউ মিন বাই গণ্ডগোল?” আনাতোল চিবিয়ে-চিবিয়ে কথাটা বলল।
“কে তোমার নাম গণ্ডগোল নয়?” সুদীপ্ত ভাজা মাছটি না খেতে পারার মতো মুখভঙ্গি করে বলল।
“আর ইউ জোকিং উইথ মি? তাহলে কিন্তু তোমার কপালে দুর্ভোগ আছে, বলে দিলাম!” রেগে বলল আনাতোল।
“দেখ, আমি পাতি সাব-ইন্সপেক্টর। অত শিক্ষিতও নই। ইংরাজি-ফিংরাজি বুঝি না। তাও তোমার অত জড়ানো-মড়ানো ইংরাজি! কাজের সূত্রে যাদের সঙ্গে ডিল করি, তারা চোর-বদমাশ-ডাকু—আই মিন তোমার স্বগোত্র, জাতভাই সব। তারা বেশিরভাগ বাংলায় কথা বলে, বড়জোর কেউ-কেউ হিন্দুস্তানি বা ভোজপুরী ভাষায়। এর বাইরে আর একটাই ভাষা আমি বুঝি, কেলানির ভাষা। তুমি তো এ-সব ভাষা বোঝো না, তাই না?”
“সব বুঝি! আজ এতগুলি বছর এখানে আন্তোনিওর ভূমিকায় কি এমনি-এমনি অভিনয় করছি ভেবেছ? তোমাকে কীভাবে বোঝাতে হয় জানা আছে। উলঙ্গ করে সবার মাঝে ছেড়ে দেব, ভালো হবে?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৫: শিয়রচাঁদা

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫১: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩১
সুদীপ্ত ভাজা মাছটি উল্টে খেতে না-পারার মতো মুখ করে বলল, “উলঙ্গ হতে আমার আপত্তি নেই। তবে ডিউটি আওয়ারস তো। একটু অপেক্ষা করুন কিংবা থানা থেকে বড়বাবুর পারমিশন নিন, তাহলে উলঙ্গ হয়ে ছাড়া কী বলছেন, ন্যুড ডান্স পর্যন্ত দেখিয়ে দেব!”
এত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অনেকেই হেসে উঠল। আনাতোলের মুখ ঘৃণায় বিকৃত হয়ে গেল। সে হিস্হিস্ করে বলল, “এই নোংরা ইয়ার্কির জন্য তোমায় অনেক মূল্য চোকাতে হবে অফিসার!” তারপর অ্যাম্বুলেন্সের দিকে তাকিয়ে সেই ডাক্তারকে বলল, “হাঁ করে তাকিয়ে দেখছ কি? আন্তোনিওর মুখ ঢেকে দাও। যাওয়ার পথেই ওকে রাস্তায় কোথাও একটা নিকেশ করে ফেলতে হবে। হিন্দুদের মতো জ্বালিয়ে দিলেই হল। জীবন্ত পুড়ে একেবারে প্রভু যিশুর কাছে চলে যাবে! ও বেঁচে থাকা মানে আমার ক্ষতি। আনাতোল একবার যখন আন্তোনিও হয়েছে, আর আনাতোলে ফিরে যেতে চায় না!”
শাক্য বলল, “আনাতোল, তুমি কি বলছ সুস্থ মস্তিষ্কে বলছ তো?”
“কেন ? তোমার তাতে কোন সন্দেহ আছে নাকি?” আনাতোল মুখ বিকৃত করে বলল।
“না না। আমি স্যুর হয়ে নিতে চাইছিলাম আর-কি। কারণ, সুস্থ মস্তিষ্কে বলা কথা কোর্টে তোমার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে তো?”
“কোর্ট? কোন দেশের কোর্ট? আর এই কথা যে আমি বলেছি, তার প্রমাণই বা কোথায়? কোন কোর্টই প্রমাণ ছাড়া তোমাদের মুখের কথায় তো আর বিশ্বাস করবে না। আমার ল-ইয়ার বলবেন, তোমরা দল পাকিয়ে আমাকে সাজা দেওয়ার জন্য একজোট হয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছ!”
“এ-দেশের! আবার কোথাকার! আর মিথ্যা সাক্ষী দেবে কেন? এই এতগুলি লোক সক্কলে আমাদের কথায় মিথ্যা সাক্ষী দেবে এ হতে পারে? তোমার দলের ডাক্তারও তো একই সাক্ষী দেবে, কী ডাক্তার দেবেন না?” বলে শাক্য ডাক্তারের দিকে তাকাল। দাক্তারটি ততক্ষণে আন্তোনিওর মুখটা আবার চাদরে ঢেকে দিয়েছিল। ঠিক যেন শায়িত শব! সে শাক্যর প্রশ্ন শুনে তাকাওল বটে, কিন্তু কোন জবাব দিল না।
“দেখ, ওই ডাক্তারটি, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স যে চালাচ্ছে সেই ড্রাইভার পর্যন্ত আমার পোষা কুত্তার মতো। ওদের উঠতে বললে উঠবে, বসতে বললে বসবে, নাচতে বললে নাচবে। ওরা কখনই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে না। দিলে নিজেরাই ফাঁসবে। ওই ডাক্তার মেডিকেল এক্সামিনেশনের ফাইনাল পরীক্ষায় কৃতিকার্য হয়নি। জাল সার্টিফিকেট বার করে ডাক্তারি করছে। ওর আসল মার্কশিট আমার কাছে। ও জানে ওর প্রাণভোমরা যতদিন ও চুপ থাকবে ততদিন আমার কাছেই সুরক্ষিত থাকবে। মুখে খুললে ওর জোরা বিপদ। ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে ডাক্তারি করা এক নম্বর ক্রাইম। আর সুস্থ মানুষকে দিনের-পর-দিন ইঞ্জেকশন দিয়ে অসুস্থ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা দুই নম্বর ক্রাইম। ও তাহলে জেলের গারদ কিছুতেই এড়াতে পারবে না। আর ওই যে ড্রাইভার, ও কিন্তু উত্তরাখণ্ডের মোষ্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনালের লিস্টের মধ্যে আছে। খুন, রেপ, ডাকাতি, রাহাজানির বেশ কয়েকটা কেস ওর নামে আছে। এখানে ভেজা বেড়ালের মতো মুখ করে থাকলে কী হবে, ও কম ফেরসাস নয়। এই যে যাওয়ার পথে আন্তোনিওকে সাবাড় করতে হবে, তা কে করবে? আমার তো মন বড়ই নরম, আগেই বলেছি। ডাক্তারটা এত আনাড়ি, পারবে না। করবে আমার ড্রাইভার। ওর আবার রক্ত দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। খুন করাটা ওর হবি। আর তোমাদের আইন আমাকে ছুঁতেও পারবে না। কারণ, আমাকে এ-দেশে আর পেলে তো! আগামী দু’দিনের মধ্যে আমি কোথায় হারিয়ে যাব, আমাকে খুঁজেই পাবে না!” বলে আত্নপ্রসাদের হাসি হাসল আনাতোল।
“দেখ, আত্মবিশ্বাস ভালো, কিন্তু এতটাও ভালো না। তুমি যেমন-যেমন চাইছ, সব যে তোমার চাওয়া অনুযায়ী হবে, এমন মনে করাটা অন্যায়!”
“এই চুপ করো তো। জ্ঞান দিও না। আমি অন্য কারুর জ্ঞান শুনতে অভ্যস্ত নই। বুঝলে?”
“অভ্যাস করা ভালো। আর দেখ, তুমি সারেণ্ডার করলে উচিত কাজই করবে। থানার বড়বাবু এসে পড়লেন বলে! তখন কিন্তু চাপে পড়ে যাবে!” শাক্য ঠাণ্ডা গলায় উপদেশ দিল।
“বড়বাবু! মানে, মালাকার?” বলে আনাতোল হঠাৎ হাসতে শুরু করল। বেশ কিছুক্ষণ হেসে নিয়ে তারপর বলল, “সে আবার কী বলবে? সে তো আমাদেরই লোক। সে-ও অনেকের মতো চায়, তার আসল দেবতা কালাদেওর মিথ আবার মানুষ বিশ্বাস করুক, ভয় পাক, পূজা করুক, আস্তে-আস্তে তোমাদের হিন্দু ধর্মের মূল স্রোত তাঁকে স্বীকার করে নিক। সে যে ‘মিশ কালাদেও’র অন্যতম সক্রিয় মেম্বার-ক্রিয়েটর!”
এত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অনেকেই হেসে উঠল। আনাতোলের মুখ ঘৃণায় বিকৃত হয়ে গেল। সে হিস্হিস্ করে বলল, “এই নোংরা ইয়ার্কির জন্য তোমায় অনেক মূল্য চোকাতে হবে অফিসার!” তারপর অ্যাম্বুলেন্সের দিকে তাকিয়ে সেই ডাক্তারকে বলল, “হাঁ করে তাকিয়ে দেখছ কি? আন্তোনিওর মুখ ঢেকে দাও। যাওয়ার পথেই ওকে রাস্তায় কোথাও একটা নিকেশ করে ফেলতে হবে। হিন্দুদের মতো জ্বালিয়ে দিলেই হল। জীবন্ত পুড়ে একেবারে প্রভু যিশুর কাছে চলে যাবে! ও বেঁচে থাকা মানে আমার ক্ষতি। আনাতোল একবার যখন আন্তোনিও হয়েছে, আর আনাতোলে ফিরে যেতে চায় না!”
শাক্য বলল, “আনাতোল, তুমি কি বলছ সুস্থ মস্তিষ্কে বলছ তো?”
“কেন ? তোমার তাতে কোন সন্দেহ আছে নাকি?” আনাতোল মুখ বিকৃত করে বলল।
“না না। আমি স্যুর হয়ে নিতে চাইছিলাম আর-কি। কারণ, সুস্থ মস্তিষ্কে বলা কথা কোর্টে তোমার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে তো?”
“কোর্ট? কোন দেশের কোর্ট? আর এই কথা যে আমি বলেছি, তার প্রমাণই বা কোথায়? কোন কোর্টই প্রমাণ ছাড়া তোমাদের মুখের কথায় তো আর বিশ্বাস করবে না। আমার ল-ইয়ার বলবেন, তোমরা দল পাকিয়ে আমাকে সাজা দেওয়ার জন্য একজোট হয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছ!”
“এ-দেশের! আবার কোথাকার! আর মিথ্যা সাক্ষী দেবে কেন? এই এতগুলি লোক সক্কলে আমাদের কথায় মিথ্যা সাক্ষী দেবে এ হতে পারে? তোমার দলের ডাক্তারও তো একই সাক্ষী দেবে, কী ডাক্তার দেবেন না?” বলে শাক্য ডাক্তারের দিকে তাকাল। দাক্তারটি ততক্ষণে আন্তোনিওর মুখটা আবার চাদরে ঢেকে দিয়েছিল। ঠিক যেন শায়িত শব! সে শাক্যর প্রশ্ন শুনে তাকাওল বটে, কিন্তু কোন জবাব দিল না।
“দেখ, ওই ডাক্তারটি, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স যে চালাচ্ছে সেই ড্রাইভার পর্যন্ত আমার পোষা কুত্তার মতো। ওদের উঠতে বললে উঠবে, বসতে বললে বসবে, নাচতে বললে নাচবে। ওরা কখনই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে না। দিলে নিজেরাই ফাঁসবে। ওই ডাক্তার মেডিকেল এক্সামিনেশনের ফাইনাল পরীক্ষায় কৃতিকার্য হয়নি। জাল সার্টিফিকেট বার করে ডাক্তারি করছে। ওর আসল মার্কশিট আমার কাছে। ও জানে ওর প্রাণভোমরা যতদিন ও চুপ থাকবে ততদিন আমার কাছেই সুরক্ষিত থাকবে। মুখে খুললে ওর জোরা বিপদ। ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে ডাক্তারি করা এক নম্বর ক্রাইম। আর সুস্থ মানুষকে দিনের-পর-দিন ইঞ্জেকশন দিয়ে অসুস্থ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা দুই নম্বর ক্রাইম। ও তাহলে জেলের গারদ কিছুতেই এড়াতে পারবে না। আর ওই যে ড্রাইভার, ও কিন্তু উত্তরাখণ্ডের মোষ্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনালের লিস্টের মধ্যে আছে। খুন, রেপ, ডাকাতি, রাহাজানির বেশ কয়েকটা কেস ওর নামে আছে। এখানে ভেজা বেড়ালের মতো মুখ করে থাকলে কী হবে, ও কম ফেরসাস নয়। এই যে যাওয়ার পথে আন্তোনিওকে সাবাড় করতে হবে, তা কে করবে? আমার তো মন বড়ই নরম, আগেই বলেছি। ডাক্তারটা এত আনাড়ি, পারবে না। করবে আমার ড্রাইভার। ওর আবার রক্ত দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। খুন করাটা ওর হবি। আর তোমাদের আইন আমাকে ছুঁতেও পারবে না। কারণ, আমাকে এ-দেশে আর পেলে তো! আগামী দু’দিনের মধ্যে আমি কোথায় হারিয়ে যাব, আমাকে খুঁজেই পাবে না!” বলে আত্নপ্রসাদের হাসি হাসল আনাতোল।
“দেখ, আত্মবিশ্বাস ভালো, কিন্তু এতটাও ভালো না। তুমি যেমন-যেমন চাইছ, সব যে তোমার চাওয়া অনুযায়ী হবে, এমন মনে করাটা অন্যায়!”
“এই চুপ করো তো। জ্ঞান দিও না। আমি অন্য কারুর জ্ঞান শুনতে অভ্যস্ত নই। বুঝলে?”
“অভ্যাস করা ভালো। আর দেখ, তুমি সারেণ্ডার করলে উচিত কাজই করবে। থানার বড়বাবু এসে পড়লেন বলে! তখন কিন্তু চাপে পড়ে যাবে!” শাক্য ঠাণ্ডা গলায় উপদেশ দিল।
“বড়বাবু! মানে, মালাকার?” বলে আনাতোল হঠাৎ হাসতে শুরু করল। বেশ কিছুক্ষণ হেসে নিয়ে তারপর বলল, “সে আবার কী বলবে? সে তো আমাদেরই লোক। সে-ও অনেকের মতো চায়, তার আসল দেবতা কালাদেওর মিথ আবার মানুষ বিশ্বাস করুক, ভয় পাক, পূজা করুক, আস্তে-আস্তে তোমাদের হিন্দু ধর্মের মূল স্রোত তাঁকে স্বীকার করে নিক। সে যে ‘মিশ কালাদেও’র অন্যতম সক্রিয় মেম্বার-ক্রিয়েটর!”
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৮ : ঘটজাতক/৩ : দশে মিলে?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
আনাতোলের কথায় উপস্থিত সকলে হতবাক হয়ে গেলেও, শাক্য হল না। সে প্রথম থেকেই এই সন্দেহ করছিল যে, থানার উপরমহলের কোন কানেকশন না থাকলে দিনের পর দিন কালাদেওর নাম করে এত খুন-জখম এলাকায় ঘটতে পারে না। স্যারকেও সে এ-কথা বলেছিল। সুদীপ্তকে বলেনি। কারণ, ওপরওয়ালার প্রতি আস্থা চলে গেলে নিজের কাজে ফোকাস করতে তার অসুবিধা হতে পারত। তাছাড়া হাবভাবও হয়তো বদলে যেত। এতে মালাকার বুঝে যেতেন এবং সতর্ক হয়ে যেতেন। চাইকি আগেই আনাতোলের কাছে খবর চলে আসতে পারত। ফলে আজকের ঘটনাটা ঘটার সুযোগও দিত না সে। আগেই পালাত। সে সুদীপ্তর দিকে তাকাল। দেখল, সুদীপ্ত ভাবলেশহীন মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আনাতোলকে দেখছে। কিংবা মাপছে বলাও ভালো। সে আনাতোলের দিকে তাকাল। আনাতোলের মুখে ক্রুর হাসি। হাতের রিভলভার মৃদু-মৃদু নাচাচ্ছে সে। তার মানে ফুরফুরে মেজাজ। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা বন্ধ করার আওয়াজ হল।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪
আনাতোল সেই আওয়াজে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ফিরে তাকাল। তারপর বলল, “ডাক্তার, সামনের দিকে দেখ মোটা শক্ত দড়ি আছে। ভেবেছিলাম, ওতে বেঁধে জঙ্গলের মধ্যে কোন খাদে ঝুলিয়ে দেব আন্তোনিওকে। জঙ্গলের পশুদের ডিনার বা লাঞ্চ হয়ে যাবে এক-দু’দিন। কিন্তু যখন পুড়িয়েই ফেলা হবে তখন দড়িগুলোর বেকার পড়ে থাকবে কেন? ওগুলি এনে এদের বেঁধে ফেল। ড্রাইভারকেও ডেকে নাও। আমি রিভলভার তাক করেই আছি। কেউ একটু বেগড়বাঁই করলে চালিয়ে দেব। জঙ্গলের আরও দু’দিন ডিনার কিংবা লাঞ্চের ব্যবস্থা হয়ে যাবে!” কথাগুলি বলতে-বলতে সামান্য অমনোযোগী হয়ে পড়েছিল আনাতোল। অতরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফলেই আর-কি। সে ধরেই নিয়েছিল, ইঁদুরখেলায় সে জিতে গেছে। কিন্তু ভুল ভেবেছিল। শাক্য যে ঠিক এই মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিল, তা সে বুঝতে পারেনি।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?
আনাতোলের কথা শেষ হতে-না-হতেই শাক্যর শরীরটা ধনুকের ছিলার মত উপর দিকে উঠে হঠাৎ যখন নেমে এল, তখন তার ডান পা’টা সামনে প্রসারিত। সেই পা’টা ভূমিস্পর্শ করার আগেই আনাতোলের ডান রগকে ছুঁয়ে ত্বরিৎগতিতে যখন নেমে এল, তখন আনাতোলের হাত থেকে রিভলভার ছিটকে পড়েছে। তার শরীরটা শাক্যর আঘাতে ছিটকে পড়ল সশব্দে। রগ চেপে ধরেছে সে। পুলিশি জুতোর আঘাতে তার রগ মুহূর্তের মধ্যে ফুলে উঠেছে বীভৎসভাবে। মুহূর্তের জন্য যে আচ্ছন্নতা, সেই সুযোগটাকেই কাজে আগাল শাক্য। তার শরীরটা মাটিতে ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল এমনভাবে যেন কিছুই হয় নি। আনাতোল মাটিতে পড়ে যেতেই সে দ্রুত এগিয়ে গেল। তার দেখাদেখি সুদীপ্তও আসছিল। শাক্য বলল, “সুদীপ্ত, তুমি ওই ডাক্তার আর ড্রাইভারটিকে কব্জা করার চেষ্টা কর আগে। কিন্তু সাবধান। শুনলে তো ড্রাইভারটি দাগি ক্রিমিন্যাল! মিস্টার শর্মা, আপনার অফিসে দড়িদড়া কিছু থাকলে নিয়ে আসুন শিগগিরই। আপাতত পালের এই গোদাটিকে বেঁধে ফেলা যাক্! গাড়ির দড়িদড়া পেলেও হত। কিন্তু থাক্। ওগুলি দিয়ে বাকি দুজনকে বাঁধার কাজ করা যাবে।”
মিস্টার শর্মা একজন এমপ্লয়িকে তাড়াতাড়ি অফিসঘরে গিয়ে দড়ি আনতে বললেন। কাস্টমস্ অফিসে দড়িদড়ার অভাব নেই।
সুদীপ্ত ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। তার হাতে উদ্যত রিভলভার। সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমসের গার্ডদের দু’-তিনজন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেল। ডাক্তারটি কাণ্ডকারখানা দেখে কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুদীপ্ত গার্ডদের একজনকে ডেকে বলল, “এই ডাক্তারটিকেও বেঁধে ফেল। গাড়িতেই দড়িদড়া আছে যখন, তা-ই কাজে লাগাও।”
তার কথা শেষ হতে-না-হতেই হঠাৎ অ্যাম্বুলেন্স থেকে স্টার্ট দেওয়ার আওয়াজ ভেসে এল। অয়াম্বুলেন্স সত্যিই স্টার্ট নিয়ে ভয়ঙ্কর স্পিডে এগোতে চাইছিল।
গার্ডদের একজন চেঁচিয়ে বলল, “স্যার, পালাচ্ছে!”
সুদীপ্ত চেঁচিয়ে বলল, “একদম পালানোর চেষ্টা করবে না। গাড়ি থামাও। নাহলে কিন্তু…”
গাড়ি অবশ্য দ্রুতগতিতে স্পিড বাড়িয়ে কোনরকমে সামনের দিকে এগোতে চাইল। লোকজন ছিটকে দুপাশে সরে যাচ্ছিল।
এমনসময় শাক্য চেঁচিয়ে উঠল, “সুদীপ্ত, জাস্ট শ্যুট অ্যাট দ্য কার’স্ টায়ারস্। মেক শিওর দ্য ক্রিমিনাল ডাজ নট এসকেপ্!”
সুদীপ্ত আর দেরি করল না। রিভলভার তুলেই নিখুঁত নিশানায় ধাবমান গাড়ির দুটি টায়ার পরপর হিট করল। বিচ্ছিরি শব্দ করে গাড়ি থেমে যেতেই গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভার পালানর চেষ্টা করল। এবার শাক্যর হাতের রিভলভার গর্জে উঠল। পরক্ষণেই ড্রাইভার মাটিতে ছিটকে পড়ল। তার পা দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরুচ্ছিল! —চলবে।
মিস্টার শর্মা একজন এমপ্লয়িকে তাড়াতাড়ি অফিসঘরে গিয়ে দড়ি আনতে বললেন। কাস্টমস্ অফিসে দড়িদড়ার অভাব নেই।
সুদীপ্ত ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। তার হাতে উদ্যত রিভলভার। সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমসের গার্ডদের দু’-তিনজন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেল। ডাক্তারটি কাণ্ডকারখানা দেখে কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুদীপ্ত গার্ডদের একজনকে ডেকে বলল, “এই ডাক্তারটিকেও বেঁধে ফেল। গাড়িতেই দড়িদড়া আছে যখন, তা-ই কাজে লাগাও।”
তার কথা শেষ হতে-না-হতেই হঠাৎ অ্যাম্বুলেন্স থেকে স্টার্ট দেওয়ার আওয়াজ ভেসে এল। অয়াম্বুলেন্স সত্যিই স্টার্ট নিয়ে ভয়ঙ্কর স্পিডে এগোতে চাইছিল।
গার্ডদের একজন চেঁচিয়ে বলল, “স্যার, পালাচ্ছে!”
সুদীপ্ত চেঁচিয়ে বলল, “একদম পালানোর চেষ্টা করবে না। গাড়ি থামাও। নাহলে কিন্তু…”
গাড়ি অবশ্য দ্রুতগতিতে স্পিড বাড়িয়ে কোনরকমে সামনের দিকে এগোতে চাইল। লোকজন ছিটকে দুপাশে সরে যাচ্ছিল।
এমনসময় শাক্য চেঁচিয়ে উঠল, “সুদীপ্ত, জাস্ট শ্যুট অ্যাট দ্য কার’স্ টায়ারস্। মেক শিওর দ্য ক্রিমিনাল ডাজ নট এসকেপ্!”
সুদীপ্ত আর দেরি করল না। রিভলভার তুলেই নিখুঁত নিশানায় ধাবমান গাড়ির দুটি টায়ার পরপর হিট করল। বিচ্ছিরি শব্দ করে গাড়ি থেমে যেতেই গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভার পালানর চেষ্টা করল। এবার শাক্যর হাতের রিভলভার গর্জে উঠল। পরক্ষণেই ড্রাইভার মাটিতে ছিটকে পড়ল। তার পা দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরুচ্ছিল! —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















